খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৩১ মে) বিকেলে শহীদ জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এক আয়োজনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের নামে বিদেশের মানুষ বাংলাদেশকে চিনতো। যে গাছ ফল দেয়, সেই গাছেই মানুষ ঢিল মারে। শহীদ জিয়া যেভাবে দেশ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন আমরা চেষ্টা করছি সেভাবে দেশ পরিচালনা করতে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সামনে অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। এই সময় সজাগ না থাকলে দেশ ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ক্ষতি হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট সামনে রেখে ইশতেহার ছিল বিএনপির। সরকার গঠনের পর এই ইশতেহারে ৫২ শতাংশ মানুষের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। খাল খনন, শিক্ষা, শিল্পের বিপ্লব ইশতেহারে ছিল। সেই কাজগুলো করছি। জিয়াউর রহমান যেভাবে প্রত্যেক খতকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছিলেন, সেই পথনির্দেশিকা অনুসরণ করে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সঠিক কাজগুলোতে সহযোগিতা করলেই সরকার সফল হবে। শুধু আমরা কাজ করলেই হবে না। তৃণমূল পর্যন্ত সব নেতাকর্মীর লক্ষ্যগুলো সফল করে জনগণের চোখে সফল সরকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

কালের আলো/এসএকে

নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান এমপি বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাট  ও নদীবন্দরগুলোতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

রবিবার (৩১ মে) দুপুরে চাঁদপুর নদী বন্দর পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড় বড় সব ঘাটে নিবিড়ভাবে নজরদারি করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের কোনো ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে না হয়। ঘাট ও নৌপথে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর আধুনিক নৌ টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টার্মিনালের কিছু অংশের কাজ সম্পন্ন হলেও ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে। ফলে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। টার্মিনালের কাজ শেষ হলে চাঁদপুর নদী বন্দর তার হারানো ঐতিহ্য ও গুরুত্ব পুনরুদ্ধার করবে।

নৌপথে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌপথ সচল ও নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে দেশের নৌবন্দরগুলোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, পন্টুন আধুনিকায়ন, নিয়মিত ড্রেজিং এবং নৌ অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে নৌপথকে আরও কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব করা হবে। নৌপথের সেই ঐতিহ্য ও জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চগতির ও আধুনিক নৌযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে  বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা, চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সেলিম উল্লাহ সেলিমসহ  মন্ত্রণালয় ও  দপ্তর ও সংস্থার সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন ।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফর: সরকারের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত

সিরাজুল ইসলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফর: সরকারের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে আঞ্চলিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ভারতীয় কিছু সংবাদমাধ্যমে এমন বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য চীন সফরকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রী কোন দেশ সফর করবেন, সেই সিদ্ধান্ত কি অন্য কোনো দেশের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা উচিত, নাকি বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের আলোকে মূল্যায়ন করা উচিত?

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। রাষ্ট্র পরিচালনা, পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ কিংবা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অগ্রাধিকার ঠিক করার পূর্ণ অধিকার বাংলাদেশের জনগণ ও তাদের নির্বাচিত সরকারের। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফর কোথায় হবে, সেটি মূলত বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনার বিষয়। এটি অন্য কোনো দেশের অনুমোদন, প্রত্যাশা বা অস্বস্তির ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কথা নয়।

অনেক সময় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন বাংলাদেশকে অবশ্যই ভারত ও চীনের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোকে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থানকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না। বাংলাদেশ কোনো ভূরাজনৈতিক দাবার গুটি নয়; বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনীতি, যার নিজস্ব উন্নয়ন লক্ষ্য, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক কৌশল রয়েছে। ফলে ঢাকার সিদ্ধান্তকে সব সময় অন্যের প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা বাস্তবতাকে সরলীকৃত করে ফেলে।

চীন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি। বৈশ্বিক বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় সব বড় রাষ্ট্রই নিজেদের জাতীয় স্বার্থে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও দিল্লি ও বেইজিং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। ইউরোপের নেতারাও নিয়মিত চীন সফর করেন।

তাহলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে গেলে সেটিকে অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখার কারণ কোথায়? বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা। অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শিল্পায়ন এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীন বহু বছর ধরেই বাংলাদেশের একটি বড় অংশীদার। তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের মতো বিষয়ও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। যদি কোনো আন্তর্জাতিক অংশীদার বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, প্রযুক্তি বা প্রকৌশল সহায়তা দিতে আগ্রহী হয়, তাহলে সেই সুযোগ বিবেচনা করা স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। কোনো প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা মানেই তা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক বিষয় নয়। বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ, নদী ব্যবস্থাপনা, কৃষি, পানি সম্পদ সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যদি কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে এগিয়ে যায়, তাহলে সেই প্রকল্পের মূল্যায়নও হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে।

একই সঙ্গে এটাও সত্য যে ভারত বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভৌগোলিক বাস্তবতা, সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে ভারতকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। গত কয়েক দশকে দুই দেশের সম্পর্ক নানা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ফলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা—এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহ্যই হচ্ছে ভারসাম্য। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভরশীল হওয়ার পথ এড়িয়ে চলেছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায়ও সেই নীতির প্রাসঙ্গিকতা কমেনি। বরং বহুমুখী অংশীদারিত্ব এখন আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রতিটি কূটনৈতিক পদক্ষেপকে ভারত-চীন প্রতিযোগিতার লেন্স দিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের সামনে যে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে—বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন—সেগুলোর সমাধান কোনো একক দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। এজন্য বহুমাত্রিক ও বাস্তববাদী কূটনীতি প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চীন সফরকে তাই কেবল প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে না দেখে এর অর্থনৈতিক, উন্নয়নমূলক এবং কূটনৈতিক তাৎপর্য বিবেচনা করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত হবে। একটি দেশের সরকারপ্রধান কোথায় সফর করবেন, সেটি শেষ পর্যন্ত সেই দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকার, সময়োপযোগী প্রয়োজন এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর নির্ভর করে। বাইরের বিশ্লেষণ থাকতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্তের মালিক বাংলাদেশই। বাংলাদেশের জনগণ এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি প্রত্যাশা করে, যা কারও পক্ষ নেওয়ার পরিবর্তে দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখবে। বন্ধু থাকবে অনেক, অংশীদার থাকবে বিভিন্ন দেশ, কিন্তু সিদ্ধান্ত হবে ঢাকার; অন্য কোনো রাজধানীর নয়। এটাই একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফর চীন, ভারত বা অন্য যে কোনো দেশেই হোক না কেন, মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—সেই সফর বাংলাদেশের জন্য কী অর্জন বয়ে আনবে। কারণ পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য সফরের গন্তব্যে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতায় নিহিত। আর সেই জাতীয় স্বার্থ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণ এবং তাদের রাষ্ট্রেরই।

লেখক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

ইশতেহার বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
ইশতেহার বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জনগণের দৃষ্টিতে সফল হতে হলে সকল নেতাকর্মীকে সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

রোববার (৩১ মে) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সরকারের লক্ষ্য, সামাজিক মূল্যবোধ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, দেশে ফেরার পর মনে হয়েছে পারিবারিক শিক্ষায় কিছুটা অভাব তৈরি হয়েছে, এই বিষয়ে আমাদের নজর দেওয়া উচিত।

সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ বাড়াতে বর্তমান সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পিতার স্মৃতি চারণ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জিয়াউর রহমানকে দিয়ে বাংলাদেশকে অনেকে চিনতো, অনেকে বাংলাদেশ মানেই জিয়াউর রহমান ভাবতো। একজন সন্তান হিসেবে এটি আমাকে গভীরভাবে গর্বিত করে।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান অত্যন্ত সুপরিকল্পিত উপায়ে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং বর্তমান সরকারও সেই পথনির্দেশিকা মেনেই যাবতীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা আর পূরণ হয়নি। গত ১৭ বছর বাংলাদেশে কী চলেছে, তা দেশের সব মানুষ জানে। এই দীর্ঘ সময়ে বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, জাতি এর সাক্ষী।

তিনি বলেন, একটি অত্যন্ত জটিল ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সামনে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। এই কঠিন সময়ে যদি আমরা হেসেখেলে চলি, তবে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে যেটি ছিল বিএনপির ইশতেহার, এখন সেটি দেশের জনগণের ইশতেহার। যারা এই ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তাদের আশা-ভরসা পূরণ করতে হবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন বিএনপি সরকার শহীদ জিয়ার দর্শন থেকেই দেশ পরিচালনা করছে এবং ইশতেহারেও সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার তখনই সফল হবে, যখন দলের লোকজন সরকারকে সহযোগিতা করবে। শুধু সরকারের মন্ত্রীরা পরিশ্রম করলেই সফলতা আসবে না। যেভাবে নির্বাচনে সার্বিক সহযোগিতা করে জয় এসেছে, ঠিক একইভাবে সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণের দৃষ্টিতে সফল হতে হলে সকল নেতাকর্মীকে সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন