খুঁজুন
                               
, ,
           

নিজেদের অপকর্ম উধাও করল জামায়াত

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
নিজেদের অপকর্ম উধাও করল জামায়াত

১৯৪৭-এর দেশভাগ থেকে ২০২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের ইতিহাস নিয়ে করা আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ভূমিকা আড়াল করা হয়েছে। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা,জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনও শেষ হয় নাই’ শিরোনামে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইতিহাস থেকে উধাও করে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন দলটির ভূমিকা।

চার দিনব্যাপী ‘ইতিহাস বিকৃতির’ এ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর শেষ দিনে গতকাল দর্শনার্থীরা ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। প্রদর্শনীতে দেশভাগ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, একনায়কতন্ত্র, সামরিক স্বৈরশাসন, ফ্যাসিবাদ এবং সর্বশেষ জুলাই গণ অভ্যুত্থান নামে শতাধিক আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হলেও স্থান পায়নি তৎকালীন জামায়াত নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কোনো চিত্র।

অবশ্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে পাকিস্তান বাহিনীর নির্মম নির্যাতন, হত্যার দৃশ্য আলোকচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওই সময়কার নানান বৈঠকের সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

সঙ্গে যোগ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট। শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সময় পর্যন্ত একাধিক আলোকচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে ইতিহাস।

সেখানে কেবল নেই দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা। পাশাপাশি স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে নেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কোনো আলোকচিত্র। এমনকি বাদ দেওয়া হয়েছে সংসদীয় গণতন্ত্রব্যবস্থার অন্যতম প্রবর্তক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল।

আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা জামায়াতের এ কর্মকাণ্ডকে ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির বিতর্কিত ভূমিকা আড়াল করতেই যুদ্ধকালীন ৯ মাসের ইতিহাস থেকে নিজেদের উধাও করে দিয়েছে।

গতকাল সরেজমিনে আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সি দর্শনার্থীর ভিড়। মিরপুর থেকে আসা ফয়েজ নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘যদি জামায়াত ইতিহাস বিকৃত করে তাহলে তাদেরও ইতিহাস থেকে ফেলে দেবে এ দেশের সচেতন জনসাধারণ।’

স্বামীর সঙ্গে আসা গৃহবধূ মুসফিকা তাসনীম বলেন, ‘আলোকচিত্রে কেন এসব ইতিহাস নেই তা জামায়াত ভালো বলতে পারবে। এতে আমরা হতাশ হয়েছি। আবার একটু খুশি হয়েছি যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানকে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এত দিন শুনেছি জামায়াত শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগবিরোধী। অবশ্য ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে দলটি এসব বাদ দেয়নি।’ তবে এটাকে একটি অসম্পূর্ণ ইতিহাস বলে আখ্যায়িত করেন মুসফিকা।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জামায়াতকে কেন আড়াল করা হয়েছে-এমন প্রশ্নে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘একটি প্রদর্শনীতে সবকিছু তুলে ধরা যায় না। এতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জুলাই আন্দোলনকে। তাই ইতিহাসের অনেক কিছু আসেনি। কেবল যেসব বিষয় প্রাসঙ্গিক সেগুলো এসেছে।’

এ প্রসঙ্গে জামায়াতের কড়া সমালোচনা করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত আমাদের গুলি করেছে। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এ দেশটাকে তারা চায়নি। যুদ্ধে আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে, পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছে।’

জামায়াতকে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দলটি বারবার রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে কিন্তু তাদের চরিত্র পাল্টায়নি। তারা সাপের মতো এবং মুনাফেক। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে। আওয়ামী লীগ করেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। মূলত আওয়ামী লীগ ও জামায়াত মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। জামায়াতের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

একই প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও বিশ্লেষক মফিদুল হক বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছিল, সেটা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ। এটা বাদ দিয়ে কেউ ইতিহাসের বয়ান দিতে পারে না। আর এটা বলতে গেলে জামায়াতকে নিশ্চয় তাদের অবস্থানটা সুস্পষ্ট করতে হবে। এভাবে জামায়াত যদি মূল জায়গাতেই বিকৃত বয়ান হাজির করতে চায়, তাহলে তাদের পুরো রাজনৈতিক ইতিহাসে নিশ্চয় সেটার প্রতিফলন থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যে গণগত্যা হয়েছে তা মানবসভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়। আমরা তো সেটাকে কোনোভাবেই ভুলে যেতে পারি না। কোনো রাজনৈতিক দল যদি সেটা মুছে ফেলার বা বিকৃত করার চেষ্টা চালায়, তাহলে আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।’

সরেজমিনে আলোকচিত্রে দেখা যায়, ইতিহাসের শুরু হয়েছে ‘আজাদী : অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’ শিরোনাম দিয়ে। সেখানে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি পরিকল্পনাসংক্রান্ত পাঁচটি বৈঠকের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর পরই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানান চিত্র। ৭ মার্চে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের ছবিসহ ১২টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে।

এরপরই শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলকে ‘একনায়কতন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। চতুর্থ পয়েন্টে এইচ এম এরশাদের আমল তুলে ধরে বলা হয়েছে ‘সামরিক স্বৈরশাসক’ হিসেবে। এরপর ১৮টি আলোকচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে শেখ হাসিনার শাসনামল। সেখানে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্যাসিবাদ’। শেষ আলোকচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে জুলাই গণ অভ্যুত্থান। জামায়াতের ইতিহাসের বর্ণনায় ১৯৪৭ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা এলো, রাষ্ট্র বদলাল না।

জুলুমবাজ আইয়ুব ও ইয়াহিয়া খানের উত্থান হলো।’ ১৯৭১ সাল নিয়ে বলা হয়েছে, ‘দেশ স্বাধীন হলো, রাষ্ট্র বদলাল না। একনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের উত্থান হলো।’ ১৯৭৫ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘একনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের পতন হলো, রাষ্ট্র বদলাল না।’ ১৯৯০ নিয়ে বলা হয়েছে, ‘গণ অভ্যুত্থানে একনায়ক এরশাদের পতন হলো, রাষ্ট্র বদলাল না।’

২০০৯ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘নতুন সরকার এলো, রাষ্ট্র বদলাল না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার উত্থান হলো।’ ২০২৪ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থান হলো। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হলো। আবার ফ্যাসিবাদ?’

আলোকচিত্রে ‘আমাদেরকে পারতেই হবে, জুলাই এখনও শেষ হয় নাই’ শিরোনামে জামায়াত লিখেছে, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস মূলত একটি অসমাপ্ত বিপ্লবের ইতিহাস। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে প্রতিটি সংগ্রাম একেকটি নতুন স্বপ্নের জন্ম দিয়েছে।

কিন্তু রাষ্ট্রকাঠামো ও সংবিধানের মৌলিক সংস্কার না হওয়ায় বারবার ফিরে এসেছে ফ্যাসিবাদ ও একদলীয় কর্তৃত্ববাদ। ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই চক্র ভাঙার মোক্ষম সুযোগ।’ প্রশ্ন রেখে বলা হয়েছে, ‘আমরা কি পারব?’

সৌজন্যে: বাংলাদেশ প্রতিদিন

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় তিনি আহত পুলিশ কর্মকর্তার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।

শাহ আলমের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা জেলার এ-সার্কেলে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন। পথে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবগঠিত রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কমিটির সাফল্য অর্জন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আলফাতুন নেছা পুতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা শাপলা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোছাঃ নার্গিস খাতুন এবং সদস্য মোছাঃ আশা মনি, মোছাঃ সুরাইয়া খাতুন ও আফরোজা আক্তার হাসি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের জট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্দরের অভ্যন্তরে অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরি, নিলাম এবং প্রয়োজনে ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এসব কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। পণ্যগুলোর ইনভেন্টরি বা মজুত তালিকা তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দায়িত্বে রাখা হবে।

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের তালিকা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং আমদানির পর খালাস না হওয়া পণ্য বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে। এসব পণ্যের মধ্যে নিলামযোগ্য পণ্যও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য জমে থাকায় সেগুলোর সঠিক হিসাব, সংরক্ষণ, নিলাম এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ জন্য দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর মাধ্যমে কোন পণ্য নিলামযোগ্য, কোনগুলো খালাস হয়নি এবং কোন পণ্যের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

১৫ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন করবেন কর্মকর্তারা

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ইনভেন্টরি কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের বিভিন্ন দপ্তর থেকে তাঁদের সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেটের মো. শাহজাহান সরকার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন; গাজীপুরের মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন; ঢাকা দক্ষিণের মো. বেলাল উদ্দিন ও ফজলুল হক; ঢাকা উত্তরের উত্তম কুমার দাস ও মাহমুদুল হাসান।

এ ছাড়া ঢাকা পূর্বের মো. হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী; ঢাকা পশ্চিমের মো. রোমেল তালুকদার ও সুমনা দেবনাথ; চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের ইফতেখার আহমেদ ও মো. আসিফ ইকবাল রাজু; এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাজী নাইম উদ্দীনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন কুমিল্লার মোছা. উম্মে সালমা ও অম্বিকা রানী, কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসের মো. তৌহিদুর রহমান, বেনাপোল কাস্টম হাউসের শংকেরালীঘ দেব এবং ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের দক্ষিণ ও উত্তর অংশের সত্যজিৎ সরকার ও মো. শাহিনুর আলম।

নিলাম ও ধ্বংসের মাধ্যমে পণ্যের জট নিরসনের লক্ষ্য

এনবিআরের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপে তালিকাভুক্ত পণ্যের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী নিলাম অথবা ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যেসব পণ্য নিলামযোগ্য, সেগুলো নিলামের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নিলামের অনুপযোগী বা বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা প্রয়োজন—এমন পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের অভ্যন্তরে জায়গার ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি নতুন আমদানি পণ্যের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও খালাস কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও কনটেইনার জট কমানোর প্রত্যাশা

দ্রুত ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে নিলাম ও ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের জট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, নিলামপ্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য অপসারণে কী পরিমাণ অগ্রগতি অর্জিত হয়, তার ওপর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি