খুঁজুন
                               
, ,
           

সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার মতবিনিময়

জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় সমস্যা, জনদুর্ভোগ, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা এবং ভূরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ মতবিনিময় হয়।

রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন- জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দল যে ভূমিকা পালন করছে, মতবিনিময় সভায় আমিরে জামায়াত তা সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরেছেন।’

তিনি বলেন, জাতীয় সমস্যা ও জনদুর্ভোগের পাশাপাশি বিশেষ করে জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সমাধানে জামায়াতের ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সংসদে ও সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতে প্রচলিত ও প্রথাগত বিরোধী দলের যে খারাপ অনুশীলন ছিল, সেই প্রথা ভেঙে দিয়ে দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা এবং অন্যায় ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিরোধে জামায়াত যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরেছেন আমিরে জামায়াত। সম্পাদকমণ্ডলী জামায়াতের এ নীতির প্রশংসা করেছেন বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘জামায়াতের বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক। মতবিনিময়ে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতির পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাজপথে বিরোধী দল আন্দোলন করলেও দেশ যেন অস্থিতিশীল না হয়, সে বিষয়ে সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন।’

সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর সম্পাদকদের সঙ্গে এটি প্রথম মতবিনিময় উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বর্তমান সরকারি দল জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের এমপিদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। উন্নয়নমূলক কাজ, বরাদ্দ, সংসদে কথা বলা, আইন প্রণয়ন এবং বিভিন্ন নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিরোধী দল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট নিরসন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু এরপরও স্পিকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দল ইনসাফপূর্ণ আচরণ পাচ্ছে না; বরং বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এসব বিষয়ও আমিরে জামায়াত সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরেছেন।’

সম্পাদকদের লেখনীর মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। সম্পাদকরা মতবিনিময়ে অভিমত দেন, সংসদের অতীতের বিরোধী দলগুলোর তুলনায় জামায়াতের ভূমিকা ব্যতিক্রম। জামায়াত গঠনমূলক পন্থায় সংসদকে কার্যকর রাখতে চায়, তবে এ ক্ষেত্রে সরকারকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দৈনিক ইত্তেফাক-এর সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, দৈনিক যায়যায়দিন-এর সম্পাদক শফিক রেহমান, দৈনিক মানবজমিন-এর সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, দৈনিক প্রথম আলো-এর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ, দৈনিক বণিক বার্তা-এর সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ডেইলি ওয়াদা-এর সম্পাদক শফিকুল আলম, দৈনিক ইনকিলাব-এর সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান, দৈনিক মানবকণ্ঠ-এর সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, দৈনিক কালবেলা-এর সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, দৈনিক এদিন-এর সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম সাজু, দৈনিক খবরের কাগজ-এর সম্পাদক মোস্তফা কামাল, দৈনিক ভোরের ডাক-এর সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, আজকের পত্রিকা-এর সম্পাদক কামরুল হাসান, দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর নির্বাহী সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বাণিজ্য প্রতিদিন-এর সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, দৈনিক করতোয়া-এর সম্পাদক মোজাম্মেল হক, দৈনিক জনতা-এর সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীন, আগামীর সময়-এর সম্পাদক মোস্তফা মামুন, খোলা কাগজ-এর সম্পাদক আহসান হাবীব, দ্য নিউ নেশন-এর সম্পাদক মো. মোকাররম হোসেন, গ্রিন ওয়াচ-এর সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, দ্য ইভিনিং নিউজ-এর সম্পাদক এ বি এম সেলিম আহমেদ, ডেইলি সান-এর উপসম্পাদক আল আমিন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান, দৈনিক সংগ্রাম-এর বার্তা সম্পাদক শামসুল আরেফীন এবং সাপ্তাহিক সোনার বাংলা-এর বার্তা সম্পাদক ফেরদৌস আহমদ ভূঁইয়া।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মাদ জাহিদুর রহমান ও দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি এবং আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

তরুণদের সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
তরুণদের সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

মাদকাসক্তি, মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ও হতাশা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে খেলাধুলার মাঠে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণদের নেতিবাচক আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ জন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাথলেটিক্সকে ক্রীড়ার জননী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর কত দিন আমরা আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকব? আমাদের নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং নিজেদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল করে তুলতে হবে।’

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাঠগুলো অবৈধ দখলমুক্ত রেখে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন খেলার মাঠ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি দ্রুত স্কুল পর্যায়ে ‘ইন্টার স্কুল স্পোর্টস কম্পিটিশন’ চালুর আহ্বান জানান। বিশ্বমানের অ্যাথলেট গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর অবদান স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে, বিশেষ করে ক্রিকেটের উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের ক্রীড়ানুরাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উৎসাহ ও সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের, সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপনসহ ক্রীড়া সংগঠকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ মোস্তাক ও সুমিতা রানী প্রতিযোগিতার মশাল প্রজ্বলন করেন। পরে খেলোয়াড় ও বিচারকদের শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণে শুরু হয় এবারের প্রতিযোগিতা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মো. রাসেল (২৩) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাসেলের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলায়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে রাসেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরদিন শুক্রবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন করে ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫১ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

ঢাকা–টোকিও সম্পর্ককে আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে। বাংলাদেশের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ জোরদারের প্রত্যাশা জানিয়েছে জাপান। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। সফরটি আনুষ্ঠানিক মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তাঁর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

  • জাপানের সঙ্গে আলোচনায় ৮ সমঝোতা স্মারক
  • সই হতে পারে ৪–৫টি; বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা

জাপানের এই বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে সফরটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ কিংবা প্রটোকলভিত্তিক কূটনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব বাড়ছে
বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে জাপান। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে টোকিওর। একই সঙ্গে হালনাগাদ ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই অবস্থান থেকে তারেক রহমানের সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা জোরদার হলে তা উন্নয়ন অংশীদারত্বের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্বার্থের সমন্বয়েও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষিত প্রত্যাশাকে কতটা কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়া যায়, তার ওপর। রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনই হবে এই সম্পর্কের কার্যকারিতা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।

আলোচনায় আট সমঝোতা স্মারক
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেও অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত অনুযায়ী, সফর সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে সবগুলো চূড়ান্ত না-ও হতে পারে; এর মধ্যে চার থেকে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনাধীন ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।

এই খাতগুলোর বৈচিত্র্য ইঙ্গিত দেয়, বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা শুধু অবকাঠামো বা উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও সম্পর্কের বিস্তার ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।

কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রযুক্তি, গবেষণা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। অন্যদিকে, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মীদের যোগ্যতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মান, ভাষাগত দক্ষতা এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়লে যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসায়িক সংযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদানের সক্ষমতা উন্নয়নেও সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন কাঠামো প্রয়োজন হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা কতটা?
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করে আসছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি বড় সুযোগ হলো উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো। পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানের জন্যও বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমশক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের সম্ভাবনা দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করেছে। দুই দেশের স্বার্থের এই মিল কাজে লাগাতে পারলে সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপ নিতে পারে।

তবে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সংখ্যাই সম্পর্কের সাফল্যের একমাত্র সূচক নয়। এসব সমঝোতার আওতায় কী ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, কত দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনগণ কতটা সরাসরি উপকৃত হচ্ছে—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এমএইচ/এমকে