খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

নৌপথে ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে যেসব প্রস্তুতি সরকারের 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
নৌপথে ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে যেসব প্রস্তুতি সরকারের 

Oplus_131072

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। সদরঘাটকেন্দ্রিক বিশৃঙ্খলা ও নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে এবার নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ কঠোর ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে নৌপথে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, যাত্রীসেবা, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা এবং নৌযান চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে ওই সভায় প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া উপস্থিত ছিলেন।

ঈদযাত্রা নিয়ে প্রস্তুতি সভায় নৌপরিবহনমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা, লঞ্চ মালিক, শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এবারের ঈদে নৌপথে যাত্রীরা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাবেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, এবারের লক্ষ্য হচ্ছে নৌপথে এমন একটি ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা, যাতে যাত্রীরা আরামদায়ক, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে ভ্রমণ করতে পারে।

তিনি বলেন, গত ঈদে দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ছাড়া সামগ্রিকভাবে নৌযাত্রা শান্তিপূর্ণ ছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

থাকবে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সদরঘাটে বিভিন্ন সংস্থার আলাদা আলাদা কন্ট্রোল রুম না রেখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), নৌপরিবহন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি মাত্র ‘কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া সদরঘাটের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।

প্রতি লঞ্চে ন্যূনতম ৪ জন আনসার
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঈদের আগে ১৯ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত প্রতিটি লঞ্চে ন্যূনতম চারজন আনসার সদস্য মোতায়েন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের দায়িত্ব হবে নদীপথে ট্রলার বা নৌকা ভিড়িয়ে অবৈধভাবে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ছাদে যাত্রী ওঠানো ও অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে রুট পারমিট বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদীতে ট্রলার-নৌকায় যাত্রী ওঠানামা নিষিদ্ধ
সভায় কঠোরভাবে জানানো হয়, কোনো অবস্থাতেই নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকার মাধ্যমে যাত্রী লঞ্চে ওঠানামা করতে পারবে না। নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড দিনরাত টহলের মাধ্যমে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। সদরঘাট এলাকায় নির্ধারিত ট্রলারঘাট ছাড়া অন্য কোথাও যাত্রী ওঠানো-নামানো যাবে না।

ঈদে ১০ দিন বন্ধ থাকবে বাল্কহেড চলাচল
নৌদুর্ঘটনা রোধে ঈদের আগে ও পরে মোট ১০ দিন সারাদেশে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৩ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত দিনে-রাতে কোনো বাল্কহেড চলতে পারবে না। একইসঙ্গে সদরঘাট থেকে ডিঙ্গি নৌকার চলাচলও বন্ধ থাকবে।

বসিলা ও শিমুলিয়া ঘাটে বাড়ছে লঞ্চসেবা
সদরঘাটে যাত্রীচাপ কমাতে এবারও মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রিজসংলগ্ন ঘাট এবং পূর্বাচলের কাঞ্চন ব্রিজসংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল করবে।

শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের জন্য বিআরটিসি’র শাটল বাস চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বসিলা ঘাটে নতুন পন্টুন স্থাপন এবং দুই ঘাটেই টয়লেট, বিশ্রামাগার, ট্রলি ও হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এ ছাড়া বরিশাল, ভোলা, হাতিয়া, বেতুয়া ও চাঁদপুর রুটের কিছু লঞ্চ বসিলা ও শিমুলিয়া থেকে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, ঈদ উপলক্ষে নৌপথে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকার প্রধান নৌবন্দর সদরঘাট ছাড়াও শিমুলিয়া এবং বসিলা থেকেও যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে ঢাকা মহানগর পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাস্তার দুইপাশ হকারমুক্ত রাখা, এলোমেলো যানবাহন অপসারণ এবং প্রয়োজন হলে ওয়ানওয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর কথাও সভায় বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর ঢাকা নদীবন্দরের (সদরঘাট) নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্মপরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ঈদযাত্রা উপলক্ষে আমরা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি ও গোছানো প্রস্তুতি নিয়েছি। নির্বিঘ্ন নৌযাত্রা উপহার দিতে আমরা সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছি। সদরঘাটে যাত্রীদের সেবায় ফ্রি কুলি ও ট্রলি সার্ভিস রাখার কথাও জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কড়া নজরদারি
সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সকল ঘাট ও লঞ্চে অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে রাখতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

মালিক সমিতিকে ঈদের সময়ও পুনঃনির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০ শতাংশ কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদারে টহল ও ভিজিল্যান্স টিম
নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর, বরিশাল-ভোলা রুটসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি ঠেকাতে রাতের টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি ঘাট এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকিতে বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম গঠন করবে।

যাত্রীসেবায় বাড়তি উদ্যোগ
প্রতিটি লঞ্চে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্ক্রিনে ভাড়া ও জরুরি হটলাইন নম্বর প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাত্রীদের জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ফায়ার সার্ভিস ১০২, বিআইডব্লিউটিএ হটলাইন ১৬১১৩ এবং কোস্টগার্ড হটলাইন ১৬১১১ নম্বর ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে।

এ ছাড়া নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, বিশুদ্ধ পানি, মোবাইল চার্জিং ও উন্নত টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, সদরঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে ট্রলির ব্যাবস্থা করা হয়েছে। ট্রলির জন্য কাউকে কোন টাকা দিতে হবে না।

সদরঘাটে হকার এবং কুলিদের উৎপাত বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, স্পিডবোট বা নৌকা দিয়ে লঞ্চে কোনো যাত্রী উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার না হয় সেজন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সদরঘাটে নৌ বন্দরের দুই পাশে আলাদা সিঁড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে ছোট ছোট নৌকা বা স্পিড বোড থেকে যাত্রীরা সহজেই ঘাটে উঠতে পারে। এ ছাড়া নিয়মিত টহলও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

নৌপথে কোরবানির পশু পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত, ফেরিঘাটে অতিরিক্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কঠোরভাবে আবহাওয়া সংকেত অনুসরণের নির্দেশনাও দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/এসএকে

যারা ফ্যামিলি কার্ডকে ভুয়া বলেছিলেন, তারাই এখন কার্ডের জন্য উদগ্রীব: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
যারা ফ্যামিলি কার্ডকে ভুয়া বলেছিলেন, তারাই এখন কার্ডের জন্য উদগ্রীব: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের প্রতিশ্রুতিকে যারা ‘ভুয়া’ বলে সমালোচনা করেছিলেন, তারাই এখন এসব কার্ড পাওয়ার জন্য উদগ্রীব বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, মুখে স্বীকার না করলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনার সফলতা বিরোধীরাও উপলব্ধি করছেন।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব বলেন।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারকে মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হলে তা শুধু পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করতেই ভূমিকা রাখবে না, এর ইতিবাচক প্রভাব পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিতে পড়বে। এই অর্থ গ্রামের মুদি দোকান, ওষুধের দোকানসহ স্থানীয় বাজারে ব্যয় হবে, ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। ৪০ লাখ পরিবার এ সুবিধার আওতায় এলে বাংলাদেশ আরও শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাজেটের প্রশংসা করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু সময়োপযোগী বা মানবিক বাজেট নয়, বরং একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার প্রতিফলন। তার ভাষায়, গত ১৭ বছরে অর্থনীতি, শিক্ষা ও অন্যান্য খাত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাজেটের আকার নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সবাই উন্নয়ন চান, কিন্তু বড় বাজেটের সমালোচনা করেন। উন্নয়ন করতে হলে বাজেটের পরিধিও বড় হতে হবে। বাসায় ডাল-ভাতের বাজেট করে বিরিয়ানি খাওয়ার আশা করা যায় না। তিনি বলেন, সবাই বেহেশতে যেতে চায়, কিন্তু কেউ মরতে চায় না। একইভাবে সবাই নিজের এলাকায় উন্নয়ন চান, কিন্তু বড় বাজেট মেনে নিতে চান না।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে ইয়াসের খান বলেন, তারা সংসদে হাসপাতাল, সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দাবি তুলছেন। এর মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়, সরকার ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে এবং তারা জানেন, এ সরকারই এসব উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে ইয়াসের খান দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আবারও মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছে।

নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচারস্বত্ব কেনা হয়েছিল ৪৭ কোটি টাকায়। পরে তা বেসরকারি খাতে বিক্রি করে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। ফলে প্রায় বিনামূল্যেই দেশের দর্শকরা বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবেন। তিনি বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিনের দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙতে সক্ষম হয়েছে এবং তরুণ-শিশুদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

তুরাগে আ.লীগ নেতাকর্মীদের লাশ ভাসার খবরে পুলিশের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
তুরাগে আ.লীগ নেতাকর্মীদের লাশ ভাসার খবরে পুলিশের বিবৃতি

ঢাকার তুরাগ নদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থক সাতজনের লাশ ভাসার যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে বিবৃতি দিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘তুরাগ নদীতে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অনুরোধ জানাচ্ছে।’

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি এবং এর সহযোগী সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বিভিন্ন স্থানে মিছিল বের করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে অনেকে গ্রেপ্তারও হন।

এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ সমর্থক বিভিন্ন পেজ ও প্রোফাইল থেকে দাবি তোলা হয় যে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের সাতজনকে মিছিল থেকে আটকের পর হত্যা করে লাশ তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

সেই খবর নাকচ করে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অপপ্রচারকারীদের হুঁশিয়ারও করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে। কেউ এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

কালের আলো/এসএকে

তারেক রহমানের চীন সফরে ভারতীয় গণমাধ্যমে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের চীন সফরে ভারতীয় গণমাধ্যমে উদ্বেগ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মোড় এবং ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমগুলো। তাদের প্রতিবেদনে মূলত ঢাকা-বেইজিংয়ের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও ভৌগোলিক প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে- বিশেষ করে মোংলা বন্দর, তিস্তা প্রকল্প, বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক করিডোর এবং সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নয়াদিল্লির কৌশলগত উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর ঢাকার সাথে দিল্লির সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমানের এই সফর সেটিকে আরও প্রভাবিত করতে পারে।

দেশটির অন্যতম প্রভাশালী সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-এ ভারতের প্রথাগত কূটনৈতিক চর্চাকে এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান কেন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নিলেন, তা নিয়ে দীর্ঘ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তা প্রকল্প ভারতের কাছে সংবেদনশীল, কারণ নদীটি পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং এর অবস্থান শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর খুব কাছাকাছি। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ এই করিডোর। ফলে সেখানে চীনের যেকোনো ধরনের উপস্থিতি নয়াদিল্লির উদ্বেগের কারণ।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে তোলার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ও চীন। এই কৌশলগত বন্দরে ভারতের প্রভাব কমিয়ে চীনের প্রবেশকে নয়াদিল্লি তাদের ভৌগোলিক বলয়ে একটি বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।

‘বাংলাদেশের নজর চীনা যুদ্ধবিমানের ওপর, ভারত কেন কড়া নজর রাখছে’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেছে দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে ২৪টি ‘জে-১০সিই’ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। আর এটি বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের পর এই মডেলের দ্বিতীয় বিদেশি ব্যবহারকারী হবে বাংলাদেশ, যা ভারতের সামরিক ও নীতিনির্ধারক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

এনডিটিভি আরও বলছে, ভারতের ক্ষেত্রে, দুটি ঘটনা রয়েছে যার ওপর নয়াদিল্লি নিবিড়ভাবে নজর রাখবে। যদি চুক্তিটি সম্পন্ন হয় এবং বিমানগুলো শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়, তবে সেগুলোকে কোথায় রাখা হবে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

দেশটির আরেক দৈনিক পত্রিকা ইন্ডিয়া টুডে তাদের শিরোনামেই সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে—‘ভারত বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর প্রকল্প চীনের কাছে হারালো, এতে দিল্লির কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?’

প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি শুধু একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প হাতছাড়া হওয়ার ঘটনা নয়; বরং ভারতের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি চীনের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পথ খুলে দিতে পারে। অপরদিকে চীনের বাণিজ্যিক বিনিয়োগ সামরিক উপস্থিতিতে রূপ নেবে—এমন প্রমাণ না থাকলেও অতীতে বিদেশি বন্দরে বিনিয়োগকে গোয়েন্দা ও নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহার করার নজির রয়েছে।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং বলেছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি করতে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আগ্রহী বেইজিং।

এছাড়াও আইউটলুক, নিউজ১৮, হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজারসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদটি প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকরা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, দিল্লির মূল মাথাব্যথা বাংলাদেশ বা চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নয়, বরং ভারতের একদম ঘরের কাছে বেইজিংয়ের এই ভৌগোলিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার বিস্তার নিয়ে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ