রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের নেপথ্যে
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। আলোচনায় মির্জা ফখরুল, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন, এমনকি ড. ইউনূসসহ একাধিক নাম। কে হতে চলেছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি? জানার আগ্রহ সবার।
এই আলোচনার মাঝেই রোববার (৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে সরকারি দল বিএনপির দুজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তারা হলেন- দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সংসদের সরকার দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান দুই নেতার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কিন্তু দুটি মনোনয়নপত্র কেন সংগ্রহ করল বিএনপি?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান আছে। কারণ, একটি মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল–ত্রুটি থাকলে যাতে অন্যটি বিবেচনায় নেওয়া যায়। সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনের সময়ও এমনটা করা হয়েছিল।
তাহলে রুহুল কবির রিজভী এবং নুরুল ইসলাম মনি দুটি মনোনয়নপত্র কার জন্য তুললেন? উঠেছে সেই প্রশ্ন। যদিও আপাতত প্রশ্নটির উত্তর মিলছে না। হয়তো সময়ই বলে দেবে, কার জন্য দুটি মনোনয়নপত্র তুলেছে সরকারি দল।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। সচারচর ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হন। বিরোধী দল সাধারণত এ পদে প্রার্থী দেয় না। তাই ভোটাভুটিরও দরকার পড়ে না।
তবে এবার ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক বৈঠকে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
সবশেষ ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কক্ষে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যদিও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী- মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা নেই। তবে প্রার্থীর সই করা মনোনয়নপত্রে নিয়ে প্রস্তাবক বা সমর্থক উপস্থিত থাকলেই হবে।
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করায় মেয়াদপূর্তির আগেই এ নির্বাচনের আয়োজন করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এসময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
শেষ পর্যন্ত একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সেদিনই জানা যাবে, কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array