খুঁজুন
                               
, ,
           

নদী বাঁচাতে না পারলে ঢাকা বাঁচবে না: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
নদী বাঁচাতে না পারলে ঢাকা বাঁচবে না: মির্জা ফখরুল

বুড়িগঙ্গা, তুরাগসহ রাজধানী ঘিরে থাকা নদীগুলোকে রক্ষা করা না গেলে ঢাকাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নদী দখল ও দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘তুরাগ নদী নিয়মিতভাবেই দখলের শিকার হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগকে দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এই নদীগুলোকে বাঁচানো না গেলে ঢাকা শহরকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকার বর্তমান সমস্যাগুলো একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার কারণে এসব সংকট জমেছে। বর্ষা মৌসুম এলেই রাজধানীতে সেই সমন্বয় সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশের অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্র ঢাকা। সময়ের সঙ্গে নগরায়ণ, জনসংখ্যা ও বর্জ্যের পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু নাগরিক সচেতনতা সেই অনুপাতে বাড়েনি। উন্নত দেশে মানুষ একটি চকলেটের মোড়ক ফেলতেও ডাস্টবিন খোঁজে। এ ধরনের অভ্যাস ও মানসিকতা আমাদের মধ্যেও গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য সরকার নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজধানীকে বাসযোগ্য করে তোলার বিকল্প নেই। ঢাকাকে গড়ে তোলার কাজে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, নাগরিক দায়িত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিএনপি-জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, রাজধানীর উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু সেমিনার করলেই হবে না, বাস্তব কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে হবে। গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো এলাকায় শিক্ষিত ও সচেতন মানুষের বসবাস বেশি। তাদের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্কুল পর্যায় থেকেই পরিবেশ ও নাগরিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা জোরদার করতে হবে।’

সড়ক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর পর সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে আইন লঙ্ঘনের প্রবণতাও কমছে এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।’

কালের আলো/এসআর/এএএন

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তদন্তে কমিটি

কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তদন্তে কমিটি

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপনে সংগঠিত হয়ে দেশব্যাপী নৈরাজ্যের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন এমন অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন।

কমিটিকে আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে ইবির ৪৪ জন শিক্ষকের নাম এসেছে।

গত বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই, অভিযোগে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের শনাক্ত, প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কমিটি কাজ করবে।

কমিটির প্রধান করা হয়েছে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান (আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ), অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম (আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. সাদাত হোসেন।

সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক ইসরাফিল হক।

অফিস আদেশে অভিযোগে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বাস্তবতা অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে টেলিগ্রামভিত্তিক একটি গোপন গ্রুপের মাধ্যমে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এ নেটওয়ার্কের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামানকে সভাপতি এবং ড. মাহবুবর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টেলিগ্রাম গ্রুপটির ২৮ পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট থেকে ৪০৩ জন শিক্ষকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। আরও কয়েকজন সদস্য সাংকেতিক নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষকের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. মাহবুবর রহমান, কে এম শরফ উদ্দিন, শারমিন সুলতানা, অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক ড. সেলিনা নাসরিন, ড. মিজানুর রহমান, নাসিরুল হক, শফিকুল ইসলাম, ড. আজরান আজমী, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, জয়, ড. তহিদুর রহমান, অঞ্জন কুমার রায়, অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন, আলতাফ রাসেল, মিনহাজুল হক, ড. আসাদুজ্জামান, আফরোজা সাথী ও অধ্যাপক ড. মাহবুব শুভ।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কয়েকজন শিক্ষক সাংকেতিক পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তালিকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য, দুজন উপ-উপাচার্য, দুজন ট্রেজারার এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও শিক্ষকের নাম রয়েছে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ জন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ জন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ জন এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষক এ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। বরং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত, বয়কট বা প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার শিক্ষকদের সাংবিধানিক অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।

তিনি দাবি করেন, সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই করা হয়েছে। তাই এটিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘পূর্ববর্তী প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের আদর্শিক অনুসারীরা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে এবং তার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভূমিকা, প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

সেই সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করার তাগিদ প্রতিমন্ত্রী নুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করার তাগিদ প্রতিমন্ত্রী নুরের

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, দেশের প্রশাসনকে এখনো পুরোপুরি জনবান্ধব (প্রো-পিপল) হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। অফিস-আদালতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং প্রশাসনকে আরও সেবামুখী করতে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর ওপর জোর দেন তিনি।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা অফিস কিংবা হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রায়ই সঠিক দিকনির্দেশনা না পেয়ে চরম ভোগান্তি ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হন।

তাই প্রশাসনকে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত (টপ টু বটম) জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট করতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, ভিসা-সংক্রান্ত প্রতারণা এবং বিমানবন্দরে নানা ধরনের হয়রানি দূর করতে বড় কোনো বাজেটের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছার।

তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে খুব শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। এ কার্ডধারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার সুবিধা পাবেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল ও বেতন গ্রেড উন্নীত করার দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমান বাজারদর ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন ২০ হাজার টাকা হওয়া উচিত।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমনের আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিদের বেতন-ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করা জরুরি। বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের আটটি বিভাগে আটটি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় লুটপাটের তুলনায় এ খাতে বিনিয়োগ খুবই সামান্য। বর্তমান সরকার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে।

সম্প্রতি সচিবালয় ঘেরাওয়ের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে নুরুল হক নুর বলেন, মাত্র পাঁচ থেকে ছয় মাসের একটি সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা আত্মঘাতী। যেকোনো দাবি আদায়ে প্ররোচনায় পা না দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে স্মারকলিপি প্রদান এবং আলোচনার মাধ্যমে দাবি উপস্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিএনপির কপাল খারাপ সব সময় ধ্বংসস্তূপের ওপর ক্ষমতায় যায়: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
বিএনপির কপাল খারাপ সব সময় ধ্বংসস্তূপের ওপর ক্ষমতায় যায়: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির কপাল খারাপ, সব সময় একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর বিএনপি ক্ষমতায় আসে। উত্তরাধিকার সূত্রে বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই ধ্বংসস্তূপ পায়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল হলিডে ইন-এ টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত সরকার একটাও গ্যাস এক্সপ্লোরেশন করেনি, আমদানি নির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করেছে।

বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে খাতটিকে ধ্বংস করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোকে এখন ঠিক করতেই সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের চর্চা নিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র হলো মূলত এক ধরনের সংস্কৃতি। আমাদের চিন্তা ভাবনা ও চলাফেরার মধ্যে এর প্রতিফলন না থাকলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

দেশে পরমতসহিষ্ণুতা বা ট্রলারেন্স বজায় রাখতে হবে। সরকারের সমালোচনা করার পাশাপাশি তাদের কাজ করার সময়ও দিতে হবে। গণমাধ্যমকে তার নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো মজবুত করতে হবে।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় সাংবাদিক মোস্তফা আকমল বলেন, গণতন্ত্র কেবল ভোটাধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের নির্ভয়ে সত্য জানার অধিকার রক্ষার ওপরই এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। গত দেড় দশকে রাজনৈতিক চাপ, ডিজিটাল আইনের প্রয়োগ ও নজরদারির কারণে দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে সরকারের মুখপত্র না ভেবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠনের অংশীদার বিবেচনা করা উচিত। নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা, অবাধ তথ্যপ্রবাহ এবং ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য রোধে জাতীয় পর্যায়ে সুসংহত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ তৌহিদুল ইসলাম, এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ফকরুল আলম কাঞ্চন, মাইটিভির প্রধান সম্পাদক মাহমুদ আল হাসান, মোহনা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক রাশেদুল হক, স্টার টেলিভিশনের সিইও মোকসেদুল করিম বাবু, আখতারুজ্জামান বাবু, সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল এবং ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি