খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্বনেতাদের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
বিশ্বনেতাদের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে কাজে এবং অঙ্গীকারকে ফলাফলে পরিণত করার, যাতে বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করতে পারে। আমরা আশা করি, কপ-৩১ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্সে শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ শীর্ষক এক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়; আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সকলে মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।

তিনি বলেন, কোনো দেশ একা জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার। কপ-৩১ এবং কপ-৩২-এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সহজসাধ্য এবং চাহিদা-সাপেক্ষ হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও ত্বরান্বিত হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে আমাদের গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর বৃহত্তর সংহতকরণ এবং কার্যকরীকরণ প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজনও অপরিহার্য। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়; এটি একটি অপরিহার্য বিষয়। ইউএনসিটিএডি-এর মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ এখানে শুধু জলবায়ু সংকটে সম্মুখসারির একটি রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী একটি জাতি হিসেবেও সমবেত হয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার একটি অগ্রণী জলবায়ু-সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি এখন আমাদের জাতি গঠন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ভাবি এবং যার জন্য আমি সচেষ্ট থাকি। এটি জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার বিষয়।

জলবায়ু সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আমরা আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা করেছি। পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষিকে সহায়তা করতে এবং জলবায়ুগত অভিঘাত মোকাবিলায় আমাদের প্রধান নদীর ওপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজ আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। স্কুল, সম্প্রদায় এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী একটি আন্দোলনের মাধ্যমে, যেমন এক শিক্ষার্থী, এক গাছ কর্মসূচির মাধ্যমে বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাপমাত্রা হ্রাস করা হবে।

বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর, বায়ু, বর্জ্য থেকে শক্তি এবং অন্যান্য সমাধানের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বাংলাদেশের অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পাটজাত পণ্য এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহন খাতকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সবুজ বিনিয়োগ এবং কার্বন ক্রেডিটের সুযোগ উন্মোচনে একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা হবে। সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং চক্রাকার অর্থনীতি উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজ উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে ৬৯টিই বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, বিশ্বনেতাদের অবশ্যই মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে লাখ লাখ মানুষের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কপ-৩১-এর উচিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য ও চেতনাকে পুনঃনিশ্চিত করা। এ প্রসঙ্গে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপকে উৎসাহিত করতে, ঐকমত্য গড়ে তুলতে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপকে অনুপ্রাণিত করার জন্য একটি মূল্যবান মঞ্চ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শাড়ির আড়ালে ৪ কেজি কুশ, শাহজালালে ভারতীয় নাগরিক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭ পূর্বাহ্ণ
শাড়ির আড়ালে ৪ কেজি কুশ, শাহজালালে ভারতীয় নাগরিক আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ মাদকসহ অভিজিৎ দাস (৪০) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। শাড়ির আড়ালে ট্রলিতে লুকিয়ে এসব মাদক আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) শাহজালাল বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয়। দুপুর ১টার দিকে ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের TG321 ফ্লাইটে আসা যাত্রী অভিজিৎ দাসকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।

পরে সাক্ষী ও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তার ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়। এ সময় তিনটি ভারতীয় শাড়ির আড়ালে লুকানো ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, ২ হাজার ১৬০ ভারতীয় রুপি, ৭০ থাই বাথ, একটি স্মার্টফোন, তিনটি ভারতীয় শাড়ি ও একটি বোর্ডিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা জানান, অভিজিৎ দাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা। তিনি বনগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে কুলির কাজ করেন বলে জানা গেছে।

ডিএনসির কর্মকর্তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক ও ত্রিদেশীয় একটি মাদক চোরাচালান চক্র ভারতের নিম্নআয়ের মানুষদের ব্যবহার করে মাদক পাচার করছে। চক্রটি প্রথমে তাদের কলকাতা থেকে ব্যাংককে নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে তাদের মাধ্যমে মাদক বাংলাদেশে আনা হয়। বাংলাদেশে কুশের নতুন বাজার তৈরির উদ্দেশ্যে চক্রটি কাজ করছে বলেও প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে দুই থেকে তিন দিন অবস্থান করে মাদকের চালান হস্তান্তরের পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল অভিজিৎ দাসের।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

ডিএনসির উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বিমানের নতুন সচিব ড. নুরুন্নাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
বিমানের নতুন সচিব ড. নুরুন্নাহার

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব চালিয়ে আসা ফাহমিদা আখতার বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

 

যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বড় সম্ভাবনা দেখছেন বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, দেশটির মোট আমদানির বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিপণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিকসহ সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানি বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, পণ্যের সনদায়ন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের উন্নয়ন এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে ‘যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি: তৈরি পোশাক ব্যতীত অন্যান্য খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

১০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যে বহুমুখীকরণ

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর প্রায় ৯৪ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অর্থাৎ, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়লেও পণ্যভিত্তিক বৈচিত্র্য এখনো সীমিত।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য বছরে প্রায় ৯৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। বিপুল এই বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ। বক্তাদের মতে, বাংলাদেশের রপ্তানি অংশীদারত্ব ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে দেশটিতে রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু তৈরি পোশাকের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বরং যুক্তরাজ্যের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পণ্য তৈরি, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বিভিন্ন খাতের রপ্তানিযোগ্য সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

পোশাকের বাইরে যেসব খাতে সম্ভাবনা

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তিনি যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিজাত পণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিক খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের এসব খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো গেলে যুক্তরাজ্যের বাজারে নতুন ক্রেতা তৈরি এবং পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য পণ্যের গুণগত মান, উৎপাদনব্যবস্থা, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়মকানুন মেনে চলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) রপ্তানিমুখী উৎপাদনে যুক্ত করতে অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।

আন্তর্জাতিক মান ও সনদায়নে ঘাটতি দূর করার তাগিদ

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির সিংহভাগ তৈরি পোশাকনির্ভর। অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগত মান, সনদায়ন, সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ অনুসরণযোগ্য করা, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং কমপ্লায়েন্স পরিপালনে আরও উন্নতি করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেই চলে না; ক্রেতাদের নির্ধারিত মান, নিরাপত্তা, পরিবেশগত শর্ত এবং শ্রমসংক্রান্ত বিধিবিধানও মেনে চলতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে নতুন বাজারে প্রবেশ কিংবা বিদ্যমান বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার ও টেস্টিং সুবিধা বাড়ানো, পণ্যের সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এলডিসি উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগানোর সুযোগ

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন শর্তের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য অংশীদারত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে অব্যাহত সুবিধা ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে নিশ্চয়তা দেবে।

কর্মশালায় ব্রিটিশ সরকারের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস)-এর সুবিধা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ স্কিমের আওতায় প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের বাণিজ্য উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা এলি পার্কার কর্মশালায় ডিসিটিএস নিয়ে একটি কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন। এতে এলডিসি উত্তরণের পরও প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা গ্রহণের ব্যবহারিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর জোর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি অশুল্ক বাধাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পণ্যের মান যাচাই, সনদায়ন, আমদানি বিধিবিধান এবং বাজারের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে গিয়ে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় বহন করতে হতে পারে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিরসনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বাজারসংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের গভীর ধারণা অর্জন এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

কর্মশালার আলোচনায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট-চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক অমৃতা মাকিন ইসলাম, হরটেক্স ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশিদ আহমদ ফারহাদ, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাক আহমেদ তানভীর, কাপকেক এক্সপোর্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির ওবায়েদ, এম ইউ সি ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস এবং বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বক্তব্য দেন।

রপ্তানি বহুমুখীকরণই বড় চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা থাকলেও লক্ষ্য অর্জনে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো, উৎপাদনব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়ম মেনে চলার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন খাতে বিনিয়োগ, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি সক্ষমতা সম্প্রসারণ জরুরি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি