খুঁজুন
                               
, ,
           

‘নিরাপদ খাদ্যই আগামী দিনের কৃষির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
‘নিরাপদ খাদ্যই আগামী দিনের কৃষির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকে আগামী দিনের কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি বলেছেন, শুধু খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ালেই হবে না, সেই খাদ্য যেন নিরাপদ, গুণগত মানসম্পন্ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে, তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এজন্য কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি কীটনাশক আমদানি, নিবন্ধন, মান যাচাই এবং বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কার্যকর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহমুদুর রহমান।

আমিন উর রশিদ বলেন, নিরাপদ খাদ্যই আগামী দিনের কৃষির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে হলে উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে শুধু খাদ্যের পরিমাণ নয়, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্যের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের উর্বর মাটি, অনুকূল জলবায়ু, পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং বৃষ্টিপাতের মতো প্রাকৃতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু কৃষকদের সচেতন করলেই হবে না। কীটনাশক আমদানি, নিবন্ধন, মান যাচাই এবং দেশের প্রবেশপথ বা ল্যান্ডিং পয়েন্ট থেকেই কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। কারণ উৎস পর্যায়ে মান নিশ্চিত করা না গেলে পরবর্তী ধাপে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, অনেক কৃষক ফসল সংগ্রহের অল্প সময় আগে কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এতে খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থেকে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের সমস্যা শুধু প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব নয়। বরং কীটনাশকের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন এবং ব্যবহার পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষিপণ্য রফতানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে আম রফতানির ক্ষেত্রে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত প্যাকিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।

একইভাবে কাঁঠাল, মাংস এবং অন্যান্য কৃষিপণ্যেরও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে ক্রেতারা এখন নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্যের প্রতি বেশি আগ্রহী। তাই রপ্তানি বাড়াতে হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে কৃষি গবেষক, বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়ে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কার্যকর সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষির টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং কৃষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

কর্মশালায় বক্তারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কীটনাশকের যথাযথ ব্যবহার, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণা, নীতি সহায়তা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

এতে দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও রপ্তানি আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

মাংসের বাজারে নেই স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
মাংসের বাজারে নেই স্বস্তি

মাছ ও মুরগির বাজারে দামের ওঠানামা থাকলেও গরু ও খাসির মাংসের বাজারে নেই কোনো স্বস্তি। গত বছরের শেষ দিকে এক দফা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দাম বাড়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কমেনি মাংসের দাম। ফলে উচ্চমূল্যেই গরু ও খাসির মাংস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরু ও খাসির মাংসের দাম কয়েক মাস ধরেই একই অবস্থানে রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, গবাদিপশু কেনার খরচ, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দাম কমারও সুযোগ নেই।

যাত্রাবাড়ীর মাংস বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবারই মাংসের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। কর্মব্যস্ত মানুষ এদিন বাজার করেন, আবার অনেক পরিবারে শুক্রবার বিশেষ রান্নার আয়োজন থাকে। তবে দাম বেশি থাকায় অনেকেই আগের মতো পরিমাণে মাংস কিনছেন না।’

শ্যামবাজারে আরেক বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ক্রেতারা দাম নিয়ে অভিযোগ করেন, কিন্তু আমাদেরও বেশি দামে গরু কিনতে হয়। তাই কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই।’

রাজধানীর নারিন্দার বাসিন্দা রাব্বি মিয়া বলেন, ‘সাত-আট মাস আগে এক লাফে মাংসের দাম অনেক বেড়েছিল। এরপর এতদিনেও কমেনি। শুক্রবার বাসায় অতিথি আসে, বাচ্চারাও মাংস খেতে চায়। তাই ইচ্ছা না থাকলেও কিনতে হয়।’

গৃহিণী রুমা আক্তার বলেন, ‘আগে মাসে কয়েকবার গরুর মাংস রান্না হতো। এখন দাম বেশি হওয়ায় অনেক হিসাব করে কিনতে হয়। খাসির মাংস তো প্রায় কেনাই ছেড়ে দিয়েছি।’

ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যে বিক্রি হলেও বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, বাজার তদারকি বাড়িয়ে মাংসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ট্রেনের ৪ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
ট্রেনের ৪ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ

ময়মনসিংহের গফরগাঁও রেলস্টেশনে প্রবেশের আগে ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনটির ইঞ্জিনের পেছনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন সুপারিন্টেন্ডেন্ট আব্দুল্লাহ আল হারুন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, গফরগাঁও স্টেশনে প্রবেশের ঠিক আগে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এরপর ইঞ্জিনের পেছনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা নওফলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা নওফলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ

নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা হিল এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ৬-৭ জনের একটি দল তার বাসভবন লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। এতে আগুনের সূত্রপাত হলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।

এসময় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম নগরের সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী।

গত দুই বছরে চশমা হিলের এই বাসভবনে এবারসহ চার দফায় হামলা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মিছিল থেকে প্রথম দফায় হামলা চালানো হয়।

ওই বছরের ৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তৃতীয় দফায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে বাড়িটি খালি পড়ে আছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল বাসার ভেতরে পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে গত বুধবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে অডিও বার্তা দেন ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ভারতে আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনা। সেই অনুষ্ঠানে নওফেলও অংশ নেন। স্থানীয়দের ধারণা, ওই ঘটনার জেরেই বাড়িটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি