খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ৩

Oplus_131072

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনী আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চালানো এই আকস্মিক হামলায় নৌকাটিতে থাকা তিনজন নিহত হয়েছেন।

লাতিন আমেরিকায় কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর ও আগ্রাসী সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। সর্বশেষ এই হামলার পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন যাদের ‘নারকো-টেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন সামরিক হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা অন্তত ২১১ জনে পৌঁছেছে।

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরে চালানো সাম্প্রতিক এসব রক্তাক্ত হামলা নিয়ে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, তারা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কথিত মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী বা পেন্টাগন ওই নৌকাটি আসলেই কোনো মাদক বহন করছিল কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ করেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত মার্কিন বাহিনীর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাগরে আঘাত পাওয়ার পর নৌকাটিতে আগুন ধরে যাওয়ার আগে সেটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পানিতে চলছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী মাদক চক্র বা কার্টেলগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর একধরনের সরাসরি যুদ্ধ চলছে। তিনি এই সামরিক হামলাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের অবৈধ প্রবাহ কমানো এবং মাদক অতিরিক্ত সেবনে মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর হার ঠেকানোর জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তার প্রশাসন মাদক-সন্ত্রাসীদের হত্যার দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত খুব কম প্রমাণ হাজির করতে পেরেছে।

এদিকে  বিশ্লেষক ও সমালোচকেরা মার্কিন এই নৌ-হামলার বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ফেন্টানাইলসহ অতি প্রাণঘাতী মাদকের একটি বড় অংশ মূলত মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে, যা মূলত চীন ও ভারত থেকে আসা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। ফলে সাগরে নৌকা ডুবিয়ে মাদক চোরাচালান বন্ধের এই নীতি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

প্রবাসীর জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি, দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
প্রবাসীর জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি, দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল

প্রবাসীর কেনা কৃষিজমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এক দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব এবং ভুক্তভোগী দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলী—উভয়ের বাড়ি তাড়াশ পৌর এলাকার কহিত গ্রামে।

অভিযোগকারী, দলিল সম্পাদনকারী, দলিল লেখক, দলিলের সাক্ষী ও স্থানীয় গ্রামবাসীর লিখিত বক্তব্য, সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সরেজমিন তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পান তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. রবিউল ইসলাম।

পরে বিধি অনুযায়ী জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু লাইসেন্স বাতিল করলেই হবে না, প্রকৃত মালিককে তার জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগম জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক।

একমাত্র সম্বল সোয়া বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠান। পরে ফরহাদ আলী বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কহিত মৌজায় দেড় বিঘা কৃষিজমি ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় কেনেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জমির রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাড়াশ দলিল লেখক অফিসের দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবকে। কিন্তু তিনি ফরহাদ আলীর বাবা-মায়ের অজ্ঞতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে জমিটি ক্রেতার নামে না করে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।

ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম (৭৭) বলেন, বিদেশে আমার ছেলের আয় খুবই কম। ঠিকমতো টাকাও পাঠাতে পারে না। গত রমজানে পান্তা ভাত খেয়েও রোজা রেখেছি। বসতবাড়ি আর ছেলের কেনা জমিটুকুই আমাদের শেষ সম্বল। জমি ফেরত না পেলে শোকে হয়তো মরেই যাব।

জমির বিক্রেতা কহিত তেতুলিয়া গ্রামের মৃত সোলেমানের সন্তান বাবলু মিয়া, কালাম হোসেন, শামীমা খাতুন ও সুমি খাতুন জানান, তারা চার ভাই-বোন ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরহাদ আলীর কাছে দেড় বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করেন।

কিন্তু পরে জানতে পারেন, প্রতারণার মাধ্যমে দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন।

জানা গেছে, পরে নুরুল ইসলাম দলিল লেখকের কাছে দলিলের জাবেদা নকল চাইলে তিনি দীর্ঘদিন তা দেননি। পরে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্য মাধ্যমে দলিলের নকল সংগ্রহ করে পরিবারটি বিষয়টি জানতে পারে।

এরপর খাজনা ও নামজারি করতে ভূমি অফিসে গেলে তাদের জানানো হয়, দলিল অনুযায়ী জমির মালিক মির্জা আব্দুর রব। যদিও শুরু থেকেই জমিটি ভোগদখলে রয়েছে ফরহাদ আলীর পরিবারের।

জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, প্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগমের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই বিধি অনুযায়ী তাড়াশ দলিল লেখক অফিসে কর্মরত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দাবি পূরণের আশ্বাসে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
দাবি পূরণের আশ্বাসে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহার

আগামী এক মাসের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো সমাধানের আশ্বাসে দেশব্যাপী ডাকা অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতের পর ন্যাম ভবনের অভ‍্যর্থনা কক্ষে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বৈঠক শেষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহারের এই যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস এমপি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ফুয়াদসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বাণিজ্যিক রেজিস্ট্রেশন প্রদান, অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত বাণিজ্যিক নীতিমালার বাস্তবায়ন, সরকারি হাসপাতালে পার্কিং সুবিধা, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যান ও অ্যাম্বুলেন্সকে টোলমুক্ত রাখা এবং ২৪ ঘণ্টা জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ মালিকদের একগুচ্ছ যৌক্তিক দাবির বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে এসব দাবি নিষ্পত্তির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে।

এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং অচল অবস্থা নিরসনে তাৎক্ষণিকভাবে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক আয়োজন করা হয়। এক মাসের মধ্যে এসব দাবি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করা হবে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ফুয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

গোলাম মোস্তফা ফুয়াদ বলেন, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে এবং জনদুর্ভোগ এড়াতে সরকারের আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে আমরা আগামীকালকের (বুধবার) ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলাম।

তিনি সারা দেশের সাড়ে সাত হাজার অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও শ্রমিকদের অবিলম্বে গাড়ি চালু রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ঘোষণার পরপরই যেন কোনো রোগী বা মৃতদেহের স্বজনরা কষ্ট না পান, সেদিকে খেয়াল রেখে সকল অ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শিল্পখাতে গ্যাস সংকট কাটাতে সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
শিল্পখাতে গ্যাস সংকট কাটাতে সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

শিল্পখাতে গ্যাস সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণেই শিল্পখাতে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে শিল্পখাতে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী টেক্সটাইল খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। এ খাতের সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতায় উদ্যোক্তারা উৎসাহিত বোধ করছেন।

তিনি জানান, পুরোপুরি বন্ধ এবং আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর কোথায় কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করতে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে সরকার। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসএকে