খুঁজুন
                               
, ,
           

সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার মতবিনিময়

জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় সমস্যা, জনদুর্ভোগ, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা এবং ভূরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ মতবিনিময় হয়।

রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন- জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দল যে ভূমিকা পালন করছে, মতবিনিময় সভায় আমিরে জামায়াত তা সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরেছেন।’

তিনি বলেন, জাতীয় সমস্যা ও জনদুর্ভোগের পাশাপাশি বিশেষ করে জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সমাধানে জামায়াতের ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সংসদে ও সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতে প্রচলিত ও প্রথাগত বিরোধী দলের যে খারাপ অনুশীলন ছিল, সেই প্রথা ভেঙে দিয়ে দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা এবং অন্যায় ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিরোধে জামায়াত যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরেছেন আমিরে জামায়াত। সম্পাদকমণ্ডলী জামায়াতের এ নীতির প্রশংসা করেছেন বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘জামায়াতের বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক। মতবিনিময়ে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতির পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাজপথে বিরোধী দল আন্দোলন করলেও দেশ যেন অস্থিতিশীল না হয়, সে বিষয়ে সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন।’

সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর সম্পাদকদের সঙ্গে এটি প্রথম মতবিনিময় উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বর্তমান সরকারি দল জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের এমপিদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। উন্নয়নমূলক কাজ, বরাদ্দ, সংসদে কথা বলা, আইন প্রণয়ন এবং বিভিন্ন নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিরোধী দল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট নিরসন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু এরপরও স্পিকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দল ইনসাফপূর্ণ আচরণ পাচ্ছে না; বরং বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এসব বিষয়ও আমিরে জামায়াত সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরেছেন।’

সম্পাদকদের লেখনীর মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। সম্পাদকরা মতবিনিময়ে অভিমত দেন, সংসদের অতীতের বিরোধী দলগুলোর তুলনায় জামায়াতের ভূমিকা ব্যতিক্রম। জামায়াত গঠনমূলক পন্থায় সংসদকে কার্যকর রাখতে চায়, তবে এ ক্ষেত্রে সরকারকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দৈনিক ইত্তেফাক-এর সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, দৈনিক যায়যায়দিন-এর সম্পাদক শফিক রেহমান, দৈনিক মানবজমিন-এর সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, দৈনিক প্রথম আলো-এর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ, দৈনিক বণিক বার্তা-এর সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ডেইলি ওয়াদা-এর সম্পাদক শফিকুল আলম, দৈনিক ইনকিলাব-এর সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান, দৈনিক মানবকণ্ঠ-এর সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, দৈনিক কালবেলা-এর সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, দৈনিক এদিন-এর সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম সাজু, দৈনিক খবরের কাগজ-এর সম্পাদক মোস্তফা কামাল, দৈনিক ভোরের ডাক-এর সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, আজকের পত্রিকা-এর সম্পাদক কামরুল হাসান, দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর নির্বাহী সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বাণিজ্য প্রতিদিন-এর সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, দৈনিক করতোয়া-এর সম্পাদক মোজাম্মেল হক, দৈনিক জনতা-এর সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীন, আগামীর সময়-এর সম্পাদক মোস্তফা মামুন, খোলা কাগজ-এর সম্পাদক আহসান হাবীব, দ্য নিউ নেশন-এর সম্পাদক মো. মোকাররম হোসেন, গ্রিন ওয়াচ-এর সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, দ্য ইভিনিং নিউজ-এর সম্পাদক এ বি এম সেলিম আহমেদ, ডেইলি সান-এর উপসম্পাদক আল আমিন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান, দৈনিক সংগ্রাম-এর বার্তা সম্পাদক শামসুল আরেফীন এবং সাপ্তাহিক সোনার বাংলা-এর বার্তা সম্পাদক ফেরদৌস আহমদ ভূঁইয়া।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মাদ জাহিদুর রহমান ও দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি এবং আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় তিনি আহত পুলিশ কর্মকর্তার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।

শাহ আলমের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা জেলার এ-সার্কেলে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন। পথে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবগঠিত রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কমিটির সাফল্য অর্জন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আলফাতুন নেছা পুতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা শাপলা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোছাঃ নার্গিস খাতুন এবং সদস্য মোছাঃ আশা মনি, মোছাঃ সুরাইয়া খাতুন ও আফরোজা আক্তার হাসি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের জট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্দরের অভ্যন্তরে অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরি, নিলাম এবং প্রয়োজনে ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এসব কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। পণ্যগুলোর ইনভেন্টরি বা মজুত তালিকা তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দায়িত্বে রাখা হবে।

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের তালিকা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং আমদানির পর খালাস না হওয়া পণ্য বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে। এসব পণ্যের মধ্যে নিলামযোগ্য পণ্যও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য জমে থাকায় সেগুলোর সঠিক হিসাব, সংরক্ষণ, নিলাম এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ জন্য দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর মাধ্যমে কোন পণ্য নিলামযোগ্য, কোনগুলো খালাস হয়নি এবং কোন পণ্যের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

১৫ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন করবেন কর্মকর্তারা

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ইনভেন্টরি কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের বিভিন্ন দপ্তর থেকে তাঁদের সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেটের মো. শাহজাহান সরকার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন; গাজীপুরের মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন; ঢাকা দক্ষিণের মো. বেলাল উদ্দিন ও ফজলুল হক; ঢাকা উত্তরের উত্তম কুমার দাস ও মাহমুদুল হাসান।

এ ছাড়া ঢাকা পূর্বের মো. হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী; ঢাকা পশ্চিমের মো. রোমেল তালুকদার ও সুমনা দেবনাথ; চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের ইফতেখার আহমেদ ও মো. আসিফ ইকবাল রাজু; এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাজী নাইম উদ্দীনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন কুমিল্লার মোছা. উম্মে সালমা ও অম্বিকা রানী, কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসের মো. তৌহিদুর রহমান, বেনাপোল কাস্টম হাউসের শংকেরালীঘ দেব এবং ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের দক্ষিণ ও উত্তর অংশের সত্যজিৎ সরকার ও মো. শাহিনুর আলম।

নিলাম ও ধ্বংসের মাধ্যমে পণ্যের জট নিরসনের লক্ষ্য

এনবিআরের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপে তালিকাভুক্ত পণ্যের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী নিলাম অথবা ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যেসব পণ্য নিলামযোগ্য, সেগুলো নিলামের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নিলামের অনুপযোগী বা বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা প্রয়োজন—এমন পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের অভ্যন্তরে জায়গার ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি নতুন আমদানি পণ্যের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও খালাস কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও কনটেইনার জট কমানোর প্রত্যাশা

দ্রুত ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে নিলাম ও ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের জট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, নিলামপ্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য অপসারণে কী পরিমাণ অগ্রগতি অর্জিত হয়, তার ওপর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি