খুঁজুন
                               
, ,
           

আবাসন খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
আবাসন খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাব

দেশের আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছয় দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

আবাসন খাতকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নীতিগত সংস্কার, কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ খাতকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। এ সময় আবাসন খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, সরকার স্বীকৃত দেশের একমাত্র আবাসন খাতের বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে রিহ্যাব গত সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারের উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনে আবাসন খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি, ফার্নিচার, পরিবহনসহ ৩০০টিরও বেশি সংযুক্ত শিল্প এ খাতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত ছয় দফা প্রস্তাব হলো—

১. জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন:

সীমিত ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা, নগরায়ণ ও আবাসনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সারা দেশের জমিকে কৃষি, বনাঞ্চল, জলাশয়, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্পাঞ্চল ও সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে শ্রেণিবিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিকল্পিত ও উলম্ব নগরায়ণ নিশ্চিত করতে বর্তমান ড্যাপ ও নির্মাণ বিধিমালা পুনর্মূল্যায়ন করে যুগোপযোগী সংস্কারের দাবি জানানো হয়।

২. নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য পিপিপিভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি:

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্ল্যাট ও আবাসন নির্মাণ কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। সরকারের জমি ও নীতিগত সহায়তার সঙ্গে বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও বিনিয়োগ যুক্ত হলে নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।

৩. মধ্যবিত্তের জন্য এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু:

মধ্যবিত্ত পরিবারের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহজ শর্তে এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালুর আহ্বান জানানো হয়। এতে লাখো পরিবার স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাবে এবং আবাসন শিল্পেও নতুন গতি সৃষ্টি হবে বলে মত দেয় সংগঠনটি।

৪. নিবন্ধন ব্যয়, ভ্যাট ও কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ:

ফ্ল্যাট ও জমির নিবন্ধন ব্যয় ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে রিহ্যাব বলেছে, করব্যবস্থা বাস্তবসম্মত, বিনিয়োগবান্ধব, ন্যায়সংগত, ঝামেলামুক্ত এবং পুরোপুরি ডিজিটাল হওয়া প্রয়োজন। এতে প্রকৃত লেনদেনমূল্য নিবন্ধনে মানুষ উৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

৫. জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহার:

চলতি অর্থবছরে জমির মালিকদের ওপর ফ্ল্যাট নির্মাণে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। রিহ্যাবের মতে, এ করের কারণে ফ্ল্যাট নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ সাধারণ ক্রেতার ওপর পড়ছে।

৬. পরিকল্পনা অনুমোদন প্রক্রিয়ার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন:

বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার দাবি জানানো হয়। এতে দীর্ঘসূত্রতা, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি কমে সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।

ড. আলী আফজাল বলেন, রিহ্যাব সব সময় সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা অব্যাহত রাখতে চায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে আবাসন শিল্প আরও গতিশীল হবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই এবং দুর্নীতিমুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না। দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি সংরক্ষণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজউক বা সরকার নিজে আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করুক, এমনটি তিনি চান না। বরং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও ছয় দফা প্রস্তাব শোনেন। তিনি উপস্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকাতউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) ড. মো. হারুন অর রশিদ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ইউনাইটেড গ্রুপের ব্যবস্থাপক মুশফিকুল আলম খন্দকার, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান, কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান, স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. কাইয়ুম এবং সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান এমজিআর নাসির মজুমদারসহ আবাসনখাতেরশীর্ষউদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

গাজার অবরোধ ভাঙতে ব্রিস্টল থেকে যাত্রা শুরু ‘কেট’ নৌযানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
গাজার অবরোধ ভাঙতে ব্রিস্টল থেকে যাত্রা শুরু ‘কেট’ নৌযানের

গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে একটি নৌবহরের অভিযানে যোগ দিতে দক্ষিণ ইংল্যান্ড থেকে একটি নৌযান যাত্রা শুরু করেছে।

রোববার ব্রিস্টলের হ্যানোভার কুয়ে-তে জড়ো হন সমর্থকেরা।

প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য পরিচিত এবং গ্রিন পার্টির প্রতিনিধিত্ব থাকা শহরটি থেকে ‘কেট’ নামের নৌযানটির যাত্রা উপলক্ষে বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নৌযানটিতে ফ্রিডম ফ্লোটিলা আন্দোলনের ১২ জন কর্মী রয়েছেন।
বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক ও ‘মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সুই অ্যাং। ছিলেন ওয়েলসের নার্স লেই ইভান্স, যাকে ২০২৫ সালের জুনে মিসরীয় সেনাদের সামনে হাঁটু গেড়ে গাজায় ত্রাণ নিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার দৃশ্যের ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল।

এছাড়া ছিলেন ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ইসরায়েলবিরোধী মতামত প্রকাশের ঘটনায় সম্প্রতি আইনি লড়াইয়ে জয়ী অধ্যাপক ডেভিড মিলার।
নৌযানটির আইরিশ অধিনায়ক ফিয়াক ও ব্রোলচাইন এর আগেও গাজামুখী একটি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

সে সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার শ্রবণযন্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
ব্রোলচাইন বলেন, ইসরায়েলি সেনাদের তিনি বারবার বলেছিলেন, ‘আমি আপনাদের শুনতে পাচ্ছি না; আপনারা আমার শ্রবণযন্ত্র নিয়ে নিয়েছেন’।

২০১০ সাল থেকে গাজার অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা প্রতিটি নৌবহরকে ইসরায়েল বাধা দিয়েছে বা হামলা চালিয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক জলসীমায়ও এসব নৌযান আটক বা হামলার শিকার হয়েছে।

ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের সদস্য ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী ফ্রাঙ্ক রোমানো বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ৭৫টিরও বেশি সংহতি প্রকাশকারী জাহাজ ও নৌযান আটক করেছে। এসব নৌযান ফিরিয়ে আনতে তিনি আইনি লড়াই করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি নৌযান উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

রোমানোর নিজের মালিকানাধীন ‘হান্দালা’ নামের একটি নৌযানও ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে। নৌযানটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত ফিলিস্তিনি চিত্রশিল্পী নাজি আল-আলির সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র ‘হান্দালা’র নামে।

রোমানো জানান, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বিভিন্ন ধাপে কয়েক ডজন নৌযান রয়েছে। এ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। গত বছর প্রথম অভিযান শুরু করার পর চলতি বছরের এপ্রিলে আরও বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও এ আন্দোলনে যোগ দেন। গত অক্টোবরে ‘আলমা’ নামের একটি নৌযান ইসরায়েলি বাহিনী আটক করলে থুনবার্গসহ ফ্লোটিলার অন্য যাত্রীদেরও আটক করা হয়। আটক অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন তারা। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নৌযানটিতে ‘ইন ফ্রিডম’ কবিতাটিলেখা রয়েছে |
আরেক আইরিশ অধিকারকর্মী কলম বার্নও আগের কয়েকটি ফ্লোটিলা অভিযানে অংশ নেওয়ার পর এবার আবারও যাত্রা শুরু করেছেন। তিনি জানান, এপ্রিলে গাজার উপকূল থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকতেই ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নৌযান আটক করে।

বার্নের দাবি, ফ্লোটিলার সদস্যদের লাথি মারা, মারধর করা এবং যন্ত্রণাদায়ক ও অপমানজনক অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা হয়। এতে তার কাঁধে আঘাত লাগে।

তিনি জানান, হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় প্রায় চার ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল তাদের। পরে কারাগারে নেওয়ার পর মাথা নিচু করে হাঁটতে বাধ্য করা হয়। মাথা তুললে চড় মারার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে বার্ন বলেন, ওই আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করলেও ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর যে মাত্রায় নির্যাতন চালানো হয়, তার সঙ্গে এ অভিজ্ঞনার তুলনা চলে না।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

প্রাডো গাড়িতে মিলল ১৫ কোটি টাকার ইয়াবা, আটক ২

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
প্রাডো গাড়িতে মিলল ১৫ কোটি টাকার ইয়াবা, আটক ২

কুমিল্লায় একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন-ফয়সাল ও আরমান।

তাদের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায়। পুলিশ জানায়, কক্সবাজার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান ঢাকার উদ্দেশে মহাসড়ক দিয়ে পরিবহন করা হবে বলে পুলিশ জানতে পারে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় একটি প্রাডো গাড়িতে তল্লাশি চালানো হলে ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা।

পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্তদের ব্যবহৃত গাড়িটি আগের রাতে চট্টগ্রামে অবস্থান করছিল। পরদিন সেটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চালানের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ইয়াবার চালানের মূলহোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া প্রাডো গাড়িটির মালিকানা যাচাই করতে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্যও পরীক্ষা করা হবে।

পুলিশের দাবি, কুমিল্লায় সাম্প্রতিক সময়ে আটক হওয়া ইয়াবার চালানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় চালান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির পারফরম্যান্সে ‌‘সন্তুষ্ট’ প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির পারফরম্যান্সে ‌‘সন্তুষ্ট’ প্রধানমন্ত্রী

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের মাত্র একদিন আগে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে তাকে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাস এই পদে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শেষ হয় তাঁর দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ। তবে আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কাউকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে বেছে নিচ্ছেন না। নতুন সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে সফলভাবে দেশ চালানোর ক্ষেত্রে ১৮০ দিনে কর্মদক্ষতার পরিচয় দেওয়া নাসিমুল গনিকেই তিনি চুক্তিতে রাখছেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন তাঁর বিষয়ে সরকারপ্রধানের মূল্যায়ন পরিস্কার। যা নাসিমুল গনির ওপর প্রধানমন্ত্রীর গভীর আস্থাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে-সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী ড. নাসিমুল গনি (পরিচিতি নম্বর-৩১০৭)-কে অন্য যেকোনো পেশা এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এক বছর মেয়াদে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পূর্বের চুক্তির ধারাবাহিকতায় পুন:চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়, মাঠ প্রশাসনের তদারকি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পদের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অতীতেও বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন ড.নাসিমুল গনি। বর্তমান প্রশাসন ক্যাডারেও একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ, পেশাদার ও যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের পছন্দের তালিকার অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। প্র্রশাসনের সর্বোচ্চ এই কর্মকর্তা সরকারের প্রথম ৬ মাসে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি পদের মর্যাদা ও ওজনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। গতিশীল ও কার্যকর প্রশাসন গড়তে তাঁর পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়েই পুনরায় ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তার ওপরেই আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • ১৮০ দিনে কর্মদক্ষতার পরিচয় দেওয়া নাসিমুল গনিকেই এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ
  • দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ, পেশাদার ও যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের পছন্দের তালিকার অগ্রভাগে ছিলেন
  • অতীতেও বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন

একজন নাসিমুল গনির শিক্ষা ও চাকরি জীবন বেশ বর্ণাঢ্য। ছিলেন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০১ সালের সরকারের মেয়াদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে ছিলেন ভূমি মন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব। ১৯৯৫ সালে তাঁকে বাংলাদেশ দূতাবাস, বাগদাদ, ইরাকে প্রথম সচিব (শ্রম) পদে নিয়োগ করা হয়। এক বছর পর তাঁকে বাগদাদ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর তাঁকে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ করা হয় এবং পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে বদলী করা হয়। ১৯৯৯ সালে তাঁকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০০ সালে তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। জামালপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের একান্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৪ সালে তিনি যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে কাজ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে তিনি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং তাঁকে রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০৭ সালে তাঁকে নিপোর্টের মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হয়।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। ওই সময় প্রথমে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার নাসিমুল গনিকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় জন বিভাগ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি ওই বছরের ১৮ আগস্ট সিনিয়র সচিব হিসেবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যোগদান করেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পর এক বছর এক মাস ২৩ দিন তিনি দক্ষতার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের আমলা হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তিনি। চলতি বছরের মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এর ঠিক আগেরদিন দুপুর সোয়া ১টায় নতুন পদে যোগ দিতে এসে সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাসিমুল গনি তাঁর গুরুদায়িত্ব প্রাপ্তির উচ্চারণে সুস্পষ্ট করেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া আমানত ও দায়িত্ব হিসেবে দেখার মানসিকতাকে। তিনি বলেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, দেশের একটা যুগসন্ধিক্ষণে আমার দুর্বল স্কন্ধে (কাঁধে) বিশাল দায়িত্ব পড়েছে। আমি সেটার ভার বহনের চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ, আমার সাধ্যমতো। অতীতে যেভাবে কাজ করেছি, সেভাবেই কাজ করবো।’

নাসিমুল গনি সেদিন যখন এই পদে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন কেবলই এটি একটি পদ নয় বরং সময়ের কারণে এর দায়িত্বও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ছিল অনেক বেশি। তিনি তাঁর সেই বক্তব্যের মাধ্যমে দায়িত্বের বিশালত্বের সঙ্গে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন গভীর বিনয়ের সঙ্গেই। নতুন সরকারের প্রথম ৬ মাস প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে শক্ত হাতে প্রশাসন সামলেছেন। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভেঙে পড়া প্রশাসনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেন। তাঁর প্রশাসনিক সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলোও মূল্যায়ন করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে তাকে আরও এক বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই নিয়োগ সরকারপ্রধানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএমএমকে