খুঁজুন
                               
, ,
           

ঝিনাইদহে সেদিন কীভাবে কী ঘটেছিল, বিস্তারিত জানালেন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে সেদিন কীভাবে কী ঘটেছিল, বিস্তারিত জানালেন পাটওয়ারী

গত শুক্রবার (২২ মে) ঝিনাইদহে জুমার নামাজের পর ছাত্রদলের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সেখানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মুখে ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং সংঘর্ষে দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

ওই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা করে ছাত্রদল ও এনসিপি। মামলার পর গ্রেফতার হন এনসিপির দুই নেতা। তার মধ্যে একজন সোমবার (২৫ মে) জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তারা আগাম জামিন নিয়ে রেখেছেন।

কিন্তু সেদিন কীভাবে কী ঘটেছিল?

সোমবার (২৫ মে) বিকেলে এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি লম্বা পোস্ট দিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তুলে ধরেছেন ঝিনাইদহের ঘটনার বিস্তারিত।

ফিরে আসা মৃত্যুর মুখ থেকে:

ঝিনাইদহে যাওয়ার আগেই কসবা, হাতিবান্ধা ও রাজশাহীর সফর ছিল পূর্বনির্ধারিত। কসবা ও হাতিবান্ধা সফরে সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে। যা দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো আইনেই বৈধতা নেই, এটি সম্পূর্ণ অনিয়মিত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা।

একজন ভাইকে হত্যা করা হয়েছে, যা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি নাই এবং মানার কথাও না। কিছু করতে পারি বা না পারি, তাদের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাদের কথা শোনা এবং সত্য ঘটনা জানা আমার নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব, যা আমি কোনোভাবেই অবহেলা করতে পারি না।
এর মাঝে ছিল রাজশাহীর ১১ দলীয় সমাবেশ, যা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়। আমি এনসিপির পক্ষ থেকে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ দায়িত্বে থাকায় শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও দায়িত্বের জায়গা থেকে সেখানে ছুটে যাই।

আমার মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু হঠাৎ জনদাবির কারণে আমি বক্তব্য দিতে শুরু করি। সেখানে আমি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করাকে ভণ্ডামি ও প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করি এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে।

এরপর ঢাকায় এসে আবার হাতিবান্ধার উদ্দেশ্যে সফর শুরু করি। সেখানে মানুষের সাথে কথা বলে সত্য ঘটনা উন্মোচনের চেষ্টা করি, যা অনেকের ভদ্রবেশী ছদ্মবেশ উন্মোচন করে দেয়।

এরপর আসে শুক্রবার। আমি এক জুমা এক মসজিদে আদায় করি। নামাজের পর মানুষের সাথে কথা বলি, আড্ডা দেই। উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম অর্থনৈতিক কাঠামোর উৎসগুলো যাতে জনকল্যাণমুখী কাজে ব্যবহার করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করা।

ঝিনাইদহের প্রয়াত আলেম ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের (রহ.) লেখা ও চিন্তাভাবনা আমি দীর্ঘদিন ধরে পড়েছি। তিনি এখন দুনিয়ায় নেই। আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসীব করুন। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা প্রস্তাব দেন ঝিনাইদহে যাওয়ার-জুমা পড়া, স্যারের কবর জিয়ারত করা এবং আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট পরিদর্শন করা।

স্যারের কবর জিয়ারতের সময় নির্ধারিত ছিল ১২:২০। তার ছেলে সকাল থেকে আমাদের রিসিভ করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু জ্যাম, রাস্তার বেহাল অবস্থা এবং গ্যাসের সিরিয়াল, সব মিলিয়ে আমরা পৌঁছাই ১:৩০-এ।

ঝিনাইদহ কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করি। প্রথম রাকাতে রুকুতে এসে নামাজে শরিক হই। স্থান সংকুলান না হওয়ায় কিছু অংশ মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষে সুন্নত পড়ার জন্য আবার মসজিদের ভিতরে যাই। এরপর বের হয়ে দেখি হাজারখানেক মানুষ দাঁড়িয়ে সালাম দিচ্ছে। আমিও সবার সালামের উত্তর দিই। ছবি তোলা শেষ করে হোটেলের উদ্দেশে রওনা হই।

আমার সাথে ছাত্রশক্তি, যুব শক্তি এবং এনসিপির প্রায় ৪০/৪৫ জন লোক ছিল। মসজিদের কম্পাউন্ডে ইবির ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আমাকে এসে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করে। আমি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সামনে এগিয়ে যাই।

এরপর হঠাৎ করে চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করি। পাশ থেকে জানানো হয় আমার চোখে ডিম মারা হয়েছে। এরপর পাশ থেকে একজন জোরে ধাক্কা দেয়, একজন ঘুষি মারে, আমার মাথা ভো ভো করতে থাকে। আমাদের সহযোদ্ধারা ব্যারিকেড তৈরি করে আমাকে রক্ষা করে। এর মাঝে কয়েকজনের মাথা থেকে রক্ত ঝরতে থাকে।

হঠাৎ দেখি বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ছুড়ছে আমাদের দিকে। এরপর শুরু হয় হকিস্টিক দিয়ে আঘাত। আমি উঠে দাঁড়াই এবং প্রতিরোধের ডাক দেই। কয়েকজনকে ধরে তাদের কাছ থেকে হকিস্টিক ও স্টিক উদ্ধার করতে সক্ষম হই, যা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুলভাবে প্রচার করা হয়।

যে দিক থেকে ইট-পাটকেল ও হকিস্টিকের আঘাত আসছিল, সেই দিক থেকেই পুলিশও তাদের সাথে অংশগ্রহণ করে বলে আমরা অনুভব করি। ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি এবং পুলিশের উপস্থিতি একসাথে দেখে আমরা পরিস্থিতিকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করি এবং হোটেলের সামনে অবস্থান নেই।

এর মাঝে সাধারণ জনগণ এগিয়ে আসে এবং আমাদের রক্ষা করে। আমি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাই। বিকালে এনসিপিতে ৩০০ জনের যোগদান অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং আমাদের উপর হামলার বিচারের জন্য থানার উদ্দেশে রওনা দেই।

থানায় পৌঁছানোর পর পুলিশ জানায় বিকালের অনুষ্ঠান করা যাবে না এবং কমিউনিটি সেন্টার সিলগালা করে দেয়। আমরা আমাদের নিরাপত্তা দাবি করি। তারা অপারগতা জানায় এবং বলে ঝিনাইদহ ছেড়ে চলে যেতে। আমি বলি আমাদের উপর হামলার ঘটনায় মামলা করতে চাই। তারা বলে এজহার রেডি করতে। আমি এজহার রেডি করি।

এরপর হঠাৎ ঝিনাইদহ সদর থানার বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারা বলে বিদ্যুৎ নেই, আপনারা চলে যান পরে মামলা হবে। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, থানার বাইরে সব জায়গায় বিদ্যুৎ আছে। এতে সন্দেহ হয়। আমি বলি, মামলা নাম্বার এবং অনলাইনে এন্ট্রি করে হলে আমি যাবো।

এরপর তারা বলে সার্ভার ডাউন। আমি বলি সার্ভার সচল হলে মামলা করে যাবো। প্রায় ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করি, কিন্তু মামলা নেওয়া হয় না। এর মধ্যে আমি ফেসবুকে পোস্ট দেই। তখন ওসি ও এএসপি থানা থেকে সরে যায়। আমি ঘোষণা দেই থানার সামনে অবস্থান করবো।

পরে জানানো হয় মামলা নেওয়া হবে, তবে কিছু নাম বাদ দিতে হবে। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ায়, যাকে মূল পরিকল্পনাকারী বলা হচ্ছিল, তখনই তারা মামলা নিতে রাজি হয়। ঢাকা থেকে মন্ত্রী ও এমপিদের ফোন আসে, তারা বলে মামলা হবে, আপনারা চলে আসেন। কিন্তু আমার মনে হয় মামলা হবে না, তাই আমি অবস্থান জোরালো করি।

হঠাৎ ওসি ও এএসপি উপস্থিত হয়। তারা উপর থেকে নির্দেশ পায় মামলা নিতে। ৮ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ আসে এবং তারা মামলা নেয়। মামলা নেওয়ার পর আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই।

থানা থেকে বের হওয়ার আগেই লাঠিসোটা নিয়ে প্রায় তিন হাজার লোক থানার সামনে উপস্থিত হয়। তারা গেট ভাঙতে শুরু করে। থানার ভেতরে থাকা পুলিশ পালাতে শুরু করে। আমি কালেমা পড়ে এবং ফেসবুকে ‘please save us’ পোস্ট দিয়ে মরণের প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করি।

এরপর ওসি ও এএসপি জানায়, সেই প্রভাবশালী নেতার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি বলার পর তারা থানার গেট ভাঙা বন্ধ করে। ওসি ও এএসপি জানায়, ৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের বের হতে হবে। তারা আমাদের গাড়িতে তুলে দেয় এবং ঢাকার উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়।

লাঠিয়াল বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা যেন আলাদা মামলা দেয়। এরপরই তারা পরবর্তী পরিকল্পনার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এর মাঝেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অয়ন গ্রেফতার হয় এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা গ্রেফতার হয়। ঝিনাইদহে বাসায় বাসায় গিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।

আমরা যদি কখনো মারা যাই, আমাদের খুনের বিচারটা যেন করা হয়, এইটুকুই অনুরোধ। হাদী ভাইয়ের বিচার হয়নি। তাই আশা কম, কিন্তু আল্লাহ আছেন। কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ যেন সব অন্যায়কারীর বিচার করেন—এই দোয়া ছাড়া এই মজলুমের আর কিছু বলার নেই।

‘আরও বিস্তারিত ভিডিওতে আসবে’ বলে ফেসবুক পোস্টের সবশেষে জানান এনসিপি নেতা ও জুলাই বিপ্লবী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

কালের আলো/এসআর/এএএন

কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৫০টি আমদানি চালানের কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস বলছে, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক করা এসব কনটেইনারের অবস্থান জানতে গত নয় মাসে একাধিকবার চিঠি দিলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।

অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, কনটেইনারগুলোর অবস্থান ও ডেলিভারির বিস্তারিত তথ্য অনেক আগেই লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যে বন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টির সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালে দুটি পৃথক আমদানি চালানকে ঘিরে। ওই বছরের জুনে নারায়ণগঞ্জের মেসার্স মাইনুল হাসান এন্টারপ্রাইজ ইন্দোনেশিয়া থেকে পাঁচ কনটেইনার তুলা আমদানি করে।

একই বছরের মে মাসে আহমেদ এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে চশমার ফ্রেম ও মাউন্টিং ঘোষণা দিয়ে একটি কনটেইনার পণ্য আমদানি করে। দুটি চালানেই ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্য থাকার সন্দেহে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চালানগুলো লক করে কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় কাস্টমস।

কিন্তু পরীক্ষার সময় ওই ছয়টি কনটেইনারের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে তারা দেখতে পান, একই ধরনের আরও শত শত চালান দীর্ঘদিন ধরে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক থাকলেও সংশ্লিষ্ট কনটেইনারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ২৫০টি বিল অব এন্ট্রি এখনও লক অবস্থায় রয়েছে। এসব চালানে মোট ৩৭৬টি কনটেইনার রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ৮৩টি, ২০২২ সালের ৬১টি, ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি বিল অব এন্ট্রি রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে এসব কনটেইনারের বর্তমান অবস্থান জানাতে গত নয় মাসে একাধিকবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এবং এর আগে ২৬ জানুয়ারি চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু কাস্টমসের দাবি, এখন পর্যন্ত তারা কনটেইনারগুলোর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি।

তবে কনটেইনার গায়েবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সোমবার (৬ জুলাই) বন্দর কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে এই অভিযোগকে মিথ্যা, অনুমাননির্ভর এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, ২৫০টি নয়, ২৪৭টি চালানের তালিকা দিয়েছিল কাস্টমস।

এর মধ্যে বেশিরভাগ চালানই ইতোমধ্যে খালাস হয়ে গেছে, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) স্থানান্তর করা হয়েছে, অথবা সিপিএর ইয়ার্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। কাস্টমসের সরবরাহ করা বেশ কয়েকটি কনটেইনার নম্বর ও বিল অব লেডিংয়ে ভুল ছিল। এ কারণে বাকি চালানগুলোর মিল পাওয়া যায়নি। কাগজপত্র অনুসারে চালানগুলো ইতোমধ্যেই কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক পত্রযোগাযোগের মাধ্যমে সংস্থাটিকে বিষয়টি অবহিতও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কাস্টমস যে ২৫০টি চালানের কথা বলছে, প্রকৃত সংখ্যা ২৪৭টি। এর মধ্যে ১৬৪টি এফসিএল চালানে ২৯৩টি কনটেইনার রয়েছে।

এসবের মধ্যে ৮৮টি কাস্টমস আউটপাসের মাধ্যমে খালাস হয়েছে, ৭০টি আইজিএম অনুযায়ী বিভিন্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৩১টি এখনও বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে। চারটি কনটেইনার নম্বরে ডিজিট বা প্রিফিক্সের ত্রুটিও রয়েছে।

তিনি বলেন, বাকি ৮৩টি এলসিএল চালানের মধ্যে আটটির পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে, ৩৫টি কনটেইনার বন্দরের সিএফএস ও শেডে রয়েছে। আর ৪০টি চালানের ক্ষেত্রে কাস্টমসের দেওয়া বিল অব লেডিং নম্বরের সঙ্গে বন্দরের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে।

তবে কাস্টম হাউসের উপকমিশনার (এআইআর) মো. তারেক মাহমুদ বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো চিঠি তারা পাননি। কনটেইনারগুলোর অবস্থান জানতে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

এদিকে, এ ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস, ইয়ার্ডে সংরক্ষণ এবং বন্দর ত্যাগ—পুরো প্রক্রিয়াই একাধিক স্তরের নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে এতগুলো কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম (বিলু) বলেন, এত সংখ্যক কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা সহজে বিশ্বাসযোগ্য নয়। কনটেইনারগুলো সত্যিই নিখোঁজ কি না, সে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের সরেজমিন অনুসন্ধান এবং কাস্টমসেরও যাচাই করা প্রয়োজন, চালানগুলো ঠিক কোন পর্যায়ে লক করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে আরও সমন্বয় থাকা অপরিহার্য। দুটি প্রতিষ্ঠান পাল্টাপাল্টি দোষারোপের পর্যায়ে না নিয়ে গিয়ে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি প্রশিক্ষণ এলাকায় মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে বিস্তীর্ণ অংশ পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন তিনি।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ফার্ম বেস এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি রেইড মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমনকি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও তাঁদের খোঁজখবর নিয়ে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন।

পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সেনানিবাসে ফিরে পূর্ণোদ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

গত জুন মাসজুড়ে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান ও পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলামী এতথ্য নিশ্চিত করেন।

জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৫ কেজি ৫৯২ গ্রাম স্বর্ণ, ১ হাজার ৮১৫টি শাড়ি, ৩ হাজার ২৫২টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ৯ হাজার ৫৫১টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩ পিস আতশবাজি, ৭ হাজার ৪৬৪ ঘনফুট কাঠ, ৭ হাজার ৩১৬ কেজি চা পাতা, ৪ হাজার ২৭০ কেজি সুপারি, ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ কেজি কয়লা, ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৮ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৪৯৭টি মোবাইল, ১ হাজার ৮৬৫পিস মোবাইলের ডিসপ্লে, ৪১ হাজার ১৬২ পিস মোবাইলের যন্ত্রাংশ, ১৫ হাজার ৫৬ পিস ইলেকট্রিক সামগ্রী, ২২ হাজার ৬১২টি চশমা, ৫২ হাজার ৭৩৬ কেজি জিরা, ৪ হাজার ২৮৫ কেজি রসুন, ১৮ হাজার ৭৯৮ কেজি চিনি, ১০ হাজার ২২৪ কেজি সার, ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯ পিস চিংড়ি মাছের পোনা, ৩ হাজার ২৮২ লিটার ভোজ্যতেল/ডিজেল/অকটেন/পেট্রোল/মবিল, ২ হাজার ২৭৬ প্যাকেট কীটনাশক, ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪১৯ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, ৬৯৪ কেজি বিভিন্ন প্রকার বীজ, ১ হাজার ২৩৯ পিস যানবাহন যন্ত্রাংশ, ১১টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ৫টি পিকআপ ভ্যান, ৩টি প্রাইভেটকার/বাস, ৩টি ট্রাক্টর, ২০টি ট্রলি/মাইক্রোবাস, ৬৮টি সিএনজি/ইজিবাইক/ অটোরিকশা, ৩৫টি মোটরসাইকেল ও ৫৩টি বাইসাইকেল/ভ্যান।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ৮টি দেশি/বিদেশি পিস্তল, ১টি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৬৩০ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি মাইন, ৬টি গ্রেনেড ও ৬টি অন্যান্য অস্ত্র।

এ ছাড়া গত মাসে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা, ১৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৬০৭ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪২২ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৮ বোতল বিদেশি মদ, ৩৯৫ লিটার বাংলা মদ, ৩ হাজার ২৬৮ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭১০ কেজি ৪৭০ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ২৪ হাজার ২০১ বোতল বিভিন্ন প্রকার সিরাপ ও ৮২ হাজার ৭১৫ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ/ট্যাবলেট।

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১২ জন চোরাচালানি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক, একজন ভারতীয় নাগরিক ও ২৮৪ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ