খুঁজুন
                               
, ,
           

নিজেদের অপকর্ম উধাও করল জামায়াত

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
নিজেদের অপকর্ম উধাও করল জামায়াত

১৯৪৭-এর দেশভাগ থেকে ২০২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের ইতিহাস নিয়ে করা আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ভূমিকা আড়াল করা হয়েছে। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা,জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনও শেষ হয় নাই’ শিরোনামে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইতিহাস থেকে উধাও করে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন দলটির ভূমিকা।

চার দিনব্যাপী ‘ইতিহাস বিকৃতির’ এ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর শেষ দিনে গতকাল দর্শনার্থীরা ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। প্রদর্শনীতে দেশভাগ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, একনায়কতন্ত্র, সামরিক স্বৈরশাসন, ফ্যাসিবাদ এবং সর্বশেষ জুলাই গণ অভ্যুত্থান নামে শতাধিক আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হলেও স্থান পায়নি তৎকালীন জামায়াত নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কোনো চিত্র।

অবশ্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে পাকিস্তান বাহিনীর নির্মম নির্যাতন, হত্যার দৃশ্য আলোকচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওই সময়কার নানান বৈঠকের সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

সঙ্গে যোগ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট। শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সময় পর্যন্ত একাধিক আলোকচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে ইতিহাস।

সেখানে কেবল নেই দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা। পাশাপাশি স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে নেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কোনো আলোকচিত্র। এমনকি বাদ দেওয়া হয়েছে সংসদীয় গণতন্ত্রব্যবস্থার অন্যতম প্রবর্তক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল।

আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা জামায়াতের এ কর্মকাণ্ডকে ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির বিতর্কিত ভূমিকা আড়াল করতেই যুদ্ধকালীন ৯ মাসের ইতিহাস থেকে নিজেদের উধাও করে দিয়েছে।

গতকাল সরেজমিনে আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সি দর্শনার্থীর ভিড়। মিরপুর থেকে আসা ফয়েজ নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘যদি জামায়াত ইতিহাস বিকৃত করে তাহলে তাদেরও ইতিহাস থেকে ফেলে দেবে এ দেশের সচেতন জনসাধারণ।’

স্বামীর সঙ্গে আসা গৃহবধূ মুসফিকা তাসনীম বলেন, ‘আলোকচিত্রে কেন এসব ইতিহাস নেই তা জামায়াত ভালো বলতে পারবে। এতে আমরা হতাশ হয়েছি। আবার একটু খুশি হয়েছি যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানকে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এত দিন শুনেছি জামায়াত শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগবিরোধী। অবশ্য ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে দলটি এসব বাদ দেয়নি।’ তবে এটাকে একটি অসম্পূর্ণ ইতিহাস বলে আখ্যায়িত করেন মুসফিকা।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জামায়াতকে কেন আড়াল করা হয়েছে-এমন প্রশ্নে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘একটি প্রদর্শনীতে সবকিছু তুলে ধরা যায় না। এতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জুলাই আন্দোলনকে। তাই ইতিহাসের অনেক কিছু আসেনি। কেবল যেসব বিষয় প্রাসঙ্গিক সেগুলো এসেছে।’

এ প্রসঙ্গে জামায়াতের কড়া সমালোচনা করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত আমাদের গুলি করেছে। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এ দেশটাকে তারা চায়নি। যুদ্ধে আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে, পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছে।’

জামায়াতকে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দলটি বারবার রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে কিন্তু তাদের চরিত্র পাল্টায়নি। তারা সাপের মতো এবং মুনাফেক। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে। আওয়ামী লীগ করেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। মূলত আওয়ামী লীগ ও জামায়াত মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। জামায়াতের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

একই প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও বিশ্লেষক মফিদুল হক বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছিল, সেটা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ। এটা বাদ দিয়ে কেউ ইতিহাসের বয়ান দিতে পারে না। আর এটা বলতে গেলে জামায়াতকে নিশ্চয় তাদের অবস্থানটা সুস্পষ্ট করতে হবে। এভাবে জামায়াত যদি মূল জায়গাতেই বিকৃত বয়ান হাজির করতে চায়, তাহলে তাদের পুরো রাজনৈতিক ইতিহাসে নিশ্চয় সেটার প্রতিফলন থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যে গণগত্যা হয়েছে তা মানবসভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়। আমরা তো সেটাকে কোনোভাবেই ভুলে যেতে পারি না। কোনো রাজনৈতিক দল যদি সেটা মুছে ফেলার বা বিকৃত করার চেষ্টা চালায়, তাহলে আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।’

সরেজমিনে আলোকচিত্রে দেখা যায়, ইতিহাসের শুরু হয়েছে ‘আজাদী : অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’ শিরোনাম দিয়ে। সেখানে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি পরিকল্পনাসংক্রান্ত পাঁচটি বৈঠকের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর পরই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানান চিত্র। ৭ মার্চে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের ছবিসহ ১২টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে।

এরপরই শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলকে ‘একনায়কতন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। চতুর্থ পয়েন্টে এইচ এম এরশাদের আমল তুলে ধরে বলা হয়েছে ‘সামরিক স্বৈরশাসক’ হিসেবে। এরপর ১৮টি আলোকচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে শেখ হাসিনার শাসনামল। সেখানে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্যাসিবাদ’। শেষ আলোকচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে জুলাই গণ অভ্যুত্থান। জামায়াতের ইতিহাসের বর্ণনায় ১৯৪৭ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা এলো, রাষ্ট্র বদলাল না।

জুলুমবাজ আইয়ুব ও ইয়াহিয়া খানের উত্থান হলো।’ ১৯৭১ সাল নিয়ে বলা হয়েছে, ‘দেশ স্বাধীন হলো, রাষ্ট্র বদলাল না। একনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের উত্থান হলো।’ ১৯৭৫ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘একনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের পতন হলো, রাষ্ট্র বদলাল না।’ ১৯৯০ নিয়ে বলা হয়েছে, ‘গণ অভ্যুত্থানে একনায়ক এরশাদের পতন হলো, রাষ্ট্র বদলাল না।’

২০০৯ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘নতুন সরকার এলো, রাষ্ট্র বদলাল না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার উত্থান হলো।’ ২০২৪ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থান হলো। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হলো। আবার ফ্যাসিবাদ?’

আলোকচিত্রে ‘আমাদেরকে পারতেই হবে, জুলাই এখনও শেষ হয় নাই’ শিরোনামে জামায়াত লিখেছে, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস মূলত একটি অসমাপ্ত বিপ্লবের ইতিহাস। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে প্রতিটি সংগ্রাম একেকটি নতুন স্বপ্নের জন্ম দিয়েছে।

কিন্তু রাষ্ট্রকাঠামো ও সংবিধানের মৌলিক সংস্কার না হওয়ায় বারবার ফিরে এসেছে ফ্যাসিবাদ ও একদলীয় কর্তৃত্ববাদ। ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই চক্র ভাঙার মোক্ষম সুযোগ।’ প্রশ্ন রেখে বলা হয়েছে, ‘আমরা কি পারব?’

সৌজন্যে: বাংলাদেশ প্রতিদিন

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ।

সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দিনাজপুরে চাকরির সুযোগের নতুন দুয়ার, মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেনের উদ্যোগে জব ফেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরে চাকরির সুযোগের নতুন দুয়ার, মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেনের উদ্যোগে জব ফেয়ার

একজন তরুণের হাতে মুঠোফোন বা মাদকের বদলে যদি থাকে খেলার সরঞ্জাম, সামনে থাকে নিয়মিত অনুশীলন আর লক্ষ্য থাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব—তাহলে বদলে যেতে পারে তার ভবিষ্যতের গতিপথ। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে সম্ভাবনাময় নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের এমন ভূমিকাই গুরুত্ব পেয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্যে। তাঁর ভাষায়, ‘মাদক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।’

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ‘জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে যুবসমাজই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। এদিন, মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা—একদিকে মাদক থেকে যুবসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া, অন্যদিকে তাদের প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করা।

  • তরুণদের কর্মসংস্থানে নতুন উদ্যোগ, বিরামপুরে জব ফেয়ার ২৭ অক্টোবর
  • নিবন্ধন করেছেন ১৬ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী, প্রত্যাশা ২০ হাজারের
  • দেশি-বিদেশি প্রায় ৮০ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, স্পট ইন্টারভিউ, তাৎক্ষণিক নিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব

মাদক থেকে দূরে রাখতে চাই বিকল্প ও সম্ভাবনার পথ
তরুণদের মাদকমুক্ত রাখার আলোচনা প্রায়ই সচেতনতা ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে মন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে তরুণদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত করার বিষয়টি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো গেলে শিশু-কিশোর ও তরুণেরা নিজেদের আগ্রহ ও প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র পাবে।

খেলাধুলা নিয়মশৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। কিন্তু এসব সুফল পেতে শুধু প্রতিযোগিতার আয়োজন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, দক্ষ প্রশিক্ষক, সহজলভ্য মাঠ ও ক্রীড়া অবকাঠামো এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক পরিচর্যা।

মন্ত্রী বলেন, তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বাড়াতে পারবে। এ বক্তব্যে মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।

‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নিয়ে প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ ধারায় পরিচালিত করতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির বিকাশে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ‘নতুন কুঁড়ি’ এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হয়েছে। সন্তানদের নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতে উৎসাহিত করতে অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে পরিবারের উৎসাহের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ক্রীড়াচর্চায় অংশগ্রহণের পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে।

দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব
মন্ত্রী বলেন, সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি চিন্তা ও কাজের শুরুতেই থাকতে হবে দেশ। তাঁর এই বক্তব্যে তরুণদের ব্যক্তিগত বিকাশের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্মিলিতভাবে লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

৫৯ ইভেন্টে লড়াই, অংশ নিলেন প্রায় ১,৬০০ প্রতিযোগী
দুই দিনব্যাপী ‘জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এ দেশের ৭৯টি দলের প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রতিযোগী অংশ নেন। মোট ৫৯টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন খেলোয়াড়েরা। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে মেডেল ও ট্রফি তুলে দেন মন্ত্রী। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক জাহিদ পারভেজ চৌধুরী, সোতোকান কারাতে দো ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হোসেন এবং বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি শাহজাদা আলম। এ ছাড়া ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়েরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

লঞ্চ আছে, তবু কেবিন সংকট বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
লঞ্চ আছে, তবু কেবিন সংকট বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলের প্রচলিত ‘রোটেশন পদ্ধতি’ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকা সত্ত্বেও সব লঞ্চ প্রতিদিন চলাচল না করায় কেবিন ও ডেকে জায়গা পাওয়া নিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, এই সংকটের সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের দাবি, জনস্বার্থে নৌপথে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু রোটেশন পদ্ধতির কারণে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী লঞ্চ না চলায় বিশেষ করে ছুটির দিন ও জরুরি প্রয়োজনে ঢাকামুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

চরফ্যাশন থেকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বেতুয়া-ঢাকা নৌপথ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ পথে পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকলেও রোটেশন পদ্ধতির কারণে প্রতিদিন সব লঞ্চ চলাচল করে না। লঞ্চমালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন এক থেকে দুটি লঞ্চ পরিচালিত হওয়ায় যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় আসন ও কেবিনের সংকট দেখা দেয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি জরুরি কাজে ঢাকায় যাতায়াতকারীদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে টিকিট ও কেবিন পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, টিকিট ও কেবিনের সংকটকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু কর্মচারী ও দালাল নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত টাকা দাবি করেন। অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি না হলে কেবিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট লঞ্চমালিক ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন মিয়া বলেন, এ এলাকা থেকে প্রতিদিন অনেক মুমূর্ষু রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। কিন্তু লঞ্চে কেবিন বা পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে রোগীদের ডেকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হয়। এতে অসুস্থ রোগীদের শারীরিক কষ্ট বাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ভুক্তভোগীদের মতে, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। তাঁদের দাবি, যাত্রীদের প্রয়োজন ও সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করা উচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোটেশন পদ্ধতি বন্ধ এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিগ্যাল নোটিশ ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। যাত্রীদের প্রতিবাদের মুখে মাঝেমধ্যে এ পদ্ধতি বন্ধ থাকলেও কিছুদিন পর আবার চালু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, সাময়িকভাবে পদ্ধতি বন্ধ রাখার পরিবর্তে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে ভোগান্তি কমাতে রুট পারমিটধারী লঞ্চগুলোর নিয়মিত চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। একই সঙ্গে কেবিন বুকিংয়ে স্বচ্ছতা আনা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

যাত্রীদের মতে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও জেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ডিজিটাল বা অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে টিকিটের কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও দালালদের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব হতে পারে। দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা চরফ্যাশনের স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি