খুঁজুন
                               
, ,
           

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হচ্ছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হচ্ছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলালের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলাল জানতে চান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা গণহত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের তালিকা প্রণয়নের কোনো পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না।

একই সঙ্গে শহিদ পরিবারের সঠিক সংখ্যা ও গণহত্যার একটি নির্ভুল তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ রয়েছে কি না, থাকলে তা কবে থেকে শুরু হতে পারে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার এত বছর পরও তাদের একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। অথচ তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে দেশের স্বাধীনতা।
তিনি বলেন, বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ওই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা এবং একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। সেই কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতেই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গণহত্যার শিকার ব্যক্তি এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন সম্ভব হবে। পাশাপাশি তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা যাবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

পল্লবীতে সন্ত্রাসীর গুলিতে মাদক কারবারি আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
পল্লবীতে সন্ত্রাসীর গুলিতে মাদক কারবারি আহত

রাজধানীর মিরপুর পল্লবী এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ‘আলমগীর’ নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মিরপুরের মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি হাসান বসির বলেন, ‘ঘটনা সঠিক। গুলিতে আলমগীর নামে একজন আহত হয়েছেন। তবে আমরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে পাইনি। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন।’

তবে কে বা কারা গুলি করেছে তা তিনি জানাতে পারেনি। আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলেও জানান ওসি।স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজন মিলে মিল্লাত ক্যাম্পে এসে আলমগীরকে প্রকাশ্যে গুলি করে পালানোর চেষ্টা করেন।

এসময় মোটরসাইকেলটি আটকও করা হয়। কিন্তু পরে এলাকাবাসী ভয় পেয়ে তাদের ছেড়ে দেন। এরপর তাদের একজন পুলিশে খবর দিলে সেখানে ‍পুলিশ আসে। কিন্তু কাউকে আটক করতে পারেনি।

জানা গেছে, গুলিতে আহত হওয়া আলমগীর ‍পুরান ঢাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

ভারত থেকে ২ দশমিক ৩ মেট্রিক টন টিয়ার গ্যাস আমদানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
ভারত থেকে ২ দশমিক ৩ মেট্রিক টন টিয়ার গ্যাস আমদানি

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্য বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ২ দশমিক ৩ মেট্রিক টন টিয়ার গ্যাস শেল আমদানি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় চালানটি বন্দর থেকে খালাস করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে যশোর ক্যান্টনমেন্টে পাঠানো হয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নরেন্দ্র এক্সপ্লোসিভ লিমিটেড ১৪৫টি কাঠের বাক্সে করে টিয়ার গ্যাস শেলের চালানটি বাংলাদেশে পাঠায়। চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিনসিয়ার ইন্টারন্যাশনাল।

খালাস শেষে ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-৩৭৫৩ নম্বরের একটি কাভার্ড ভ্যানে করে চালানটি যশোর ক্যান্টনমেন্টে পাঠানো হয়। সেখানে সংরক্ষণের পর আগামী ৯ আগস্ট ঢাকার উদ্দেশে পাঠানোর কথা রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্য ভারত থেকে ২ দশমিক ৩ মেট্রিক টন টিয়ার গ্যাস শেল বেনাপোল বন্দরে এসেছে। বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় শুল্ক ও আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করে চালানটি খালাস দেওয়া হয়েছে। এটি যশোর ক্যান্টনমেন্টে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৯ আগস্ট সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, রোববার চালানটি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় (বিওএফ) পাঠানো হবে।

চালানটির নিরাপত্তায় বেনাপোল বন্দর থেকে শার্শা পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পরে শার্শা থেকে যশোর সেনানিবাস পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বাঁশখালীতে বন্যায় ঘর হারানো ১০০ পরিবারকে ঘর দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
বাঁশখালীতে বন্যায় ঘর হারানো ১০০ পরিবারকে ঘর দেবেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ঘর হারানো ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। আগামী রোববার বাঁশখালী সফরে গিয়ে এসব পরিবারের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় প্রস্তুতি চলছে। সেখানে দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণসহ অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তা-ব্যবস্থা ও নির্মাণাধীন ঘরগুলো পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে বাঁশখালী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায়সহ মাটির ঘরে বসবাসকারী অনেক পরিবারের ঘর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে ১০০টি পরিবারকে ঘর দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। যেসব পরিবারের ঘর বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে এবং নতুন করে ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। এতে দুটি কক্ষ থাকবে। এর সঙ্গে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি সংযুক্ত শৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ঘর নির্মাণে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ঘরের নকশা, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। বরাদ্দ পাওয়ার পর দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজের মান নিশ্চিত করতে ঘরগুলো তদারকির জন্য আলাদা দল গঠন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। জেলা প্রশাসকও কয়েক দিন ধরে নির্মাণাধীন ঘর ও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করছেন।

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শুধু ঘর নির্মাণ করে দেওয়াই লক্ষ্য নয়, উপকারভোগীরা যেন এসব ঘরে দীর্ঘদিন নিরাপদে বসবাস করতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য প্রতিটি ঘরের নির্মাণকাজ আলাদাভাবে তদারকি করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে স্বামীহারা এক নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন। সন্তান নিয়ে বসবাস করা ওই নারীর হাতে চাবি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতীকীভাবে ১০০টি পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হবে।

এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য বাঁশখালীর একাধিক স্থান পরিদর্শন করা হয়েছিল বলে জানান জেলা প্রশাসক। বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিরাও সম্ভাব্য স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। তবে বন্যায় বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় খোলা জায়গার অভাবে সেসব স্থান উপযুক্ত বিবেচিত হয়নি। পরে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকাটি নির্বাচন করা হয়।

সেখানে পাশাপাশি দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। হেলিপ্যাড থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ঘর হস্তান্তরের নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত নতুনভাবে পরিচিতি পাবে বলে তারা আশা করছেন। সৈকতটি দেশ-বিদেশে পরিচিত হলে জেলে সম্প্রদায়-অধ্যুষিত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর বাবুনগর মাদরাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মাদরাসার শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। এরপর হাটহাজারীতে গিয়ে কবর জিয়ারত এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যেও সহায়তা বিতরণ করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, মঞ্চ, প্যান্ডেল, হেলিপ্যাড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সব প্রস্তুতি শনিবার দুপুরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি