ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইল কাতার
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের ভূখণ্ডে ও জলসীমায় সাম্প্রতিক হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে কাতার সরকার।
কাতারি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, চিঠিতে গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে হরমুজ প্রণালির কাছে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাঙ্কার ‘আল রেকেয়াত’-এর ওপর ইরানের চালানো হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও গত ১২ জুলাই এবং ১৭ জুলাই কাতারের মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে চালানো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে কাতার কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে প্রতিহত করলেও ১২ জুলাইয়ের ঘটনার সময় ওপর থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক শিশুসহ তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।
ইরানের এই হামলাগুলো জাতীয় সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন, ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবগুলোর চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে কাতার সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য সম্পূর্ণ আইনি দায় তেহরানের এবং তারা সমস্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।
তবে সাম্প্রতিক হামলায় ঠিক কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা উল্লেখ করেনি কাতার কর্তৃপক্ষ।
ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চাওয়ার পাশাপাশি, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কাতার যেকোনো উপযুক্ত জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে বলে চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।
চিঠিতে কাতার বলেছে, ‘নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তারা দ্বিধা করবে না।’
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের এই আক্রমণগুলো কাতারকে লক্ষ্য করে নয়, বরং সেখানে থাকা ‘মার্কিন সামরিক স্বার্থ ও ঘাঁটি’ ধ্বংস করার জন্য চালানো হয়েছে।
ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যেসব দেশ নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করতে দিচ্ছে, তাদের মার্কিন আগ্রাসনের সহযোগী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর জন্য তাদেরকে ‘ভারী মূল্য দিতে হবে’।
তবে ইরানের এই যুক্তি কাতার সরকার সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে সাম্প্রতিক ফোনালাপে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি বলেছেন, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের বিমানবন্দর, বেসামরিক আবাসিক এলাকা এবং কাতারের মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি এলএনজি (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্রের অত্যন্ত কাছাকাছি আঘাত হেনেছে। ফলে এটিকে কাতারের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবেই বিবেচনা করছে দেশটি।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ


পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, তিনি সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি অন্যান্য কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেছেন। রয়্যাল থাই পুলিশের সহায়তায় ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর আয়োজনে দুই (২০-২১ জুলাই) দিনব্যাপী এ সম্মেলন আজ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
Array