খুঁজুন
                               
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ঝিনাইদহে সেদিন কীভাবে কী ঘটেছিল, বিস্তারিত জানালেন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে সেদিন কীভাবে কী ঘটেছিল, বিস্তারিত জানালেন পাটওয়ারী

গত শুক্রবার (২২ মে) ঝিনাইদহে জুমার নামাজের পর ছাত্রদলের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সেখানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মুখে ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং সংঘর্ষে দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

ওই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা করে ছাত্রদল ও এনসিপি। মামলার পর গ্রেফতার হন এনসিপির দুই নেতা। তার মধ্যে একজন সোমবার (২৫ মে) জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তারা আগাম জামিন নিয়ে রেখেছেন।

কিন্তু সেদিন কীভাবে কী ঘটেছিল?

সোমবার (২৫ মে) বিকেলে এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি লম্বা পোস্ট দিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তুলে ধরেছেন ঝিনাইদহের ঘটনার বিস্তারিত।

ফিরে আসা মৃত্যুর মুখ থেকে:

ঝিনাইদহে যাওয়ার আগেই কসবা, হাতিবান্ধা ও রাজশাহীর সফর ছিল পূর্বনির্ধারিত। কসবা ও হাতিবান্ধা সফরে সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে। যা দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো আইনেই বৈধতা নেই, এটি সম্পূর্ণ অনিয়মিত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা।

একজন ভাইকে হত্যা করা হয়েছে, যা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি নাই এবং মানার কথাও না। কিছু করতে পারি বা না পারি, তাদের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাদের কথা শোনা এবং সত্য ঘটনা জানা আমার নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব, যা আমি কোনোভাবেই অবহেলা করতে পারি না।
এর মাঝে ছিল রাজশাহীর ১১ দলীয় সমাবেশ, যা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়। আমি এনসিপির পক্ষ থেকে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ দায়িত্বে থাকায় শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও দায়িত্বের জায়গা থেকে সেখানে ছুটে যাই।

আমার মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু হঠাৎ জনদাবির কারণে আমি বক্তব্য দিতে শুরু করি। সেখানে আমি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করাকে ভণ্ডামি ও প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করি এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে।

এরপর ঢাকায় এসে আবার হাতিবান্ধার উদ্দেশ্যে সফর শুরু করি। সেখানে মানুষের সাথে কথা বলে সত্য ঘটনা উন্মোচনের চেষ্টা করি, যা অনেকের ভদ্রবেশী ছদ্মবেশ উন্মোচন করে দেয়।

এরপর আসে শুক্রবার। আমি এক জুমা এক মসজিদে আদায় করি। নামাজের পর মানুষের সাথে কথা বলি, আড্ডা দেই। উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম অর্থনৈতিক কাঠামোর উৎসগুলো যাতে জনকল্যাণমুখী কাজে ব্যবহার করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করা।

ঝিনাইদহের প্রয়াত আলেম ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের (রহ.) লেখা ও চিন্তাভাবনা আমি দীর্ঘদিন ধরে পড়েছি। তিনি এখন দুনিয়ায় নেই। আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসীব করুন। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা প্রস্তাব দেন ঝিনাইদহে যাওয়ার-জুমা পড়া, স্যারের কবর জিয়ারত করা এবং আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট পরিদর্শন করা।

স্যারের কবর জিয়ারতের সময় নির্ধারিত ছিল ১২:২০। তার ছেলে সকাল থেকে আমাদের রিসিভ করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু জ্যাম, রাস্তার বেহাল অবস্থা এবং গ্যাসের সিরিয়াল, সব মিলিয়ে আমরা পৌঁছাই ১:৩০-এ।

ঝিনাইদহ কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করি। প্রথম রাকাতে রুকুতে এসে নামাজে শরিক হই। স্থান সংকুলান না হওয়ায় কিছু অংশ মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষে সুন্নত পড়ার জন্য আবার মসজিদের ভিতরে যাই। এরপর বের হয়ে দেখি হাজারখানেক মানুষ দাঁড়িয়ে সালাম দিচ্ছে। আমিও সবার সালামের উত্তর দিই। ছবি তোলা শেষ করে হোটেলের উদ্দেশে রওনা হই।

আমার সাথে ছাত্রশক্তি, যুব শক্তি এবং এনসিপির প্রায় ৪০/৪৫ জন লোক ছিল। মসজিদের কম্পাউন্ডে ইবির ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আমাকে এসে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করে। আমি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সামনে এগিয়ে যাই।

এরপর হঠাৎ করে চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করি। পাশ থেকে জানানো হয় আমার চোখে ডিম মারা হয়েছে। এরপর পাশ থেকে একজন জোরে ধাক্কা দেয়, একজন ঘুষি মারে, আমার মাথা ভো ভো করতে থাকে। আমাদের সহযোদ্ধারা ব্যারিকেড তৈরি করে আমাকে রক্ষা করে। এর মাঝে কয়েকজনের মাথা থেকে রক্ত ঝরতে থাকে।

হঠাৎ দেখি বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ছুড়ছে আমাদের দিকে। এরপর শুরু হয় হকিস্টিক দিয়ে আঘাত। আমি উঠে দাঁড়াই এবং প্রতিরোধের ডাক দেই। কয়েকজনকে ধরে তাদের কাছ থেকে হকিস্টিক ও স্টিক উদ্ধার করতে সক্ষম হই, যা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুলভাবে প্রচার করা হয়।

যে দিক থেকে ইট-পাটকেল ও হকিস্টিকের আঘাত আসছিল, সেই দিক থেকেই পুলিশও তাদের সাথে অংশগ্রহণ করে বলে আমরা অনুভব করি। ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি এবং পুলিশের উপস্থিতি একসাথে দেখে আমরা পরিস্থিতিকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করি এবং হোটেলের সামনে অবস্থান নেই।

এর মাঝে সাধারণ জনগণ এগিয়ে আসে এবং আমাদের রক্ষা করে। আমি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাই। বিকালে এনসিপিতে ৩০০ জনের যোগদান অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং আমাদের উপর হামলার বিচারের জন্য থানার উদ্দেশে রওনা দেই।

থানায় পৌঁছানোর পর পুলিশ জানায় বিকালের অনুষ্ঠান করা যাবে না এবং কমিউনিটি সেন্টার সিলগালা করে দেয়। আমরা আমাদের নিরাপত্তা দাবি করি। তারা অপারগতা জানায় এবং বলে ঝিনাইদহ ছেড়ে চলে যেতে। আমি বলি আমাদের উপর হামলার ঘটনায় মামলা করতে চাই। তারা বলে এজহার রেডি করতে। আমি এজহার রেডি করি।

এরপর হঠাৎ ঝিনাইদহ সদর থানার বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারা বলে বিদ্যুৎ নেই, আপনারা চলে যান পরে মামলা হবে। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, থানার বাইরে সব জায়গায় বিদ্যুৎ আছে। এতে সন্দেহ হয়। আমি বলি, মামলা নাম্বার এবং অনলাইনে এন্ট্রি করে হলে আমি যাবো।

এরপর তারা বলে সার্ভার ডাউন। আমি বলি সার্ভার সচল হলে মামলা করে যাবো। প্রায় ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করি, কিন্তু মামলা নেওয়া হয় না। এর মধ্যে আমি ফেসবুকে পোস্ট দেই। তখন ওসি ও এএসপি থানা থেকে সরে যায়। আমি ঘোষণা দেই থানার সামনে অবস্থান করবো।

পরে জানানো হয় মামলা নেওয়া হবে, তবে কিছু নাম বাদ দিতে হবে। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ায়, যাকে মূল পরিকল্পনাকারী বলা হচ্ছিল, তখনই তারা মামলা নিতে রাজি হয়। ঢাকা থেকে মন্ত্রী ও এমপিদের ফোন আসে, তারা বলে মামলা হবে, আপনারা চলে আসেন। কিন্তু আমার মনে হয় মামলা হবে না, তাই আমি অবস্থান জোরালো করি।

হঠাৎ ওসি ও এএসপি উপস্থিত হয়। তারা উপর থেকে নির্দেশ পায় মামলা নিতে। ৮ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ আসে এবং তারা মামলা নেয়। মামলা নেওয়ার পর আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই।

থানা থেকে বের হওয়ার আগেই লাঠিসোটা নিয়ে প্রায় তিন হাজার লোক থানার সামনে উপস্থিত হয়। তারা গেট ভাঙতে শুরু করে। থানার ভেতরে থাকা পুলিশ পালাতে শুরু করে। আমি কালেমা পড়ে এবং ফেসবুকে ‘please save us’ পোস্ট দিয়ে মরণের প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করি।

এরপর ওসি ও এএসপি জানায়, সেই প্রভাবশালী নেতার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি বলার পর তারা থানার গেট ভাঙা বন্ধ করে। ওসি ও এএসপি জানায়, ৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের বের হতে হবে। তারা আমাদের গাড়িতে তুলে দেয় এবং ঢাকার উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়।

লাঠিয়াল বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা যেন আলাদা মামলা দেয়। এরপরই তারা পরবর্তী পরিকল্পনার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এর মাঝেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অয়ন গ্রেফতার হয় এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা গ্রেফতার হয়। ঝিনাইদহে বাসায় বাসায় গিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।

আমরা যদি কখনো মারা যাই, আমাদের খুনের বিচারটা যেন করা হয়, এইটুকুই অনুরোধ। হাদী ভাইয়ের বিচার হয়নি। তাই আশা কম, কিন্তু আল্লাহ আছেন। কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ যেন সব অন্যায়কারীর বিচার করেন—এই দোয়া ছাড়া এই মজলুমের আর কিছু বলার নেই।

‘আরও বিস্তারিত ভিডিওতে আসবে’ বলে ফেসবুক পোস্টের সবশেষে জানান এনসিপি নেতা ও জুলাই বিপ্লবী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রাজশাহীতে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে বগুড়া চ্যাম্পিয়ন

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে বগুড়া চ্যাম্পিয়ন

প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বগুড়া। রানারআপ হয়েছে রাজশাহী।

রোববার (১৪ জুন) রাজশাহী মুক্তযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে ফাইনালে বগুড়া বিট মডেল স্কুল ১৭ রানে রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলকে পরাজিত করে  চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। টুর্নামেন্টে  রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুল রানারআপ হয়েছে।

টস জয়ী বগুড়া বিট মডেল স্কুল ব্যাট করতে নেমে ৩৯.২ ওভারে ১৩৬ রানে অলআউট হয়।

দলের পক্ষে বাজিত ৪৪, বদরুজ্জামান ৩৪ ও রোসুল ২২ রান করেন।বিপক্ষ দলের সিফাত ৪৫ রানে, ওসমান ৩০ রানে ও সাব্বির ১০ রানে ২টি করে উইকেট নেন। ১৩৭ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী লোকনাথ হাই স্কুল  ৪৪.৩ ওভারে ১১৯ রানে গুড়িয়ে যায়। দলের পক্ষে সাদিদ ৩০ ও ওসমান ২০ রান করেন।

বিপক্ষ দলের পক্ষে ইরফান ১৯ রানে ৪টি,তাহমিদ ১৫ ও সাদাত ১৬ রানে ২টি করে উইকেট নেন।

বগুড়ার ইরফান ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন। টুর্নামেন্টে রাজশাহীর সারাফাত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন।

ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় ও রাজশাহী জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোঃ হাসিনুল ইসলাম চুন্নু।

তিনি ব্যাক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার জন্য টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রকারী ও ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হওয়া খেলোয়াড়দ্বয়কে নগদ ২ হাজার ৫ শত টাকা করে পুরস্কার তুলে দেন।

সদস্য মোঃ সাইফুদ্দিন এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ মোঃ জামিলুর রহমান সাদ, সাবেক ফুটবলার মোঃ মুরাদুজ্জামান এলান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মোঃ মোজাম্মেল হক। এসময় অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দুবাই পুলিশের হাতে যেভাবে ধরা পড়লেন বেনজীর আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
দুবাই পুলিশের হাতে যেভাবে ধরা পড়লেন বেনজীর আহমেদ

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সিটি পুলিশ। মূলত, দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর সম্প্রতি লন্ডন থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্তই কাল হয়েছে তার জন্য।

দুবাই পুলিশের হাতে বাংলাদেশের সাবেক এই আইজিপির ধরা পড়ার চাঞ্চল্যকর এক কাহিনী জানা গেছে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে।

সূত্রমতে, লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। পরিকল্পনা ছিল দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে গন্তব্যে পৌঁছানোর। তবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরায় ধরা পড়ে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই হয়ে যায় তার যাত্রার শেষ গন্তব্য।

বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক এআইভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তিতে শনাক্ত হওয়ার পর ইন্টারপোলের তথ্যভান্ডার মিলিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে দুবাই পুলিশ।

দুবাই পুলিশের বরাতে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি বেনজীর আহমেদ লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। নির্ধারিত ফ্লাইটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে নামার পর অন্য যাত্রীর মতোই ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আসেন তিনি।

পুলিশের ওই কর্মকর্তার দাবি, বিমানবন্দরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা তার মুখমণ্ডল স্ক্যান করে। স্ক্যানের তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধীদের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে বেনজীর আহমেদের নামে থাকা ইন্টারপোল সতর্কতা সংকেত (নোটিশ) সামনে আসে। এরপর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় শাখা বিষয়টি যাচাই করে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তাকে আটক করে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

যদিও দুবাই পুলিশ, ইন্টারপোল বা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবগত করেন।

তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা কর্তৃক ইন্টারপোলে আবেদন করা হয়। গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে এটি পাঠানো হয়েছিল এবং আমরা বিষয়টি মনিটর করেছি। ইন্টারপোল ২০২৫/২৩৯ নম্বর ফাইল ও ৫৭৪/২০২৫ কন্ট্রোল নম্বরের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের প্রতি রেড নোটিশ জারি করে। ওই রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অনুরোধ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ, ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।

একসময় দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন বেনজীর আহমেদ। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে, তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের শুরুতে তার বিপুল সম্পদ নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সময়ে হাইকোর্টও অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

অনুসন্ধানে বেনজীর, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, ফ্ল্যাট, কোম্পানির শেয়ার এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য পায় দুদক। আদালতের আদেশে বিভিন্ন সময়ে শত শত বিঘা জমি, একাধিক ফ্ল্যাট, কোম্পানির শেয়ার এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের হিসাব গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা হয়। ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ সময় তাকে বিদেশে অবস্থানরত উল্লেখ করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে।

২০২৪ সালের ৪ মে স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। তবে, সেদিন তিনি কোন দেশে গিয়েছিলেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। এরপর থেকে লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন সাবেক এ আইজিপি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিলে আইজিপির দায়িত্ব পান। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ এই পদে বহাল ছিলেন তিনি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় র‌্যাবের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এই বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন, যার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

কালের আলো/এসএকে

বেনজীর গ্রেফতার, পরীমনি কেন আনন্দিত

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
বেনজীর গ্রেফতার, পরীমনি কেন আনন্দিত

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী পরীমনিও।

রোববার (১৪ জুন) পরীমনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের খবর সংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে মাত্র একটি শব্দ লিখেই নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন তিনি। পোস্টের ক্যাপশনে পরীমনি লিখেছেন, ‘মজা।’ এমন খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

কেন? ধারণা করা হচ্ছে বোটক্লাব সম্পৃক্ত মামলায় বেনজীর আহমেদের যোগ রয়েছে। সাবেক এই পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে প্রায় এক দশক অবৈধভাবে ক্লাবের সভাপতির পদ দখল করে ৩২ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পরীমনির নামে মামলা ও তার কারাবাসের পেছনেও তার হাত রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

তবে বোটক্লাবের তৎকালীন সভাপতি নাসির মাহমুদ এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, সাবেক আইজিপি ও ঢাকা বোটক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট বেনজীর আহমেদের সঙ্গে অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ওই সময় তিনি জানান, বেনজীর অবৈধভাবে বিনাভোটে বোটক্লাবের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপনসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে। এর আগে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত।

তবে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কিংবা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কালের আলো/এসআর/এএএন