খুঁজুন
                               
, ,
           

এনআইডি-জন্মনিবন্ধনের বদলে আসছে ‘এক-আইডি’!

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
এনআইডি-জন্মনিবন্ধনের বদলে আসছে ‘এক-আইডি’!

দেশের নাগরিকদের জন্য একটি স্থায়ী ও একক পরিচয়পত্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ ব্যবস্থায় জন্মের পরপরই একজন নাগরিককে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, সরকারি সহায়তা কিংবা ডিজিটাল লেনদেন—বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই পরিচয় ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (ডি-স্টার) নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত মেয়াদের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে একজন নাগরিকের পরিচয় নানা পর্যায়ে নানা নথি ও নম্বরে ছড়িয়ে আছে। জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, টিআইএনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থায় আলাদা তথ্যভান্ডার ব্যবহৃত হয়। ফলে একই নাগরিককে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে বারবার একই ধরনের তথ্য দিতে হয়। প্রস্তাবিত এক-আইডি ব্যবস্থার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে এই বিচ্ছিন্নতা কমানো। একজন নাগরিকের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় এলে সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ১৮ বছরের নিচের নাগরিকদেরও যদি শুরু থেকেই এই ব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়, তাহলে পরিচয় ব্যবস্থাপনায় একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হতে পারে।

পুরোনো কার্ডগুলোর কী হবে?
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক-আইডি চালু হলে ধীরে ধীরে বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ডের প্রয়োজনীয়তা কমে আসতে পারে। এনআইডি, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষক কার্ডের মতো ব্যবস্থার সেবাগুলো একই ডিজিটাল পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে কোন কার্ডের কার্যকারিতা কীভাবে শেষ হবে এবং কোন তথ্য এক-আইডিতে যুক্ত হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান ব্যবস্থায় পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্যের সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। একই ব্যক্তির একাধিক জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট থাকার মতো ঘটনাও এ সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। নতুন ব্যবস্থা স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয়ের মাধ্যমে এমন জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে।

৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়
এক-আইডি প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে আসবে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও উৎপাদন ও মুদ্রণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০ কোটি কার্ড। প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড তৈরি ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪৬ টাকা। এর সঙ্গে বিতরণ ও সরবরাহের জন্য আরও ১২৩ টাকা যোগ হলে কার্ডপ্রতি মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৬৯ টাকা। সবচেয়ে বড় ব্যয়ের অংশ যাবে কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং বিতরণে। এ খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

সুবিধার পাশাপাশি বড় প্রশ্নও আছে
এক-আইডির সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য সুবিধা হলো নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে তথ্যের পুনরাবৃত্তি কমানো। একটি নির্ভরযোগ্য ও আন্তসংযুক্ত পরিচয়ভান্ডার থাকলে একজন নাগরিকের তথ্য একবার যাচাই করেই বিভিন্ন সরকারি সেবায় ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। এতে সময়, প্রশাসনিক ব্যয় ও নাগরিকের ভোগান্তি কমার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকল্পটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—বর্তমানে বিদ্যমান জন্মনিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কর-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারগুলোকে কীভাবে এক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। তথ্যের অসামঞ্জস্য, ভুল পরিচয়, একাধিক নিবন্ধন এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরেকটি প্রশ্ন অর্থনৈতিক। দেশের রাজস্ব আদায়ে চাপ এবং সরকারের আর্থিক সংকটের সময়ে প্রায় ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন কতটা যৌক্তিক—এ নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, প্রকল্পটি পাঁচ বছর ধরে বাস্তবায়িত হবে; ফলে ব্যয়ও ধাপে ধাপে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন মনে করেন, নতুন করে বিশাল প্রকল্প নেওয়ার আগে বিদ্যমান জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থাকেই আরও কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ১৮ বছরের কম বয়সীদের এনআইডি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেও একই লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, ‘এক-আইডি’ শুধু নতুন একটি কার্ড তৈরির প্রকল্প নয়; এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের নাগরিক পরিচয় ব্যবস্থার কাঠামোই বদলে যেতে পারে। কিন্তু এর সাফল্য নির্ভর করবে কার্ড তৈরির চেয়ে বেশি—তথ্যভান্ডারগুলোর সমন্বয়, তথ্যের নির্ভুলতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর।

কালের আলো/এম/এএইচ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু

অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীদের জমা টাকার মূল অংশ ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে সংশ্লিষ্ট শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

আমানতের অর্থ ফেরত দিতে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়। ছয় দিনে মোট ৭৫ হাজার গ্রাহক টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে। আবেদন যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শাখায় অর্থ পাঠানো হচ্ছে। এরপর গ্রাহকরা নিজ নিজ শাখা বা উপশাখা থেকে টাকা তুলতে পারবেন।

তবে আপাতত ব্যক্তি আমানতকারীদের শুধু জমার মূল টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আমানতের ওপর অর্জিত মুনাফা পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ঘোষিত স্কিমের বাইরে এখনই অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকছে না।

সংকটাপন্ন পাঁচটি ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।

ব্যাংকগুলোর প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট জমার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর মোট প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের প্রায় ৮৬ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে।

নবগঠিত ব্যাংকটির ৩০ হাজার কোটি টাকার মূলধনের মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, টাকা ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগে তা কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

যুদ্ধের খরচ জোগাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার পথে ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধের খরচ জোগাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার পথে ইউক্রেন

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ব্যয় মেটাতে নতুন রাজস্বের উৎস খুঁজছে ইউক্রেন। এর অংশ হিসেবে দেশটিতে পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট তৈরির ব্যবসাকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের ধারণা, এই খাত বৈধ হলে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর আদায় করতে পারবে, যা যুদ্ধের ব্যয়ে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অর্থবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াকের সমর্থিত একটি বিলে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনশিল্পকে বৈধ অর্থনীতির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঝেলেজনিয়াকের হিসাব অনুযায়ী, এই খাত থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কর আদায় হতে পারে।

এই অর্থ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কেনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি। যুদ্ধের সময়ে ইউক্রেনের জন্য এমন রাজস্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা।

বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ বা ছড়িয়ে দেওয়া বেআইনি। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে অনলাইনভিত্তিক প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের ব্যবসা চলছে।

সমস্যা আরও জটিল হয়েছে কর আদায়ের উদ্যোগকে ঘিরে। কারণ, কোনো কনটেন্ট নির্মাতা নিজের আয় সরকারকে জানালে একই সঙ্গে তিনি এমন একটি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ও প্রকাশ করছেন, যা বর্তমান আইনে অপরাধ।

ঝেলেজনিয়াকের ভাষায়, কনটেন্ট নির্মাতাদের কেউ কর না দিলে কর ফাঁকির অভিযোগে পড়তে পারেন, আবার কর দিলে বেআইনি কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চলে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে। দেশটির প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় এমন কয়েকটি ঘটনা শনাক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন।

এদিকে ইউক্রেনে অনলাইন প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের বাজারও বেশ বড়। জার্নালের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটির প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জন কনটেন্ট নির্মাতা অনলি ফ্যানসের মাধ্যমে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন।

কর কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আইনি জটিলতার কারণে কয়েকজন কনটেন্ট নির্মাতা ইতোমধ্যে সমস্যায় পড়েছেন। কারও কারও বিরুদ্ধে কর ফাঁকির পাশাপাশি বেআইনি কনটেন্ট তৈরির অভিযোগও আনা হয়েছে।

অনলি ফ্যানসের কনটেন্ট নির্মাতা স্বিতলানা দভোরনিকোভা দাবি করেছেন, পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ অর্থ, ল্যাপটপ ও হার্ডড্রাইভ নিয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, মামলা বন্ধ করার বিনিময়ে তাঁকে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।

পরে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে আবেদন করেন। নিজেকে একজন ‘সচেতন করদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রায় ৯ লাখ ডলার কর দিতে প্রস্তুত তিনি। তবে কর দেওয়ার পরও যেন তাঁকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা না হয়—এমন দাবি জানান তিনি।

ওই আবেদনে দ্রুত ব্যাপক সাড়া পড়ে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ এতে স্বাক্ষর করেন।

আবেদনে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, পর্নোগ্রাফি বৈধ করার বিষয়ে ঝেলেজনিয়াকের প্রস্তাব পার্লামেন্টে বিবেচনা করা হবে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা যৌথভাবে এ বিষয়ে বিলটি তৈরি করেছেন।

জুলাইয়ে বিলটি ইউক্রেনের পার্লামেন্টে প্রথম দফায় অনুমোদনও পেয়েছে। এটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে দেশটির প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনশিল্প একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আসতে পারে। একই সঙ্গে সরকার এ খাত থেকে নিয়মিত কর আদায়ের সুযোগ পাবে।

যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ইউক্রেন যখন নতুন অর্থের উৎস খুঁজছে, তখন বিতর্কিত এই খাতকে বৈধ করার উদ্যোগ দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসএ

 

স্থায়ীভাবে এআই নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
স্থায়ীভাবে এআই নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর

মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে-এমন ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। একই সঙ্গে উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ উদ্দেশ্যে গত বৃহস্পতিবার একটি নতুন বিল উপস্থাপন করেছেন স্যান্ডার্স। প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই ব্যবস্থা তৈরির সঙ্গে যুক্ত নির্বাহী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমাগত আরও শক্তিশালী মডেল ও প্রযুক্তি তৈরি করছে। এর ফলে অত্যন্ত ক্ষমতাধর এআই ব্যবস্থাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে এবং এসব প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতেই স্যান্ডার্সের এই উদ্যোগ সামনে এসেছে।

স্যান্ডার্স দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তাঁর মতে, মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে—এমন অত্যন্ত শক্তিশালী এআই প্রযুক্তির বিকাশের আগে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে যথেষ্ট সতর্কতা প্রয়োজন।

এআই নিয়ে উদ্বেগের কারণ হিসেবে স্যান্ডার্স ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

স্যান্ডার্সের প্রস্তাবিত বিলটি মূলত মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাওয়া এআই ব্যবস্থার বিকাশ ঠেকানো এবং উন্নত এআই প্রযুক্তির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আনা হয়েছে। তবে বিলটি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পাস হয়ে আইনে পরিণত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

কালের আলো/এসএ