খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

উত্তরাঞ্চলের আকাশে ডানা মিলবে বিমান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও পাইলট প্রশিক্ষণেও নতুন সম্ভাবনা

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
উত্তরাঞ্চলের আকাশে ডানা মিলবে বিমান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও পাইলট প্রশিক্ষণেও নতুন সম্ভাবনা

আর কোন আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি নয়। এবার স্বপ্ন হচ্ছে সত্যি। উত্তরাঞ্চলের আকাশে ডানা মিলবে বিমান। অবসান ঘটছে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষার। বগুড়ার আকাশে শোনা যাবে যাত্রীবাহী বিমানের শব্দ। দেশের উত্তরাঞ্চলে যোগাযোগ ও অর্থনীতির সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে বগুড়ায় গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের বিমানবন্দর। বগুড়া এয়ারফিল্ডকেই আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করবে সরকার। একই সঙ্গে এখানে বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে বড় একটি মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়া এয়ারফিল্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি এদিন একটি বড় সুসংবাদও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বগুড়ার স্ট্র্যাটেজিক ইম্পর্টেন্স বা কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। এখানে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন সরকার দিয়েছে।’

তিনি আরও জানান, সরকার নতুন জঙ্গি বিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সেই আধুনিক জঙ্গি বিমানগুলো বগুড়া ঘাঁটিতেই মোতায়েন করা হবে। এটি জাতীয় আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করবে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এর উদ্যোগে একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও বিমান বাহিনী প্রধান আশ্বাস প্রদান করেন।

  • তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও বিমান বাহিনী প্রধানের বগুড়া এয়ারফিল্ড পরিদর্শন
  • উত্তরাঞ্চলের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে বড় একটি মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার
  • বগুড়ায় বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা
  • বিমানবন্দরটি হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার বড় হাতিয়ার
  • জাতীয় আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতাকে করবে আরও সুদৃঢ়

পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, ‘উত্তরাঞ্চলে কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নেই। তাই বগুড়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ফ্লাইং একাডেমি চালু করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাইলট তৈরি করা হবে। পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও পর্যটনের সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের উন্নয়নে আধুনিক অবকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হলে উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি আর বগুড়াবাসীর দাবি অনুযায়ী এখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে। আমরা কোনো দীর্ঘসূত্রতায় যাব না, দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক বিমান উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে বেবিচককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে এই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের মালামাল সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা যায়। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আন্তর্জাতিকমানের এই বিমানবন্দরের জন্য ১০ হাজার ৫০০ ফুটের একটি রানওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার ফিজিবিলিটি স্টাডি দ্রুত শুরু হবে। বিমানবন্দর ও ঘাঁটি এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের বাজারমূল্যের তিনগুণ অর্থ প্রদান করা হবে। এখানে আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ বিমান ও কার্গো বিমান উঠানামা করবে। এই অঞ্চলের কৃষি, শিল্প থেকে উৎপাদিত পণ্য আমরা রপ্তানি করতে পারবো।

এ সময় বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও কৃষকদের নতুন স্বপ্নের হাতছানি
জানা যায়, ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকার আমলে বগুড়া বিমানবন্দর স্থাপনে ২২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ সড়কের পাশে ১০৯ দশমিক ৮১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে, কার্যালয় ভবন ও কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, রাস্তা নির্মাণসহ সকল অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়। ২০০০ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার দু’ যুগেরও বেশি সময় পরেও বগুড়ার আকাশে ডানা মেলেনি বিমান।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক বগুড়ায় আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সরকারের মন্ত্রী, দুই প্রতিমন্ত্রী ও বিমান বাহিনী প্রধানের বগুড়া এয়ারফিল্ড ও ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শনের স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও কৃষকদের মাঝে এখন নতুন স্বপ্নের আনাগোনা।

বগুড়া বিমানবন্দর মানে শুধু যাতায়াত নয়, এটি হতে হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার বড় হাতিয়ার। বগুড়া চেম্বার অব কমার্সের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, ‘আন্তর্জাতিকমানের এই বিমানবন্দর চালু হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, রপ্তানি সহজ হবে, ব্যবসায়ীরা দ্রুত কাজ শেষ করতে পারবেন।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বগুড়ার আলু, সবজি, আম ও লিচুর বিদেশি বাজার থাকলেও সরাসরি কার্গো ফ্লাইট না থাকায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পান না। বিমানবন্দর চালু হলে ঢাকাকেন্দ্রিক ঝামেলা কমবে। পরিবহন খরচ ও সময় দুটোই কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব মাদানী বলেন, ‘চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিদিন বগুড়া থেকে অসংখ্য মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করেন। বিমান চলাচল শুরু হলে এই যাত্রা সহজ হতো। পাশাপাশি মহাস্থানগড়সহ বগুড়ার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানে পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণ বাড়তে পারতো। স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বদলে যাবে বগুড়াসহ গোটা উত্তরবঙ্গ।’

কালের আলো/এমএএএমকে

নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানানোয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

পোস্টে বলা হয়, ঈদুল আজহার এই আনন্দময় দিনে আমাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের ভিত্তির ওপর বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হোক।

এর আগে সকালে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি তিনি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের বরাতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জনগণকে ভারতের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও একটি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।

বার্তায় মোদি বলেন, ঈদুল আজহা ত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়, যা একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের জনগণভিত্তিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে ভারত আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গলকামনা করেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উত্তেজনায় লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উত্তেজনায় লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৩৮ ডলার বা ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৬৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সেশনের শুরুতে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম।

অন্যদিকে আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সেস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২৪ ডলার বা ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এরআগে গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেে একটি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার সম্ভাবনায় উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।

তবে তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির কাছাকাছি থাকার খবরটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টা পর তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার দেশটির কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ‘হুমকি তৈরি করেছিল’ এমন চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময়ে বন্দর আব্বাসে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, যেখান থেকে আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জবাবে কুয়েতে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, বন্দর আব্বাসের বিমানবন্দরের কাছে একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় ভোর ভোর ৪:৫০ মিনিটে কুয়েতের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি চালানো হয়।

বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানি বাহিনীটি আরও বলেছে, ‘এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি শত্রুর জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা, যাতে শত্রুরা বুঝতে পারে যে তাদের যেকোনো আগ্রাসন আর বিনা জবাবে থাকবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইরানের পরবর্তী জবাব আরও বেশি বিধ্বংসী ও সুনির্দিষ্ট হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে, যার ফলে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েশনের বিশ্লেষক জন ইভান্স বলেন, ‘যতক্ষণ একটি চুক্তি হবে বলে আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ তেলের দাম বাড়তেই থাকবে। এটি আবারও আমাদের মনে করিয়ে দেয় কীভাবে এই সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালিতে এক বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল আটকে আছে। যার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমে আসার প্রভাব চূড়ান্তভাবে অনুভূত হতে শুরু করেছে।’

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

ঈদের ছুটিতে রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে গোলাপি আভাযুক্ত সাদা সেই মহিষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই প্রাণীটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। সেই আগ্রহ থেকেই ঈদের দিন সকাল থেকে নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন চিড়িয়াখানায়।

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানার এল–৭ ব্লকে গিয়ে দেখা যায়, অন্য প্রাণীর খাঁচার তুলনায় এই অংশে দর্শনার্থীদের ভিড় কয়েক গুণ বেশি। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করছেন। অনেকেই শিশুদের কোলে নিয়ে মহিষটিকে দেখাচ্ছেন। দর্শনার্থীদের কৌতূহল আর হাসি-আনন্দে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

মিরপুর–৬ এলাকা থেকে আসা স্কুলশিক্ষার্থী তানভীর হোসেন জানায়, বন্ধুদের কাছ থেকে আগেই মহিষটির কথা শুনেছিল। নাম কেন ডোনাল্ড ট্রাম্প রাখা হয়েছে জানতে চাইলে সে হেসে বলে, চুলের স্টাইলটা নাকি ট্রাম্পের মতো।

মোহাম্মদপুর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা কলেজশিক্ষার্থী রাফি ইসলাম বলেন, ফেসবুকে এত ভাইরাল হওয়ার পর কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। তাই ঈদের ছুটিতে দেখতে এসেছেন। এখানে এসে দেখলেন, অনেক মানুষ শুধু এই মহিষটিকে দেখতেই ভিড় করেছেন।

গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে আসা রুবিনা আক্তার বলেন, তাঁর ছোট ছেলে জোর করেই তাঁকে চিড়িয়াখানায় নিয়ে এসেছে। কারণ, সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে মহিষটিকে দেখতে চেয়েছিল। বাসা থেকে ছেলেটি বলছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখতে যাবে। পরে বুঝেছেন, সেটি আসলে একটি মহিষ।

চিড়িয়াখানার কর্মীরা জানান, মহিষটিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কয়েক দিনের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। দর্শনার্থীরা যাতে খাঁচার খুব কাছে যেতে না পারেন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

চিড়িয়াখানার এক কর্মী বলেন, সকাল থেকে মানুষ এসে প্রথমেই জানতে চাইছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প কোথায় রাখা হয়েছে। অনেকে অন্য প্রাণী না দেখে সরাসরি এই মহিষটির কাছেই চলে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহিষটির সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। কেউ বলছেন, এর চুলের ধরন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো। কেউ আবার চোখ ও মুখের গড়নের সঙ্গে মিল খুঁজছেন। অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টও করছেন।

জানা গেছে, কোরবানির পশুর হাটে প্রথম আলোচনায় আসে মহিষটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। পরে দেশীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি বিদেশি কয়েকটি গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাণীটিকে ঘিরে আগ্রহ বাড়তে থাকে।

মহিষটির মালিকের পরিবারের সদস্যরা জানান, শখ করেই এর নাম রাখা হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত মাথার সামনের ঝুঁটি ও মুখের কিছু বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মিল খুঁজে পাওয়ায় এমন নাম দেওয়া হয়। পরে সেটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আলোচনার মধ্যেই মহিষটিকে কোরবানি না দিয়ে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সরকারি উদ্যোগে সেটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ প্রাণীটিকে কাছ থেকে দেখতে পারেন। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে মহিষটিকে বিশেষ পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।

ঈদের ছুটির আমেজের মধ্যেও চিড়িয়াখানার সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন এই মহিষটিকে ঘিরেই। বিকেলের দিকে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়ও। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ শুধুই কৌতূহল থেকে ছুটে এসেছেন ভাইরাল সেই প্রাণীটিকে দেখতে।

দর্শনার্থীদের অনেকে বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কোনো প্রাণীকে সরাসরি দেখতে পারার অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য ভিন্নরকম। অনেকের মতে, শিশুদের জন্যও এটি বাড়তি আনন্দের বিষয়। ঈদের আনন্দের মধ্যেই তাই রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানায় নতুন আকর্ষণের নাম হয়ে উঠেছে সাদা সেই মহিষ।

কালের আলো/এসআর/এএএন