পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফেরাতে ৯ দাবি, সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবিকারীদের ভূরাজনৈতিক ধারণা নিয়ে প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী নূরের
পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজি রোধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ভিপি নুরুল হক নুর। পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি দেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন। শুধু তাই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে যারা সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি তুলছে তাদের ভূরাজনৈতিক ধারণা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের উৎস ও সশস্ত্রগোষ্ঠীর অর্থায়নের পথ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা কোন একক রাজনৈতিক ইস্যু নয়।
এটি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। তাই সরকার, বিরোধী দল ও নিরাপত্তা বাহিনী এবং সব অংশীজনকে একটি অভিন্ন জাতীয় অবস্থানে পৌঁছাতে হবে।’ বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্র, সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ভিপি নুরুল হক নুরের তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অপরিহার্যতাকে মোটা দাগে সামনে এনেছে। এই পাহাড় যে বাংলাদেশের একটি অবিচ্ছেদ্য এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশ সেটিও যুক্তির সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন।
সেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে নয় দফা দাবি জানান ‘এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’ এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ। এ সময় তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র সংগঠন সমূহ চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, গুম, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য চোরাচালানসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে। এছাড়া, সোশাল মিডিয়ার গুজব, এনজিও এবং আইএনজিও এর সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা, প্রবাসী উপজাতিদের দেশ বিরোধী প্রচারণা, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প প্রত্যাহার, পার্শ্ববর্তী দেশের মদদসহ নানাবিধ কারণে পাহাড় অশান্ত।’
পাহাড় থেকে সেনাবাহিনীকে সরিয়ে দিলে অশান্তি বাড়বে বলে একই সেমিনারে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে থাকুক, এটা অনেকে চায় না। তারা মূলত চাঁদাবাজি করার জন্য সেনাবাহিনী থাকুক, এটা চায় না। এ দেশে সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। সব বিপদে সেনাবাহিনী সবসময় দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ এই সেমিনারে সিএইচটি সম্প্রতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াই চিং মং চাকও বক্তব্য রাখেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ৯ দাবি
‘এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’ এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তার, নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী হওয়ায় অঞ্চলটির প্রায় ১৩ হাজার ২৯৪ বর্গকিলোমিটার, যা বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১০%। এই বিশাল এলাকাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর।’
তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র গ্রুপগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে ৪১টি খাত হতে বছরে ১ হাজার থেকে ১২০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে। আত্মগোপনে থাকা মাইকেল চাকমার আবির্ভাব হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন অস্ত্র চোরাচালান সবকিছু বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরে জেএসএস এবং ইউপিডিএফ-এর অন্তঃকোন্দলে ৪১ জনের মৃত্যু (নিরীহ জনগণসহ) হয়েছে। এছাড়া, জেএসএস ও ইউপিডিএফ এর মধ্যে গত ২ বছরে সংঘর্ষে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে। বিগত ২ বছরে ১০৬ জন উপজাতি এবং বাঙালি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে অপহৃত হয়েছে। কিন্তু এতসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অন্যতম মাস্টার মাইন্ড মাইকেল চাকমা ঢাকার বুকে ঘুরে বেড়ালেও তাকে সরকার আটক করছে না। এমনকি তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলায় রাঙামাটি আদালত ৭ বছরের কারাদণ্ড দিলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সরকার তাকে আটক করছে না।’
গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং ভারতে বসবাসকারী জো সম্প্রদায়ের দ্বারা এক জাতি গঠনের জন্য মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী লালদুহোমা তার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অপরদিকে, ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, চীন রাজ্যের ২টি প্রতিরোধ গোষ্ঠী মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ কমাতে এবং চিন জাতীয় পরিষদ গঠনের জন্য একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মিজোরাম রাজ্যের এমপি মি. ভানলালভেনা সিএনএফের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন এবং তাদের ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের আহ্বান জানান। এই সমস্ত কার্যকলাপ ভারতের সম্প্রসারণের অ্যাজেন্ডা নির্দেশ করে।’
সাইফুল্লাহ খান সাইফ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় থাকলেও পাহাড়ের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সশস্ত্র তৎপরতা, অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন পক্ষের স্বায়ত্তশাসন ও ‘আদিবাসী’ পরিচয়কেন্দ্রিক দাবির প্রেক্ষাপটে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের আরও দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী ভূমিকা প্রয়োজন।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলকে শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোরও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান, নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা জরুরি। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
বক্তব্য শেষে তিনি এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হচ্ছে- সশস্ত্র গোষ্ঠীকে যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করা, শান্তিচুক্তি রিভিউ করা, ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, ইয়েন ইয়েন, প্রসীত বিকাশ খীসা, মাইকেল চাকমা, নাথান বম, সন্তু লারমাসহ অন্যান্যের রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের জন্য আইনের আওতায় আনা, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব গোলযোগপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনীর স্থায়ী ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন এবং বিজিবির বিওপি বাড়ানো, পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা জাতির সামনে স্পষ্ট করা, বাঙালিদের পাহাড়ে সমঅধিকার নিশ্চিত করা, উপজাতিরা পাহাড়ে এবং সমতলে জায়গা কিনতে পারলে বাঙালিরাও পাহাড়ে জায়গা কিনতে পারবে- এই আইন প্রণয়ন করা, উপজাতিদের আয়করের অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিদেশের মাটিতে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা।
‘সেনাবাহিনীকে নিয়ে এনসিপির কেন এতো সমস্যা জানি না’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান দৃঢ়তার সঙ্গেই সেমিনারে বলেছেন, ‘আজকে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছে, তাদের ভূমিকা নিয়েও দেশের মানুষের প্রশ্ন রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে নিয়ে এনসিপির কেন এতো সমস্যা জানি না। তবে, গোপালগঞ্জের ঐ ঘটনায় সেনাবাহিনীই কিন্তু আপনাদেরকে উদ্ধার করেছে।’ রাশেদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং আমরা সবাই বাংলাদেশি। পাহাড়ে যারা বসবাস করছে, তাদেরকে ছাড়া বাংলাদেশ হবে না। আমরা সবাইকে নিয়ে চলতে চাই।’
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, ‘এনসিপির নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী সেনাবাহিনীর দাড়ি নিয়ে কথা বলেছে। এর জন্য আপনি (পাটোয়ারী) জাতি এবং সেনাপ্রধানের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন। নাহিদ ইসলামের নির্দেশনায় নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী এসব খারাপ এবং উগ্র বক্তব্য দিচ্ছে।’ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করা আধিবাসীদেরকে আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘আপনারা নিজেদেরকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেবেন। আধিবাসী শব্দ নিয়ে কোনো বিতর্ক চলবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে জঙ্গল সলিমপুর ঠিক করেছে, সেভাবে পাহাড় ঠিক করতে হবে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না।’ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘ড. ইউনুস মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ঐসময় যাদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ অযোগ্য ছিল। নাহিদ ইসলাম যে ৬ মাস দায়িত্ব পালন করেছে, তিনি গণমাধ্যমের সংস্কার করতে পারেনি। মাহফুজ আলমও পারেনি। তারা এখন বলছে, বিএনপি সরকারের পতন ঘটিয়ে, নতুন সরকার গঠন করেছে।’ এনসিপিকে উদ্দেশ করে রাশেদ খান বলেন, ‘জামায়াতের রগে আপনারা পড়েছেন। তারা একসময় জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলে, এখন জামায়াতের সাথে জোট করেছে। এই জোটের নেতৃত্বে আর কোনো গণঅভ্যুত্থান সফল হবে বলে মনে হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারের পতন হলেও আপনারা কিন্তু দেশ চালাতে পারবেন না। নাকি আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার জন্য আপনারা এগুলো করছেন।’ কর্ণেল অলি নাসিরুদ্দিনের মতো কথা বলছে মন্তব্য করে রাশেদ খান বলেন, ‘কর্ণেল অলি এনসিপির নেতাদের ফাঁদে পা দিয়েছে এবং নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মতো কথা বলছে। এভাবে তার (কর্ণেল অলি) অধঃপতন হবে, ভাবতেও পারিনি।’
‘অল ক্রেডিট গোস টু সেনাবাহিনী’
পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে যারা সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি তুলছে তাদের ভূরাজনৈতিক ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ভিপি নুরুল হক নুর। জুলাই অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সেনা সদস্যরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যেতো।’ তিনি বলেন, ‘সমন্বয়ক বনে যাই, এই এক দফার ঘোষক বনে যাই। সেনাবাহিনী যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত না হতো যে তাঁরা জনগণের বিরুদ্ধে গুলি চালাবে না তাহলে আরও লাশ পড়তো রক্ত ঝরতো। এবং বাংলাদেশে একটি গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতো। তাই অল ক্রেডিট গোস টু সেনাবাহিনী।’
নুরুল হক নুর বলেন, ‘ এই যে ননসেন্সের মতো কথা বলা, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী তুলে আনা তাদের রাষ্ট্র, রাজনীতি, নিরাপত্তা এগুলো নিয়ে কোন ধারণা নাই। বিশেষ করে ভূরাজনীতি নিয়ে। বাংলাদেশের জন্ম বা আজকের পর্যন্ত বাংলাদেশ জিওপলিটিক্যালি কোন টেনশনকে মোকাবিলা করে আসছে, সরকারে যারা থাকে। আমি সরকারে ছিলাম না কিন্তু কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে, বুঝতে পারি বিভিন্ন অভিজ্ঞ লোকের সঙ্গে কথা বলে। কারণ রাজনীতিতে অনেক সেনা কর্মকর্তা আছে, তাদের কাছ থেকে শুনেছি। কীভাবে তারা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, জেনারেল এরশাদের আমরা যতই সমালোচনা করি এটা ঠিক বলতে হবে বাংলাদেশের ইকোনমি ডেভেলপমেন্টের ব্যাকবোন তৈরি করেছিল দুই সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আজকে বড় বড় হাইওয়ে, অবকাঠামো ইন্ডাষ্ট্র্রি শিল্পায়ন যাই বলেন এগ্রিকালচারকে প্রমোট করে এটাও দুই সামরিক শাসকই করেছেন, শুনতে এটা খারাপ হলেও এটি বাস্তব। কারণ আমরা সামরিক শাসন চাই না। কারণ আমরা চাই না সামরিক বাহিনী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এটি আমরা চাই না। বাংলাদেশ একটি ডেমোক্রেটিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত করবে। কিন্তু সামরিক বাহিনীর সময়ে বাংলাদেশে বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের অল্প সময়ে দেশে যে ধরনের দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ রেখেছে সেটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পলিসি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পলিসিতে। কারণ আজকে আমি যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি এই মন্ত্রণালয়ে মিডলইস্টে প্রচুর প্রবাসীদের যাত্রা শুরু হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ১৯৭৬ সালে এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জিয়াউর রহমান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। এর ফলেই আজকে আমাদের এই যে এক থেকে সোয়া কোটি মানুষ দেশের বাইরে আছে বড় একটি অংশের গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৭৫ পার্সেন্ট। বাকী অন্যান্য দেশে আছে।
কালের আলো/এমএএএমকে

আপনার মতামত লিখুন
Array