খুঁজুন
                               
, ,
           

সাজাপ্রাপ্ত আসামির মন্তব্যের জবাব দেওয়ার সময় সরকারের নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
সাজাপ্রাপ্ত আসামির মন্তব্যের জবাব দেওয়ার সময় সরকারের নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, একটি নিষিদ্ধ সংগঠন এবং সেই সংগঠনের প্রধান—যিনি বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি—তিনি কোথায় কী বলছেন, তার জবাব দেওয়ার মতো সময় বাংলাদেশ সরকারের নেই।

সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, আগামী ৫ আগস্ট দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে, যেখানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন। আয়োজক ক্লাবের সভাপতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এতে ভারত সরকারের কোনো আপত্তি নেই।

প্রকাশ্যে এমন একটি অনুষ্ঠান হওয়ায় বাংলাদেশ কি কোনো আপত্তি জানাবে?’

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটি নিয়ে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। আমরা কার কাছে আপত্তি জানাব? ভারতের কাছে? একটি নিষিদ্ধ সংগঠন এবং সেই সংগঠনের প্রধান—যিনি বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি—তিনি কোথায় কী বলছেন, তার জবাব দেওয়ার মতো সময় বাংলাদেশ সরকারের নেই।

তবে আমরা যেটা লক্ষ্য করছি, ভারত সরকারও সম্প্রতি একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে যে, তারা আশা করে না কোনো পলাতক আসামি সেখানে বসে রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে এবং ভারত সরকার তা সমর্থনও করে না। আর এই অনলাইন মিটিং বা অনুষ্ঠানের বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান কী, সেটি তাদেরই পরিষ্কার করতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর আমাদের নতুন সরকার সবসময়ই বলেছে যে, পলাতক আসামিরা যদি সেখান থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয় বা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তবে তা কাম্য নয়। আমরা চাই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও উন্নত হোক। সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত আমাদের নতুন হাইকমিশনার এসেছেন, তার সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

আমরা ভারতের সঙ্গে একটি দূরদর্শী (ফরোয়ার্ড-লুকিং) দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোচ্ছি। এই সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হোক—তা আমরাও চাই না, এবং আমার গভীর বিশ্বাস, ভারতও তা চায় না। সুতরাং, তারা এই অনুষ্ঠানকে সমর্থন দিচ্ছে কি না, তা ভারতকেই পরিষ্কার করতে হবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—‘তাহলে কি ৫ আগস্ট পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বা সরকারি মাধ্যমে আপনারা ভারতের কাছে কোনো প্রতিবাদ বা ব্যাখ্যা চাইবেন না?’ জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি তো আর ভারত সরকার আয়োজন করছে না।’

সাংবাদিকরা আবার বলেন, ‘কিন্তু অনুষ্ঠানটি তো ভারতেই হচ্ছে।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনুষ্ঠান ভারতে হচ্ছে ঠিকই, তবে সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে আমরা তাদের সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—‘এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার একটি কড়া বার্তা দিয়েছিল—ভারতের মাটি ব্যবহার করে পলাতক বা সাজাপ্রাপ্ত কেউ যেন কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে না পারে। হাইকমিশনারকে ডেকে এনে একটি পত্রও ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই বিষয়টি কি অব্যাহত থাকবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও বহুবার তাদের বলেছি এবং লিখিতভাবেও দিয়েছি। তাদের সঙ্গে আমাদের যখনই কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হচ্ছে, আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করছি। যেহেতু তারা বর্তমানে ভারতে আশ্রিত বা পলাতক অবস্থায় আছে, তাই বিষয়টি ভারত সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে। এটি বাংলাদেশ সরকারের মাথাব্যথা নয়।’

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—আরেকটি বিষয়, ‘এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলো কি আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে?’

জবাবে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘করতে পারে, অবশ্যই করতে পারে। তবে আমরা তো সেটা চাচ্ছি না। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষও চায় না এবং সরকারও চায় না যে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেতিবাচক হোক। আমরা চাই সম্পর্ক আরও উন্নত হোক এবং তা উন্নতির দিকেই যাচ্ছে। আমি আশা করি, বিষয়টি মাথায় রেখেই ভারত ভবিষ্যতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়—‘ভারতের একটি সংসদীয় কমিটি সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে, যেখানে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব, সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জায়গা থেকে এ বিষয়ে কী বলবেন?’

তখন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। এখানে এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত, যা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আমি এই মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার প্রথম দিনই বলেছিলাম—বাংলাদেশ এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে বাংলাদেশ সবার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখবে।

দেশের মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে আমরা চাই সব দেশ এখানে বিনিয়োগ করুক। বর্তমান সরকারের যে ইশতেহার রয়েছে, তা বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। এর জন্য ভারত, চীনসহ সব দেশের সঙ্গেই আমাদের যোগাযোগ, ব্যবসায়িক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় থাকবে।’

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

হরমুজে চলাচলকারী জাহাজে নতুন ফি আরোপের পথে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৭ পূর্বাহ্ণ
হরমুজে চলাচলকারী জাহাজে নতুন ফি আরোপের পথে ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ফি নেওয়ার বিধান রেখে খসড়া আইনের একটি ধারা অনুমোদন করেছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিশন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত খসড়া আইনের তৃতীয় ধারায় হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক, পরিবেশগত, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বিমা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবার জন্য ফি আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।

কমিশনের মুখপাত্র হাসান কাশকাভি জানান, প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাওয়া দেশগুলোর জাহাজ থেকে এসব ফি নেওয়া হবে। ইরানি মুদ্রা রিয়াল অথবা তেহরান নির্ধারিত অন্য কোনো মুদ্রায় এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির নিজস্ব নিয়ম ও পরিস্থিতি রয়েছে। খসড়া আইন তৈরির সময় প্রণালির তীরবর্তী দেশগুলোর অধিকারও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, খুব শিগগিরই ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ‘নতুন পর্যায়’ শুরু হতে পারে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জনসন দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সফল হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি

জুলাই-জুন নয়, এপ্রিল-মার্চ হবে নতুন অর্থবছর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
জুলাই-জুন নয়, এপ্রিল-মার্চ হবে নতুন অর্থবছর

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় রূপরেখা ও কর্মপন্থা নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

রোববার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের জন্য সংবিধান ও ‘জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭’-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনী পর্যালোচনা করবে কমিটি। পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিবর্তন এবং বাস্তবায়ন কর্মপন্থাও নির্ধারণ করা হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত সময়কে অর্থবছর হিসেবে ধরা হয়। তবে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর হবে এপ্রিল থেকে মার্চ। অর্থাৎ ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কে অর্থবছর হিসেবে গণনা করা হবে।

কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সভা আয়োজন করবে। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে অর্থ বিভাগ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন

হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত বিষয়গুলোতে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি জানানো হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, এ দায়িত্ব বণ্টনে প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুমোদন রয়েছে।

দায়িত্ব অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয়াবলি, অনিবাসী বাংলাদেশি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়ে কাজ করবেন।

অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণ, আইসিটি, সমুদ্র আইন ও সমুদ্রসম্পদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতির দায়িত্ব পালন করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে দুই প্রতিমন্ত্রীর কাজের ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করা হলো।

কালের আলো/এমএসআইপি