খুঁজুন
                               
, ,
           

বীর ইউনিটকে আরও কার্যকর পদাতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার বার্তা সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
বীর ইউনিটকে আরও কার্যকর পদাতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার বার্তা সেনাপ্রধানের

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক শক্তিকে আরও সুসংগঠিত, দক্ষ ও কার্যকর করে তুলতে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের (বীর) সদস্যদের দেশমাতৃকার সেবায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বীর ইউনিটগুলো ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর পদাতিক বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজশাহী সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের (বিআইআরসি) শহীদ নকীব হলে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ২১তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা ও প্রত্যাশার কথা জানান।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সম্মেলনে সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের বিভিন্ন ইউনিটের অধিনায়কদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি ইউনিটগুলোর কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সদস্যদের দেশ ও জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বে গুরুত্ব
সেনাপ্রধানের বক্তব্যে শুধু দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাই নয়, বরং একটি দক্ষ ও পেশাদার পদাতিক বাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যাশাও প্রতিফলিত হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে পদাতিক বাহিনীর ভূমিকা বহুমাত্রিক হওয়ায় প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে সেনাপ্রধান মূলত ইউনিটগুলোর বিদ্যমান সক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি তা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

পদাতিক বাহিনীর মেরুদণ্ড’ হওয়ার প্রত্যাশা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে পদাতিক বাহিনীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে বীর ইউনিটগুলোকে পদাতিক বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা সেনাপ্রধানের বক্তব্যে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি শুধু একটি প্রশংসাসূচক মন্তব্য নয়; বরং ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইনফ্যান্ট্রি ইউনিটগুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপেরও ইঙ্গিত দেয়। কার্যকর প্রশিক্ষণ, নেতৃত্বের বিকাশ এবং প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে এসব ইউনিট সেনাবাহিনীর সামগ্রিক অপারেশনাল সক্ষমতায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

দায়িত্বশীলতা ও দেশসেবার বার্তা
সেনাপ্রধানের নির্দেশনায় দেশসেবা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি দেশের মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিও দায়িত্বশীল থাকার বিষয়টি এ বার্তার গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষ করে অধিনায়ক সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক আয়োজনে ইউনিট পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সেনাবাহিনীর নীতিগত নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সম্মেলনে অনুষ্ঠানে আর্টডকের ভারপ্রাপ্ত জিওসি মেজর জেনারেল খন্দকার মোহাম্মদ শাহিদুল এমরান, ইবিআরসি কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোরশেদ, সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সাজেদুর রহমান, বিআইআরসি কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আফতাব হোসেন, ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ, এসআইএন্ডটি’র কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মাহমুদুল কবিরসহ সেনাসদর ও সংশ্লিষ্ট এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা; বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের অধিনায়ক এবং বিভিন্ন সংস্থার সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ২১তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন শুধু একটি নিয়মিত সামরিক আয়োজন নয়; বরং প্রশিক্ষণ, পেশাদারিত্ব, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং দেশসেবার অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। সেনাপ্রধানের প্রত্যাশা অনুযায়ী বীর ইউনিটগুলো যদি এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নয়ন ধরে রাখতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন তারেক রহমান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন তারেক রহমান

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেইসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জাইকা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও জাইকার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান বৃদ্ধিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব’, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠা, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের জ্বালানি চাহিদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের মতো এবারও জাইকার কাছে বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়।

জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, চাল-ডালে বাড়তি খরচ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, চাল-ডালে বাড়তি খরচ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার মধ্যে রাজধানীর বাজারে চাল, ডাল, আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কোনো কোনো ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে আগে থেকেই চাপে থাকা সাধারণ মানুষের সংসার খরচ আরও বেড়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেট প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব চালের দাম ছিল ৬৮ থেকে ৮৫ টাকা।

মাঝারি মানের পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় উঠেছে। মোটা চায়না ইরি, গুটি ও স্বর্ণা চালের দামও কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা হয়েছে। তবে খোলা পোলাও চালের দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমে ১৯০ টাকায় নেমেছে। অন্যদিকে, প্যাকেটজাত পোলাও চাল কোম্পানিভেদে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, দুই সপ্তাহ আগে চালের দাম এক দফা বেড়েছে। এরপর থেকে দাম আর কমেনি। সাধারণত নতুন চাল বাজারে আসার পর পুরোনো চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বাড়ে। এবার নতুন চাল বাজারে আসার আগেই পুরোনো চালের দাম বেড়েছে। আগামী ডিসেম্বর থেকে খুচরা বাজারে নতুন চাল বিক্রি শুরু হতে পারে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে মোটা চালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা। মানভেদে সরু চালের দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা।

ডালের দামেও ঊর্ধ্বগতি

চালের পাশাপাশি বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম। বর্তমানে মোটা মসুর ডাল প্রতি কেজি ৯৫ থেকে ১১০ টাকা এবং ভালো মানের মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে মুগ ডালের দাম ১২০ থেকে ১৭০ টাকা। গত এক সপ্তাহে এ ডালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।

বুটের ডালের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় উঠেছে। আগে এ ডাল বিক্রি হতো ৯০ টাকায়। ছোলার ডালের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা হয়েছে। ডাবলি ও অ্যাংকর ডালের দাম ১০ টাকা বেড়ে ৬৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে মটর ও মাসকলাই ডালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে মটর ডাল ১২০ টাকা এবং মাসকলাই ডাল ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আটা-ময়দাতেও স্বস্তি নেই

আটা ও ময়দার বাজারেও দাম বাড়তি। বর্তমানে খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে খোলা আটার দাম ২ শতাংশ এবং প্যাকেটজাত আটার দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে খোলা ময়দার দাম ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং প্যাকেটজাত ময়দার দাম ৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব

গত সেপ্টেম্বরে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়। এর পর থেকে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, পরিবহন খরচের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যাও পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

পুরান ঢাকার বাসিন্দা মো. তুহিন ইসলাম বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বারবার বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতি মাসেই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। চাল-ডালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি বাজারের পরিমাণও কমিয়ে দিয়েছেন।

আদনান অ্যান্ড আরাফাত ট্রেডার্সের মালিক মো. ফারুক হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যাও চালের দাম বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, সরকার নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পরও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিনে খোলা পোলাও চালের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমেছে। সরকার রপ্তানি বন্ধ করায় দাম কমেছে বলে তাঁর ধারণা। তবে প্যাকেটজাত পোলাও চালের দাম কোম্পানিগুলো এখনো কমায়নি। পরিবহন খরচ বাড়ায় আমদানি কিছুটা কমে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

রায়সাহেব বাজারের আদর জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. মোহন আহমেদ বলেন, প্রায় এক মাস ধরে মুদি পণ্যের দাম বাড়তি। সম্প্রতি চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা এবং কোনো কোনো ডালের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খোলা ও প্যাকেটজাত আটা-ময়দার দামও বেড়েছে।

ধূপখোলা মাঠ বাজারের মোহাম্মদ হোসেন রাইসের ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। খোলা পোলাও চালের দাম কমলেও প্যাকেটজাত চালের দাম আগের মতোই রয়েছে। নতুন চাল বাজারে আসার আগেই পুরোনো চালের দাম বেড়ে যাওয়াকে তিনি অস্বাভাবিক বলে মনে করেন।

মূল্যস্ফীতির চাপে বাড়তি ব্যয়

দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, গত সেপ্টেম্বরে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, টিসিবির পণ্য বিক্রি ও খোলা বাজারে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম থাকলেও চাহিদার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে পণ্য পান না।

তাঁরা মনে করেন, শুধু বাজারে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেই হবে না; পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও রেশনিংয়ের আওতা বাড়ানো প্রয়োজন। তা না হলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে সাধারণ পরিবারগুলোর দৈনন্দিন ব্যয় আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ক্রসফায়ারের বক্তব্যে আইজিপির জবাবদিহি দাবি হাসনাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
ক্রসফায়ারের বক্তব্যে আইজিপির জবাবদিহি দাবি হাসনাতের

আইজিপির ‘অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। এ বিষয়ে সরকারের কাছে কঠোর জবাবদিহি দাবি করে তিনি অভিযোগ করেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে পুলিশ বাহিনীকে আবারও বিতর্কিত পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। একই সমাবেশে গুমের অভিযোগ, গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বাজারে সিন্ডিকেট এবং প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন হাসনাত। আইজিপির বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করে মানুষ মারার প্রস্তুতি থাকার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে আবারও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত বলেন, “যারা ক্রসফায়ার আর গুলি করে মানুষ মারার হুমকি দেয়, তারা হচ্ছে ডিবির হারুন আর বেনজীরের বংশধর। এমন বক্তব্যের পর কোনো সভ্য দেশে ওই আইজিপি স্বপদে বহাল থাকতে পারতেন না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মনোবল পুনরুদ্ধার করে সাধারণ পুলিশ সদস্যরা যখন স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার চেষ্টা করছেন, তখন কয়েকজন কর্মকর্তার দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। এ বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, সরকার যদি এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে তারা আবারও গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পথে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করবে।তবে সমাবেশে দেওয়া এসব বক্তব্য ও অভিযোগ হাসনাত আবদুল্লাহর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান। এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য বা আইজিপির প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সমাবেশে মোংলার মিরাজের সন্ধান দাবি করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তুলে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।এ ছাড়া রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে হয়রানিমূলকভাবে আটক করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে এক নারীর দ্রুত মুক্তিও দাবি করেন তিনি। দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসনাত। রাজধানীর মুগদা এলাকার গ্যাস সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাসের অভাবে বাসিন্দারা রান্না করতেও সমস্যায় পড়ছেন।

তার অভিযোগ, ১ হাজার ৮০০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণ মানুষকে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি টিকিয়ে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি নিয়েও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, সরকার ১৮ মাসে দেড় কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলেছিল। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে—তবে তা হয়েছে মোড়ে মোড়ে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে।

হাসনাত বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চাঁদাবাজির মাধ্যমে সৃষ্ট এমন কর্মসংস্থান চায়নি। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এসব বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমে আসবে।সমাবেশে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মানবাধিকার, দ্রব্যমূল্য এবং জনদুর্ভোগের বিষয়গুলোতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি