মন্ত্রিসভার আকার বাড়ার সম্ভাবনা
জাতীয় নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার। ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে এ যাত্রা শুরু হয়। পাশাপাশি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টাও দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি মাসেই সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। সরকার গঠনের পর থেকেই মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের বিষয়টি আলোচনায় থাকায় এবার মন্ত্রিসভার আকার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন এবং নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মনোভাবের ওপর।
সূত্র জানায়, কমপক্ষে তিন থেকে চারজন নতুন সদস্য মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। কয়েকজন টেকনোক্র্যাট ও যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের নাম নিয়েও আলোচনা চলছে। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্র দলগুলোর নেতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবনা-চিন্তায় রয়েছে। মাত্র ৬ মাস বয়সী সরকারে মন্ত্রিসভা থেকে কেউ বাদ পড়ছেন না এটি প্রায় নিশ্চিত। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হতে পারে।
একই সূত্র বলছে, যেসব মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোও প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়নের আওতায় রয়েছে। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব এবং রাজনৈতিক বার্তা সঠিকভাবে তুলে ধরতে না পারার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতেই মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মূল্যায়ন করা হবে। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে বা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে তাকে বদলানো হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যদি কোনো মন্ত্রীর কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট না হন, তাহলে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ না দিয়ে তার দায়িত্ব পরিবর্তন করে অন্য কাউকে সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে পারেন।
মন্ত্রিসভার আকার বাড়লে যাদের নাম যোগ হতে পারে বলে আলোচনায় রয়েছে তাঁরা হলেন-মাহমুদুর রহমান মান্না, আন্দালিভ রহমান পার্থ, মাহিদুর রহমান, এরশাদ উল্লাহ, এবিএম মোশাররফ হোসেন ও সেলিমা রহমান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরকত উল্লা বুলুর আলোচনার টেবিলে উচ্চারিত হচ্ছে।
এর আগে সরকার গঠনের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় আহমেদ আযম খানকে। ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মীর হেলাল উদ্দিন। পরে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করলে ওই মন্ত্রণালয়েও নতুন পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
কালের আলো/এম/এএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array