খুঁজুন
                               
, ,
           

শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো বেশি আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করে তোলাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো বেশি আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করে তোলাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য: মাহদী আমিন

শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আগামী বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য সেখানে রাষ্ট্রের দিক থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা আরো বেশি সৃজনশীল করে তুলব। এমনভাবে গড়ে তুলব যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা দক্ষ ও যোগ্য হয় এবং তাদের মাঝে সুনাগরিকের মূল্যবোধ গড়ে উঠবে। তাদের মাঝে পারিবারিক এবং নৈতিক শিক্ষা গড়ে উঠবে। আমরা বিশ্বাস করি, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে তাঁরাই, সেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা স্কাউটের সাথে ইনভলভ থাকবে। কেউ গার্লস গাইড করবে, কেউ বিএনএসসি করবে, কারো হয়তো ড্রয়িং করতে ভালো লাগে, সে সেটাই করবে। কারো ডিবেট করতে ভালো লাগে, কারো আবৃত্তি করতে ভালো লাগে, কারো কোরআন তেলাওয়াত করতে ভালো লাগে কিংবা কারো স্পোর্টস করতে ভালো লাগে, আমরা আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সে সুযোগ দিতে চাই।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে তেজগাঁওয়ের বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হল মিলনায়তনে ‘স্টার্ট-আপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা: জুবাইদা রহমান। ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, আমরা চাই এমন বাংলাদেশ গড়তে যেখানে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, ভালোবাসা এবং নীতিগত সহযোগিতা থাকবে। যেই শিক্ষার্থীর, যেই কার্যক্রম, যেই পেশা তাঁর পছন্দ হয় আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে সেই পেশাতে তাঁদের মনশীলতার প্রকাশে সহযোগিতা করবো।

বক্তব্যের শুরুতেই ভিন্নমাত্রিক সৃজনশীল অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত করার জন্য উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিভিন্ন প্রশাসন এবং আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই আয়োজন শুধু ঢাকায় না, একসাথে ৬৪ টা জেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা যেখানে মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা মননশীলতাকে রাষ্ট্র বিনির্মাণের কাজে এগিয়ে নিয়ে যাব।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, অনেকেই হয়তো জানেন না খুব কঠিন একটা সময়ে রাষ্ট্রীয় অনেক চাপের মাঝেও “জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন” এবং “সুরভী” নামে দুটা প্রতিষ্ঠান দেশ জুড়ে অনেক শিক্ষার্থীকে গড়ে তুলেছে বিভিন্ন ধরনের কম্পিটিশনের মাধ্যমে তাদের এক্সট্রা অ্যাক্টিভিটিজকে প্রসারিত করেছে। আমরা দেখেছিলাম তখন ক্ষুদে বিজ্ঞানীদেরকে নিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে তখন সাইন্স ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আর্টস কম্পিটিশন করেছে, উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদেরকে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এর প্রত্যেকটি আমাদের আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রী তারই নির্দেশনায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ধারাবাহিক কার্যক্রম বছরের পর বছর ধরে, দশকের পর দশক ধরে তাঁরা করেছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা “সুরভী” নামের একটা প্রতিষ্ঠানের কথা অনেকেই জানি। সেখানে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল। সেখানে আমরা দেখেছি দেশী -বিদেশী যারা এক্সপার্ট রয়েছেন তাঁরা কিভাবে শুরু থেকেই উদ্যোগগুলোকে বিভিন্নভাবে প্রশংসা করেছেন। এবং আমাদেরকে আহবান জানিয়েছেন এটাকে মডেল হিসেবে ধারণ করে আমাদের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং সুরভী যে কার্যক্রমগুলো বহু বছর ধরে , বহু দশক ধরে কোনো সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার পরেও শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সুযোগ্য সহধর্মীণীর বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে বিকশিত করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা যদি কখনো সুযোগ পাই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেটাকে (জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং সুরভীর কার্যক্রম) আমরা মডেল হিসেবে ধারণ করতে পারি। এবং তার কারণে আজকে ৬৪ জেলা থেকে প্রায় ১২০০০ টিম অংশগ্রহণ করেছে। ১২,০০০ টিমে প্রায় ৩৬,০০০ ছাত্রছাত্রী এবং প্রায় ২৪,০০০ শিক্ষক সেখানে অংশগ্রহণ করেছে। এই মডেলটা কিন্তু জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন থেকেই পেয়েছি। যেখানে আমরা দেখেছি শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাত্র-ছাত্রী এক হয়ে টিমওয়ার্ক তৈরি করে। ছাত্রদের সাথে, ছাত্রীদের সাথে, শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের সাথে কোনো বিভেদ থাকবে না। ভয় নয়, এই সম্পর্কগুলো ভালোবাসার।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে মাহদী আমিন বলেন, আমাদের আগামী বাংলাদেশ গড়ে তোলার কারিগর কিন্তু আপনারাই। আর এই কারিগর বিনির্মাণ যারা করবেন সেক্ষেত্রে আমরা কান্ডারী হিসেবে গড়ে তুলতে পারি আমাদের শিক্ষকদের। শিক্ষার্থী, শিক্ষক সবাই মিলে এক হয়ে প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য আগামী বাংলাদেশটাকে আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। যেখানে একদিকে যেমন সেই নীতিমালা থাকবে, যেখানে মেধার বিকাশ হবে। একই সাথে আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেখানে পাঠ্যক্রমটাকে আরো আধুনিক করে তুলব। কারণ বাংলাদেশকে যদি আমরা বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের যে বিপুল পরিমাণ তরুণ প্রজন্ম রয়েছে তাঁদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এ রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে আসুন আগামী বাংলাদেশে নিজেদের মেধা, যোগ্যতা, স্বকীয়তা এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মীনী যেভাবে যাচ্ছেন সেটাকে ধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য, ইনশা-আল্লাহ সেটিকে পাথেয় করেই আমরা গড়ে তুলব আগামী বাংলাদেশ।

কালের আলো/এম/এএইচ

আবাসন খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
আবাসন খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাব

দেশের আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছয় দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

আবাসন খাতকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নীতিগত সংস্কার, কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ খাতকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। এ সময় আবাসন খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, সরকার স্বীকৃত দেশের একমাত্র আবাসন খাতের বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে রিহ্যাব গত সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারের উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনে আবাসন খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি, ফার্নিচার, পরিবহনসহ ৩০০টিরও বেশি সংযুক্ত শিল্প এ খাতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত ছয় দফা প্রস্তাব হলো—

১. জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন:

সীমিত ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা, নগরায়ণ ও আবাসনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সারা দেশের জমিকে কৃষি, বনাঞ্চল, জলাশয়, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্পাঞ্চল ও সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে শ্রেণিবিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিকল্পিত ও উলম্ব নগরায়ণ নিশ্চিত করতে বর্তমান ড্যাপ ও নির্মাণ বিধিমালা পুনর্মূল্যায়ন করে যুগোপযোগী সংস্কারের দাবি জানানো হয়।

২. নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য পিপিপিভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি:

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্ল্যাট ও আবাসন নির্মাণ কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। সরকারের জমি ও নীতিগত সহায়তার সঙ্গে বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও বিনিয়োগ যুক্ত হলে নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।

৩. মধ্যবিত্তের জন্য এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু:

মধ্যবিত্ত পরিবারের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহজ শর্তে এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালুর আহ্বান জানানো হয়। এতে লাখো পরিবার স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাবে এবং আবাসন শিল্পেও নতুন গতি সৃষ্টি হবে বলে মত দেয় সংগঠনটি।

৪. নিবন্ধন ব্যয়, ভ্যাট ও কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ:

ফ্ল্যাট ও জমির নিবন্ধন ব্যয় ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে রিহ্যাব বলেছে, করব্যবস্থা বাস্তবসম্মত, বিনিয়োগবান্ধব, ন্যায়সংগত, ঝামেলামুক্ত এবং পুরোপুরি ডিজিটাল হওয়া প্রয়োজন। এতে প্রকৃত লেনদেনমূল্য নিবন্ধনে মানুষ উৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

৫. জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহার:

চলতি অর্থবছরে জমির মালিকদের ওপর ফ্ল্যাট নির্মাণে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। রিহ্যাবের মতে, এ করের কারণে ফ্ল্যাট নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ সাধারণ ক্রেতার ওপর পড়ছে।

৬. পরিকল্পনা অনুমোদন প্রক্রিয়ার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন:

বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার দাবি জানানো হয়। এতে দীর্ঘসূত্রতা, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি কমে সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।

ড. আলী আফজাল বলেন, রিহ্যাব সব সময় সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা অব্যাহত রাখতে চায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে আবাসন শিল্প আরও গতিশীল হবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই এবং দুর্নীতিমুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না। দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি সংরক্ষণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজউক বা সরকার নিজে আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করুক, এমনটি তিনি চান না। বরং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও ছয় দফা প্রস্তাব শোনেন। তিনি উপস্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকাতউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) ড. মো. হারুন অর রশিদ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ইউনাইটেড গ্রুপের ব্যবস্থাপক মুশফিকুল আলম খন্দকার, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান, কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান, স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. কাইয়ুম এবং সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান এমজিআর নাসির মজুমদারসহ আবাসনখাতেরশীর্ষউদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পাম্প মালিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পাম্প মালিকদের

দেশের কোথাও জ্বালানি তেলের সংকট নেই এবং সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল ক্রয় না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

বার্তায় তিনি বলেন, দেশের সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, কিছু গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন, যা অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাধারণ ভোক্তাদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল সংগ্রহ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তাই কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুদ করার প্রবণতা বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করতে পারে এবং এতে জনভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ কাজ করছে এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। তাই আতঙ্ক বা গুজবের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রয়োজন নেই।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছঃ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছঃ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করার প্রয়োজন নেই। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য জেনে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল তিনটায় রাজশাহী  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চতকরা, বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং গুজব প্রতিরোধে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, অযৌক্তিকভাবে জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করা হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সবুর আলী।

সভায় রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসএ শাখা) অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত শাখা এবং ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখা) বোরহান উদ্দিন অন্তর, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করার প্রয়োজন নেই। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য জেনে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় জ্বালানি তেলের বর্তমান সরবরাহব্যবস্থা, বাজার পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্য জানার এবং অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ না করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি