খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বাজার সিন্ডিকেট কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
বাজার সিন্ডিকেট কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাজার সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কেউ যাতে ইচ্ছে মত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়াতে না পারে, মজুদদারি মাধ্যমে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা কেউ করতে না পারে এইজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

রোববার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসকদের জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা বিলম্বের শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।

কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষক যেন ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় এবং সার, বীজ ও সেচ সুবিধা সহজলভ্য হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিকে কেবল উৎপাদন হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর বিভিন্ন মার্কেট প্লেসগুলোতে যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার না হয়, সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসকদের খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা আরও কার্যকর, নিয়মিত ও দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাজার স্থিতিশীল রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ইচ্ছে মতন যাতে কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়াতে না পারে, কিংবা যে টেন্ডেন্সিটি আমরা দেখি বিভিন্ন সময় মজুদদারি বা কারসাজির মাধ্যমে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা কেউ করতে না পারে এইজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

সরকারি কার্যালয়ে সেবা প্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কার্যালয়ে সেবা প্রার্থীরা যেন অপ্রয়োজনীয় হয়রানি না হয় কিংবা বিলম্ব বা অনিয়মের শিকার না হয় দয়া করে সে ব্যাপারেও আপনাদেরকে কঠোর নজর রাখতে হবে। জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজ করা এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাকে ডিসিদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ ও নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অবস্থানের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ডিসিদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধেও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দেন তিনি।

তরুণ সমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে বছরজুড়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুধু নির্দিষ্ট দিবস বা ঋতুতে সীমাবদ্ধ থাকবে? তিনি জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ দেন যাতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলা সারাবছর চালু রাখা হয়। তরুণদের শারীরিক ও মানসিক এনার্জি সঠিক পথে চালিত করতে জেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও অডিটোরিয়ামগুলোকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য ভালো কাজের রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, কোনো সাধারণ মানুষ যদি জীবন বাজি রেখে কাউকে উদ্ধার করে বা সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করে, তবে তাদের নাম কেন্দ্রে পাঠালে জাতীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হবে। এমনকি ভালো পারফর্ম করা শিক্ষকদেরও পুরস্কার দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ছোটবেলায় যেসব সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ছিল, এখন তা অনেকটা অনুপস্থিত। মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রকৃতির প্রতি দয়া এই মূল্যবোধগুলো ফিরিয়ে আনতে ছোট ছোট সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

একটি প্রযুক্তি নির্ভর, জ্ঞান ভিত্তিক ও নৈতিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্ম, বর্ণ, মত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না।’ ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, সমাজে হয়তো শতভাগ বৈষম্য দূর করা কঠিন, যেমন সোনায় কিছু খাদ থাকে, তেমনি মানুষের সমাজে সামান্য কিছু বৈষম্য থেকে যেতে পারে, তবে সরকার তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

পরিশেষে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, সেটিই স্বাভাবিক। কিন্তু দেশের স্বার্থে সবার আগে বাংলাদেশ।’ এই বক্তব্যের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

কালের আলো/এসএকে

চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। কেউ ঘর থেকে মালামাল বের করতে ব্যস্ত, কেউ স্বজনকে খুঁজছেন কান্নাজড়িত চোখে। রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।

সরু রাস্তা, পানির সংকট আর দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর কালশী বস্তির সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে যখন প্রাণপণ লড়ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভারী পানির পাইপ।

সোমবার (২৬ মে) পল্লবীর কালশী অগ্নি সম্বলিত বস্তিত এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এমন চিত্র দেখা যায়।

ভয়াবহ এই আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেভানো হয় এই আগুন।

এদিকে রাস্তাগুলো সরু হওয়া ও আসে পাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।

সোমবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে অগ্নি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমাদের কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সংবাদ পাই কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় হাজার ১২০০ ঘর এবং ভাঙারি দোকান রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসতি।

এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে আমাদের প্রথম ইউনিট এখানে উপস্থিত হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরো ১৪টি ইউনিট মোট ১৫টি ইউনিট ও ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিরাপন করতে পারব। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সূত্রপাত এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে রাস্তাগুলো সরু রাস্তা। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। আর একটা বড় সমস্যা আসে পাশে পানির কোনো উৎস নেই। যার কারণে আমাদের ১৫টা বিশেষ পানিবাহী গাড়ি নিয়ে আসতে হয়েছে। এবং সেই গাড়ি দিয়ে আগুনটা নিয়ে নিভাতে হয়েছে।

আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে ভাঙারি ও কাগজপত্রের দোকান, প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকানের কারণে ধোঁয়া বেশি হচ্ছে। ভেতরের সব দাহ্য ধরনের যেমন কাগজ কাপড় টাইপের জিনিসপত্র ছিল। এবং আজ বৃষ্টির কারণে বাতাস ছিল প্রচুর। যার কারণে আগুনটা দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ আমরা পায়নি বলেও জানান তিনি।

এখানে কয়েকদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। এর সঙ্গে আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এটা বলতে পারব। আমরা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি