টেকনাফ উপকূলে ভেসে আসছে একের পর এক মরদেহ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে আরও এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত ১২ দিনের ব্যবধানে টেকনাফ উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হলো। ধারাবাহিকভাবে মরদেহ ভেসে আসার ঘটনায় সমুদ্রপথে মানবপাচার কিংবা মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন বিজিবি বিওপির সামনে নাফ নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সনজীব জানান, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহটির চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। মৃত ব্যক্তির পরনে গাঢ় নীল রঙের হাফ প্যান্ট ও হালকা সবুজ রঙের জার্সি ছিল। মুখে হালকা দাড়ি-গোঁফ রয়েছে এবং বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে পারে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ নৌ পুলিশের এসআই সুমন চন্দ্র নাথ বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি নাকি রোহিঙ্গা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, মালয়েশিয়াগামী দুটি নৌকা বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করা দুটি নৌকায় মোট পাঁচ শতাধিক যাত্রী ছিলেন, যাদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কিছু বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিলেন।
এর আগে ৮ জুলাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্ট মার্টিন ও রাজারছড়া সৈকত থেকে তিন অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ১০ জুলাই শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন সৈকত থেকে একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক ট্রলারডুবির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগে বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের মতে, কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কারণে নাফ নদী ও উপকূলীয় এলাকায় আরও মরদেহ ভেসে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array