খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের বৈঠক

Oplus_131072

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সম্পাদক পরিষদের নেতারা। রোববার (১৭ মে) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

বৈঠকে অংশ নেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, সুপ্রভাত বাংলাদেশের সম্পাদক রুশো মাহমুদ এবং করতোয়ার সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

‘চীনা ব্যবসায়ীদের ১৮ মাসের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
‘চীনা ব্যবসায়ীদের ১৮ মাসের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের ব্যবসায়ীদের ১৮ মাসের মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে প্রথম শিল্পকারখানা চালুর চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলায় চীনের বিশেষায়িত ইকোনমিক পার্ক এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে বিশেষায়িত ইকোনমিক জোন তৈরির চুক্তি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চীনের ব্যবসায়ীদের ১৮ মাসের মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে প্রথম শিল্পকারখানা চালুর চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। তারা এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণও করেছেন।

এ ছাড়াও, বাংলাদেশকে জ্বালানি সহায়তায় চীন কাজ করবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছেছে। চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং অন্য দেশের সরকারপ্রধানকে বসিয়ে রেখে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছেন, চায়না বাংলাদেশের উন্নয়নে স্থায়ী বন্ধু হতে চায়। এছাড়া ব্রিকস এবং সাংহাই কনভেনশনে বাংলাদেশের নতুন সদস্য হওয়াকে চীন সমর্থন করবে।

কালের আলো/এসএকে

এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিটি কক্ষে সিকিউরিটি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিটি কক্ষে সিকিউরিটি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ

আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সকল পরীক্ষা কেন্দ্রে সিকিউরিটি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (২৭ জুন) রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার মিলনায়তনে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

এ সময় আ ন ম এহছানুল হক মিলন আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য কেন্দ্রের সচিবদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

একই সঙ্গে তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিকিউরিটি ক্যামেরা নিশ্চিতের জন্য নির্দেশ দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন— রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাশী শহিদুল ইসলাম ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরীসহ পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিববৃন্দ।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী জানান, এবার রাজশাহী বোর্ডের অধীনে ৮টি জেলায় মোট পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২০৮টি এবং পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছর শেষে মোট রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড হলেও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা কম। চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের নির্ধারিত সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা।

রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধীরগতি এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে লক্ষ্য ও অর্জনের ব্যবধান এখনও বড় রয়ে গেছে।

রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে এনবিআর ইতোমধ্যে আয়কর, ভ্যাট এবং শুল্ক বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এসব টাস্কফোর্স করসংক্রান্ত আপিল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ এবং বকেয়া আদায়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে অতিরিক্ত আদায় হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

জুন মাসের প্রথম ২০ দিনেই আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। ফলে ২০ জুন পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা, যা ইতোমধ্যে গত অর্থবছরের পুরো বছরের রাজস্ব আদায়কে ছাড়িয়ে গেছে।

তবে রাজস্ব আহরণের এই রেকর্ডের আড়ালে রয়েছে বড় বাস্তবতা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। ফলে মে মাস পর্যন্ত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব ঘাটতি কেবল একটি সংখ্যাগত সমস্যা নয়; এটি সরাসরি সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ঋণনির্ভরতার ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ সরকারের পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ যেমন বেতন-ভাতা, ভর্তুকি ও ঋণের সুদ পরিশোধ কমানোর সুযোগ সীমিত। ফলে রাজস্ব কম হলে উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত করার চাপ তৈরি হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি সরকারের সামগ্রিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ জাতীয় বাজেটের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি অর্থ আসে এনবিআরের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্ব থেকে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় বাজেটের বাধ্যতামূলক খাত হওয়ায় এসব ব্যয় কমানোর সুযোগ খুবই সীমিত।

ফলে রাজস্ব ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে উন্নয়ন খাতে। অর্থসংকট দেখা দিলে সাধারণত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নেয় সরকার। চলতি অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। রাজস্ব ঘাটতি অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন গতি এবং নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বাস্তব অর্থনৈতিক সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রবণতা থেকে সরকার এখনও বের হতে পারেনি। তার মতে, করদাতার সংখ্যা বাড়ানো, কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর প্রশাসনে সংস্কার ছাড়া টেকসইভাবে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব নয়।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল নজরদারি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি।

কালের আলো/এম/এএইচ