খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

উত্তরাঞ্চলের আকাশে ডানা মিলবে বিমান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও পাইলট প্রশিক্ষণেও নতুন সম্ভাবনা

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
উত্তরাঞ্চলের আকাশে ডানা মিলবে বিমান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও পাইলট প্রশিক্ষণেও নতুন সম্ভাবনা

আর কোন আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি নয়। এবার স্বপ্ন হচ্ছে সত্যি। উত্তরাঞ্চলের আকাশে ডানা মিলবে বিমান। অবসান ঘটছে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষার। বগুড়ার আকাশে শোনা যাবে যাত্রীবাহী বিমানের শব্দ। দেশের উত্তরাঞ্চলে যোগাযোগ ও অর্থনীতির সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে বগুড়ায় গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের বিমানবন্দর। বগুড়া এয়ারফিল্ডকেই আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করবে সরকার। একই সঙ্গে এখানে বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে বড় একটি মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়া এয়ারফিল্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি এদিন একটি বড় সুসংবাদও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বগুড়ার স্ট্র্যাটেজিক ইম্পর্টেন্স বা কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। এখানে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন সরকার দিয়েছে।’

তিনি আরও জানান, সরকার নতুন জঙ্গি বিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সেই আধুনিক জঙ্গি বিমানগুলো বগুড়া ঘাঁটিতেই মোতায়েন করা হবে। এটি জাতীয় আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করবে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এর উদ্যোগে একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও বিমান বাহিনী প্রধান আশ্বাস প্রদান করেন।

  • তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও বিমান বাহিনী প্রধানের বগুড়া এয়ারফিল্ড পরিদর্শন
  • উত্তরাঞ্চলের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে বড় একটি মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার
  • বগুড়ায় বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা
  • বিমানবন্দরটি হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার বড় হাতিয়ার
  • জাতীয় আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতাকে করবে আরও সুদৃঢ়

পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, ‘উত্তরাঞ্চলে কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নেই। তাই বগুড়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ফ্লাইং একাডেমি চালু করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাইলট তৈরি করা হবে। পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও পর্যটনের সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের উন্নয়নে আধুনিক অবকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হলে উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি আর বগুড়াবাসীর দাবি অনুযায়ী এখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে। আমরা কোনো দীর্ঘসূত্রতায় যাব না, দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক বিমান উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে বেবিচককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে এই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের মালামাল সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা যায়। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আন্তর্জাতিকমানের এই বিমানবন্দরের জন্য ১০ হাজার ৫০০ ফুটের একটি রানওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার ফিজিবিলিটি স্টাডি দ্রুত শুরু হবে। বিমানবন্দর ও ঘাঁটি এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের বাজারমূল্যের তিনগুণ অর্থ প্রদান করা হবে। এখানে আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ বিমান ও কার্গো বিমান উঠানামা করবে। এই অঞ্চলের কৃষি, শিল্প থেকে উৎপাদিত পণ্য আমরা রপ্তানি করতে পারবো।

এ সময় বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও কৃষকদের নতুন স্বপ্নের হাতছানি
জানা যায়, ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকার আমলে বগুড়া বিমানবন্দর স্থাপনে ২২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ সড়কের পাশে ১০৯ দশমিক ৮১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে, কার্যালয় ভবন ও কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, রাস্তা নির্মাণসহ সকল অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়। ২০০০ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার দু’ যুগেরও বেশি সময় পরেও বগুড়ার আকাশে ডানা মেলেনি বিমান।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক বগুড়ায় আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সরকারের মন্ত্রী, দুই প্রতিমন্ত্রী ও বিমান বাহিনী প্রধানের বগুড়া এয়ারফিল্ড ও ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শনের স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও কৃষকদের মাঝে এখন নতুন স্বপ্নের আনাগোনা।

বগুড়া বিমানবন্দর মানে শুধু যাতায়াত নয়, এটি হতে হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার বড় হাতিয়ার। বগুড়া চেম্বার অব কমার্সের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, ‘আন্তর্জাতিকমানের এই বিমানবন্দর চালু হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, রপ্তানি সহজ হবে, ব্যবসায়ীরা দ্রুত কাজ শেষ করতে পারবেন।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বগুড়ার আলু, সবজি, আম ও লিচুর বিদেশি বাজার থাকলেও সরাসরি কার্গো ফ্লাইট না থাকায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পান না। বিমানবন্দর চালু হলে ঢাকাকেন্দ্রিক ঝামেলা কমবে। পরিবহন খরচ ও সময় দুটোই কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব মাদানী বলেন, ‘চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিদিন বগুড়া থেকে অসংখ্য মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করেন। বিমান চলাচল শুরু হলে এই যাত্রা সহজ হতো। পাশাপাশি মহাস্থানগড়সহ বগুড়ার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানে পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণ বাড়তে পারতো। স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বদলে যাবে বগুড়াসহ গোটা উত্তরবঙ্গ।’

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক কারবারীরা দেশ,জাতি ও সমাজের শত্রু : ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
মাদক কারবারীরা দেশ,জাতি ও সমাজের শত্রু : ভূমিমন্ত্রী

মাদকের ভয়াবহ বিস্তারে দেশের অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে মন্তব্য করে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, মাদক কারবারীরা দেশ, জাতি ও সমাজের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শুক্রবার ২৬ জুন  রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে বাইরে থেকে মাদক আসে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচার হয়ে থাকে। সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অনেক মাদক কারবারী অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। যাদের একসময় কিছুই ছিল না, তারাও এখন বিপুল সম্পদের মালিক। এসব কারবারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

শুধু মাদক বহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত জামিন পেয়ে তারা যাতে আবার মাদক ব্যবসায় জড়াতে না পারে, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, সমাজের চোখের সামনেই অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা গেছে, যাদের জীবন মাদকের করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত হয়েছে। কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক কারবারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করারও আহ্বান জানান তিনি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সমাজে মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো স্থান নেই।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবির, রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আজিজ সুপার মার্কেটের কক্ষে পড়ে ছিল নারী চিকিৎসকের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
আজিজ সুপার মার্কেটের কক্ষে পড়ে ছিল নারী চিকিৎসকের লাশ

রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের ১৪ তলার একটি কক্ষ থেকে ফারা ফেরদৌস (৩২) নামে এক নারী চিকিৎসকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 শুক্রবার (২৬ জুন) বিকাল ৪টার দিকে দুর্গন্ধের খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) একরামুল হক।

পুলিশ জানায়, কক্ষের ভেতরে খাটের ওপর বসা অবস্থায় টেবিলে মাথা রাখা অবস্থায় চিকিৎসকের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহটি ফুলে-পচে যাওয়ায় শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফারা ফেরদৌস ৩৯তম বিসিএসের একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কার্ডিওভাসকুলার বিষয়ে তৃতীয় বর্ষের কোর্স করছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছোট বোনও প্রথম বর্ষে অন্য একটি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

পুলিশ আরও জানায়, গত ২৩ জুন ছোট বোনের সঙ্গে ফারা ফেরদৌসের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। শুক্রবার বিকেলে কক্ষের আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে ছোট বোনের উপস্থিতিতে মরদেহ শনাক্ত করা হয়।

ফারা ফেরদৌস খুলনার ফুলতলা উপজেলার পয় গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আব্দুর রশিদের মেয়ে। তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের ১৪ তলায় একাই বসবাস করতেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাত পৌনে ৮টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান।

এর আগে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে করে বেইজিং ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে আছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্য সফরসঙ্গীরা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি সিনিয়র নেতা, মন্ত্রী, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং দেশে ফেরা নিয়ে কোনো শোডাউন বা র‌্যালি না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চীন সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে তিনটি চুক্তি ও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

গত সোমবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানে যান প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।

দালিয়ান থেকে বুধবার দুপুরে হাই স্পিড (বুলেট ট্রেন) বেইজিং যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। এছাড়া বেইজিংয়ে বিনিয়োগ সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন।

গত ২১ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যান প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসআর/এএএন