খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

জীবন উৎসর্গের শপথ ৪৪১ নবীন নাবিকের, দেশের প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার কথা জানালেন নৌবাহিনী প্রধান

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
জীবন উৎসর্গের শপথ ৪৪১ নবীন নাবিকের, দেশের প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার কথা জানালেন নৌবাহিনী প্রধান

বাদ্যের তালে তালে বর্ণাঢ্য শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ। ২২ সপ্তাহের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষের পর গৌরবের অনন্য এক অধ্যায়ে প্রবেশ। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ/২০২৬ ব্যাচের ৪৪১ নবীন নাবিকের পদচারণায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) মুখর পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ড। লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গের শপথ নিয়ে তাঁরা যোগ দিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে। সন্তানের কুচকাওয়াজ দেখে তখন অনেক অভিভাবকের চোখে জলজমা আনন্দ। বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষ করা নবীন নাবিকদের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অবলোকন করলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

‘শান্তিতে সংগ্রামে, সমুদ্রে দুর্জয়’ এই স্লোগান নিয়ে এই তরুণ নাবিকরা শুধু সমুদ্রসীমাই নয়, আগামী দিনে এক উন্নত ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গঠনে রাখবে বলিষ্ঠ ভূমিকা এমন প্রত্যাশার কথাও উচ্চারিত হয় প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে। মনোজ্ঞ এই কুচকাওয়াজে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নবীন নাবিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় তিনি সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমির গুরুত্ব তুলে ধরেন। সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণ ও বহি:শত্রুর যেকোন আক্রমণ থেকে সমুদ্র সীমা রক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা ছিল সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো থেকে শুরু করে উৎসবমুখর পরিবেশে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর কার্যক্রম দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই দেশের প্রয়োজনে সর্বদা নিবেদিত থেকে যেকোন ত্যাগ স্বীকার করার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সদা প্রস্তুত রয়েছে।’

  • বর্ণাঢ্য প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজের আনন্দানুভূতি
  • ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি অর্জন
  • সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নে কৌশলগত অগ্রাধিকারে স্থান লাভ করেছে
  • নতুন নৌঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম সব সময় চলমান
  • তিনটি শিপইয়ার্ডের সাফল্যজনক কর্মতৎপরতায় দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্
  • সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা ছিল সর্বজনবিদিত

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, নৌবাহিনীর এ-২০২৬ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে মো. শাহরিয়ার টুটুল পেশাগত ও সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষতা অর্জন করে সেরা চৌকস নাবিক হিসেবে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন। এছাড়াও মো. সামিউল ইসলাম শাকিল দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘কমখুল পদক’ এবং মো. কাদের মিয়া তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ লাভ করেন। একই সঙ্গে সেরা চৌকস মহিলা নাবিক হিসেবে মোছা. মারিয়া আক্তার ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার’ পদক অর্জন করেন।

বর্ণাঢ্য প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজের আনন্দানুভূতি
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ-২০২৬ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মনোরম ও বর্ণাঢ্য প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজের আনন্দানুভূতির কথা তুলে ধরেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি মহান আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘সাফল্যের সঙ্গে ২২ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষ করে আজকের এই প্রাণবন্ত কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে নবীন নাবিকরা দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান ও পবিত্র দায়িত্ব পালনের জন্য পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এজন্য আমি তাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আজকের এই বিশেষ ক্ষণে আমি প্রথমেই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। বিশেষ করে নৌবাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিনসহ শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ও সকল নৌ সদস্য ও কমান্ডোদের যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা। আমি সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি অর্জন
এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক সঙ্কটময় মুহুর্তে বাঙালি নাবিক ও তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত হয় নৌ কমান্ডো দল যারা অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার মাধ্যমে আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জনে বয়ে আনে অসামান্য সাফল্য। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের বিস্তৃত সমুদ্র অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় দু’টি টহল জাহাজ পদ্মা ও পলাশ ও সীমিত সংখ্যক নৌ সদস্যদের নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর। পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ একটি ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নে কৌশলগত অগ্রাধিকারে স্থান লাভ করেছে
ইতিহাস পর্যালোচনা করে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘পৃথিবীর যেসব দেশ তাদের সমুদ্র সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহারের পদক্ষেপ নিয়েছে তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত উন্নতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের জনবহুল এই দেশের সার্বিক উন্নয়নে সঙ্গত কারণেই ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নে কৌশলগত অগ্রাধিকারে স্থান লাভ করেছে। বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা নিয়ে আজ আমাদের বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। যেখানে রয়েছে মৎস্য সম্পদের প্রাচুর্য, তেল-গ্যাসের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথের ব্যবহার যা দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সুনীল অর্থনীতিকে বাস্তব উন্নয়নের পথে রূপ দিতে সমুদ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণ ও বহি:শত্রুর যেকোন আক্রমণ থেকে সমুদ্র সীমা রক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নৌবহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধ জাহাজ, হেলিকপ্টার, মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্রাফটসহ আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বানৌজা নবযাত্রা এবং জয়যাত্রা নামে দুটি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে আজ আমাদের প্রাণপ্রিয় নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’

নতুন নৌঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম সব সময় চলমান
এই ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নতুন নৌঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম সব সময় চলমান রয়েছে বলে জানান নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় দেশের শিপইয়ার্ডে লার্জ পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণ এবং পর্যায়ক্রমে অফশোর পেট্রোল ভ্যাসেল, করভেট ও ফ্রিগেড নির্মাণের পরিকল্পনাকরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে দু’টি ইউটিলিটি হেলিকপ্টার ও দুটি আনম্যান্ড এয়ারক্রাফট সিস্টেম নেভাল এভিয়েশনে সংযোজিত হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটির নিরাপত্তার লক্ষ্যে এন্টি-ড্রোন সিস্টেম প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। যা খুব শিগগির স্থাপনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সম্প্রতি হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্য থেকে একটি হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল ক্রয় করা হয়েছে। আগামী বছর জাহাজটি আমাদের নৌবহরে যুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনটি শিপইয়ার্ডের সাফল্যজনক কর্মতৎপরতায় দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য
বর্তমানে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তিনটি শিপইয়ার্ডের সাফল্যজনক কর্মতৎপরতায় দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে বলে মন্তব্য করেন এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডসমূহ লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ল্যান্ডিং অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খুলনা শিপইয়ার্ডে তিনটি এলসিটি (ল্যান্ডিং ক্র্যাফট ট্যাংক) নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হতে চলেছে। পাশাপাশি অপারেশনাল কর্মকাণ্ড নিরবচ্ছিন্ন রাখার নিমিত্তে ডিডব্লিউ নারায়ণগঞ্জের একটি ফ্লোটিং ক্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আপনারা জানেন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডকে সরকার দায়িত্ব প্রদান করেছে। চট্টগ্রাম ড্রাইডক এই দায়িত্ব গ্রহণের পর কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। হ্যান্ডেলিং’র হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

খুলনা শিপইয়ার্ড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য তিনটি ডাইভিং বোট নির্মাণ করেছে, যা ইতোমধ্যে নৌবাহরে যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ল্যান্ডিং অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খুলনা শিপইয়ার্ডে তিনটি এলসিটি (ল্যান্ডিং ক্র্যাফট ট্যাংক) নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আপনারা জানেন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের ওপর সরকার ন্যস্ত করেছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং-এর সংখ্যা এতে গতিশীলতা এসেছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো নেভি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। এই কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম এই মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু করা হয়েছে।

সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা ছিল সর্বজনবিদিত
এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আপনারা জানেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাস হতে প্রায় দীর্ঘ দুই বছর যাবত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করে চলেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা ছিল সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো থেকে শুরু করে উৎসবমুখর পরিবেশে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর কার্যক্রম দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই দেশের প্রয়োজনে সর্বদা নিবেদিত থেকে যেকোন ত্যাগ স্বীকার করার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সদা প্রস্তুত রয়েছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন নিয়ে দুই দশক পর বিএনপির বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন নিয়ে দুই দশক পর বিএনপির বাজেট

প্রায় দুই দশক পর জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে ২০০৬ সালের ৪ জুন ক্ষমতার শেষ বছরে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরের জন্য ৭০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। বিশ বছরে বাজেটের আকারে ব্যবধান প্রায় ৯ গুণ।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর ১১ জুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

দুই দশক পর বিএনপি সরকারে নেতৃত্বে এবারের বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের রয়েছে ‘আকাশচুম্বী’ প্রত্যাশা। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি থেকে রেহাই পেতে চাইবেন তারা। তাছাড়া বাজারে চাপ সহনীয় পর্যায়ে থাকার দাবিও আছে।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের কাছে অর্থনীতিবিদ মাসরুর রিয়াজ বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিটা গত কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে একটি চ্যালেঞ্জ বা একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি ‘সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য’ জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন আমরা ১২ (মূল্যস্ফীতি সূচক) বলি, ৯ বলি, সাড়ে ৮ বলি— সবই কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এই মূল্যস্ফীতিতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে। এর থেকে রেহাই পাওয়া যায় কিনা— সেটাই দেখার বিষয়।”

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

 

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট 

বগুড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২:০১ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে নির্মাণ করা সড়ক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ইট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সফরের সময় একটি আধা কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় ইট-বালু ফেলে রাতারাতি নির্মাণ করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। এ রাস্তা দিয়েই প্রধানমন্ত্রী তার পৈতৃক ভিটায় পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন বৃষ্টিতে এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার এ কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছর এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কার্যাদেশ পাওয়ার পরও ঠিকাদার সঠিক সময়ে কাজ শুরু করেননি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সফরের সময় এ কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়। আনুষঙ্গিক কিছু কাজসহ এতে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যে সড়কের ৫০০ মিটার অংশে বিছানো ইট পুরোটায় তুলে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘নিয়মনীতি মেনেই অস্থায়ীভাবে সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। ওই সড়ক পাকা করতে ৮৪ লাখ টাকা আগেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ কারণে সেখানে অস্থায়ীভাবে বিছানো ইট ঠিকাদারকে তুলে নিতে বলা হয়েছে। কারণ অস্থায়ীভাবে সোলিং করার জন্য ইট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ইট কিনতে গেলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেতো।’

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি কার্পেটিং করার জন্য গত অর্থবছরে এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্র আহ্বানের পর গত বছরের আগস্ট মাসে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

কার্যাদেশ অনুযায়ী, এ বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরুই করেনি। এর মধ্যে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে আসেন। এদিন তিনি বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন, চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ি পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ৫০০ মিটার এই কাঁচা রাস্তায় রাতারাতি ইট বিছানোর তোড়জোড় শুরু করে এলজিইডি। শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে ইট বিছানোর কাজ শেষ হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমনে কাঁচা সড়কে ইট বসায় এলাকাবাসী খুশি হয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছিল। এখন সড়কের ইট তুলে নেওয়ায় এ রাস্তা দিয়ে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

এ বিষয়ে মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এলজিইডি থেকে ওই কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট সোলিং করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, ভাটা থেকে ইট নিয়ে গিয়ে শ্রমিক দিয়ে সড়কে ইট বিছিয়ে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সড়কের ইট তুলে ভাটায় নিয়ে এসেছেন। এলজিইডি থেকে শুধু পরিবহন ও শ্রমিক খরচ দেওয়া হয়েছে। তবে সেই কাজের জন্য ঠিক কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেটা এই মুহূর্তে মনে নেই।’

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শেষ’ বিশ্বকাপে কি হচ্ছে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১:৫০ পূর্বাহ্ণ
শেষ’ বিশ্বকাপে কি হচ্ছে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ?

রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বয়স বিবেচনায় সম্ভবত এটাই তাদের শেষ বিশ্বকাপ, মানে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বর্তমান প্রজন্মের দুই সেরা তারকার মুখোমুখি হওয়ার শেষ সুযোগ।

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ নিজ দেশের হয়ে মেসি-রোনালদোর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু দুই তারকার দ্বৈরথ কখন হতে পারে?

মেসির আর্জেন্টিনা আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান ‘জে’ গ্রুপে খেলবে। তারা যদি গ্রুপটির শীর্ষে থাকে, তাহলে স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবকে নিয়ে গড়া ‘এইচ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দলের মুখোমুখি হবে শেষ ৩২ এ।

রোনালদোর পর্তুগাল ‘কে’ গ্রুপে খেলবে ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে। আর্জেন্টিনার মতো তারাও গ্রুপের শীর্ষে থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তারা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তাহলে ব্র্যাকেট অনুযায়ী তারা ডি, ই, আই, জে কিংবা এল গ্রুপের তৃতীয় দলের মুখোমুখি হবে ৪ জুলাই।

তিনটি পথে মেসি ও রোনালদো মুখোমুখি হতে পারেন। গ্রুপের শীর্ষে থাকতে হবে এবং শেষ ৩২ ও শেষ ষোলোর ম্যাচ জিততে হবে। তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে হবে আর্জেন্টিনা বনাম পর্তুগাল ম্যাচ।

ব্র্যাকেটের গঠন অনুযায়ী এই পথেই তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই সময়ে কাগজেকলমে আর্জেন্টিনার সামনে শেষ ৩২-এ কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে উরুগুয়ে। আর কোয়ার্টার ফাইনালে আগে তেমন বড় কোনো দলের মুখোমুখি হতে হবে না পর্তুগালকে।

তবে নিজ নিজ গ্রুপে দুই দলই রানার্সআপ হলে আরও নাটকীয় ব্যাপার হবে। এক্ষেত্রে শেষ ষোলোতেই দেখা হতে পারে তাদের। অবশ্য তাতে শেষ ষোলোতে দুই দলকেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে স্পেন, পর্তুগালের প্রতিপক্ষ হতে পারে ক্রোয়েশিয়া।

মেসি-রোনালদোর মহাকাব্যিক ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। সেক্ষেত্রে এক দলকে হতে হবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, আরেক দল রানার্সআপ। তারপর দুই দলই সব বাধা আর চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে পারলে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে মুখোমুখি দাঁড়াবেন সময়ের অন্যতম সেরা দুই তারকা।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি