খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

রোগীদের ছেড়ে দিইনি, সেবা চলছে: আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
রোগীদের ছেড়ে দিইনি, সেবা চলছে: আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পরিচালক

ঢাকার মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রমের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক (প্রশাসন) তারিকুল ইসলাম মুকুল। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করা হবে বলেও জানিয়েছে তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীদের কোনো ধরনের ক্ষতি না করে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতেই তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় হাসপাতালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা মেনে চললেও জনস্বার্থ বিবেচনায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখার সুযোগ দেওয়া হবে বলে তারা আশা করছেন। একই সঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডটি ইতোমধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে সেখানে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক জানান, রোগীদের দ্রুত স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের সময়ও তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন। কোনো রোগী যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রোগীদের অন্য হাসপাতালে রেফার না করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বলেছে আদ্-দ্বীনের আরও কয়েকটি হাসপাতাল রয়েছে এবং রোগীরা সেখানে যেতে পারবেন। তবে সরকার রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ করতে বলেনি। তাই বর্তমানে ভর্তি রোগীদের সেবা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। আমরা রোগীদের ছেড়ে দিইনি।

তিনি আরও বলেন, সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালের দায়িত্ব। তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে নবজাতকদের জন্য থাকা এনআইসিইউ সুবিধা শুধু মগবাজার হাসপাতালেই রয়েছে। আদ্-দ্বীনের অন্য কোনো হাসপাতালে এ ধরনের বিশেষায়িত ইউনিট না থাকায় রোগীদের সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরিচালক বলেন, সরকারের বিভিন্ন হাসপাতালে এনআইসিইউ সুবিধা রয়েছে। সরকার যেভাবে নির্দেশনা দেবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেভাবেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নতুন রোগী ভর্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল থেকেই নতুন রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু আগে থেকে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদফতর তদন্ত করে হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১১ জুন হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিল করে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বাজেটে সরকারের মূলনীতি ও ‘থ্রি-আর’ কৌশল জানালেন উপদেষ্টা মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
বাজেটে সরকারের মূলনীতি ও ‘থ্রি-আর’ কৌশল জানালেন উপদেষ্টা মাহদী আমিন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে তিন ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রাধিকার নির্ধারণে চারটি বিষয়কে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি জানান, অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে বাজেটে ঘোষিত পরিকল্পনা তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যা ‘থ্রি-আর স্ট্র্যাটেজি’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

‘থ্রি-আর’ স্ট্র্যাটেজি

১. রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন:
অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার এ কার্যক্রমের মেয়াদ এক বছর।

২. রেস্টোরেশন:
অর্থনীতির উত্তরণ ও কাঠামোগত সংস্কারের এ ধাপ বর্তমান সরকারের প্রথম থেকে তৃতীয় বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

৩. রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন:
দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিনিয়োগের চার মূলনীতি

মাহদী আমিন জানান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রকল্প নির্বাচন ও বাস্তবায়নে সরকার চারটি বিষয়কে প্রধান বিবেচনায় রেখেছে—

১. ভ্যালু ফর মানি:
সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।

২. রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট:
জনগণের অর্থ যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, সেগুলোর অর্থনৈতিক সুফল মূল্যায়ন করা।

৩. জব ক্রিয়েশন:
সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

৪. এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন:
প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

বাজেটের ১০ প্রধান অগ্রাধিকার

প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়নে সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো—

১. সবার জন্য উন্নয়ন
২. সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
৩. সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা
৪. বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি
৫. বিনিয়ন্ত্রণকরণ
৬. আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা
৭. জ্বালানি নিরাপত্তা
৮. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ
৯. প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা
১০. স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

এছাড়া অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে তিন ধরনের ‘ডিভিডেন্ড’ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো: ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড, লংজিভিটি ডিভিডেন্ড এবং ডেমোক্রেটিক ডিভিডেন্ড।

প্রসঙ্গত, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মাহদী আমিন বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রাজশাহীতে বৃষ্টিতে হাঁটুপানি, চরম ভোগান্তি

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে বৃষ্টিতে হাঁটুপানি, চরম ভোগান্তি

রাজশাহীত গত কয়েকদিন  প্রচন্ড গরম পড়েছিল। মাঝে মাঝে আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির দেখা মিলছিল না। বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিল মানুষ।  অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে  দেখা মিলেছে বৃষ্টির। তবে এই বৃষ্টি স্বস্তির বদলে ভোগান্তি এনে দিয়েছে। বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি পর্যন্ত জমেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা সোয়া ১২টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। চলে টানা আড়াইটা পর্যন্ত এরপর থেমে থেমে আরও কয়েক দফা বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টি চলে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। এতে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩১ মিলিমিটার। আর এই পরিমাণ বৃষ্টিতেই ভাসছে রাজশাহী নগরী। বিশেষ করে নগরীর মধ্যাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে হাঁটুপানি জমে গেছে।

সড়ক ঘেঁষে থাকা ড্রেনের পয়োনিষ্কাশনের নোংরা আর বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে গেছে পুরো রাজপথ। আর নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর ধরে চলছে এই দুর্ভোগ। রাজশাহী নগরীর রাস্তা-ঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সৌন্দর্য বর্ধনে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হলেও বর্ষণমুখর দিনগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় তা ম্নান হচ্ছে।

এই বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে মহানগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, গণকপাড়া, তালাইমারী মোড়, শিরোইল, কাদিরগঞ্জ, বর্ণালী মোড়ের পেছনে, উপশহর, লক্ষ্মীপুর, ঝাউতলা, ভাটাপাড়া, কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে, রাজশাহী পর্যটন মোটেল রোড, সপুরা গোরস্থানের মোড় থেকে উপশহর মোড়, গৌরহাঙ্গা রেলগেইট, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মোড়, শালবাগান, মালদাহ কলোনি, আহম্মেদনগরসহ বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টি মানেই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কে তাই জলজটের কারণে যানজটও লেগে থাকছে। এরপর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অনেক এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে আবার কিছু কিছু এলাকায় উন্নয়ন কাজ চলছে। তাই সেগুলোতে দুর্ভোগের মাত্রা আরও বেশি।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীতে কয়েকদিন থেকে বৃষ্টি হবে হবে করেও হয়নি। অবশেষে তা হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ বেশ ভালোই। এদিন রাত নয়টা পর্যন্ত ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও দুয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না। শিক্ষা, কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমেই একটি দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। আজকের চীন নিজেদের প্রচেষ্টা, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগের আয়োজনে স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চান। শিশুদের ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে চান, তাদের উন্নত করতে চান। এজন্য তিনি কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, শিক্ষার্থীদের পোশাকসহ শিক্ষা সামগ্রী, কিড ফ্রিতে বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই সাথে শিশুরা যাতে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারে সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের সঠিক শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে দেশের সম্পদে পরিণত হয় এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা করে আসছে। ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চীন সহযোগিতা করবে, তাই চলতি বছরের ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য চীনের প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁও ভিজিট করতে আসবেন।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষার উন্নয়নে সহায়তা করতে পেরে চীন সরকার আনন্দিত। শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহ যোগাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রতি বছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি, শিল্প ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করতে চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে চীন থেকে একটি প্রতিনিধি দল সফরে আসবে। তারা এলাকাটি পরিদর্শন করে সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো মূল্যায়ন করবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আগামী বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁওসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের চীন সফরের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

‘তরুণ মেধার বিকাশ, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুলব্যাগ, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পায়গাম আলী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন