খুঁজুন
                               
, ,
           

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফেরাতে ৯ দাবি, সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবিকারীদের ভূরাজনৈতিক ধারণা নিয়ে প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী নূরের

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফেরাতে ৯ দাবি, সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবিকারীদের ভূরাজনৈতিক ধারণা নিয়ে প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী নূরের

পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজি রোধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ভিপি নুরুল হক নুর। পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি দেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন। শুধু তাই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে যারা সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি তুলছে তাদের ভূরাজনৈতিক ধারণা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের উৎস ও সশস্ত্রগোষ্ঠীর অর্থায়নের পথ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা কোন একক রাজনৈতিক ইস্যু নয়।

এটি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। তাই সরকার, বিরোধী দল ও নিরাপত্তা বাহিনী এবং সব অংশীজনকে একটি অভিন্ন জাতীয় অবস্থানে পৌঁছাতে হবে।’ বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্র, সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক  কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ভিপি নুরুল হক নুরের তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অপরিহার্যতাকে মোটা দাগে সামনে এনেছে। এই পাহাড় যে বাংলাদেশের একটি অবিচ্ছেদ্য এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশ সেটিও যুক্তির সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন।

সেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে নয় দফা দাবি জানান ‘এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’ এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ। এ সময় তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র সংগঠন সমূহ চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, গুম, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য চোরাচালানসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে। এছাড়া, সোশাল মিডিয়ার গুজব, এনজিও এবং আইএনজিও এর সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা, প্রবাসী উপজাতিদের দেশ বিরোধী প্রচারণা, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প প্রত্যাহার, পার্শ্ববর্তী দেশের মদদসহ নানাবিধ কারণে পাহাড় অশান্ত।’

পাহাড় থেকে সেনাবাহিনীকে সরিয়ে দিলে অশান্তি বাড়বে বলে একই সেমিনারে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে থাকুক, এটা অনেকে চায় না। তারা মূলত চাঁদাবাজি করার জন্য সেনাবাহিনী থাকুক, এটা চায় না। এ দেশে সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। সব বিপদে সেনাবাহিনী সবসময় দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ এই সেমিনারে সিএইচটি সম্প্রতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াই চিং মং চাকও বক্তব্য রাখেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ৯ দাবি
‘এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’ এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তার, নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী হওয়ায় অঞ্চলটির প্রায় ১৩ হাজার ২৯৪ বর্গকিলোমিটার, যা বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১০%। এই বিশাল এলাকাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর।’

তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র গ্রুপগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে ৪১টি খাত হতে বছরে ১ হাজার থেকে ১২০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে। আত্মগোপনে থাকা মাইকেল চাকমার আবির্ভাব হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন অস্ত্র চোরাচালান সবকিছু বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরে জেএসএস এবং ইউপিডিএফ-এর অন্তঃকোন্দলে ৪১ জনের মৃত্যু (নিরীহ জনগণসহ) হয়েছে। এছাড়া, জেএসএস ও ইউপিডিএফ এর মধ্যে গত ২ বছরে সংঘর্ষে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে। বিগত ২ বছরে ১০৬ জন উপজাতি এবং বাঙালি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে অপহৃত হয়েছে। কিন্তু এতসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অন্যতম মাস্টার মাইন্ড মাইকেল চাকমা ঢাকার বুকে ঘুরে বেড়ালেও তাকে সরকার আটক করছে না। এমনকি তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলায় রাঙামাটি আদালত ৭ বছরের কারাদণ্ড দিলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সরকার তাকে আটক করছে না।’

গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং ভারতে বসবাসকারী জো সম্প্রদায়ের দ্বারা এক জাতি গঠনের জন্য মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী লালদুহোমা তার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অপরদিকে, ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, চীন রাজ্যের ২টি প্রতিরোধ গোষ্ঠী মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ কমাতে এবং চিন জাতীয় পরিষদ গঠনের জন্য একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মিজোরাম রাজ্যের এমপি মি. ভানলালভেনা সিএনএফের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন এবং তাদের ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের আহ্বান জানান। এই সমস্ত কার্যকলাপ ভারতের সম্প্রসারণের অ্যাজেন্ডা নির্দেশ করে।’

সাইফুল্লাহ খান সাইফ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় থাকলেও পাহাড়ের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সশস্ত্র তৎপরতা, অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন পক্ষের স্বায়ত্তশাসন ও ‘আদিবাসী’ পরিচয়কেন্দ্রিক দাবির প্রেক্ষাপটে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের আরও দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী ভূমিকা প্রয়োজন।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলকে শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোরও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান, নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা জরুরি। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

বক্তব্য শেষে তিনি এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হচ্ছে- সশস্ত্র গোষ্ঠীকে যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করা, শান্তিচুক্তি রিভিউ করা, ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, ইয়েন ইয়েন, প্রসীত বিকাশ খীসা, মাইকেল চাকমা, নাথান বম, সন্তু লারমাসহ অন্যান্যের রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের জন্য আইনের আওতায় আনা, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব গোলযোগপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনীর স্থায়ী ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন এবং বিজিবির বিওপি বাড়ানো, পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা জাতির সামনে স্পষ্ট করা, বাঙালিদের পাহাড়ে সমঅধিকার নিশ্চিত করা, উপজাতিরা পাহাড়ে এবং সমতলে জায়গা কিনতে পারলে বাঙালিরাও পাহাড়ে জায়গা কিনতে পারবে- এই আইন প্রণয়ন করা, উপজাতিদের আয়করের অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিদেশের মাটিতে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা।

‘সেনাবাহিনীকে নিয়ে এনসিপির কেন এতো সমস্যা জানি না’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান দৃঢ়তার সঙ্গেই সেমিনারে বলেছেন, ‘আজকে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছে, তাদের ভূমিকা নিয়েও দেশের মানুষের প্রশ্ন রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে নিয়ে এনসিপির কেন এতো সমস্যা জানি না। তবে, গোপালগঞ্জের ঐ ঘটনায় সেনাবাহিনীই কিন্তু আপনাদেরকে উদ্ধার করেছে।’ রাশেদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং আমরা সবাই বাংলাদেশি। পাহাড়ে যারা বসবাস করছে, তাদেরকে ছাড়া বাংলাদেশ হবে না। আমরা সবাইকে নিয়ে চলতে চাই।’

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, ‘এনসিপির নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী সেনাবাহিনীর দাড়ি নিয়ে কথা বলেছে। এর জন্য আপনি (পাটোয়ারী) জাতি এবং সেনাপ্রধানের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন। নাহিদ ইসলামের নির্দেশনায় নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী এসব খারাপ এবং উগ্র বক্তব্য দিচ্ছে।’ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করা আধিবাসীদেরকে আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘আপনারা নিজেদেরকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেবেন। আধিবাসী শব্দ নিয়ে কোনো বিতর্ক চলবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে জঙ্গল সলিমপুর ঠিক করেছে, সেভাবে পাহাড় ঠিক করতে হবে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না।’ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘ড. ইউনুস মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ঐসময় যাদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ অযোগ্য ছিল। নাহিদ ইসলাম যে ৬ মাস দায়িত্ব পালন করেছে, তিনি গণমাধ্যমের সংস্কার করতে পারেনি। মাহফুজ আলমও পারেনি। তারা এখন বলছে, বিএনপি সরকারের পতন ঘটিয়ে, নতুন সরকার গঠন করেছে।’ এনসিপিকে উদ্দেশ করে রাশেদ খান বলেন, ‘জামায়াতের রগে আপনারা পড়েছেন। তারা একসময় জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলে, এখন জামায়াতের সাথে জোট করেছে। এই জোটের নেতৃত্বে আর কোনো গণঅভ্যুত্থান সফল হবে বলে মনে হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারের পতন হলেও আপনারা কিন্তু দেশ চালাতে পারবেন না। নাকি আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার জন্য আপনারা এগুলো করছেন।’ কর্ণেল অলি নাসিরুদ্দিনের মতো কথা বলছে মন্তব্য করে রাশেদ খান বলেন, ‘কর্ণেল অলি এনসিপির নেতাদের ফাঁদে পা দিয়েছে এবং নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মতো কথা বলছে। এভাবে তার (কর্ণেল অলি) অধঃপতন হবে, ভাবতেও পারিনি।’

‘অল ক্রেডিট গোস টু সেনাবাহিনী’
পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে যারা সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি তুলছে তাদের ভূরাজনৈতিক ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ভিপি নুরুল হক নুর। জুলাই অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সেনা সদস্যরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যেতো।’ তিনি বলেন, ‘সমন্বয়ক বনে যাই, এই এক দফার ঘোষক বনে যাই। সেনাবাহিনী যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত না হতো যে তাঁরা জনগণের বিরুদ্ধে গুলি চালাবে না তাহলে আরও লাশ পড়তো রক্ত ঝরতো। এবং বাংলাদেশে একটি গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতো। তাই অল ক্রেডিট গোস টু সেনাবাহিনী।’

নুরুল হক নুর বলেন, ‘ এই যে ননসেন্সের মতো কথা বলা, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী তুলে আনা তাদের রাষ্ট্র, রাজনীতি, নিরাপত্তা এগুলো নিয়ে কোন ধারণা নাই। বিশেষ করে ভূরাজনীতি নিয়ে। বাংলাদেশের জন্ম বা আজকের পর্যন্ত বাংলাদেশ জিওপলিটিক্যালি কোন টেনশনকে মোকাবিলা করে আসছে, সরকারে যারা থাকে। আমি সরকারে ছিলাম না কিন্তু কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে, বুঝতে পারি বিভিন্ন অভিজ্ঞ লোকের সঙ্গে কথা বলে। কারণ রাজনীতিতে অনেক সেনা কর্মকর্তা আছে, তাদের কাছ থেকে শুনেছি। কীভাবে তারা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, জেনারেল এরশাদের আমরা যতই সমালোচনা করি এটা ঠিক বলতে হবে বাংলাদেশের ইকোনমি ডেভেলপমেন্টের ব্যাকবোন তৈরি করেছিল দুই সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আজকে বড় বড় হাইওয়ে, অবকাঠামো ইন্ডাষ্ট্র্রি শিল্পায়ন যাই বলেন এগ্রিকালচারকে প্রমোট করে এটাও দুই সামরিক শাসকই করেছেন, শুনতে এটা খারাপ হলেও এটি বাস্তব। কারণ আমরা সামরিক শাসন চাই না। কারণ আমরা চাই না সামরিক বাহিনী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এটি আমরা চাই না। বাংলাদেশ একটি ডেমোক্রেটিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত করবে। কিন্তু সামরিক বাহিনীর সময়ে বাংলাদেশে বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের অল্প সময়ে দেশে যে ধরনের দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ রেখেছে সেটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পলিসি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পলিসিতে। কারণ আজকে আমি যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি এই মন্ত্রণালয়ে মিডলইস্টে প্রচুর প্রবাসীদের যাত্রা শুরু হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ১৯৭৬ সালে এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জিয়াউর রহমান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। এর ফলেই আজকে আমাদের এই যে এক থেকে সোয়া কোটি মানুষ দেশের বাইরে আছে বড় একটি অংশের গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৭৫ পার্সেন্ট। বাকী অন্যান্য দেশে আছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে এক মঞ্চে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিকায়নের বার্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে এক মঞ্চে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিকায়নের বার্তা

একসময় বাংলাদেশের সিনেমা শুধু বিনোদন দেয়নি। কথা বলেছে সমাজের কথা। জায়গা করে নিয়েছে মানুষের হৃদয়ে। সেই ঐতিহ্যের স্মৃতিচারণ চলতি বছরের ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’-এর মঞ্চে। চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কীভাবে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও মিলেছে স্পষ্ট বার্তা। একই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান এমপি, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

  • আধুনিক অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকারের 
  • মানসম্মত নির্মাণ থেকে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা—তিন নীতিনির্ধারকের বক্তব্যে অভিন্ন প্রত্যয়

তিন নীতিনির্ধারকের বক্তব্যে চলচ্চিত্র উন্নয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। মানসম্মত ও অর্থবহ চলচ্চিত্র নির্মাণ, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে পুরো শিল্পের উন্নয়ন এবং আধুনিক অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—তাঁদের বক্তব্যের মূল সুর ছিল এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএফডিসি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি আয়োজিত ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে মূলত দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে বিকশিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সরকার।

একটি সময় সিনেমার বার্তা হৃদয়ে গেঁথে যেত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘একটি সময় সিনেমা যে বার্তা দিতো, তা আমরা হয়তো চোখ দিয়ে দেখতাম কিন্তু তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে যেত। প্রতিটি সিনেমায় নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা উচিত। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের প্রতিটি সিনেমায় সামাজিক ও মানবিক বার্তা ছিল।’ আগামী দিনে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে আগামীতে এমন কাজ করতে, যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবার কথা বলে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের বাস্তবতা বদলেছে। বর্তমানে বহু তরুণ মাদকের ভয়াবহতায় জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বিশাল ক্ষতি। এর পাশাপাশি সমাজে নানাবিধ বৈষম্য রয়েছে। এই সংকট থেকে সমাজকে পথ দেখাতে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।’ চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই একসাথে কাজ করলে বাংলাদেশের সিনেমাকে আবারো তার পুরোনো ও গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।’

চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে বিকশিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে করণীয়, বাস্তবায়ন কৌশল এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতাসহ একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে উপস্থাপন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শুধু এফডিসির উন্নয়ন নয়, বরং সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অতীতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যেসব গুণী পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা ও অভিনেত্রী অসাধারণ কাজ করেছেন, সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে চলচ্চিত্রের মান ও শিল্পের সক্ষমতা আরও বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করে চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে আরও কার্যকর করা যাবে। এফডিসিও এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

চলচ্চিত্রের গুণীজনদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ও গুণী ব্যক্তিরাই। সরকার তাদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’ চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ থেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি অতীতেও এফডিসিতে এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও চলচ্চিত্র শিল্পের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে ও তাদের পাশে থেকে কাজ করবেন।

আধুনিক অবকাঠামো ও পূর্ণাঙ্গ রূপরেখার প্রত্যয়
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দেশের চলচ্চিত্রের স্বকীয়তা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। চলচ্চিত্র খাতের বর্তমান সংকট কাটিয়ে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করা হবে। তিনি জানান, চলচ্চিত্র ও এফডিসির উন্নয়নে কী কী করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকে এগোনো হবে। নিজের চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহের কথাও জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, একসময় তিনিও ফিল্মমেকার হতে চেয়েছিলেন।

সম্মাননায় গুণীজন, গানে সাবিনা
‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উপলক্ষে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনে অবদানের জন্য বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), প্রখ্যাত পরিচালক এ জে মিন্টু, প্রযোজক ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, পরিচালক ড. মতিন রহমান এবং মশিউদ্দীন শাকেরসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের গুণীজনদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছোটবেলায় তিনি প্রতিদিন এফডিসিতে রেকর্ডিং করতেন। এই প্রাঙ্গণ থেকে হাজার হাজার কালজয়ী গান সৃষ্টি হয়েছে। চলচ্চিত্র পরিচালকদের কারণেই তিনি আজ সাবিনা ইয়াসমিন হতে পেরেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরে অতিথি ও দর্শকদের অনুরোধে গান পরিবেশন করেন বরেণ্য এই শিল্পী।

এর আগে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন। অনুষ্ঠানে সমিতির মহাসচিব শাহীন কবির টুটুল, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা তানিসহ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

সরকারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা বা ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে এ মসুর ডাল কেনা হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রয়েছে টিসিবি।

টিসিবি ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করলে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড, খুলনা থেকে মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৭৯ পয়সা দরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ অর্থের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টি থাকবে।

প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে। আমদানির ব্যয় কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকার ২০০৭ সাল থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির সঙ্গে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন চুক্তির আওতায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ৫ লাখ মেট্রিক টন আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় পঞ্চম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম পড়বে ৩৯১ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ফলে এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে এ লটের ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ