খুঁজুন
                               
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

নৌপথে ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে যেসব প্রস্তুতি সরকারের 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
নৌপথে ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে যেসব প্রস্তুতি সরকারের 

Oplus_131072

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। সদরঘাটকেন্দ্রিক বিশৃঙ্খলা ও নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে এবার নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ কঠোর ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে নৌপথে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, যাত্রীসেবা, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা এবং নৌযান চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে ওই সভায় প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া উপস্থিত ছিলেন।

ঈদযাত্রা নিয়ে প্রস্তুতি সভায় নৌপরিবহনমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা, লঞ্চ মালিক, শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এবারের ঈদে নৌপথে যাত্রীরা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাবেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, এবারের লক্ষ্য হচ্ছে নৌপথে এমন একটি ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা, যাতে যাত্রীরা আরামদায়ক, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে ভ্রমণ করতে পারে।

তিনি বলেন, গত ঈদে দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ছাড়া সামগ্রিকভাবে নৌযাত্রা শান্তিপূর্ণ ছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

থাকবে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সদরঘাটে বিভিন্ন সংস্থার আলাদা আলাদা কন্ট্রোল রুম না রেখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), নৌপরিবহন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি মাত্র ‘কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া সদরঘাটের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।

প্রতি লঞ্চে ন্যূনতম ৪ জন আনসার
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঈদের আগে ১৯ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত প্রতিটি লঞ্চে ন্যূনতম চারজন আনসার সদস্য মোতায়েন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের দায়িত্ব হবে নদীপথে ট্রলার বা নৌকা ভিড়িয়ে অবৈধভাবে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ছাদে যাত্রী ওঠানো ও অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে রুট পারমিট বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদীতে ট্রলার-নৌকায় যাত্রী ওঠানামা নিষিদ্ধ
সভায় কঠোরভাবে জানানো হয়, কোনো অবস্থাতেই নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকার মাধ্যমে যাত্রী লঞ্চে ওঠানামা করতে পারবে না। নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড দিনরাত টহলের মাধ্যমে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। সদরঘাট এলাকায় নির্ধারিত ট্রলারঘাট ছাড়া অন্য কোথাও যাত্রী ওঠানো-নামানো যাবে না।

ঈদে ১০ দিন বন্ধ থাকবে বাল্কহেড চলাচল
নৌদুর্ঘটনা রোধে ঈদের আগে ও পরে মোট ১০ দিন সারাদেশে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৩ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত দিনে-রাতে কোনো বাল্কহেড চলতে পারবে না। একইসঙ্গে সদরঘাট থেকে ডিঙ্গি নৌকার চলাচলও বন্ধ থাকবে।

বসিলা ও শিমুলিয়া ঘাটে বাড়ছে লঞ্চসেবা
সদরঘাটে যাত্রীচাপ কমাতে এবারও মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রিজসংলগ্ন ঘাট এবং পূর্বাচলের কাঞ্চন ব্রিজসংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল করবে।

শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের জন্য বিআরটিসি’র শাটল বাস চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বসিলা ঘাটে নতুন পন্টুন স্থাপন এবং দুই ঘাটেই টয়লেট, বিশ্রামাগার, ট্রলি ও হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এ ছাড়া বরিশাল, ভোলা, হাতিয়া, বেতুয়া ও চাঁদপুর রুটের কিছু লঞ্চ বসিলা ও শিমুলিয়া থেকে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, ঈদ উপলক্ষে নৌপথে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকার প্রধান নৌবন্দর সদরঘাট ছাড়াও শিমুলিয়া এবং বসিলা থেকেও যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে ঢাকা মহানগর পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাস্তার দুইপাশ হকারমুক্ত রাখা, এলোমেলো যানবাহন অপসারণ এবং প্রয়োজন হলে ওয়ানওয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর কথাও সভায় বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর ঢাকা নদীবন্দরের (সদরঘাট) নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্মপরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ঈদযাত্রা উপলক্ষে আমরা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি ও গোছানো প্রস্তুতি নিয়েছি। নির্বিঘ্ন নৌযাত্রা উপহার দিতে আমরা সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছি। সদরঘাটে যাত্রীদের সেবায় ফ্রি কুলি ও ট্রলি সার্ভিস রাখার কথাও জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কড়া নজরদারি
সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সকল ঘাট ও লঞ্চে অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে রাখতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

মালিক সমিতিকে ঈদের সময়ও পুনঃনির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০ শতাংশ কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদারে টহল ও ভিজিল্যান্স টিম
নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর, বরিশাল-ভোলা রুটসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি ঠেকাতে রাতের টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি ঘাট এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকিতে বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম গঠন করবে।

যাত্রীসেবায় বাড়তি উদ্যোগ
প্রতিটি লঞ্চে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্ক্রিনে ভাড়া ও জরুরি হটলাইন নম্বর প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাত্রীদের জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ফায়ার সার্ভিস ১০২, বিআইডব্লিউটিএ হটলাইন ১৬১১৩ এবং কোস্টগার্ড হটলাইন ১৬১১১ নম্বর ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে।

এ ছাড়া নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, বিশুদ্ধ পানি, মোবাইল চার্জিং ও উন্নত টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, সদরঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে ট্রলির ব্যাবস্থা করা হয়েছে। ট্রলির জন্য কাউকে কোন টাকা দিতে হবে না।

সদরঘাটে হকার এবং কুলিদের উৎপাত বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, স্পিডবোট বা নৌকা দিয়ে লঞ্চে কোনো যাত্রী উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার না হয় সেজন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সদরঘাটে নৌ বন্দরের দুই পাশে আলাদা সিঁড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে ছোট ছোট নৌকা বা স্পিড বোড থেকে যাত্রীরা সহজেই ঘাটে উঠতে পারে। এ ছাড়া নিয়মিত টহলও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

নৌপথে কোরবানির পশু পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত, ফেরিঘাটে অতিরিক্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কঠোরভাবে আবহাওয়া সংকেত অনুসরণের নির্দেশনাও দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/এসএকে

বেনজীর গ্রেফতার, পরীমনি কেন আনন্দিত

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
বেনজীর গ্রেফতার, পরীমনি কেন আনন্দিত

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী পরীমনিও।

রোববার (১৪ জুন) পরীমনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের খবর সংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে মাত্র একটি শব্দ লিখেই নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন তিনি। পোস্টের ক্যাপশনে পরীমনি লিখেছেন, ‘মজা।’ এমন খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

কেন? ধারণা করা হচ্ছে বোটক্লাব সম্পৃক্ত মামলায় বেনজীর আহমেদের যোগ রয়েছে। সাবেক এই পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে প্রায় এক দশক অবৈধভাবে ক্লাবের সভাপতির পদ দখল করে ৩২ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পরীমনির নামে মামলা ও তার কারাবাসের পেছনেও তার হাত রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

তবে বোটক্লাবের তৎকালীন সভাপতি নাসির মাহমুদ এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, সাবেক আইজিপি ও ঢাকা বোটক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট বেনজীর আহমেদের সঙ্গে অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ওই সময় তিনি জানান, বেনজীর অবৈধভাবে বিনাভোটে বোটক্লাবের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপনসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে। এর আগে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত।

তবে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কিংবা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

উনি বর্ণবাদী আচরণ করেছেন, এই ধরনের হীন বক্তব্য অমার্জনীয় অপরাধ : সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
উনি বর্ণবাদী আচরণ করেছেন, এই ধরনের হীন বক্তব্য অমার্জনীয় অপরাধ : সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ অধিবেশন। সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া এমন বক্তব্যকে অমার্জনীয় অপরাধ ও বর্ণবাদী আচরণ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তবে এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও নিয়মকানুন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় মনিরুল হক চৌধুরীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে, যা নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন বিরোধীদলীয় হুইপ। স্পিকারের কাছে দুই মিনিট সময় চেয়ে নিয়ে হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, মনিরুল হক চৌধুরী বিভিন্ন সময় সংসদে সূক্ষ্ম রসবোধ ও ইতিহাস চেতনা নিয়ে বক্তব্য দিলেও আজকের বক্তব্যে তিনি সমস্ত সংসদীয় রীতিনীতি এবং সাংবিধানিক অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি প্রথমত বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে ব্যক্তিগত ইতিহাসের দোহাই দিয়ে কটাক্ষ করেছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত, তিনি বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে কথা বলে তাদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ করেছেন। এই ধরনের বক্তব্যকে হীন মানসিকতা ও বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। ভবিষ্যতে কোনো সংসদ সদস্য যেন পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য না দেন সে বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের সেই বিতর্কিত ও সংসদীয় রীতিনীতি বহির্ভূত অংশটুকু ইতোমধ্যে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্পিকার সংসদে উপস্থিত সব সংসদ সদস্যের উদ্দেশ্যে একটি রুলিং জারি করে বলেন, সংসদে বসে কেউ কারো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে পারবেন না এবং সবাইকে সংসদের মর্যাদা ও নিজস্ব ডিগনিটি বজায় রাখতে হবে। এরপর স্পিকার মনিরুল হক চৌধুরীকে ৩০২ ধারায় একটি নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তা বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

ঠিক এই সময়ে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এবং পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি স্পিকারের কাছে দুই মিনিট সময় চেয়ে মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি যুক্তি দেখান, সংসদে পক্ষ-বিপক্ষে অনেক সময় হাসি-ঠাট্টা ও রসাত্মক আলোচনা হয়েই থাকে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি গত পরশুদিন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দেওয়া বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে যদি এক্সপাঞ্জ করার মতো কিছু না ঘটে, তবে মনিরুল হক চৌধুরীর এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তিনি দাবি করেন, মনিরুল হক চৌধুরী নির্দিষ্ট করে কাউকে আঘাত করে কোনো কথা বলেননি।

এসময় স্পিকার সরাসরি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, সংসদের সভাপতি বা স্পিকারের আসন থেকে যখন একবার এক্সপাঞ্জ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তখন সেটা নিয়ে নতুন করে জাস্টিফাই করার কোনো সুযোগ নেই। স্পিকার তাকে অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলতে অথবা নিজের আসনে বসে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিলে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি স্পিকারের কাছে এক মিনিট সময় চেয়ে কথা বলেন। চিফ হুইপ যুক্তি দেন, সংসদে প্রতিটি সদস্যের নিজস্ব অধিকার রয়েছে। ২৭৪ বিধি অনুযায়ী কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা নাম উল্লেখ করে কথা বলা হলে, তার ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেওয়ার অধিকার থাকে। যেহেতু মনিরুল হক চৌধুরীর নাম জড়িয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাই চিফ হুইপ স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান যেন মনিরুল হক চৌধুরীকে তার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য মাইক দেওয়া হোক।

চিফ হুইপের এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং জানান যে তিনি যথাসময়ে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেবেন। এরপর স্পিকার সংসদ সদস্যদের এই বিতর্কিত বিষয়টি বন্ধ করে মূল বাজেট আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

কালের আলো/এসএকে

হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

ময়মনসিংহে হাসপাতালে সাদিয়া আফরিন সামি (২৫) নামে এক গৃহবধুর মরদেহ রেখে পালিয়ে গেছে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। ঘটনার পর থেকে স্বামী মেহেদী হাসান ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে এই ঘটনা ঘটে। সাদিয়া আফরিন সামি সদর উপজেলার বোরর চর ইউনিয়নের বাড়তিপাড়া এলাকার মেহেদী হাসানের স্ত্রী।

মাদিয়া আফরিন সামির দুলাভাই সাগর বলেন, গতকাল রাত ৯টার দিকে মেহেদী হাসানের ভাই আমাকে ফোন করে জানায়, আপনার শ্যালিকা স্ট্রোক করছে। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ কথা বলেই সে ফোন কেটে দেয়। পরে আমরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে সাদিয়া আফরিন সামির মরদেহ দেখতে পারি।

তবে, তার স্বামী মেহেদী হাসান ও তার পরিবারের লোকজন কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা সাদিয়া আফরিন সামির মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানালে মরদেহ মর্গে পাঠায়। পরে দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে পুলিশ মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করে।

তিনি আরও বলেন, আনুমামিক ৬ বছর আগে মেহেদীর সাথে পারিবারিকভাবে সাদিয়া আফরিন সামির বিয়ে হয়। তাদের ঘরে আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মেহেদী প্রায় আমার শ্যালিকাকে বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলতেন। এসব নিয়ে তাদের পরিবারে কলহ লেগেই থাকত। টাকার জন্য আমার শ্যালিকাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাচ্ছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, ওই নারী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। শরীরে কোন আঘাতের চিন্ত নেই। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি