খুঁজুন
                               
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

উত্তরাঞ্চলের আকাশে ডানা মিলবে বিমান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও পাইলট প্রশিক্ষণেও নতুন সম্ভাবনা

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
উত্তরাঞ্চলের আকাশে ডানা মিলবে বিমান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও পাইলট প্রশিক্ষণেও নতুন সম্ভাবনা

আর কোন আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি নয়। এবার স্বপ্ন হচ্ছে সত্যি। উত্তরাঞ্চলের আকাশে ডানা মিলবে বিমান। অবসান ঘটছে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষার। বগুড়ার আকাশে শোনা যাবে যাত্রীবাহী বিমানের শব্দ। দেশের উত্তরাঞ্চলে যোগাযোগ ও অর্থনীতির সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে বগুড়ায় গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের বিমানবন্দর। বগুড়া এয়ারফিল্ডকেই আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করবে সরকার। একই সঙ্গে এখানে বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে বড় একটি মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়া এয়ারফিল্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি এদিন একটি বড় সুসংবাদও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বগুড়ার স্ট্র্যাটেজিক ইম্পর্টেন্স বা কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। এখানে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন সরকার দিয়েছে।’

তিনি আরও জানান, সরকার নতুন জঙ্গি বিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সেই আধুনিক জঙ্গি বিমানগুলো বগুড়া ঘাঁটিতেই মোতায়েন করা হবে। এটি জাতীয় আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করবে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এর উদ্যোগে একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও বিমান বাহিনী প্রধান আশ্বাস প্রদান করেন।

  • তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও বিমান বাহিনী প্রধানের বগুড়া এয়ারফিল্ড পরিদর্শন
  • উত্তরাঞ্চলের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে বড় একটি মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার
  • বগুড়ায় বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা
  • বিমানবন্দরটি হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার বড় হাতিয়ার
  • জাতীয় আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতাকে করবে আরও সুদৃঢ়

পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, ‘উত্তরাঞ্চলে কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নেই। তাই বগুড়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ফ্লাইং একাডেমি চালু করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাইলট তৈরি করা হবে। পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও পর্যটনের সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের উন্নয়নে আধুনিক অবকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হলে উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি আর বগুড়াবাসীর দাবি অনুযায়ী এখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে। আমরা কোনো দীর্ঘসূত্রতায় যাব না, দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক বিমান উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে বেবিচককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে এই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের মালামাল সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা যায়। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আন্তর্জাতিকমানের এই বিমানবন্দরের জন্য ১০ হাজার ৫০০ ফুটের একটি রানওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার ফিজিবিলিটি স্টাডি দ্রুত শুরু হবে। বিমানবন্দর ও ঘাঁটি এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের বাজারমূল্যের তিনগুণ অর্থ প্রদান করা হবে। এখানে আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ বিমান ও কার্গো বিমান উঠানামা করবে। এই অঞ্চলের কৃষি, শিল্প থেকে উৎপাদিত পণ্য আমরা রপ্তানি করতে পারবো।

এ সময় বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও কৃষকদের নতুন স্বপ্নের হাতছানি
জানা যায়, ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকার আমলে বগুড়া বিমানবন্দর স্থাপনে ২২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ সড়কের পাশে ১০৯ দশমিক ৮১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে, কার্যালয় ভবন ও কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, রাস্তা নির্মাণসহ সকল অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়। ২০০০ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার দু’ যুগেরও বেশি সময় পরেও বগুড়ার আকাশে ডানা মেলেনি বিমান।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক বগুড়ায় আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সরকারের মন্ত্রী, দুই প্রতিমন্ত্রী ও বিমান বাহিনী প্রধানের বগুড়া এয়ারফিল্ড ও ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শনের স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও কৃষকদের মাঝে এখন নতুন স্বপ্নের আনাগোনা।

বগুড়া বিমানবন্দর মানে শুধু যাতায়াত নয়, এটি হতে হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার বড় হাতিয়ার। বগুড়া চেম্বার অব কমার্সের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, ‘আন্তর্জাতিকমানের এই বিমানবন্দর চালু হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, রপ্তানি সহজ হবে, ব্যবসায়ীরা দ্রুত কাজ শেষ করতে পারবেন।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বগুড়ার আলু, সবজি, আম ও লিচুর বিদেশি বাজার থাকলেও সরাসরি কার্গো ফ্লাইট না থাকায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পান না। বিমানবন্দর চালু হলে ঢাকাকেন্দ্রিক ঝামেলা কমবে। পরিবহন খরচ ও সময় দুটোই কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব মাদানী বলেন, ‘চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিদিন বগুড়া থেকে অসংখ্য মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করেন। বিমান চলাচল শুরু হলে এই যাত্রা সহজ হতো। পাশাপাশি মহাস্থানগড়সহ বগুড়ার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানে পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণ বাড়তে পারতো। স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বদলে যাবে বগুড়াসহ গোটা উত্তরবঙ্গ।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সরকার সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে : ডা.জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২:০৩ পূর্বাহ্ণ
সরকার সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে : ডা.জাহিদ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া এডুকেশন স্কিল, কেয়ারগিভার ও ভাষাশিক্ষা প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ইস্কাটনে পুলিশ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্তের নিরাপদ সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু, দুর্ঘটনা ও জরুরি অস্ত্রোপচারে রক্তের প্রয়োজন মেটাতে এই রেফ্রিজারেটর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, রক্ত একটি জীবনদায়ী উপাদান। এর সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, তত বেশি মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ‌‘এজন্য জুনের পর অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম প্রথমে ঢাকাতে শুরু করতে চাই। এরপর সারাদেশে এই কার্যক্রম শুরু হবে।’

তিনি সরকারের পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণায় জনগণকে সচেতন করতে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে। রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউয়ের এই মানবিক উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও এগিয়ে নেবে। আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই এবং পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের দেশকে সম্মানের সাথে তুলে ধরতে চাই।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, সমাজে যত অন্যায় আছে তা দূর করতে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত (ইনভলভ) করতে চাই। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সমাজ থেকে মাদকাসক্তি দূর করতে, জুয়াখেলা নিয়ন্ত্রণে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে এবং রামিসার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে আর না ঘটে—সেসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হুসাইন ফকির ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসাইন। এছাড়া পিডিজি ড. ইশতিয়াক এ. জামান, রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউয়ের প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান ও ক্লাব ডিরেক্টর রোটারিয়ান মো. সালাহ উদ্দিন এবং রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউয়ের সভাপতি রোটারিয়ান ডাক্তার লুবনা শারমিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

৩০ বছর পর ধলা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

মোঃ শামসুল আলম খান, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
৩০ বছর পর ধলা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধলায় অবস্থিত সরকারি ভবঘুরে ও পুনর্বাসন আশ্রয়কেন্দ্র দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও সেবামূলক সংকটসহ নানা অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন। দীর্ঘ তিন দশক পর কোনো মন্ত্রী সরেজমিনে পরিদর্শন করায় প্রশংসায় ভাসছেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (৫ জুন) সমাজকল্যাণমন্ত্রী আশ্রয়কেন্দ্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অবস্থানরত শিশু-কিশোর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে তিনি কেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও জরুরি চাহিদা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিশালের ধলায় অবস্থিত এই সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানির লাইন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থার মতো মৌলিক সেবাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পুরোনো ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ও প্রশাসনিক ভবনের অবস্থাও জরাজীর্ণ হওয়ায় দৈনন্দিন কার্যক্রমে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা একাধিক নিবাসী জানান, দীর্ঘ সময় পর কোনো মন্ত্রীর আগমন করায় আমরা ব্যাপক খুশি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেক সমস্যার মধ্যে আছি।”

পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আজকে এই অবহেলিত আশ্রয় কেন্দ্রটিতে পরিদর্শনে এসেছি। আশ্রয় কেন্দ্রটির বিদ্যমান সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাজু আহমেদ, ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূইয়া, আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তাসহ প্রমুখ।

কালের আলো/এম/এএইচ

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরএমপি কমিশনারের মতবিনিময়

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরএমপি কমিশনারের মতবিনিময়

রাজশাহী মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে মতবিনিময় সভা করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।

শনিবার বেলা ১২টায় আরএমপি সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

সভায় মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ প্রতিরোধ এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা বর্তমান পুলিশিং কার্যক্রমে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করারও আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আরএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর), উপ-পুলিশ কমিশনার (ফোর্স), বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি), আরএমপি’র মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড সিটিটিসি), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) এবং রাজশাহীর অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা।

সভা শেষে ভবিষ্যতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি