খুঁজুন
                               
, ,
           

গ্রাহকসেবা উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ চুরি রোধে নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ
গ্রাহকসেবা উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ চুরি রোধে নির্দেশনা

ট্রান্সফরমার পোড়ার হার কমানো, সিস্টেম লস হ্রাস, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার এবং বকেয়া বিল আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিত সমিতির ১০৮তম মাসিক স্টাফ সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বুধবার এক বার্তায় এ তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

সভায় ট্রান্সফরমার পোড়ার হার কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সিস্টেম লস হ্রাসে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার, বকেয়া বিল আদায় কার্যক্রম গতিশীলকরণ এবং ডে ও নাইট অপারেশন কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া উন্নত ও হয়রানিমুক্ত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা, সময় মতো মিটার রিডিং গ্রহণ ও নির্ভুল বিল বিতরণ, প্রিপেইড গ্রাহকদের নেগেটিভ ব্যালেন্স সংক্রান্ত বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তি, নিয়মিত নিরাপত্তা সভা আয়োজন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি বজ্রপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি, টুলস ও সরঞ্জামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সততা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি সুদৃঢ়করণ, ভালো কাজের স্বীকৃতি প্রদান এবং যানবাহন, কম্পিউটার ও অন্যান্য অফিস সরঞ্জামের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম কাউসার তালুকদার বলেন, প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে গ্রাহকদের দ্রুত, নির্ভুল, নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা প্রদানে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

৭ বছরে সড়কে ঝরেছে ৭ হাজার ৩৬৪ শিক্ষার্থীর প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
৭ বছরে সড়কে ঝরেছে ৭ হাজার ৩৬৪ শিক্ষার্থীর প্রাণ

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী। এ সময়ে দেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮ হাজার ৭১৩ জনের মধ্যে শিক্ষার্থীর হার ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৩২৮ জন, যা মোট শিক্ষার্থী মৃত্যুর ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। অন্যদিকে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে ৪ হাজার ৩৬ জন বা ৫৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবেই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে। এভাবে নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৮৪১ জন, যা মোট শিক্ষার্থী মৃত্যুর ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ। এছাড়া পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১ হাজার ৯২৩ জন, যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ৯২৭ জন, বাইসাইকেল ও রিকশার আরোহী হিসেবে ৫১৯ জন এবং অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে প্রাণ গেছে ১৫৪ শিক্ষার্থীর।

সড়কভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে আঞ্চলিক সড়কে, যেখানে প্রাণহানি ২ হাজার ১৪৯ জন। গ্রামীণ সড়কে নিহত হয়েছে ১ হাজার ৯৪৭ জন, শহরের সড়কে ১ হাজার ৭৮৬ জন এবং জাতীয় মহাসড়কে ১ হাজার ৪৮২ জন।

পথচারী হিসেবে নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রামীণ সড়কে প্রাণহানির হার সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের দুর্ঘটনায় গ্রামীণ সড়কে ৭২৬ জন, শহরের সড়কে ৫৩৭ জন, আঞ্চলিক সড়কে ৪০৯ জন এবং জাতীয় মহাসড়কে ২৫১ জন নিহত হয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কিংবা বাড়ির আশপাশে খেলাধুলার সময় অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায় বেশি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, যা মূলত মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ঘটেছে।

বছরভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে নিহত হয়েছিল ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী। ২০২০ সালে ৭১৯, ২০২১ সালে ৯৩৬, ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৮৫, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৫৩, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭৩, ২০২৫ সালে ১ হাজার ১৪ এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯১ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একই সময়ে অসাবধানতাবশত রেললাইন পারাপার কিংবা কানে হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইনের ওপর হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে আরও ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, অনিরাপদ যানবাহন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার অভাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের অভাব, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা এবং সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনাই শিক্ষার্থী মৃত্যুর প্রধান কারণ।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা ক্যাম্পেইন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পাঠ্য ও পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা, গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার, অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের আট বছর পেরিয়ে গেলেও সড়ক পরিবহন খাতে কার্যকর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব, আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং পরিবহন খাতের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এআই দিয়ে আগাম শনাক্ত হবে নিত্যপণ্যের সংকট: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
এআই দিয়ে আগাম শনাক্ত হবে নিত্যপণ্যের সংকট: বাণিজ্যমন্ত্রী

১০ বছরের বাজার তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই প্রযুক্তি সম্ভাব্য সংকট আগেই শনাক্ত করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সরকার দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় ও সংবেদনশীল পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এআই ভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ই-কমার্স বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কৃষি, খাদ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা কাজ করছে। কোন পণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, কোনটি আমদানি-নির্ভর এবং কোন ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয় রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ অনেক সময় সরবরাহ সংকট। তাই কোনো পণ্যের উৎপাদন বা আমদানিতে সমস্যা দেখা দিলে যাতে বাজারে হঠাৎ ঘাটতি তৈরি না হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য শুধু দাম নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রেখে বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।’

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ‘ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের স্থানীয় উৎপাদন, মৌসুমি ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং রফতানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা নিয়মিত বিশ্লেষণ করা হবে। কোনো পণ্যের উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে আগেভাগেই আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, ‘এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ১০ বছরের বাজার তথ্য, উৎপাদন, আমদানি-রফতানি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে আমদানি করা সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে এবং কখন আমদানি করলে ভালো মূল্য পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিশ্লেষণ পাওয়া সম্ভব হবে।’

মন্ত্রী জানান, ‘বর্তমানে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু এআই প্রযুক্তি চালু হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই কার্যক্রম শুধু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কৃষি, খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিতভাবে এটি পরিচালিত হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এআইভিত্তিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হবে। সরকারি তথ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স ও সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক বিভিন্ন উৎসের তথ্যও এতে যুক্ত করা হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুরুতে এ ব্যবস্থা উন্নয়নে কিছুটা সময় লাগলেও ধীরে ধীরে এটি মানুষের তুলনায় দ্রুত ও কার্যকর বিশ্লেষণ দিতে সক্ষম হবে। দ্রুত ও নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। এই অনুষ্ঠানে ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো

তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান সানকো বাংলাদেশের মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে একটি সমন্বিত টেক্সটাইল উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে কাপড় উৎপাদন, ফ্যাব্রিক প্রসেসিং এবং উচ্চমূল্যের (ভ্যালু অ্যাডেড) টেক্সটাইল পণ্য তৈরির পরিকল্পনা করছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সানকোর প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। বৈঠকে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সানকোর প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশে তাদের বিদ্যমান ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে তুরস্ক থেকে টেক্সটাইল পণ্য সরবরাহ করা হলেও বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমশক্তি, সম্ভাবনাময় বাজার এবং রপ্তানি সক্ষমতার কারণে এখানে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তারা বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কাপড় উৎপাদন, ফ্যাব্রিক প্রসেসিং এবং উচ্চমূল্যের টেক্সটাইল পণ্য তৈরি করা হবে। এতে দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়বে।

সানকোর প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশে তাদের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ক্রেতা রয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন শুরু হলে নতুন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যমান টেক্সটাইল কারখানাগুলো প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে।

তারা আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন এবং অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈঠকে সানকোর পক্ষ থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানি সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন দ্রুত নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কয়লাবিহীন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিনিধিরা বলেন, আধুনিক এ টেক্সটাইল উৎপাদন কেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে শুধু বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানই বাড়বে না, বরং বাংলাদেশের বস্ত্র খাত উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের দিকে আরও এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে এবং নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তুলে ধরে সানকোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, সরকার শিল্পখাতে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে এবং বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি