খুঁজুন
                               
, ,
           

মন্ত্রিসভার আকার বাড়ার সম্ভাবনা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
মন্ত্রিসভার আকার বাড়ার সম্ভাবনা

জাতীয় নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার। ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে এ যাত্রা শুরু হয়। পাশাপাশি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টাও দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি মাসেই সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। সরকার গঠনের পর থেকেই মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের বিষয়টি আলোচনায় থাকায় এবার মন্ত্রিসভার আকার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন এবং নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মনোভাবের ওপর।

সূত্র জানায়, কমপক্ষে তিন থেকে চারজন নতুন সদস্য মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। কয়েকজন টেকনোক্র্যাট ও যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের নাম নিয়েও আলোচনা চলছে। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্র দলগুলোর নেতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবনা-চিন্তায় রয়েছে। মাত্র ৬ মাস বয়সী সরকারে মন্ত্রিসভা থেকে কেউ বাদ পড়ছেন না এটি প্রায় নিশ্চিত। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হতে পারে।

একই সূত্র বলছে, যেসব মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোও প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়নের আওতায় রয়েছে। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব এবং রাজনৈতিক বার্তা সঠিকভাবে তুলে ধরতে না পারার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতেই মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মূল্যায়ন করা হবে। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে বা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে তাকে বদলানো হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যদি কোনো মন্ত্রীর কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট না হন, তাহলে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ না দিয়ে তার দায়িত্ব পরিবর্তন করে অন্য কাউকে সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে পারেন।

মন্ত্রিসভার আকার বাড়লে যাদের নাম যোগ হতে পারে বলে আলোচনায় রয়েছে তাঁরা হলেন-মাহমুদুর রহমান মান্না, আন্দালিভ রহমান পার্থ, মাহিদুর রহমান, এরশাদ উল্লাহ, এবিএম মোশাররফ হোসেন ও সেলিমা রহমান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরকত উল্লা বুলুর আলোচনার টেবিলে উচ্চারিত হচ্ছে।

এর আগে সরকার গঠনের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় আহমেদ আযম খানকে। ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মীর হেলাল উদ্দিন। পরে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করলে ওই মন্ত্রণালয়েও নতুন পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে নৌযান শুমারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে নৌযান শুমারি

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি ২০২৬’পরিচালনা করা হবে। আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী এই শুমারি অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ভবনে নৌযান শুমারি ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে নিয়োজিত সমন্বয়কারীদের তিন দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানানো হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহযোগিতায় এই শুমারি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এমপি।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক।

কর্ণফুলীর ভাঙনে বিলীনের পথে চন্দ্রঘোনার পাঁচ পাড়া, আতঙ্কে হাজারো পরিবার

সমুদ্রবন্দরে ৩ ও নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে নৌপথের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এই শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা, ধরন, ব্যবহার ও মালিকানার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যতে নৌ খাতের নীতিনির্ধারণ ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের বিকল্প নেই।

তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসঙ্গতি দেখা দিলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে নৌপথের উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে টানা ১৭ বছর শতভাগ জিপিএ-৫

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে টানা ১৭ বছর শতভাগ জিপিএ-৫

এসএসসি পরীক্ষায় টানা ১৭ বছর শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার অনন্য রেকর্ড ধরে রেখেছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ। ২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৮৩২ জন পরীক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নেয়।

রোববার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ফল বিপর্যয় ঘটেছে। পাসের হার নেমেছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে, যা বোর্ড থেকে প্রকাশিত গত ৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরও এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানেই পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

তবে ভালো ফলাফলে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ। এবার এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলে টানা ১৭ বছর ধরে শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার বিরল সাফল্য ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

কলেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ৪৪ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পায়। এ ছাড়া ২০১১ সালে ৪৩, ২০১২ সালে ৫১, ২০১৩ সালে ৪৭, ২০১৪ সালে ৫২, ২০১৫ সালে ৫৬, ২০১৬ সালে ৫৫, ২০১৭ সালের ৫১, ২০১৮ সালের ৫০, ২০১৯ সালের ৪৫, ২০২০ সালের ৪৬, ২০২১ সালে ৫১, ২০২২ সালের ৪৬, ২০২৩ সালের ৫১, ২০২৪ সালে ৪৮ এবং ২০২৫ সালের ৪৭ জনের সবাই জিপিএ-৫ পান।

মাঝে তিন বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এসএসসি পরীক্ষার ধরন ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়। এরমধ্যে ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হলেও এসএসসি পরীক্ষা সরাসরি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরের বছর ২০২১ সালে করোনার কারণে পূর্ণাঙ্গ এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ওই বছর শুধু তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষা হয়। অন্যান্য বিষয়ের ফলাফল নির্ধারণে আগের পরীক্ষার ফল ও বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ২০২২ সালে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। এ সময়েও কলেজটি শতভাগ জিপিএ-৫ নিশ্চিত করে।

শিক্ষকদের ভাষায়, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, নিয়মিত অধ্যয়ন, অভিজ্ঞ শিক্ষক, মানসম্মত শিক্ষা, মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ নিশ্চিত করা হয়। এ কারণে এমন ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ  এ কে এম আজিজুল হক জানান, ক্যাডেট কলেজগুলোতে শুধু লেখাপড়া নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ এবং খেলাধুলা অনুশীলন করা হয়। এছাড়া সৃজনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘সারা দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এবার প্রথম সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণের আওতায় পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের ক্যাডেটরা আরও ৮ বছর আগে থেকে এভাবে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষা কেন্দ্রেও তাদের মধ্যে অনেকটা দূরত্ব রেখে বসানো হয়। একটা কক্ষে মাত্র ১২-১৪ জন থাকে। তাঁরা জানে, কেন্দ্রে গিয়ে কোনো এক্সট্রা অ্যাডভান্টেজ পাবে না। তাই তাঁরা সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়।’

কলেজের অধ্যক্ষ আরও বলেন, সামগ্রিক বিবেচনায় ক্যাডেট কলেজগুলো শিক্ষার্থদের শিক্ষায় সমৃদ্ধ করে নৈতিক চরিত্রে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে। ভবিষ্যতে এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে সে জন্য তিনি কলেজের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে সুইডেনের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে সুইডেনের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুইডেনসহ ইউরোপের বাজারে কেয়ারগিভারসহ দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ জোরদার ও দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানিতে সুইডেন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ সহযোগিতা চান।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষা ও কারিগরি সহায়তা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুইডেন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। সরকার কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের মাধ্যমে দক্ষ ও বিশ্বমানের মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা ও প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে সুইডিশ রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গেই সুইডেনের ‘দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কৌশল’ রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের বাণিজ্যিক সম্পর্কও ক্রমে গভীর হচ্ছে। তৈরি পোশাক ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সুইডিশ বিনিয়োগ বাড়ছে।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বর্তমানে সুইডেনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী।

অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে কিছু নিরপরাধ মানুষ অনিয়মিত অভিবাসনের শিকার হচ্ছেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। উন্নত জীবনের প্রত্যাশা এবং পাচারকারীদের প্রলোভন এ সমস্যার অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী গণসচেতনতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। সুইডেন রোহিঙ্গা ডোনার গ্রুপের কো-চেয়ার হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে বিষয়টি রাখতে দেশটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের শিক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করার সুইডেনের আগ্রহের কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে সম্মানজনক ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বাংলাদেশে সুইডিশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি