খুঁজুন
                               
, ,
           

মানব পাচারকারীদের প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
মানব পাচারকারীদের প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

অবৈধভাবে প্রতারণার চক্র হিসেবে যারা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের উদ্দেশ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, প্রত্যেককে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন এজেন্সি নজরদারি করছে। রেহাই পাওয়ার সুযোগ নাই। সুতরাং আপনারা যদি এখনও এগুলো বন্ধ না করেন তাহলে আপনাদের কপালে শনির দশা আছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনলাইন কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার প্রসেস নিয়ে আমাদের ডিসকাশন চলছে যে, কী প্রক্রিয়ায় এখানে লোক পাঠানো হবে। বিগত দিনের বিতর্কিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে আমরা একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কম খরচে আমাদের বাংলাদেশিদের যাতায়াতের একটি পথ তৈরি করতে চাই। তার আগে দেখছি যে, টাকা নেওয়ার জন্য লাইন দেওয়া, সিরিয়াল করা, এগুলোর বিজ্ঞাপন চলছে। এটা তো স্পষ্টত অভিবাসী আইনের বিরুদ্ধে। কারণ মন্ত্রণালয়ের অথরাইজেশন ছাড়া বিজ্ঞাপন দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এটাকে সিম্পলভাবে নেওয়ার সুযোগ নাই। কারণ আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একটা কয়েক সেকেন্ডের কন্টেন্ট মিলিয়ন মানুষের কাছে কিন্তু পৌঁছে যাচ্ছে।

নুরুল হক বলেন, শুধু এটা না, তারা তো ইউরোপের রুটে পৌঁছে দেওয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এখানে আমাদের বড় নজরদারি করতে হবে এবং যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি আমাদের মন্ত্রণালয়ের বিশেষ করে অন্যান্য দফতরেও যারা কাজ করছেন তাদেরও দায়িত্ব আছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণের জন্য ঘুষ দেওয়া লাগে। এমন অনেক অভিযোগ আমরা পাই। এখানে তো গরিব মানুষ লোন নেয়, এখানে কেন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা চাওয়া হবে? ঢাকা ও ঢাকার বাইরে এটা হচ্ছে। সুতরাং এটাও স্পষ্ট বন্ধ করতে হবে। মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের কিংবা শ্রমবাজারে মানুষকে শোষণ করার বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ৪৯টা এবং রাশিয়ার একটি কেসে আরও কয়েকটা রিক্রুটিং এজেন্সিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি খুব কনফিডেন্টলি বলছি, ৩ হাজারের মতো যে রিক্রুটিং লাইসেন্স আছে, এগুলোকে শৃঙ্খলায় নিয়ে আসতে হবে। ৪০০-৫০০’র বেশি লাইসেন্স কি ঠিক? তাহলে এতগুলো কেন দেওয়া হচ্ছে? এসব নামে-বেনামে লাইসেন্স প্রতারণা করে। এমনকি তাদের কন্ডিশন থাকে যে, তিন বছরে ১০০ লোক পাঠানো, অনেক লাইসেন্স পারে না। এই অজুহাত দিয়ে আবার এটাকে নবায়ন করে নেয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে ১২ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা লাগে, আই ডোন্ট নো। এই অতিরিক্ত টাকা তো সিঙ্গাপুর নেয় না। ছয়টা ট্রেনিং ইনস্টিটিউটকে অথরাইজেশন করেছে, তারা চার্জ নিচ্ছে, সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করছে। তারা শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে আর গরিবের রক্ত চুষে নিচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে

প্রথমবার লটারিতে গণপূর্তের ৭৬৭ প্রকৌশলীর বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
প্রথমবার লটারিতে গণপূর্তের ৭৬৭ প্রকৌশলীর বদলি

উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিশীলতা আনতে বদলী ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি।

সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুষ্ঠু মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে।

এ লটারিভিত্তিক বদলি কার্যক্রমের মাধ্যমে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর-সংস্থায় বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচার পূর্ত ভবনের সম্মেলন কক্ষে দেশের আটটি বিভাগের ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল)-এর পদায়নের স্থান ও শাখা লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। পুরো লটারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম।

লটারির ফলাফলের ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে ৩১৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ৭৪ জন, বরিশাল বিভাগে ৪৪ জন, সিলেট বিভাগে ৩৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৯ জন এবং রংপুর বিভাগে ৬৪ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে পদায়ন করা হয়েছে।

এসব উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় কার্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় পদায়ন করা হয়েছে।

লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম বলেন, লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার ফলে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর, আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতির সূচনা হলো।

লটারিভিত্তিক বদলি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসান বলেন, প্রথমবারের মতো এ ধরনের লটারিভিত্তিক বদলি কার্যক্রম প্রকৌশলীদের মধ্যে আস্থা, সমতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, যুগ্মসচিব ফৌজিয়া খান, উপসচিব খান মো. নাজমুস শোয়েব, উপসচিব মো. আবু নাছের, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের, আশরাফুল হক, মো. আলমগীর খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অন্যান্য প্রকৌশলী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী সপ্তাহে একই পদ্ধতিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের বদলি কার্যক্রমও লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

সাবেক সাংবাদিক ও পর্নো তারকা এখন কলম্বিয়ার সিনেটর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
সাবেক সাংবাদিক ও পর্নো তারকা এখন কলম্বিয়ার সিনেটর

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যারা কনটেন্ট নির্মাণ করেন, তাদের অধিকার আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পার্লামেন্টের সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক এক পর্নো তারকা। কলম্বিয়ার সংবাদমাধ্যম লা ওপিনিয়ন বলেছে, পর্নো জগতে আমারান্তা হ্যাঙ্ক নামে পরিচিত দেইসি আলেহান্দ্রা ওমানিয়া ওরতিজ গত সোমবার বোগোতায় বামপন্থী জোট হিস্টোরিক প্যাক্টের সিনেটর হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

৩৩ বছর বয়সী ওরতিজ পেশায় সাংবাদিক ছিলেন। ২০১৭ সালে সাংবাদিকতা ছেড়ে পর্নো জগতে পা রাখেন তিনি। এর দুই বছর পর সেই পর্নো দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে দেশটির বামপন্থী রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি।

গত মার্চে কলম্বিয়ার নরতে দে সান্তানদার অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ওরতিজ। বর্তমানে দেশটির প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট নির্মাতাদের সামাজিক সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণার একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ভুল তথ্য, কুসংস্কার এবং দ্বিমুখী নীতির কারণে কেউই এই খাতকে নিয়মের আওতায় আনার কথা বলেনি। আর এ কারণেই এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারীরা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’’

সাবেক পর্নো তারকাদের নির্বাচনে লড়াই করা উচিত নয় বলে যারা সমালোচনা করেছিলেন, তাদের কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি।

ওরতিজ বলেন, ‘‘অ্যাডাল্ট ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা একজন নারী কেন জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো পদে আসার স্বপ্ন দেখতে পারবেন না?’’

এ বিষয়ে সাবেক পর্নো তারকা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইলোনা স্ট্যালারের উদাহরণ টানেন তিনি। ইলোনা ১৯৭০–এর দশকে তার ‘ভুলে-ভু কুশে আভে মোয়া?’ রেডিও শোর মাধ্যমে খ্যাতি লাভ করেছিলেন এবং পরে ইতালির আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হন।

ওরতিজ বলেন, ‘‘আমার ওই অভিজ্ঞতা আমাকে বৈষম্য, স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং জনমুখী অর্থনীতি বুঝতে সাহায্য করেছে। এই বিষয়গুলোকেই আমি এখন সরাসরি আইনসভার বিতর্কে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’’

‘‘মূল সমস্যা হলো আমাদের সমাজ অ্যাডাল্ট সিনেমা দেখে ঠিকই, কিন্তু ক্ষমতার জায়গাগুলোয় আমাদের কথা বলার সুযোগ দিতে চায় না।’’

কলম্বিয়ার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর দল ‘হিস্টোরিক প্যাক্ট’ ২৫টি আসনে জয় পেয়ে দেশটির সিনেটের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দলটির প্রার্থী তালিকায় ২৩তম স্থানে থাকার সুবাদে নির্বাচিত হন ওরতিজ।

নির্বাচনে জয়ের পর তিনি বলেন, ‘‘আমি আমার মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন অনুভব করছি।’’

ওরতিজ মানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধের পদক্ষেপ নিয়েও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‘একটি রাজনৈতিক পালাবদল চলছে, যার এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো না কোনোভাবে সেই পরিবর্তনের পথচলা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।’’

পেত্রোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় আইনি নিষেধাজ্ঞা ছিল। দেশটির রক্ষণশীল রাজনীতিক অ্যাবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা আগামী ৭ আগস্ট কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট।

কালের আলো/এম/এএইচ

ককরোচ জনতা পার্টি এখন কী করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
ককরোচ জনতা পার্টি এখন কী করবে

ভারতের শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর বিক্ষোভ স্থগিত হলেও পরিস্থিতির উত্তেজনা একেবারে কমে যায়নি। সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে নতুন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে আন্দোলনকারী দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু হাজির করা হয়নি।

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ও সংসদ স্ট্রিটে কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র ছাত্র বিক্ষোভের জেরে গত শনিবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং এর ফলে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনার

প্রতিবাদে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডানপন্থি সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। বিশ্লেষকরা একে মোদির শক্তিশালী ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন।

গত শনিবার সিজেপি নেতারা ও সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে কোনও বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানো হবে না এবং বিদ্যমান মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে।

কিন্তু সোমবার সিজেপি অভিযোগ করে, মোদি সরকার সেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে। দলটির দাবি, বিভিন্ন রাজ্যে শত শত শিক্ষার্থীকে আটক বা হয়রানি করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এছাড়া শনিবার বিহারে পুলিশের গুলিতে তিনজন বিক্ষোভকারী আহত হন।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল, প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের জেরে আত্মহত্যা করা প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থীর পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং কোনও ফৌজদারি মামলা না রাখা। সরকার নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ সম্ভব ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে।

তবে গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলে পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) লাঠিচার্জে শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও ক্ষমা চাওয়া হয়নি। সিজেপি নেতারা ভিডিও ফুটেজ দেখে ওই পুলিশ সদস্যদের আদালতে টেনে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

ভারতের প্রধান বিচারপতির বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’ বা ‘পরজীবী’ বলা মন্তব্যের সূত্র ধরে গত মে মাসে জন্ম নেয় সিজেপি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দলটির মূল চালিকাশক্তি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সিজেপি নেতারা এখনও স্পষ্ট কোনও রোডম্যাপ দেননি। দলের সদস্য সুধীর সাঙ্গওয়ান জানান, তারা এখন বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। দলটির মুখপাত্র বৈষ্ণবী গৌর জানিয়েছেন, তারা কেবল শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং বৃহত্তর এজেন্ডা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যাবেন এবং টাউনহল বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান খুঁজবেন।

তবে আন্দোলনের সাফল্যের পর প্রথম  প্রকাশ্য বার্তায় ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে এক ভিডিওতে ৩০ বছর বয়সী দিপকে ৩৭ দিনের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, পুরো সময়টা সত্যিই খুব কঠিন ছিল। এই সাফল্যই শেষ নয়। এটা তো সবে শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির এখনও অনেক দূর পথ পাড়ি দিতে হবে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অসীম আলীর মতে, এই নেতাদের রাজনৈতিক পটভূমি না থাকায় তাদের কোনও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেই।

এই পরিস্থিতিতে মাঠে নেমেছে বিরোধী দলগুলোও। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গত ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো তুলে ধরেন।

এদিকে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অখিলেশ যাদব ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে “নতুন প্রজন্মের বড় বিজয়” হিসেবে অভিহিত করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত এখান থেকে শিক্ষা নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আর প্রশ্ন ফাঁস না হয় এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।

সূত্র: আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি