খুঁজুন
                               
, ,
           

ট্রাইব্যুনালে আনা হলো রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ভিসিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
ট্রাইব্যুনালে আনা হলো রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ভিসিকে

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. হাসিবুর রশীদকে শনিবার গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

এরপর দিনই তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তিনি।

রোববার (১৭ মে) দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গতকাল (শনিবার) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে হাসিবুর রশিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিন বেরোবির সাবেক এই ভিসিকে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে হাজির করা হবে। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করবে প্রসিকিউশন।

এর আগে, ৯ এপ্রিল শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর মধ্যে প্রধান আসামি হিসেবে হাসিবুর রশিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

শনিবার (১৬ মে) রাতে মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে তাকে আটকে রাখেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মন্ত্রিসভায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের খসড়া অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
মন্ত্রিসভায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের খসড়া অনুমোদন

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ১৮তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দ্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯’ এর অধীনে গঠিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নসকে অধিক জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বিদ্যমান অধ্যাদেশ যুগোপযোগী করে বাংলায় ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। খসড়া আইনটি জনমত যাচাইয়ের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো– বিদ্যমান দ্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯ রহিত করে এ অধ্যাদেশের অধীনে কৃত কার্যক্রমের হেফাজতের বিধান রেখে বাংলায় আইনটি যুগোপযোগী করা হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর অধীন এ ব্যাটালিয়ন পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

এ ব্যাটালিয়নকে জননিরাপত্তা রক্ষা, ভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, সরকার ঘোষিত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা, সন্ত্রাস, মাদক, মানবপাচার, ধর্ষণ এবং মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত অন্যান্য আইন প্রতিপালন-সাপেক্ষে ইউনিটের সদস্যদের ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ও কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ আইনে বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালত গঠন ও বিচার পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সৌদি রাষ্ট্রদূত বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

সৌদি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সফর আরও সুগম এবং হাজিদের কষ্ট লাঘবের জন্য, বিশেষ করে মিনায় গোসলখানা ও শৌচাগার সুবিধা উন্নয়নের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সৌদি আরবে ৩৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনশক্তি নেওয়ারও আহ্বান জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতি সৌদি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার উল্লেখ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মির্জা ফখরুল সৌদি বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে তাদের নেতৃত্বের জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত এ সময় জ্বালানি, সহায়তা ও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম কোনো বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ। বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

মাগুরার আলোচিত আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য আসা ডেথ রেফারেন্স এবং তার করা আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। এ মামলায় রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক শুনানিতে অংশ নেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের আছিয়া। অভিযোগ রয়েছে, বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। একই বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অপর তিন আসামি, নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, তার ছোট ভাই এবং সজীবের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো বাধ্যতামূলক। সে অনুযায়ী গত বছরের ২১ মে মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রস্তুত শেষে গত ৮ জুন পেপারবুক হাইকোর্টে পৌঁছালে মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চে কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে সোমবার মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার হাইকোর্ট এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ