খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ঝিনাইদহে সেদিন কীভাবে কী ঘটেছিল, বিস্তারিত জানালেন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে সেদিন কীভাবে কী ঘটেছিল, বিস্তারিত জানালেন পাটওয়ারী

গত শুক্রবার (২২ মে) ঝিনাইদহে জুমার নামাজের পর ছাত্রদলের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সেখানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মুখে ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং সংঘর্ষে দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

ওই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা করে ছাত্রদল ও এনসিপি। মামলার পর গ্রেফতার হন এনসিপির দুই নেতা। তার মধ্যে একজন সোমবার (২৫ মে) জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তারা আগাম জামিন নিয়ে রেখেছেন।

কিন্তু সেদিন কীভাবে কী ঘটেছিল?

সোমবার (২৫ মে) বিকেলে এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি লম্বা পোস্ট দিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তুলে ধরেছেন ঝিনাইদহের ঘটনার বিস্তারিত।

ফিরে আসা মৃত্যুর মুখ থেকে:

ঝিনাইদহে যাওয়ার আগেই কসবা, হাতিবান্ধা ও রাজশাহীর সফর ছিল পূর্বনির্ধারিত। কসবা ও হাতিবান্ধা সফরে সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে। যা দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো আইনেই বৈধতা নেই, এটি সম্পূর্ণ অনিয়মিত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা।

একজন ভাইকে হত্যা করা হয়েছে, যা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি নাই এবং মানার কথাও না। কিছু করতে পারি বা না পারি, তাদের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাদের কথা শোনা এবং সত্য ঘটনা জানা আমার নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব, যা আমি কোনোভাবেই অবহেলা করতে পারি না।
এর মাঝে ছিল রাজশাহীর ১১ দলীয় সমাবেশ, যা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়। আমি এনসিপির পক্ষ থেকে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ দায়িত্বে থাকায় শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও দায়িত্বের জায়গা থেকে সেখানে ছুটে যাই।

আমার মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু হঠাৎ জনদাবির কারণে আমি বক্তব্য দিতে শুরু করি। সেখানে আমি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করাকে ভণ্ডামি ও প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করি এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে।

এরপর ঢাকায় এসে আবার হাতিবান্ধার উদ্দেশ্যে সফর শুরু করি। সেখানে মানুষের সাথে কথা বলে সত্য ঘটনা উন্মোচনের চেষ্টা করি, যা অনেকের ভদ্রবেশী ছদ্মবেশ উন্মোচন করে দেয়।

এরপর আসে শুক্রবার। আমি এক জুমা এক মসজিদে আদায় করি। নামাজের পর মানুষের সাথে কথা বলি, আড্ডা দেই। উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম অর্থনৈতিক কাঠামোর উৎসগুলো যাতে জনকল্যাণমুখী কাজে ব্যবহার করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করা।

ঝিনাইদহের প্রয়াত আলেম ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের (রহ.) লেখা ও চিন্তাভাবনা আমি দীর্ঘদিন ধরে পড়েছি। তিনি এখন দুনিয়ায় নেই। আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসীব করুন। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা প্রস্তাব দেন ঝিনাইদহে যাওয়ার-জুমা পড়া, স্যারের কবর জিয়ারত করা এবং আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট পরিদর্শন করা।

স্যারের কবর জিয়ারতের সময় নির্ধারিত ছিল ১২:২০। তার ছেলে সকাল থেকে আমাদের রিসিভ করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু জ্যাম, রাস্তার বেহাল অবস্থা এবং গ্যাসের সিরিয়াল, সব মিলিয়ে আমরা পৌঁছাই ১:৩০-এ।

ঝিনাইদহ কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করি। প্রথম রাকাতে রুকুতে এসে নামাজে শরিক হই। স্থান সংকুলান না হওয়ায় কিছু অংশ মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষে সুন্নত পড়ার জন্য আবার মসজিদের ভিতরে যাই। এরপর বের হয়ে দেখি হাজারখানেক মানুষ দাঁড়িয়ে সালাম দিচ্ছে। আমিও সবার সালামের উত্তর দিই। ছবি তোলা শেষ করে হোটেলের উদ্দেশে রওনা হই।

আমার সাথে ছাত্রশক্তি, যুব শক্তি এবং এনসিপির প্রায় ৪০/৪৫ জন লোক ছিল। মসজিদের কম্পাউন্ডে ইবির ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আমাকে এসে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করে। আমি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সামনে এগিয়ে যাই।

এরপর হঠাৎ করে চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করি। পাশ থেকে জানানো হয় আমার চোখে ডিম মারা হয়েছে। এরপর পাশ থেকে একজন জোরে ধাক্কা দেয়, একজন ঘুষি মারে, আমার মাথা ভো ভো করতে থাকে। আমাদের সহযোদ্ধারা ব্যারিকেড তৈরি করে আমাকে রক্ষা করে। এর মাঝে কয়েকজনের মাথা থেকে রক্ত ঝরতে থাকে।

হঠাৎ দেখি বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ছুড়ছে আমাদের দিকে। এরপর শুরু হয় হকিস্টিক দিয়ে আঘাত। আমি উঠে দাঁড়াই এবং প্রতিরোধের ডাক দেই। কয়েকজনকে ধরে তাদের কাছ থেকে হকিস্টিক ও স্টিক উদ্ধার করতে সক্ষম হই, যা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুলভাবে প্রচার করা হয়।

যে দিক থেকে ইট-পাটকেল ও হকিস্টিকের আঘাত আসছিল, সেই দিক থেকেই পুলিশও তাদের সাথে অংশগ্রহণ করে বলে আমরা অনুভব করি। ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি এবং পুলিশের উপস্থিতি একসাথে দেখে আমরা পরিস্থিতিকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করি এবং হোটেলের সামনে অবস্থান নেই।

এর মাঝে সাধারণ জনগণ এগিয়ে আসে এবং আমাদের রক্ষা করে। আমি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাই। বিকালে এনসিপিতে ৩০০ জনের যোগদান অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং আমাদের উপর হামলার বিচারের জন্য থানার উদ্দেশে রওনা দেই।

থানায় পৌঁছানোর পর পুলিশ জানায় বিকালের অনুষ্ঠান করা যাবে না এবং কমিউনিটি সেন্টার সিলগালা করে দেয়। আমরা আমাদের নিরাপত্তা দাবি করি। তারা অপারগতা জানায় এবং বলে ঝিনাইদহ ছেড়ে চলে যেতে। আমি বলি আমাদের উপর হামলার ঘটনায় মামলা করতে চাই। তারা বলে এজহার রেডি করতে। আমি এজহার রেডি করি।

এরপর হঠাৎ ঝিনাইদহ সদর থানার বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারা বলে বিদ্যুৎ নেই, আপনারা চলে যান পরে মামলা হবে। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, থানার বাইরে সব জায়গায় বিদ্যুৎ আছে। এতে সন্দেহ হয়। আমি বলি, মামলা নাম্বার এবং অনলাইনে এন্ট্রি করে হলে আমি যাবো।

এরপর তারা বলে সার্ভার ডাউন। আমি বলি সার্ভার সচল হলে মামলা করে যাবো। প্রায় ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করি, কিন্তু মামলা নেওয়া হয় না। এর মধ্যে আমি ফেসবুকে পোস্ট দেই। তখন ওসি ও এএসপি থানা থেকে সরে যায়। আমি ঘোষণা দেই থানার সামনে অবস্থান করবো।

পরে জানানো হয় মামলা নেওয়া হবে, তবে কিছু নাম বাদ দিতে হবে। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ায়, যাকে মূল পরিকল্পনাকারী বলা হচ্ছিল, তখনই তারা মামলা নিতে রাজি হয়। ঢাকা থেকে মন্ত্রী ও এমপিদের ফোন আসে, তারা বলে মামলা হবে, আপনারা চলে আসেন। কিন্তু আমার মনে হয় মামলা হবে না, তাই আমি অবস্থান জোরালো করি।

হঠাৎ ওসি ও এএসপি উপস্থিত হয়। তারা উপর থেকে নির্দেশ পায় মামলা নিতে। ৮ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ আসে এবং তারা মামলা নেয়। মামলা নেওয়ার পর আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই।

থানা থেকে বের হওয়ার আগেই লাঠিসোটা নিয়ে প্রায় তিন হাজার লোক থানার সামনে উপস্থিত হয়। তারা গেট ভাঙতে শুরু করে। থানার ভেতরে থাকা পুলিশ পালাতে শুরু করে। আমি কালেমা পড়ে এবং ফেসবুকে ‘please save us’ পোস্ট দিয়ে মরণের প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করি।

এরপর ওসি ও এএসপি জানায়, সেই প্রভাবশালী নেতার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি বলার পর তারা থানার গেট ভাঙা বন্ধ করে। ওসি ও এএসপি জানায়, ৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের বের হতে হবে। তারা আমাদের গাড়িতে তুলে দেয় এবং ঢাকার উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়।

লাঠিয়াল বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা যেন আলাদা মামলা দেয়। এরপরই তারা পরবর্তী পরিকল্পনার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এর মাঝেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অয়ন গ্রেফতার হয় এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা গ্রেফতার হয়। ঝিনাইদহে বাসায় বাসায় গিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।

আমরা যদি কখনো মারা যাই, আমাদের খুনের বিচারটা যেন করা হয়, এইটুকুই অনুরোধ। হাদী ভাইয়ের বিচার হয়নি। তাই আশা কম, কিন্তু আল্লাহ আছেন। কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ যেন সব অন্যায়কারীর বিচার করেন—এই দোয়া ছাড়া এই মজলুমের আর কিছু বলার নেই।

‘আরও বিস্তারিত ভিডিওতে আসবে’ বলে ফেসবুক পোস্টের সবশেষে জানান এনসিপি নেতা ও জুলাই বিপ্লবী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

কালের আলো/এসআর/এএএন

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনছে সরকার

Oplus_131072

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য স্থানীয় উৎস থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় হবে ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। রাজশাহীর নাবিল নবা ফুডস লিমিটেড প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে এ ডাল সরবরাহ করবে।

বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় মোট ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৩৯ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন ডাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ সারাদেশে টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য নতুন করে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টিসিবির মাসিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল প্রয়োজন হয়। এ চাহিদা পূরণে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুসারে উন্মুক্ত জাতীয় দরপত্র আহ্বান করা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নাবিল নবা ফুডস লিমিটেডকে নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, মসুর ডালের দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৮৭ টাকা ৩৭ পয়সা। সেখানে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দর প্রস্তাব করেছে, যা প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় ৪ টাকা ৮৩ পয়সা কম।

এ ছাড়া টিসিবির বাজার তথ্য শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মে স্থানীয় বাজারে সমজাতীয় মসুর ডালের গড় পাইকারি মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৮৪ টাকা। সে হিসাবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের দর বাজারদরের তুলনায় প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৪৬ পয়সা কম।

টিসিবির তথ্য বলছে, সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল প্রতি কেজি ৮৩ টাকা ৬৩ পয়সা এবং ১৬ এপ্রিল ৮৪ টাকা ৭৭ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই তুলনায় এবারও তুলনামূলক কম দরে ডাল সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণেও স্থানীয় উৎস থেকে ক্রয়কে লাভজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া উৎসের মসুর ডাল আমদানি করে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৯৪ টাকা ৭৫ পয়সা খরচ পড়বে।

অন্যদিকে ভারতীয় উৎসের মসুর ডালের ক্ষেত্রে এ ব্যয় দাঁড়াবে ১২৪ টাকা ২৪ পয়সা। ফলে স্থানীয় বাজার থেকে ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে ডাল সংগ্রহকে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে টিসিবির গুদামে ১৪ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন মসুর ডাল মজুত রয়েছে। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ ও পাইপলাইনে রয়েছে আরও ৩৬ হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম চালাতে প্রায় ৫৫ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন মসুর ডালের প্রয়োজন হবে। এ কারণে নতুন করে ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনাকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে সংস্থাটি।

কালের আলো/এসএকে

ইসলামী ব্যাংক ইস্যু স্মারকলিপি জমা, সচেতন গ্রাহক ফোরামের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংক ইস্যু  স্মারকলিপি জমা, সচেতন গ্রাহক ফোরামের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী।

তিনি বলেন, আমাদের গ্রাহকবৃন্দের যে ছয় দফা দাবি ছিল, সেই দাবিগুলো সম্মিলিতভাবে স্মারক আকারে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় পৌঁছে দিয়েছি। আমরা আশা করবো আমাদের দাবিগুলো আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। যদি আমাদের দাবিগুলো মানা না হয়, তাহলে সারাদেশের গ্রাহকদের নিয়ে আরো বড় পরিসরে কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া শেষে উপস্থিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক নুর উন-নবী বলেন, আমাদের গ্রাহকদের যে ছয় দফা দাবি ছিল, সেই দাবিগুলো সম্মিলিতভাবে স্মারক আকারে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের দাবি ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে এবং যারা ব্যাংকের অর্থ লুটপাট করেছে তাদের কাছ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্যাংকের মালিকানা স্থায়ীভাবে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। যারা লুটপাট করেছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের এই দাবিগুলো আমরা স্মারকলিপি আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। যেহেতু আমাদের দাবিগুলো যৌক্তিক, আমরা আশা করি যে আজকের মধ্যে আমাদের সব দাবি পূরণ করা হবে।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক বলেন, আজকের মধ্যে যদি আমাদের এই দাবিগুলো পূরণ করা না হয়, তাহলে আগামীকাল আমরা ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি বসে আরও বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করব। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবো। ৩ কোটি গ্রাহক সবাইকে নিয়ে আমরা আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বাধ্য করব চেয়ারম্যানের অপসারণ নিশ্চিত করতে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ে অভিমুখে যাওয়ার পথে পল্টন মোড়ে মিছিলটি থামিয়ে দেয় পুলিশ। তবে ফোরামের একটি প্রতিনিধিদলকে লিখিত দাবিগুলো স্মারক আকারে অর্থমন্ত্রী বরাবর জমা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। পরে আন্দোলনকারীরা পল্টন থেকে গুলিস্তান অভিমুখের প্রধান সড়ক আটকে বসে পড়েন।

দুপুর ১টার দিকে স্মারকলিপি জমা দেয়ার প্রতিনিধিদল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সড়ক থেকে সবাইকে সরে যেতে বলা হয়।

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী জানান, বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টায় মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করবেন তারা। এসময় তাদের লিখিত দাবিগুলো স্মারক আকারে অর্থ মন্ত্রী বরাবর জমা দেওয়া হবে।

গত ১ জুন সকালে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন শুরু করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। এরপর থেকে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ওই আন্দোলনের মধ্যেই গত ১ জুন রাতে ব্যাংকের এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এমডি মো. ওমর ফারুকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রাথমিকের পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন বই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
প্রাথমিকের পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন বই

২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন বই। শিল্প ও সংস্কৃতি নামের এই বইয়ে ৪টি অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত থাকবে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলা। ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হবে এই বিষয়গুলো।

বুধবার (১০ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার সম্প্রসারণ, নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষা ‎প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এতে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এসব বিষয়ে একটি টেকসই ক্যারিয়ার পাথওয়ে গড়ে উঠবে। আগামী ৫ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০-৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

এ ব্যাপারে ‎‎বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা চাই, আপনাদের শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। সে লক্ষ্যে কীভাবে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা-সম্পর্কিত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায় এবং কীভাবে যৌথভাবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা যায়—সেসব বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা চাই সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়; বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। এ জন্য কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক তৈরির বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

‎‎সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব এবং দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে