বীর ইউনিটকে আরও কার্যকর পদাতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার বার্তা সেনাপ্রধানের
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক শক্তিকে আরও সুসংগঠিত, দক্ষ ও কার্যকর করে তুলতে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের (বীর) সদস্যদের দেশমাতৃকার সেবায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বীর ইউনিটগুলো ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর পদাতিক বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজশাহী সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের (বিআইআরসি) শহীদ নকীব হলে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ২১তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা ও প্রত্যাশার কথা জানান।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সম্মেলনে সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের বিভিন্ন ইউনিটের অধিনায়কদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি ইউনিটগুলোর কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সদস্যদের দেশ ও জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বে গুরুত্ব
সেনাপ্রধানের বক্তব্যে শুধু দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাই নয়, বরং একটি দক্ষ ও পেশাদার পদাতিক বাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যাশাও প্রতিফলিত হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে পদাতিক বাহিনীর ভূমিকা বহুমাত্রিক হওয়ায় প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে সেনাপ্রধান মূলত ইউনিটগুলোর বিদ্যমান সক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি তা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
পদাতিক বাহিনীর মেরুদণ্ড’ হওয়ার প্রত্যাশা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে পদাতিক বাহিনীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে বীর ইউনিটগুলোকে পদাতিক বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা সেনাপ্রধানের বক্তব্যে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি শুধু একটি প্রশংসাসূচক মন্তব্য নয়; বরং ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইনফ্যান্ট্রি ইউনিটগুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপেরও ইঙ্গিত দেয়। কার্যকর প্রশিক্ষণ, নেতৃত্বের বিকাশ এবং প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে এসব ইউনিট সেনাবাহিনীর সামগ্রিক অপারেশনাল সক্ষমতায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
দায়িত্বশীলতা ও দেশসেবার বার্তা
সেনাপ্রধানের নির্দেশনায় দেশসেবা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি দেশের মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিও দায়িত্বশীল থাকার বিষয়টি এ বার্তার গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষ করে অধিনায়ক সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক আয়োজনে ইউনিট পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সেনাবাহিনীর নীতিগত নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সম্মেলনে অনুষ্ঠানে আর্টডকের ভারপ্রাপ্ত জিওসি মেজর জেনারেল খন্দকার মোহাম্মদ শাহিদুল এমরান, ইবিআরসি কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোরশেদ, সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সাজেদুর রহমান, বিআইআরসি কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আফতাব হোসেন, ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ, এসআইএন্ডটি’র কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মাহমুদুল কবিরসহ সেনাসদর ও সংশ্লিষ্ট এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা; বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের অধিনায়ক এবং বিভিন্ন সংস্থার সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ২১তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন শুধু একটি নিয়মিত সামরিক আয়োজন নয়; বরং প্রশিক্ষণ, পেশাদারিত্ব, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং দেশসেবার অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। সেনাপ্রধানের প্রত্যাশা অনুযায়ী বীর ইউনিটগুলো যদি এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নয়ন ধরে রাখতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array