খুঁজুন
                               
, ,
           

গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায় বাস্তবায়ন করতে হবে: গোলাম পরওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায় বাস্তবায়ন করতে হবে: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই সনদের আংশিক বাস্তবায়ন নয়, বরং গণভোটে জনগণের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটে দেশের বিপুলসংখ্যক ভোটার যে সংস্কার প্রস্তাবগুলোর পক্ষে মত দিয়েছেন, সেগুলো উপেক্ষা করে কেবল নির্বাচনি রাজনীতির সুবিধা অনুযায়ী সংস্কার প্রক্রিয়া পরিচালনার চেষ্টা করা হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সেন্টার ফর মিডিয়া, ইনফরমেশন অ্যান্ড পাবলিক পলিসি আয়োজিত ‘তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কার: একটি জনমুখী ও সংস্কারমূলক রোডম্যাপ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ সংস্কারের প্রত্যাশা থেকেই বিভিন্ন প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যারা আগে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তারাই এখন বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে সংস্কার উদ্যোগকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। জনগণ যে বিষয়ে মত দিয়েছে, তা পরে সংবিধান, আইনি ব্যাখ্যা বা রাজনৈতিক সুবিধার অজুহাতে অস্বীকার করা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না।

তিনি বলেন, গণভোটে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও বিচারিক সংস্কারও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কিছু রাজনৈতিক দল ওই বিষয়গুলোতে আপত্তি জানিয়ে সংস্কারের মূল চেতনাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। গণভোটের রায়ে জনগণ যেসব প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে, সেটিই চূড়ান্ত রাজনৈতিক নির্দেশনা হওয়া উচিত।

গণমাধ্যম সংস্কারের প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কার এখনো বাস্তব অগ্রগতি দেখতে পায়নি। যদিও এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও বিভিন্ন প্রস্তাবনা সামনে এসেছে, তবুও সেগুলো কার্যকর করার উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। রাজনৈতিক সংস্কার, বিচার বিভাগীয় সংস্কার এবং সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়িত না হলে গণমাধ্যম সংস্কারও কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।

‘তথ্য ও সম্প্রচার খাত সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ৬০টির বেশি প্রস্তাব আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে জনগণের গণমাধ্যমে রূপান্তর, সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, স্বাধীন মিডিয়া কমিশন বা কাউন্সিল গঠন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা, তথ্য অধিকার আইন ও সম্প্রচার নীতিমালার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল ও অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠনের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছিল,’ যোগ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে সত্য ও নির্ভুল তথ্য জানানো। কিন্তু বর্তমানে অনেক গণমাধ্যম করপোরেট বা রাজনৈতিক স্বার্থের প্রভাবমুক্ত থাকতে পারছে না। ফলে সংবাদ পরিবেশনে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটি গণমাধ্যমের সম্পাদকীয় নীতি সততা, পেশাদারিত্ব ও জনস্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাকিস্তান আন্দোলনের সময় দৈনিক আজাদ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে দৈনিক ইত্তেফাক জনমত গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। এসব গণমাধ্যমের পেছনে করপোরেট বা ব্যবসায়িক স্বার্থ নয়, বরং রাজনৈতিক ও জাতীয় লক্ষ্য কাজ করেছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে তথ্যপ্রবাহের বড় একটি অংশ সোশ্যাল মিডিয়াকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। কিন্তু সেখানে সম্পাদকীয় নীতি, জবাবদিহিতা ও তথ্য যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের ঝুঁকি বাড়ছে। এই বাস্তবতায় মূলধারার গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে হবে।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, সাংবাদিকতাকে বিশ্বব্যাপী সভ্যতার মানদণ্ড, জাতির বিবেক এবং গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু নৈতিকতার সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্বার্থনির্ভর সংবাদ পরিবেশনের কারণে গণমাধ্যম তার কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা হারাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সত্যভিত্তিক সাংবাদিকতা, জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম ব্যবস্থা এবং জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন লেখক ও সাংবাদিক আবুল আসাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. খাদেমুল ইসলাম হৃদয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন বাবর, একুশে টেলিভিশনের হেড অব নিউজ হারুনুর রশিদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, ঢাকা মেইলের সম্পাদক হারুন জামিলসহ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে তারা।

ইংল্যান্ডের কাছে গোল হজমের পর একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো করেন সমতা ফেরানো গোল। তারপর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করলেন। ৯২ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলি নেমেই ম্যাচে ছাপ রাখেন গঞ্জালেজ। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি লম্বা বল হেড করেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড বিপদমুক্ত করে।

৬৯ মিনিটে ডানদিক থেকে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু পিকফোর্ড নিচু ডাইভে অবিশ্বাস্য সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন।

৭২ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি পরিবর্তন আনে। সিমিওনে,  মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে নামান স্কালোনি।

চার মিনিট পর দে পলের বাড়ানো ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গঞ্জালেজের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। লাইন্সম্যান ততক্ষণে অফসাইডের পতাকা ওড়ান।

৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান পিকফোর্ড। পরের মিনিটে কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। বল পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।

কালের আলো/এম/এএইচ

২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০২ পূর্বাহ্ণ
২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা

অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দেখা মিলেছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিতে ৫৫ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোলটি করেন অ্যান্থনি গর্ডন। তবে ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। তার পর ৯০+২ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের গোলে স্কোর ২-১ করেছে আর্জেন্টিনা।

দলীয় আক্রমণের মাধ্যমে যার সূচনা করেন হ্যারি কেইন। মাঝমাঠে নেমে মরগান রজার্সকে বল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক ক্লিয়ারেন্সে তা প্রতিহত করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে বিপদ কাটাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফিরতি বল কুড়িয়ে নিয়ে ডেকলান রাইস সেটি বাড়ান রজার্সের কাছে। ইংলিশ উইঙ্গারের নিখুঁত ক্রসে বক্সে দারুণভাবে জায়গা করে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপর এক ছোঁয়ায় এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে দেন জালে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টিনা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল করেছে ইংল্যান্ডই।

প্রথমার্ধ গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪৭ মিনিটে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের লম্বা ক্লিয়ারেন্স থেকে দুর্দান্তভাবে বল নামিয়ে দেন জুলিয়ানো সিমিওনে। সেখান থেকে বল পেয়ে ডিজেড স্পেন্সকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন হুলিয়ান আলভারেজ।

তার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে বিপদ তখনও কাটেনি। ফিরতি বল আবারও পেয়ে যান আলভারেজ। কিন্তু তার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ইংল্যান্ডের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় থ্রি লায়ন্স।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ইংল্যান্ডকে গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইংল্যান্ডকে গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা

স্রেফ মারামারির একটি খেলা প্রত্যক্ষ করছে ফুটবল সমর্থকরা। যে ম্যাচে প্রথমার্ধে কোনো গোল হলো না। তবে দ্বিতীয়ার্দের ১০ মিনিট যেতে না যেতেই আর্জেন্টিনার জালে বল প্রবশে করালো ইংল্যান্ড। ডানপ্রান্ত থেকে মরগ্যান রজার্সের দারুণ একটি ক্রস বাম কোন দিয়ে আলতো টোকায় আর্জেন্টিনার জালে জড়ান অ্যান্থোনি গর্ডন।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রত্যাশিতভাবেই জমে উঠেছে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার মহারণ। তবে গোলের দেখা মেলেনি প্রথম ৪৫ মিনিটে। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গোলশূন্য প্রথমার্ধে দুই দলই একে অপরকে চাপে রাখলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ভাঙতে পারেনি কেউ।

বরং প্রথমার্ধজুড়ে আলোচনায় ছিল একের পর এক শক্ত ট্যাকল, উত্তেজনা, হলুদ কার্ড এবং লিওনেল মেসিকে ঘিরে ইংল্যান্ডের কড়া মার্কিং।

খেলা শুরুর পর থেকেই দুই দল শারীরিক লড়াইয়ে নেমে পড়ে। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই জুদ বেলিংহ্যামকে ট্যাকল করে ফাউল করেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। এরপর মেসি, বেলিংহ্যাম, অ্যান্ডারসন ও এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরে মাঝমাঠে কয়েকবার উত্তেজনা তৈরি হয়।

 

প্রথম ১০ মিনিটেই আর্জেন্টিনা চারটি ফাউল করে, যা চলতি বিশ্বকাপে কোনো দলের প্রথম ১০ মিনিটে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফাউলের রেকর্ড।

প্রথমার্ধের বড় একটি সময় দুই দলই একে অপরকে আটকে রাখে মাঝমাঠে। ২০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও কোনো দলই উল্লেখযোগ্য শট নিতে পারেনি।

 

ইংল্যান্ড কিছুটা বেশি সংগঠিত ফুটবল খেললেও হ্যারি কেইন কার্যত ম্যাচের বাইরে ছিলেন। প্রথম ২৮ মিনিটে ইংলিশ অধিনায়কের বল স্পর্শের সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি, যা মাঠের সব খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে কম।

ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন পুরো প্রথমার্ধে মেসিকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেন। কয়েকবার বল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি শক্ত ট্যাকলও করেন তিনি।

৩৭ মিনিটে মেসি ড্রিবল করে কয়েকজনকে কাটিয়ে এগোতেই অ্যান্ডারসনের করা ট্যাকলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে ধরেন। কিছুক্ষণ উত্তেজনা চললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি ইসমাইল এলফাথ। এই ফাউলের জন্য ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন অ্যান্ডারসন।

৩২ মিনিটে জুদ বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত দৌড়ে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে ইংল্যান্ড প্রায় এগিয়েই গিয়েছিল। ডেকলান রাইসের দারুণ ভাসানো বলে জন স্টোনস লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে হেড করেন। তবে বল জালের পাশ ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

অন্যদিকে ৩৯ মিনিটে আর্জেন্টিনার সেরা সুযোগ আসে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক থেকে। ছোট পাসে খেলা শুরু করে পারেদেসের কাছ থেকে বল ফেরত পান মেসি। তার শট হ্যারি কেইনের গায়ে লেগে ফিরে আসে এনজো ফার্নান্দেজের কাছে। দূরপাল্লার জোরালো শটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান তিনি, কিন্তু বল অল্পের জন্য পোস্টের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৪২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠতে থাকা মর্গান রজার্সকে টেনে থামিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। এতে ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হলুদ কার্ড দেখেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার।

প্রথমার্ধে গোল না হলেও উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। দুই দলই রক্ষণে ছিল দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ, তবে আক্রমণে শেষ মুহূর্তের ধারালো স্পর্শের অভাব ছিল স্পষ্ট। রেফারি তিন মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করলেও সেই সময়েও গোলের দেখা মেলেনি। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই বিশ্বশক্তি।

এখন দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোলই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য, আর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারে যে কোনো দল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি