খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৩, মিসরে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৩, মিসরে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু

গাজার রিমাল এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় নিহত আবদুল্লাহ কাদ্দুম ও তার মেয়ে মরিয়ামকে শেষ বিদায় জানানোর সময় স্বজনদের আহাজারি।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে মিসরে হামাসসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর নেতাদের নিয়ে নতুন দফা আলোচনা শুরু হয়েছে।

রোববার গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের কাছে আল-মাওয়াসি এলাকা, গাজা সিটি ও দেইর আল-বালাহে এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বড় ধরনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও এর পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। ওই পরিকল্পনায় গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, কায়রোয় চলমান আলোচনায় হামাস প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারী মিসর, কাতার ও তুরস্ককে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। আলোচনা কয়েক দিন ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৯৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৯০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে হামাসের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।

এই সময়ে গাজার আবাসিক ভবন, বাজার, যানবাহন ও ক্যাফেতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত ৫৩ শতাংশের চেয়ে বেশি। এসব এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা এবং অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগও রয়েছে।

গত ২৮ মে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিস্তারের নির্দেশ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে হামাসের হাতে থাকা সব জিম্মিকে মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে কিছু ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। দ্বিতীয় ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্ধারিত থাকলেও তা আটকে আছে।

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান জানিয়েছেন, সংগঠনটি এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না। অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে গাজায় চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৯৭১ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন ও কয়েকজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এ পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যার শামিল’ বলে উল্লেখ করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম-১২ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দেওয়া অনুদান বণ্টনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত এ তহবিলের অর্থ একই এলাকার বাসিন্দা, সংসদ সদস্যের আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরির প্রস্তাব করা হয়। তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং তারা একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক ও আত্মীয়তাসহ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।

তালিকায় থাকা বুলু আকতার (স্বামী: আহমদুল হক), হাসনা খাতুন (পিতা: আজিজুর রহমান), হোসনেরা বেগম (পিতা: আহমদ মিয়া), মুছাৎ হোসনেরা বেগম (পিতা: মোহাম্মদ ইউনুছ মিয়া), রাজিয়া আকতার (স্বামী: আমিরুল হক), হানিফাতুল মোজাহেবা (স্বামী: হাফেজ আজগর হোসেন), আজিজুল হক (পিতা: আব্দুল হক) এবং মরিয়ম বেগম (পিতা: মোহাম্মদ মুছা) একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে তাদের অনেককে সংসদ সদস্যের আত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তালিকায় এমপি এনামের চাকতাই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মচারীর নামও রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জসিম উদ্দিন (পিতা: মোহাম্মদ ছৈয়দ), মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ (পিতা: নুরুল ইসলাম), মোহাম্মদ শাকেল (পিতা: মোহাম্মদ সেলিম), মো. ওমর ফারুক (পিতা: মো. নূরুল ইসলাম) এবং পিকলু চৌধুরী (পিতা: রতন চৌধুরী)।

এ ছাড়া, সংসদ সদস্যের বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর (পিতা: মোহাম্মদ আবুল কালাম) এবং বাড়ির টি-বয় তানজিমুল হক আহাদকে (পিতা: আহমদুল হক) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। একই গ্রাম ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অধিকাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া  বলেন, আমি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। তাছাড়া এটা আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি