শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো বেশি আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করে তোলাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য: মাহদী আমিন
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আগামী বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য সেখানে রাষ্ট্রের দিক থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা আরো বেশি সৃজনশীল করে তুলব। এমনভাবে গড়ে তুলব যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা দক্ষ ও যোগ্য হয় এবং তাদের মাঝে সুনাগরিকের মূল্যবোধ গড়ে উঠবে। তাদের মাঝে পারিবারিক এবং নৈতিক শিক্ষা গড়ে উঠবে। আমরা বিশ্বাস করি, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে তাঁরাই, সেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা স্কাউটের সাথে ইনভলভ থাকবে। কেউ গার্লস গাইড করবে, কেউ বিএনএসসি করবে, কারো হয়তো ড্রয়িং করতে ভালো লাগে, সে সেটাই করবে। কারো ডিবেট করতে ভালো লাগে, কারো আবৃত্তি করতে ভালো লাগে, কারো কোরআন তেলাওয়াত করতে ভালো লাগে কিংবা কারো স্পোর্টস করতে ভালো লাগে, আমরা আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সে সুযোগ দিতে চাই।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে তেজগাঁওয়ের বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হল মিলনায়তনে ‘স্টার্ট-আপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা: জুবাইদা রহমান। ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, আমরা চাই এমন বাংলাদেশ গড়তে যেখানে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, ভালোবাসা এবং নীতিগত সহযোগিতা থাকবে। যেই শিক্ষার্থীর, যেই কার্যক্রম, যেই পেশা তাঁর পছন্দ হয় আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে সেই পেশাতে তাঁদের মনশীলতার প্রকাশে সহযোগিতা করবো।
বক্তব্যের শুরুতেই ভিন্নমাত্রিক সৃজনশীল অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত করার জন্য উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিভিন্ন প্রশাসন এবং আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই আয়োজন শুধু ঢাকায় না, একসাথে ৬৪ টা জেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা যেখানে মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা মননশীলতাকে রাষ্ট্র বিনির্মাণের কাজে এগিয়ে নিয়ে যাব।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, অনেকেই হয়তো জানেন না খুব কঠিন একটা সময়ে রাষ্ট্রীয় অনেক চাপের মাঝেও “জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন” এবং “সুরভী” নামে দুটা প্রতিষ্ঠান দেশ জুড়ে অনেক শিক্ষার্থীকে গড়ে তুলেছে বিভিন্ন ধরনের কম্পিটিশনের মাধ্যমে তাদের এক্সট্রা অ্যাক্টিভিটিজকে প্রসারিত করেছে। আমরা দেখেছিলাম তখন ক্ষুদে বিজ্ঞানীদেরকে নিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে তখন সাইন্স ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আর্টস কম্পিটিশন করেছে, উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদেরকে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এর প্রত্যেকটি আমাদের আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রী তারই নির্দেশনায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ধারাবাহিক কার্যক্রম বছরের পর বছর ধরে, দশকের পর দশক ধরে তাঁরা করেছিলেন।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা “সুরভী” নামের একটা প্রতিষ্ঠানের কথা অনেকেই জানি। সেখানে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল। সেখানে আমরা দেখেছি দেশী -বিদেশী যারা এক্সপার্ট রয়েছেন তাঁরা কিভাবে শুরু থেকেই উদ্যোগগুলোকে বিভিন্নভাবে প্রশংসা করেছেন। এবং আমাদেরকে আহবান জানিয়েছেন এটাকে মডেল হিসেবে ধারণ করে আমাদের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং সুরভী যে কার্যক্রমগুলো বহু বছর ধরে , বহু দশক ধরে কোনো সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার পরেও শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সুযোগ্য সহধর্মীণীর বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে বিকশিত করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা যদি কখনো সুযোগ পাই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেটাকে (জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং সুরভীর কার্যক্রম) আমরা মডেল হিসেবে ধারণ করতে পারি। এবং তার কারণে আজকে ৬৪ জেলা থেকে প্রায় ১২০০০ টিম অংশগ্রহণ করেছে। ১২,০০০ টিমে প্রায় ৩৬,০০০ ছাত্রছাত্রী এবং প্রায় ২৪,০০০ শিক্ষক সেখানে অংশগ্রহণ করেছে। এই মডেলটা কিন্তু জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন থেকেই পেয়েছি। যেখানে আমরা দেখেছি শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাত্র-ছাত্রী এক হয়ে টিমওয়ার্ক তৈরি করে। ছাত্রদের সাথে, ছাত্রীদের সাথে, শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের সাথে কোনো বিভেদ থাকবে না। ভয় নয়, এই সম্পর্কগুলো ভালোবাসার।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে মাহদী আমিন বলেন, আমাদের আগামী বাংলাদেশ গড়ে তোলার কারিগর কিন্তু আপনারাই। আর এই কারিগর বিনির্মাণ যারা করবেন সেক্ষেত্রে আমরা কান্ডারী হিসেবে গড়ে তুলতে পারি আমাদের শিক্ষকদের। শিক্ষার্থী, শিক্ষক সবাই মিলে এক হয়ে প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য আগামী বাংলাদেশটাকে আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। যেখানে একদিকে যেমন সেই নীতিমালা থাকবে, যেখানে মেধার বিকাশ হবে। একই সাথে আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেখানে পাঠ্যক্রমটাকে আরো আধুনিক করে তুলব। কারণ বাংলাদেশকে যদি আমরা বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের যে বিপুল পরিমাণ তরুণ প্রজন্ম রয়েছে তাঁদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এ রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে আসুন আগামী বাংলাদেশে নিজেদের মেধা, যোগ্যতা, স্বকীয়তা এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মীনী যেভাবে যাচ্ছেন সেটাকে ধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য, ইনশা-আল্লাহ সেটিকে পাথেয় করেই আমরা গড়ে তুলব আগামী বাংলাদেশ।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array