খুঁজুন
                               
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৬ জন শিশু।শনিবার (৩০ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ৩০ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৮৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০ শিশুর। বাকি ৪৯৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯৯৬ জনে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে ৬৯ হাজার ৬১২ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে এখন পর্যন্ত হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৯ হাজার ১৬৯ জনে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে হামের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সংক্রমণ বৃদ্ধি ঠেকাতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

‘পাথর মেরে’ নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
‘পাথর মেরে’ নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ডাক

Oplus_131072

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘লাঠি ও পাথর মেরে’ ক্ষমতা থেকে সরানোর ডাক দিয়েছে সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, নেতানিয়াহু আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারেন। আর এমনটি হলে তাকে ‘লাঠি ও পাথর’ মেরে ক্ষমতা থেকে বিতাড়ন করতে হবে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। তার এই মন্তব্য ঘিরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। খবর বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

রোববার (১৪ জুন) ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বারাক বলেন, ‘আমার আশঙ্কা, নেতানিয়াহু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারেন এবং তিনি খুব সহজেই তা করতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি তিনি এমন চেষ্টা করেন, তাহলে তাকে লাঠি ও পাথর দিয়ে মেরে সরিয়ে দেয়া ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় থাকবে না।’

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে বর্তমান সরকার পরিচালনা করছেন। তার নেতৃত্বাধীন জোটকে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে কট্টরপন্থি সরকারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মেয়াদ চলতি বছরের অক্টোবরে শেষ হবে। সেই অনুযায়ী দেশটিতে আগামী নির্বাচন সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে হওয়ার কথা রয়েছে।

বারাকের দাবি, নেতানিয়াহু লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন, যাতে হিজবুল্লাহ ও ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু অন্তহীন যুদ্ধ চান। কারণ তিনি বোঝেন, যুদ্ধ শেষ হলে তার বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে।’

এহুদ বারাক আরও অভিযোগ করেন, ‘যেভাবে তিনি (নেতানিয়াহু) হামাসের সঙ্গে কিছু বন্দি বিনিময় চুক্তি বাধাগ্রস্ত করেছেন, একইভাবে লেবানন ইস্যুতেও অগ্রগতির সম্ভাবনা আটকে দিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহু ইসরায়েলে দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন। এহুদ বারাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গড়ে ওঠা সমঝোতারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এক কথায়— খারাপ। দুই কথায়— (এই চুক্তি) খুবই খারাপ।’

তার মতে, ‘নেতানিয়াহুর ঔদ্ধত্য ও দূরদর্শিতার অভাবের মূল্য এখন ইসরায়েলকে দিতে হচ্ছে’। বারাকের দাবি, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কোনও লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি।’

এদিকে এহুদ বারাকের এই মন্তব্যের পরপরই নেতানিয়াহুর মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। লিকুদ পার্টির আইনপ্রণেতা এবং নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমুথ বারাকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানান।

এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন বারাক’। বিসমুথ আরও বলেন, ‘তাকে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো উচিত। আর যদি মানসিকভাবে সুস্থ প্রমাণিত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা উচিত।’

কালের আলো/এসএকে

সরকারিভাবে নতুন পাটকল স্থাপন নয়, সব যাবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়: পাটমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
সরকারিভাবে নতুন পাটকল স্থাপন নয়, সব যাবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়: পাটমন্ত্রী

Oplus_131072

দেশে সরকারি উদ্যোগে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এ খাতে সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। এদিন বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

পাটমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। সরকারঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বাকি মিলগুলোও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।

সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, সোনালি আঁশ পাট শিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বন্ধ পাটকল চালুসহ নতুন পাটকল স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আছে কিনা?

জবাবে মন্ত্রী বলেন, সোনালি আঁশ পাটশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। পরবর্তীতে একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রকল্প রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। ২০২০ সালের ১ জুলাইয়ের সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসি’র আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ২০টি মিলবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা ভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পাদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি মিল চালু করা হয়েছে।

অবশিষ্ট ৬টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যে ৩টি মিলের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, একটি মিলের বিপরীতে দাখিল করা এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (আগ্রহপত্র) প্রস্তাব মূল্যায়নের কাজ চলছে, ১টি মিলের জন্য আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ১টি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আর বাকি মিলগুলোও সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

মন্ত্রী বলেন, ইজারা বহির্ভূত ৫টি মিলের মধ্যে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় ৩টি মিল এবং মামলাজনিত কারণে ২টি মিল লিজের বাইরে রাখা হয়েছিল। এই অবস্থায় সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনও পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বরং সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সেক্টরে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

কালের আলো/এসএকে

ধর্ষণের শিকার ৪১৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
ধর্ষণের শিকার ৪১৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিএনএ প্রোফাইলিং কার্যক্রমে বড় সাফল্য এসেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে স্থাপিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং দেশের সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে এক প্রশ্নের জবাবে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

মন্ত্রী সংসদে জানান, শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে বর্তমান সরকার বিভিন্ন জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করে চলেছে। এর আগে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসা শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কিনা তা জানতে চেয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

তিনি আরও জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬ সংসদের ১ম অধিবেশনে পাস করা হয়েছে এবং এখন থেকে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অপরাধসমূহের বিচার এই নতুন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪-এর বিধান অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া ২০২৫ সালের বিশেষ সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে অধিকতর গতিশীল ও দ্রুততর করা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ গঠনের পর একটি নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার কঠোর বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

নারী ও শিশুর সার্বিক সুরক্ষার নিমিত্তে সরকারের বিভিন্ন আইন, বিধিমালা, নীতিমালা এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় নারী নীতি ২০১১, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬, ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪ ও বিধিমালা ২০১৭, বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা ২০১৮ এবং বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০৩০) প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের তাৎক্ষণিক সেবা প্রদানের পরিধি বাড়াতে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। বর্তমানে চালু থাকা ১৪টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের চিকিৎসা, আইনী সহায়তা, পুলিশী ও মনোসামাজিক কাউন্সিলিং, পুনর্বাসন, সামাজিক পুনঃএকত্রিকরণ এবং আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ৮২ হাজার ৬৭৮ জন সেবা পেয়েছেন।

এ ছাড়া জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যায়ক্রমে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানকারী ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার-১০৯ (টোল ফ্রি)-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের জরুরি সেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

আক্রান্তদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং ৩৭টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টারের মাধ্যমে সেবার আওতা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ন্যাশনাল ও ৮টি রিজিওনাল সেন্টার থেকে মোট ৩৮ হাজার ৬১ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়েছে, যেখানে সারভাইভারদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে তথ্য, আইনী পরামর্শ, উদ্ধার ও বাল্যবিবাহ বন্ধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয় থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সরকারি হেল্পলাইনের সময়োচিত হস্তক্ষেপে মোট ১৮ হাজার ৮২৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ রহিত করে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তির সুরক্ষা আরও সুসংহত করতে ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন