খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্যাপাসিটি চার্জের অপচয় বন্ধ করে বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবি এবি পার্টির 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
ক্যাপাসিটি চার্জের অপচয় বন্ধ করে বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবি এবি পার্টির 

বিদ্যুতের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ ও ভর্তুকির নামে অপচয় বন্ধ করে জনগণের ওপর থেকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানোর দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একই সঙ্গে দলটি কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং উৎপাদনমুখী প্রবৃদ্ধিভিত্তিক জাতীয় বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং অস্বচ্ছ ভর্তুকি ব্যবস্থার কারণে জনগণকে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বোঝা বহন করতে হচ্ছে। খাতটির কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সংস্কার অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং জনগণের প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন নেই। তিনি মনে করেন, আর্থিক খাতের মৌলিক সংস্কার ছাড়া কোনো বাজেটই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট বা প্লটের মালিকদের জন্য কর-সুবিধা প্রদানের দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিষয়টি নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সরকারকে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

এ সময় দলের নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমান বাজেট জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সংকট, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ এবং খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই অর্থনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে প্রবল আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ যোশী। তিনি বর্তমানে দেশটির খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সামলাবেন প্রহ্লাদ।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

প্রহ্লাদ যোশী কর্ণাটকের ধারওয়াড় লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবার নির্বাচিত একজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী বিজেপি নেতা । এরআগে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় কয়লা, খনি এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এরআগে শনিবার দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন সদ্য বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির জন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল তার পদত্যাগ।

ধমেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পর সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের বসে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি জানান ‘সরকার তাদের আশ্বাস দিয়েছে, ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের করা পুলিশি মামলা প্রত্যাহার করা হবে, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং মেডিকেল ভতি পরিক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা ছাত্রদের পরিবারকে নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সরকার নিজেহদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে—এই ‘প্রত্যাশা’ নিয়েই সিজেপি আন্দোলন শেষ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৩৬ দিনের বিক্ষোভের পর সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। আমরা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভস্থল থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের দাবিগুলো উগ্রপন্থী ছিল না, বরং মৌলিক ছিল এবং সরকার এখন তা মেনে নিয়েছে।’

সিজেপির আরেক মুখ্যপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতির কারণে চরম হতাশায় ভুগে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রছাত্রীরা আত্মহত্যা করেছে তাদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলাম। সরকার এতে সম্মত হয়েছে এবং জানিয়েছে যে, যে সকল নিয়মকানুন অনুযায়ী অনুমতি আছে, সেই অনুযায়ী ওই পরিবারগুলোকে সম্মানসূচক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, ‘আমরা সরকারের সামনে একটি পাঁচ-দফা দাবি সনদ পেশ করেছি, যেখানে বৃহত্তর শিক্ষা ও পরীক্ষা সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। আমরা প্রায় চার সপ্তাহ পর সেই দাবি সনদ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আবারও দেখা করব’।

এদিকে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার পরপরই পুলিশ লাউডস্পিকারে বিক্ষোভকারীদেরকে যন্তর মন্তর খালি করে দেওয়ার আহ্বান জানায়। ইতোমধ্যেই বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিশ্বজুড়ে ছড়াতে পারে হরমুজে আটকা জাহাজে জন্ম নেওয়া আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বজুড়ে ছড়াতে পারে হরমুজে আটকা জাহাজে জন্ম নেওয়া আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আর এতে আটকে পড়া হাজারো জাহাজে জন্ম নিয়েছে এক আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি।

এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে, ডেকে আনতে পারে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়।

সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত সমুদ্রে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো এই হরমুজ প্রণালী।

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে এবং আরও কয়েকশ জাহাজ পার্শ্ববর্তী ওমান উপসাগরে অবস্থান করছে।

টাইম অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, এসব জাহাজের গায়ে জন্ম নেওয়া সামুদ্রিক জীব বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জৈব আগ্রাসনের ‘সুপার-স্প্রেডার’ হওয়ার আশঙ্কা
বায়েলাজিক্যাল ইনভেশনস (Biological Invasions) সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (UMCES)-এর নেতৃত্বে ২৪ জন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিজ্ঞানীর একটি দল, যেখানে যুক্ত ছিল উডস হোল ওশানোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশন (WHOI)।

‘Closure of the Strait of Hormuz May Trigger a Bioinvasion Super-Spreader Event’ শিরোনামের গবেষণায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় পারস্য/আরব উপসাগরে মাসের পর মাস আটকে থাকা হাজারো বাণিজ্যিক জাহাজ অনিচ্ছাকৃতভাবে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঘটনার সূচনা করতে পারে।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় নোঙর করে থাকার ফলে জাহাজের গায়ে শৈবাল, বার্নাকল, ঝিনুক, বিভিন্ন অমেরুদণ্ডী প্রাণীসহ অসংখ্য সামুদ্রিক জীবের ঘন স্তর তৈরি হয়। পরে জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করলে এসব জীব বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছে যেতে পারে।

কী এই ‘বায়োফাউলিং’?
সামুদ্রিক পরিবহন শিল্পে এ ঘটনাকে বলা হয় বায়োফাউলিং (Biofouling)। এটি হলো জাহাজের তলদেশ, প্রপেলারসহ পানির নিচে থাকা অংশে সামুদ্রিক জীবের জমে ওঠা। প্রথমে অণুজীব ও পিচ্ছিল স্তর তৈরি হয়। এরপর সেখানে শৈবাল, বার্নাকল, ছোট সামুদ্রিক ক্রাস্টেশিয়ান এবং খোলসযুক্ত প্রাণীর বসতি গড়ে ওঠে।

গবেষকরা জানান, ১,৫০০টিরও বেশি জাহাজের এই নজিরবিহীন দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার জন্য এক ধরনের ‘সুপার-স্প্রেডার’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

WHOI-এর জীববিজ্ঞানী ক্যারোলিন টেপোল্ট, যিনি সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতির বিস্তার ও বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেন, বলেন- “সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি বিশ্বের উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। একবার কোনো অঞ্চলে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে এগুলো নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন, অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব।

বৈশ্বিক নৌপরিবহনে এই বিঘ্নের নানা প্রভাব রয়েছে, তবে নীরবে এটি উষ্ণ পানির প্রজাতিগুলোকে নতুন নতুন বন্দরে ছড়িয়ে দেওয়ার আদর্শ পরিবেশও তৈরি করেছে।”

বড় ধরনের পরিবেশগত হুমকি
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO)-এর পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো জাহাজ ৩০ দিনের বেশি সময় অলস অবস্থায় থাকলে পুনরায় যাত্রার আগে বায়োফাউলিং নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু এসব জাহাজ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে, যা সামুদ্রিক জীবের দ্রুত বৃদ্ধি ও প্রজননের মৌসুম।

IMO-উদ্ধৃত গবেষণায় বলা হয়েছে, জাহাজের গায়ে সামান্য পিচ্ছিল স্তর জমলেও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। আর হালকা মাত্রার বার্নাকল জমলে জ্বালানি ব্যবহার ও নির্গমন ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে।

IMO-এর হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ব নৌপরিবহন শিল্পে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ১০ শতাংশ ব্যয় হয় শুধু বায়োফাউলিংজনিত অতিরিক্ত পানির প্রতিরোধ অতিক্রম করতে।

গবেষকরা আরও বলেন, আধুনিক নৌপরিবহন দীর্ঘদিন ধরেই সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এত বিপুল সংখ্যক জাহাজের এত দীর্ঘ সময় একসঙ্গে আটকে থাকার ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। ফলে এটি বিশ্বব্যাপী জৈব নিরাপত্তার জন্য এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক কয়েক দশকে উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়া আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরে স্থানীয় প্রজাতিকে প্রতিস্থাপন করেছে এবং বিভিন্ন বন্দরের অবকাঠামোরও ক্ষতি করেছে।

এশিয়ান গ্রিন মাশেলের উদাহরণ
আগ্রাসী প্রজাতির অন্যতম উদাহরণ হলো এশিয়ান গ্রিন মাশেল। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের এ ঝিনুক উপসাগরীয় এলাকাতেও ব্যাপকভাবে দেখা যায়। ইতোমধ্যে এটি ক্যারিবীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় ঝিনুক প্রজাতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হয়েছে।

এছাড়া বায়োফাউলিংয়ের কারণে জাহাজের গতিশীলতা কমে যায়। পানির প্রতিরোধ বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ চালাতে বেশি শক্তি লাগে এবং অতিরিক্ত দূষণকারী জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়।

সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান
গবেষকরা জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বন্দর কর্তৃপক্ষ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপকদের বায়োফাউলিং ব্যবস্থাপনা জোরদার, উচ্চ ঝুঁকির বন্দরে নজরদারি বাড়ানো, জাহাজের চলাচল পূর্বাভাস উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বিত দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের মতে, যাত্রা শুরুর আগে পানির মধ্যেই জাহাজের গায়ে জমে থাকা জীব পরিষ্কার বা ‘ইন-ওয়াটার ক্লিনিং’ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু
সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বন্দরে ডুবুরি নামিয়ে জাহাজের তলদেশ ও প্রপেলার পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে বাণিজ্যিক চলাচল পুনরায় শুরু করা যায়।

একটি জাহাজ পরিষ্কার করার খরচ প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ৮,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে, কারণ দ্রুত উপসাগর ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাহাজ পরিচালনাকারীরা।

অ্যালিয়ানজের মেরিন আন্ডাররাইটিং বিভাগের প্রধান জাস্টাস হাইনরিখ বলেন, “এই ঘটনা সমুদ্রপথের সংকীর্ণ করিডরগুলোর ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবসায়ী মহলের দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আগে এগুলো ছিল সম্ভাব্য দুর্যোগের তাত্ত্বিক চিত্র। কিন্তু এখন আমরা বাস্তব দুর্যোগ দেখেছি। ফলে তাত্ত্বিক ঝুঁকি এখন বাস্তব ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।”

গবেষকদের মতে, বিশ্ব যখন মূলত যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে ব্যস্ত, তখন এই সংঘাতের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার হতে পারে এক অদৃশ্য পরিবেশগত সংকট, যা জাহাজের গায়ে লেগে থাকা সামুদ্রিক জীবের মাধ্যমে মহাসাগর পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান

তুরস্কে পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে শনিবার (২৫ জুলাই) দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের, তুর্কি জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু, তুর্কি ল্যান্ড ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল মেটিন টোকেল এবং ইস্তাম্বুল নেভাল শিপইয়ার্ডের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল রেসেপ এরডিনক ইয়েটকিন-এর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।

এছাড়াও তিনি তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এজেন্সির প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন। তার্কিশ ল্যান্ড ফোর্সের সদরদপ্তর পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনী প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়।

উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সফরের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী কার্যক্রম, প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহ নিয়েও আলোচনা করেন।

সেনাবাহিনী প্রধানের এ সফর বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সফরকালে তুরস্কে সেনাবাহিনী প্রধান সেদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের সমাধিসৌধ আনিতকাবির-এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি