খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

বিদেশি বিনিয়োগে ৫১ শতাংশ দেশীয় মালিকানা চান বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
বিদেশি বিনিয়োগে ৫১ শতাংশ দেশীয় মালিকানা চান বিশেষজ্ঞরা

দেশের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, জ্বালানি ও অন্যান্য কৌশলগত অবকাঠামো খাতে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫১ শতাংশ দেশীয় মালিকানা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ আয়োজিত ‘কৌশলগত সম্পদে দেশীয় বিনিয়োগের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক নীতিনির্ধারণী গোলটেবিল আলোচনায় এসব মতামত তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাকিব আনোয়ার।

আলোচনায় অংশ নেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ক্যাব সভাপতি আবু আলম শহীদ খান, সাবেক সচিব শফিক জামান, বিসিকের সাবেক পরিচালক আবু তাহের খান, ঢাকা স্ট্রিমের উপদেষ্টা সম্পাদক হাসান মামুন, ঢাকা স্ট্রিমের প্রধান নির্বাহী কর্নেল (অব.) মো. সোহেল রানা, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চের সমন্বয়ক সবুজ এইচ চৌধুরী, এটিজেএফবি’র সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব এবং সংস্থাটির কর্মসূচি পরিচালক ইকতান্দার হোসাইন হাওলাদার।

মূল প্রবন্ধে সাকিব আনোয়ার বলেন, দেশে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের নামে প্রকৃতপক্ষে দেশীয় অর্থ ও ঋণের ব্যবহার হচ্ছে।

তিনি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বিদেশি অপারেটরের ১৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার এসেছে দেশীয় ও আঞ্চলিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ থেকে। ফলে এটিকে পুরোপুরি বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে দেখানো বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি আরো বলেন, সমান সুযোগ এবং নীতিগত সহায়তা পেলে দেশীয় উদ্যোক্তারাও আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে সক্ষম। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সিডিডিএলের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি আগের অপারেটরের তুলনায় ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি উৎপাদনশীলতা অর্জন করেছে।

আলোচনায় বলা হয়, দেশীয় প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপ বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় প্রতি কনটেইনারে বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে নিজস্ব অর্থায়নে লালদিয়ায় একটি পরিবেশবান্ধব টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগও গ্রহণ করেছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়াই লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনালের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

গোলটেবিল আলোচনায় আরো বলা হয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবা পেতে বিদেশি কোম্পানিগুলো উচ্চ পর্যায়ে তদবির চালালেও দেশীয় লজিস্টিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকারের কার্যকর সংলাপের অভাব রয়েছে।

বক্তারা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতে বিদেশি আধিপত্য বাড়তে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং দেশীয় সক্ষমতা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বক্তারা আরো বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতা নয়, বরং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

তারা বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত যাতে দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হয় এবং স্থানীয় শিল্পখাত শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

আলোচনায় ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এসব দেশে কৌশলগত খাতে দেশীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা নিশ্চিত করা হলেও বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়নি। বরং এই নীতির মাধ্যমে শক্তিশালী স্থানীয় শিল্পভিত্তি এবং দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে।

গোলটেবিলের শেষপর্বে বক্তারা কৌশলগত অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্রে দেশীয় কোম্পানির সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, প্রযুক্তি হস্তান্তর বাধ্যতামূলক করা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বন্দর নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের সুপারিশ করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা

Oplus_131072

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তিনি বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হলে এসে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচয় পর্বের পরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং।

অভিবাদন মঞ্চে তারেক রহমান ও লি কিয়াংকে সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল। এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে তোপধ্বনি দেওয়া হয়। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ জুন দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।

প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় দুইদিনের সফর শেষে গত সোমবার রাতে প্রথমে যান চীনের দালিয়ান। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন।। তিনি দুই দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে বুধবার বিকালে দালিয়ান থেকে হাই স্পিড (বুলেট ট্রেন) ট্রেনে বেইজিং আসেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরসূচিতে রয়েছে গ্রেট হলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। এই বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তারেক রহমানের এটি প্রথম চীন সফর। এরআগে তারেক রহমান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে ২০০১ সালে চীন সফর করেছিলেন। তিনি ওই সময়ে এই গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীর লালগালিচা সংবর্ধনাতেও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সাত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। থানাভিত্তিক গ্রেপ্তারের মধ্যে শ্যামপুর থানা থেকে একজন, মোহাম্মদপুর থানা থেকে একজন, পল্লবী থানা থেকে একজন, খিলক্ষেত থানা থেকে একজন, রূপনগর থানা থেকে একজন এবং উত্তরা পূর্ব থানা থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজধানীর ছয়টি থানার অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সর্বমোট সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বিগত সরকারের নেওয়া ১৩০০ প্রকল্পকে না পারছি ফেলতে, না গিলতে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
বিগত সরকারের নেওয়া ১৩০০ প্রকল্পকে না পারছি ফেলতে, না গিলতে: অর্থমন্ত্রী

Oplus_131072

বিগত সরকারের নেওয়া ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্পকে বর্তমান সরকার ‘গলার কাঁটা’ মনে করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের নেওয়া ১৩০০ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। ওই প্রজেক্টটা আমাদের জন্য লায়াবিলিটি। কী ধরনের প্রজেক্ট আপনারা বুঝতে পারছেন। কিছু বাদ দিতে পারছি, সব বাদও দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক প্রজেক্টের ৫০-৬০ পার্সেন্ট ইমপ্লিমেন্ট হয়ে গেছে। না ফেলতে পারছি, না গিলতে পারছি। এটা বর্তমান সরকারের বড় সমস্যা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে রাজধানীতে ‘ডিবেটিং বাজেট অ্যান্ড বিওন্ড’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই কথা জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো ও উন্নয়ন খাতের এই বিপুলসংখ্যক প্রকল্পের কাজ অর্ধেক বা তারও বেশি শেষ হয়ে যাওয়ায় এগুলো চাইলেও পুরোপুরি বাতিল করা সম্ভব হচ্ছে না। বিগত ১৫ বছরে নেওয়া এসব প্রকল্প আমাদের জন্য এখন বড় লায়াবিলিটি। এগুলো আসলে কোন ধরনের প্রকল্প, তা আপনারা নিশ্চয়ই খুব ভালো করেই বুঝতে পারছেন। আমরা এর মধ্য থেকে কিছু প্রকল্প বাদ দিতে পেরেছি, কিন্তু সব বাদ দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি  বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং স্পট বায়িং বা অর্থায়নের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর মাঝেই গতানুগতিক ফরম্যাট থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতিতে একটি নতুন মডেল ও চিন্তার ওরিয়েন্টেশন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামগঞ্জে মৃৎশিল্প, শীতলপাটিসহ বিভিন্ন খাতের যেসব কারিগররা রয়েছেন, তাদের এগিয়ে নিতে সৃজনশীল অর্থনীতির উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা তাদের কাজ আরও মার্কেট অ্যাবল করতে চাই। যা এখন ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে তা ২০০০ টাকায় বিক্রি হবে। তাদের আয় বাড়লেই তো জিডিপি বাড়বে।

কালের আলো/এসএকে