খুঁজুন
                               
, ,
           

জ্বালানি রূপান্তর সূচকে যে অবস্থানে বাংলাদেশ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
জ্বালানি রূপান্তর সূচকে যে অবস্থানে বাংলাদেশ 

Oplus_131072

জ্বালানি ব্যবস্থার পরিবর্তন ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা মূল্যায়নের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ১২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ৯৯তম।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম ও অ্যাকসেঞ্চারের যৌথ প্রকাশিত ‘জ্বালানি রূপান্তর সূচক ২০২৬’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে। দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করার সক্ষমতার ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় এগিয়ে শ্রীলঙ্কা ও ভারত

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটি ৬৮তম স্থানে রয়েছে। এরপর ভারত ৭০তম, পাকিস্তান ৯০তম এবং বাংলাদেশ ৯৯তম অবস্থানে রয়েছে। নেপালের অবস্থান ১১১তম।

বিশ্বের মধ্যে টানা তৃতীয় বছরের মতো সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে সুইডেন। এরপর রয়েছে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো শীর্ষ ২০টির মধ্যে ১৪টি স্থান দখল করেছে।

বিদ্যুৎ সুবিধা বাড়লেও জ্বালানিতে নির্ভরতা কমেনি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সুবিধার উন্নতি ও জ্বালানি ব্যবস্থার কিছু অগ্রগতি হলেও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রস্তুতিতে এখনও দুর্বলতা রয়েছে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগ হলেও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অবকাঠামোগত সমস্যা, অর্থায়নের সংকট এবং বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে অনেক দেশ একসঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী মূল্য ও পরিবেশ রক্ষার ভারসাম্য রাখতে পারছে না।

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারের বেশি হয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার গেছে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তিতে।

প্রস্তুতির সক্ষমতায় বড় ধস

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি, অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে অবনতি দেখা যাচ্ছে।

জ্বালানি রূপান্তরের সামগ্রিক সূচক সামান্য বাড়লেও প্রস্তুতির সক্ষমতা কমেছে। অর্থায়ন ও বিনিয়োগ খাতে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে। পাশাপাশি নীতি, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুর্বলতা দেখা গেছে।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ সীমিত কয়েকটি দেশে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বিনিয়োগের প্রায় ৭৫ শতাংশ কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে যেসব দেশে বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়বে, সেসব দেশ এখনো প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত সুবিধা পেতে সমস্যায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি পরিবর্তনে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভর জ্বালানি কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

কালের আলো/এসএকে

ট্রাইব্যুনালে ফেরদৌস-শাওন-সোমা ও আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
ট্রাইব্যুনালে ফেরদৌস-শাওন-সোমা ও আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Oplus_131072

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা ও উসকানির অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ, অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলম, দুই সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও সোমা ইসলামসহ দেশের ২৭ জন সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক ও শিল্পীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসেকিউটর বরাবর রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের (SDF) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস এ অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, এসব বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গণহত্যার ঘটনার পেছনে এসব ব্যক্তিদের উসকানি, সমর্থন ও প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ ইন্ধন ছিল।

অভিযুক্ত ২৭ জনের তালিকা-

১. ফেরদৌস আহমেদ (চিত্রনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য, ঢাকা-১০), ২. মেহের আফরোজ শাওন (অভিনেত্রী ও নির্মাতা), ৩. রিয়াজ আহমেদ (চিত্রনায়ক), ৪. অরুণা বিশ্বাস (অভিনেত্রী), ৫. শামীম আরা নিপা (নৃত্যশিল্পী), ৬. রোকেয়া প্রাচী (অভিনেত্রী ও নির্দেশক), ৭. মাহিয়া মাহি (চিত্রনায়িকা), ৮. নিপুন আক্তার (চিত্রনায়িকা), ৯. তানভীন সুইটি (অভিনেত্রী), ১০. হৃদি হক (নাট্যব্যক্তিত্ব), ১১. জ্যোতিকা জ্যোতি (অভিনেত্রী), ১২. সাজু খাদেম (অভিনেতা), ১৩. সোহানা সাবা (অভিনেত্রী), ১৪. পিয়া জান্নাতুল (মডেল ও আইনজীবী), ১৫. শামীমা তুষ্টি (অভিনেত্রী), ১৬. হিরো আলম (অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর), ১৭. আশনা হাবীব ভাবনা (অভিনেত্রী), ১৮. সাইমন সাদিক (চিত্রনায়ক), ১৯. সুজাতা আজিম (অভিনেত্রী), ২০. জায়েদ খান (চিত্রনায়ক), ২১. অজিজুল হাকিম (অভিনেতা), ২২. চন্দন রেজা (অভিনেতা), ২৩. আসাদুজ্জামান নূর (অভিনেতা ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী), ২৪. মারিয়া কিশপট্টা (মডেল), ২৫. শান্তা ফারজানা, ২৬. সোমা ইসলাম (উপস্থাপিকা, চ্যানেল আই), ২৭. আনিস আলমগীর (সাংবাদিক)।

অভিযোগকারী আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যখন নির্যাতন চালানো হচ্ছিল, তখন অভিযুক্তরা অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে উসকানি দিয়েছেন। পাশাপাশি জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের পরও তারা জুলাই যোদ্ধাদের কটাক্ষ করে উসকানিমূলক স্ট্যাটাস, বক্তব্য ও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

কালের আলো/এসএকে

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স‌ঙ্গে আইএফআরসির প্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স‌ঙ্গে আইএফআরসির প্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের স‌ঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) প্রতিনিধিদলের প্রধান আলবার্তো বোকানেগ্রার সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার (২৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সাক্ষাৎ হ‌য়ে‌ছে।

বিদায়ী সাক্ষা‌তে বোকানেগ্রার প্রতিমন্ত্রীকে আইএফআরসির প্রধান মানবিক কার্যক্রম এবং বাংলাদেশে তার শাসনামলে অর্জনের বিষয়ে ব্রিফ করেন, দুর্যোগের প্রস্তুতি, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সহায়তায় সংস্থার সহায়তার কথা তুলে ধরেন।

তিনি তার মেয়াদজুড়ে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রসারিত অব্যাহত সমর্থন এবং গঠনমূলক সহযোগিতার জন্য তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বোকানেগ্রার তার মেয়াদ সফলভাবে সমাপ্ত করার জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশে আইএফআরসির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএফআরসির দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ও মানবিক সহায়তার মূল্যবান অবদানের প্রশংসা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বিশেষভাবে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং অন্যান্য জলবায়ু-জনিত জরুরি পরিস্থিতিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আইএফআরসির টেকসই সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মানবিক প্রতিক্রিয়ায় সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি নারী ও শিশুদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়ে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইএফআরসির মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

শামা ওবায়েদ বোকানেগ্রারকে তার ভবিষ্যত কার্যভারের প্রতিটি সাফল্য কামনা করেন এবং আস্থা ব্যক্ত করেন যে তার উত্তরসূরির নেতৃত্বে বাংলাদেশ এবং আইএফআরসির মধ্যে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএএ/এমএসআইপি 

৬ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
৬ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৬ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ অর্থবছর গতবারের চেয়ে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পণ্যখাতে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা ৫ হাজার ৫২০ কোটি ডলার ও সেবা খাতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা ৮২০ কোটি ডলারের। রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এদিকে গত অর্থবছরে রপ্তানিখাতে প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এরপরও রপ্তানি লক্ষ্যামাত্রা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের বিভিন্ন ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা এগিয়ে যাওয়ায় আগামী অর্থবছরে রপ্তানিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাবে বলে আমরা আশাবাদী।

তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ছিল। তবে বছর শেষে মোট রপ্তানি হয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ৪৮ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ থাকে। এখন আমরা ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আগের অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। কয়েক বছর ধরেই রপ্তানি খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বা মন্দাভাব বিরাজ করছে। তবে আগামী অর্থবছরে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান দুটি যুদ্ধ এবং উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার মতো প্রতিকূলতা থাকলেও সরকার গত বাজেটে রপ্তানিমুখী ব্যবসাকে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার বিভিন্ন প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হচ্ছে, যাতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় এবং এর ইতিবাচক প্রভাব দ্রুত রপ্তানি খাতে প্রতিফলিত হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানিকারকদের সহায়তায় সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যার সুফল বিদেশি ক্রেতারাও দ্রুত দেখতে পাবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার আশা রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও শিগগিরই এফটিএ চূড়ান্ত হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরুর প্রস্তুতিও চলছে। এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষের আলোচক দল ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি সহায়তা সব মিলিয়ে আগামী দিনে রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রথমে ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক ঘোষণা করা হলেও পরে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়। পরবর্তীতে মার্কিন উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর সেটি বাতিল হয়ে যায়। তিনি বলেন, এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেকশন ১২২-এর অধীনে ব্যালেন্স অব পেমেন্টের কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পান, যা সর্বোচ্চ পাঁচ মাস কার্যকর থাকতে পারে এবং পরে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সেকশন ৩০১-এর আওতায় শ্রম-সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবে করের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কের জায়গায় নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে একই ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এটি কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, প্রায় ৬০টি দেশের ওপর একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে। তাই নতুন করে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত কোনো প্রভাব পড়বে না বলে তিনি মনে করেন।

কালের আলো/এসএকে