খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে কুর্মিটোলা হাসপাতাল, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নিলেন ডা.জুবাইদা রহমান

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে কুর্মিটোলা হাসপাতাল, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নিলেন ডা.জুবাইদা রহমান

‘ঢাকা-১৭ আসনে স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সরকারের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সবাই ছিলেন অনুষ্ঠানে। স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মানদণ্ড স্থাপনকারী এই হাসপাতালটিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে নিজেদের আনন্দানুভূতি প্রকাশ করেন স্থানীয় ভাষানটেক, কড়াইল ও সাততলার বাসিন্দারা। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক থেকে শুরু করে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলার শ্রমজীবী মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প থেকে শুরু করে নির্মাণ খাত—সবখানে তাঁদের শ্রম থাকলেও তাঁরাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।’

নিম্নআয়ের মানুষের একটি বড় অংশ (প্রায় ৪২.৬ শতাংশ) প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানের জন্য স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁরা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পান না, কারণ অসুস্থতা মানেই তাঁদের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া বলেও মনে করেন ডা.জুবাইদা রহমান। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যাঁরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের এই বিনা মূল্যের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করবেন। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের স্বেচ্ছাসবীরা ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবেন। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।’

এদিন মতবিনিময় সভার আগে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের রোগ নির্ণয় বিভাগ, গ্যাস্ট্রোলিভার কেন্দ্র এবং ৫০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন ও চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বস্তিবাসীদের জন্য বিশেষ টিকিট কাউন্টার এবং অতিরিক্ত শয্যা সুবিধা চালুর ঘোষণাও দেওয়া হয়।

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে চিকিৎসকরা এখানে সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করেছেন। দরিদ্র, প্রান্তিক ও দুস্থ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ (ওপিডি) ও ডায়াগনস্টিক পরিষেবাগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অন্য কোনো হাসপাতাল যেখানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্যাথলজিক্যাল সেবা দিতে পারেনি সেখানে কুর্মিটোলা হাসপাতাল নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সেবা নিশ্চিতের উদাহরণ স্থাপন করেছে। এছাড়াও কেমোথেরাপি, ছোট-বড় অস্ত্রোপচার ও গাইনোকোলজি বিভাগেও ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজ নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৭ এর অন্তর্ভূক্ত ভাষানটেক, কড়াইল ও সাততলার বাসিন্দারা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

‘ঢাকা-১৭ আসনে স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ভাষানটেকের বাসিন্দা তানিয়া আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি জীবনের প্রথম দেখতে পাচ্ছি, দেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা নির্বাচনের আগে আমাদের কথা শুনতে এসেছিলেন এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরও তারা আমাদের কাছে আসছেন। আমাদের জন্য ফ্রিতে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন সরকারি হাসপাতালে যে ভাবে সেবা পাচ্ছি সেটা নির্বাচনি অঙ্গীকারের মত। আমরা সবাই সেবা পাচ্ছি, এটাই সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়।’

দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার
মতবিনিময় সভায় ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অত্যধিক। স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত ও বঞ্চিত। মানসম্মত চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার এখনো লাখো মানুষের জন্য অসম এক চ্যালেঞ্জ।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজে বহন করতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখন দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী বলেন, ‘একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী দেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলার মানুষ যেন কখনো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। নবজাতক থেকে শুরু করে প্রবীণ—সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও যেন সহজে ও দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে কোনো নাগরিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, এই এলাকাগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং চিকিৎসাসেবার তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির ঢাকা-১৭ নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।

অন্যান্যরা কে কী বলেছেন?
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে একটি মডেল হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে ব্যয়বহুল চিকিৎসাসেবাও বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটিকে একটি মাল্টি-কেয়ার হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, শুধু একটি নির্বাচনি এলাকা নয়, সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির ঢাকা-১৭ নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার জানান, কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে এবং সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ চলছে। হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান বলেন, ‘নতুন আইসিইউ ইউনিটে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, দক্ষ জনবল এবং ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।’

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

১৬ মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৮০ শিশু, নিহত ৪৮৩: এইচআরএসএস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
১৬ মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৮০ শিশু, নিহত ৪৮৩: এইচআরএসএস

দেশে গত ১৬ মাসে অন্তত এক হাজার ৮৯০ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৩ জন শিশু নিহত ও এক হাজার ৪০৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।  এছাড়া এসব শিশুর মধ্যে ৫৮০ জন ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ধারাবাহিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এসব নৃশংস ঘটনায় জড়িতের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শরীর ছিল প্রতিবেশীর ঘরে খাটের তলায় এবং মাথাটা ছিল বাথরুমে। এমনকি অভিযুক্ত বিকৃত যৌনাচারে আসক্ত স্বামীকে বাঁচাতে সহযোগিতা করেছিলেন স্ত্রী।

গত ১৬ মে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দের চর গ্রামের মদিনাপাড়ায় আছিয়া আক্তার নামে ১০ বছরে বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন ও ধর্ষণের প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে বাড়িতে অবস্থানরত ও অভিযুক্ত রাজা মিয়াকে (৪৫)-কে আটক করেছে পুলিশ।

গত ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ধর্ষণের পর লামিয়া আক্তার নামে এক চার বছরের শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ৬ মে সকালে সিলেটের সদর উপজেলার জালালাবাদে ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি খোটের নিচে লাশ লুকিয়ে রেখে স্বজনদের সাথে খুঁজতে যান আসামী জাকির হোসেন।

এছাড়া প্রতিনিয়ত সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ধরণের অসংখ্য শিশু হত্যা, ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ১৮৯০ জন শিশু ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮৩ জন শিশু নিহত ও ১৪০৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া এসব শিশু ও কিশোরীদের মধ্যে ৫৮০ জন ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো সহিংসতা প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু একের পর এক শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণ করে যে শিশু সুরক্ষায় বিদ্যমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। এছাড়া বিচাহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও দুর্বল আইন প্রয়োগ শিশু নির্যাতনের মতো পাশবিক সহিংসতা বৃদ্ধি ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র প্রকাশ করছে। নিষ্পাপ শিশুদের ওপর এমন পাশবিক সহিংসতা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ।

এইচআরএসএস অবিলম্বে এসব শিশু হত্যা ও ধর্ষণের সব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দাবি জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক প্রতিরোধ ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণও জরুরি। এজন্য সব নাগরিক, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যমকে শিশুদের সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি অপরাধ রোধে ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানায় এইচআরএসএস।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ করে রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর পল্লবীতে রামিসার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে নিহত রামিসার মা-বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

এরআগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম হক রামিসাদের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার আসামির দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে যাচ্ছেন শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে যাচ্ছেন শনিবার

আগামী শনিবার (২৫ মে) ময়মনসিংহ জেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শনিবার সকাল ৯ টায় ময়মনসিংহ ত্রিশালের উদ্দেশে যাত্রা (সড়ক পথে) শুরু করবেন। দুপুর ১২টায় ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও খাল খননের উদ্বোধন করবেন।

দুপুর ২টায় ত্রিশাল নজরুল ডাক বাংলোতে বিরতি শেষে বিকেল ৩টায় জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে আয়োজিত নজরুল জন্মজয়ন্তীর জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগদান ও তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

বিকেল ৫টায় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগদান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা (সড়ক পথে) করবেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ