পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের সংলাপ রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। আর ভারত সরকার তাকে সেই কাজটি করতে দিয়েছে।
সোমবার (১০আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন তিনি।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
পরে সাংবাদিকরা জানতে চান, ৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে আমরা তো বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আগেও জানিয়েছিলাম, আমরা একটা চিঠিতে অসন্তোষ জানিয়েছিলাম। আজ এই বিষয়ে কথা হয়েছে কি না? আর তারা কি দুঃখ প্রকাশ করেছে?
এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, না, দেখুন এখানে দুঃখ প্রকাশের ব্যাপার নয় তো।
আপনাদের একটা জিনিস ভালো করে বুঝতে হবে যে আসলে কী হয়েছে। একটি রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ থাকে– নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ।
দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনার বিষয়টি এখন বিচার বিভাগের আওতাধীন। বাংলাদেশের একটি উপযুক্ত আদালত তার বিচার করে তাকে দণ্ড দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কী হয়? তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার যদি আত্মপক্ষ সমর্থনে কিছু বলার থাকে, তবে সেটা তিনি আদালতে বলবেন।
‘কিন্তু ৫ তারিখে হাসিনা যে কাজটি করেছেন, সেটি হলো বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি, তথা রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। আর ভারত সরকার তাকে সেই কাজটি করতে দিয়েছে। আমি গতকালকেও বলেছি, আমরা চাই সারা বিশ্বের সব দেশ আমাদের রাষ্ট্রের পুরো কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক। আমরা আশা করব, ভারত সরকার আমাদের এই বিষয়টি অনুধাবন করবে। আমার ধারণা, তাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
আমরা আশা করব, আমাদের রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে অবমূল্যায়ন করার মতো কোনো কাজ তারা আর করবে না। এটি আমাদের প্রত্যাশা। তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে, তাতে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত যে এই ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না।’
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, আমরা তো দেখছি আজ প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। তার আগেই সীমান্তে দুঃখজনকভাবে আবার হত্যার ঘটনা ঘটেছে… এগুলো নিয়ে কি আজ আলোচনা হয়েছে?
এ বিষয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এগুলো নিয়ে আমরা খুব সংক্ষেপে কথা বলেছি। এগুলো তো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার বিষয় নয়। এ নিয়ে গতকাল আমি তার (হাইকমিশনারের) সঙ্গে আলোচনা করেছি। যেহেতু আমরা অনুকূল পরিবেশের কথা বলছি, তাই গতকালই আমি এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছি।
মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আজ বেলা ১১টায় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়েছেন।
হাইকমিশনার গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশে তার অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। তিনি বাংলাদেশে এসে অত্যন্ত আনন্দিত, সে কথাও আমাদের জানিয়েছেন।
‘এছাড়া সংক্ষেপে আরও কিছু বিষয় আলোচনায় এসেছে। দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি উঠে এসেছে এবং আমরা এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য তাদের বলেছি। আমরা আশা করি, ভারত এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেবে।’
ড. খলিলুর রহমান বলেন, এছাড়া আপনারা জানেন, শহীদ হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা ধরা পড়েছে। ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল, আমরা তার সবকিছুই তাদের দিয়েছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয় এবং আমরা বলেছি, এই হত্যাকারীদের যেন যত দ্রুত সম্ভব আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করা হয়।
তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে অনুকূল পরিবেশ দরকার, সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টির ব্যাপারেও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মোটাদাগে এগুলোই ছিল আলোচনার বিষয়।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
Array