খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্যাংক নোট কখন এবং কেন বাতিল করা হয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
ব্যাংক নোট কখন এবং কেন বাতিল করা হয়?

সম্প্রতি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। নোট দুটি আগের মতোই বৈধ রয়েছে। এ প্রস্তাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যাংক নোট বাতিলের ইতিহাস আছে। এমনকি বাংলাদেশেও অতীতে মুদ্রা বাতিলের নজির রয়েছে।

কিন্তু সেটা কোনো স্বাভাবিক সময়ের ঘটনা নয়। সাধারণত অস্বাভাবিক সময় বা বিশেষ পরিস্থিতিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তিনি বলছিলেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি।

তাহলে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এবং কেন ব্যাংক নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়? এ ধরনের সিদ্ধান্ত অর্থনীতির ওপর কোন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?

কী বলা হয়েছিল সংসদে?

বাংলাদেশে সংসদের চলমান দ্বিতীয় অধিবেশনে পাঁচশ ও এক হাজার টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাবটি করেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

গত রোববার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মি. খোকন দাবি করেন, মানুষের কাছে নগদ টাকা থাকার পরও আস্থা না থাকায় তারা সেটি ব্যাংকে রাখছেন না।

নগদ টাকা ঘরে, যেহেতু ব্যাংকের ওপর আস্থা নাই…এবং যারা স্বৈরাচার ছিল, তারা টাকাটা গোছায় রেখে নগদ টাকা ফেলে চলে গেছে…ঘরে ঘরে টাকা আছে, কিন্তু ব্যাংকে রাখে না মানুষ, সংসদে বলেন মি. খোকন।

ঘরের ওই অর্থ ব্যাংকে ফেরাতে পাঁচশ ও এক হাজার টাকার নোট বাতিল করার প্রস্তাব করেন তিনি। সেইসঙ্গে, বাতিল করার আগে পুরনো নোট ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য দুই মাস সময় বেঁধে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এতে বাজেট ঘাটতিও ফিলাপ (পূরণ) হবে যাবে। দুই লক্ষ, আড়াই লক্ষ কোটি টাকার ব্যাংক নোট, টাকাটা লিগ্যাল (বৈধ) হয়ে যাবে এবং সেটা আপনার রি-ইনভেস্টমেন্ট (পুনরায় বিনিয়োগ) হবে। মানে ইকোনমিক হুইল (অর্থনীতির চাকা) ঘুরবে, বাজেটের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে খোকন এসব কথা বলেন।

নোট বাতিল হয় কেন?

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, একটি দেশের সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা কারণে ব্যাংক নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো কালো টাকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে সেটাকে ব্যাংকিংখাতে যুক্ত করা।

সরকার যদি মনে করে যে, দেশে কালো টাকার পরিমাণ অনেক বেশি এবং মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশের মানুষের কাছে নগদ অর্থ আছে, তখন কালো টাকার প্রভাব কমিয়ে সেটাকে ব্যাংকে ঢোকানোর জন্য নোট বাতিল করতে দেখা যায়। বলছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর।

তিনি আরও বলেন, কালো টাকা বলতে মূলত আয়করের হিসেবে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কর ফাঁকি দেওয়া টাকাকে বোঝায়। এক্ষেত্রে ঘুস-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকাকে যেমন অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তেমনই কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সৎ পথে অর্থ উপার্জন করার পরও যদি আয়ের হিসেবে সেটা না দেখান বা কর না দেন, সেটাও একইভাবে অর্থনীতিতে কালো টাকা হিসেবে বিবেচিত হয়।

কালো টাকার পাশাপাশি জাল নোটের প্রসার ঠেকাতেও অনেক সময় ব্যাংক নোট বা মুদ্রা বাতিল করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সারা দেশে জাল টাকার দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় সেটি নিয়ন্ত্রণে ১৯৭৩ সালে জলছাপবিহীন একাধিক ব্যাংক নোট বাতিল ঘোষণা করেছিল তৎকালীন সরকার।

অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন বন্ধ করতে ব্যাংক নোট বাতিল করার নজির আছে। ২০১৬ সালে ভারত সরকার যে পাঁচশ ও এক হাজার রুপির নোট বাতিল করেছিল, সেটার পেছনেও এ দুটি কারণ কাজ করেছিল।

এর বাইরে, একটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটলেও আগের মুদ্রা বাতিল করে নতুন মুদ্রা প্রচলনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায় বলে জানান অর্থনীতিবিদরা।

এক্ষেত্রে বাতিল হতে যাওয়া ব্যাংক নোট বা মুদ্রা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ফলে যাদের কাছে নোটগুলো আছে, তাদের বড় অংশই দেখা যায় ব্যাংকে টাকাটা জমা রাখে। এর ফলে ব্যাংকে তারল্যের পাশাপাশি সরকারের আয়কর সংগ্রহের হারও বেড়ে যায়।

সফলতা কতটা?

কালো টাকাকে ব্যাংকিংখাতে যুক্ত করা, সন্ত্রাস বা দুর্নীতি বন্ধের উদ্দেশ্যে অতীতে বিভিন্ন দেশে ব্যাংক নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কম দেশই এক্ষেত্রে সুফল পেয়েছে বলে জানাচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

এখন পর্যন্ত যত দেশ এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তাদের বেশিরভাগ দেশে দেখা গেছে যে, অর্থনীতি খুব একটা লাভবান হয়নি। যাদের কাছে কালো টাকা বা নগদ অর্থ রয়েছে, তারা দেখা গেছে নিজেদের লোক দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে ব্যাংক থেকে পুরনো নোট পরিবর্তন করে নতুন নোট সংগ্রহ করে ফেলেছে।

আবার কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সুফল পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর উল্টো প্রভাবও দেখা গেছে। কালো টাকা ব্যাংকে জমা পড়ার পর দেখা গেছে হঠাৎ করে ব্যাংকে তারল্য বেড়ে গেছে। পরে সেগুলো উৎপাদনশীলখাতে পুনরায় বিনিয়োগ করা যায়নি, কিন্তু গ্রাহককে ঠিকই সুদ দিতে হয়েছে। এতে ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবার ব্যাংক নোট বাতিল করার কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, পরবর্তীতে দেখা গেছে তারা ক্ষতি পোষানোর জন্য ঘুস-দুর্নীতি বা কালো টাকার ব্যবহার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সরকারের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। এজন্য মুদ্রা বাতিল না করে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রতি জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক কবীর বলেন, ব্যাংক নোট বাতিল করেও যেহেতু খুব একটা লাভবান হওয়ার নজির সেভাবে নেই, সেজন্য এটাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। বরং কালো টাকা বা বেআইনি অর্থের লেনদেন যেন না হয়, সেদিকেই সরকারের নজর দেওয়াটা জরুরি।

মুদ্রা বাতিলে যত ঝুঁকি

ব্যাংক নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে লাভের চেয়ে ক্ষতির অংশই বেশি বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, এক্ষেত্রে প্রথম ক্ষতিটা হলো সরকার ও দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হওয়া।

বিষয়টি আরেকটু ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একটি দেশের সরকার কোনো ব্যাংক নোট বাতিল করার ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেদেশের অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়। কারণ মানুষ প্যানিকড বা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে যে, তার অর্থের এখন কী হবে!

তিনি আরও বলেন, এই আতঙ্ক থেকেই তখন তারা সবাই তাড়াহুড়ো করে ব্যাংকে পুরনো মুদ্রা জমা দিয়ে নতুন মুদ্রা সংগ্রহ করতে চায়। এর ফলে নগদ অর্থে সংকট দেখা দেয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে

মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে।

ফলে সাধারণ মানুষ দেশের সরকার ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। তারা মনে করে যেকোনো সময় সরকার যে কোনো মুদ্রা বাতিল করতে পারে।

এ অবস্থায় দেশের অর্থনীতির ওপর আস্থা রাখতে না পারায় অনেকে বিকল্প হিসেবে স্বর্ণ বা ডলারের মতো অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর চিন্তা করেন।

অন্যদিকে, পুরনো নোট বাতিল করে নতুন ব্যাংক নোট ছাপাতে গিয়ে সরকারের বাড়তি ব্যয়ও হয়।

১৯৮৪ সালে নাইজেরিয়ায় তৎকালীন সামরিক সরকার পুরনো নোট বাতিল করে নতুন নোট ছাপাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

সেইসঙ্গে, দেশটিতে মূল্যস্ফীতিও ব্যাপক আকারে বেড়ে গিয়েছিল বলে জানান অর্থনীতিবিদরা।

অন্যদেশের অভিজ্ঞতা কেমন?

ঘুস-দুর্নীতি, কালো টাকা, জালনোট এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধের উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালে পাঁচশ ও এক হাজার রুপির নোট বাতিল করেছিল ভারতে মোদি সরকার।

এর ফলে দেশটির প্রচলিত নগদ অর্থের প্রায় ৮৬ শতাংশ রাতারাতি অচল হয়ে যায়। হঠাৎ করে নেওয়া সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশে মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশই পুরনো নোট নেওয়া বন্ধ করে দেন। ফলে নতুন নোট সংগ্রহ করতে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে ভিড় করতে শুরু করেন।

এতে ব্যাংকে অর্থ সংকট চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক মাস ধরে দিনরাত নতুন ব্যাংক নোট ছাপিয়ে সেগুলো বিমানবাহিনীর সাহায্যে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় মোদি সরকার।

নতুন নোট ছাপিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে বন্টন করতে গিয়ে ভারত সরকারকে আগের অর্থ বছরের তুলনায় ওইবছর সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়েছে বলে জানান দেশটির অর্থনীতিবিদ প্রসেনজিৎ বসু।

অন্যদিকে, ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, বাতিল হওয়া নোটের প্রায় ৯৯ শতাংশই ব্যাংকে জমা পড়েছে। ফলে কালোটাকা উদ্ধারের লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় তিনি আহত পুলিশ কর্মকর্তার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।

শাহ আলমের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা জেলার এ-সার্কেলে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন। পথে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবগঠিত রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কমিটির সাফল্য অর্জন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আলফাতুন নেছা পুতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা শাপলা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোছাঃ নার্গিস খাতুন এবং সদস্য মোছাঃ আশা মনি, মোছাঃ সুরাইয়া খাতুন ও আফরোজা আক্তার হাসি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের জট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্দরের অভ্যন্তরে অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরি, নিলাম এবং প্রয়োজনে ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এসব কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। পণ্যগুলোর ইনভেন্টরি বা মজুত তালিকা তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দায়িত্বে রাখা হবে।

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের তালিকা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং আমদানির পর খালাস না হওয়া পণ্য বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে। এসব পণ্যের মধ্যে নিলামযোগ্য পণ্যও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য জমে থাকায় সেগুলোর সঠিক হিসাব, সংরক্ষণ, নিলাম এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ জন্য দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর মাধ্যমে কোন পণ্য নিলামযোগ্য, কোনগুলো খালাস হয়নি এবং কোন পণ্যের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

১৫ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন করবেন কর্মকর্তারা

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ইনভেন্টরি কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের বিভিন্ন দপ্তর থেকে তাঁদের সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেটের মো. শাহজাহান সরকার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন; গাজীপুরের মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন; ঢাকা দক্ষিণের মো. বেলাল উদ্দিন ও ফজলুল হক; ঢাকা উত্তরের উত্তম কুমার দাস ও মাহমুদুল হাসান।

এ ছাড়া ঢাকা পূর্বের মো. হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী; ঢাকা পশ্চিমের মো. রোমেল তালুকদার ও সুমনা দেবনাথ; চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের ইফতেখার আহমেদ ও মো. আসিফ ইকবাল রাজু; এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাজী নাইম উদ্দীনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন কুমিল্লার মোছা. উম্মে সালমা ও অম্বিকা রানী, কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসের মো. তৌহিদুর রহমান, বেনাপোল কাস্টম হাউসের শংকেরালীঘ দেব এবং ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের দক্ষিণ ও উত্তর অংশের সত্যজিৎ সরকার ও মো. শাহিনুর আলম।

নিলাম ও ধ্বংসের মাধ্যমে পণ্যের জট নিরসনের লক্ষ্য

এনবিআরের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপে তালিকাভুক্ত পণ্যের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী নিলাম অথবা ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যেসব পণ্য নিলামযোগ্য, সেগুলো নিলামের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নিলামের অনুপযোগী বা বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা প্রয়োজন—এমন পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের অভ্যন্তরে জায়গার ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি নতুন আমদানি পণ্যের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও খালাস কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও কনটেইনার জট কমানোর প্রত্যাশা

দ্রুত ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে নিলাম ও ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের জট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, নিলামপ্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য অপসারণে কী পরিমাণ অগ্রগতি অর্জিত হয়, তার ওপর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি