খুঁজুন
                               
, ,
           

এনআইডি-জন্মনিবন্ধনের বদলে আসছে ‘এক-আইডি’!

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
এনআইডি-জন্মনিবন্ধনের বদলে আসছে ‘এক-আইডি’!

দেশের নাগরিকদের জন্য একটি স্থায়ী ও একক পরিচয়পত্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ ব্যবস্থায় জন্মের পরপরই একজন নাগরিককে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, সরকারি সহায়তা কিংবা ডিজিটাল লেনদেন—বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই পরিচয় ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (ডি-স্টার)’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত মেয়াদের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে একজন নাগরিকের পরিচয় নানা পর্যায়ে নানা নথি ও নম্বরে ছড়িয়ে আছে। জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, টিআইএনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থায় আলাদা তথ্যভান্ডার ব্যবহৃত হয়। ফলে একই নাগরিককে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে বারবার একই ধরনের তথ্য দিতে হয়। প্রস্তাবিত এক-আইডি ব্যবস্থার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে এই বিচ্ছিন্নতা কমানো। একজন নাগরিকের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় এলে সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ১৮ বছরের নিচের নাগরিকদেরও যদি শুরু থেকেই এই ব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়, তাহলে পরিচয় ব্যবস্থাপনায় একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হতে পারে।

পুরোনো কার্ডগুলোর কী হবে?
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক-আইডি চালু হলে ধীরে ধীরে বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ডের প্রয়োজনীয়তা কমে আসতে পারে। এনআইডি, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষক কার্ডের মতো ব্যবস্থার সেবাগুলো একই ডিজিটাল পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে কোন কার্ডের কার্যকারিতা কীভাবে শেষ হবে এবং কোন তথ্য এক-আইডিতে যুক্ত হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান ব্যবস্থায় পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্যের সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। একই ব্যক্তির একাধিক জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট থাকার মতো ঘটনাও এ সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। নতুন ব্যবস্থা স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয়ের মাধ্যমে এমন জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে।

৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়
এক-আইডি প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে আসবে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও উৎপাদন ও মুদ্রণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০ কোটি কার্ড। প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড তৈরি ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪৬ টাকা। এর সঙ্গে বিতরণ ও সরবরাহের জন্য আরও ১২৩ টাকা যোগ হলে কার্ডপ্রতি মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৬৯ টাকা। সবচেয়ে বড় ব্যয়ের অংশ যাবে কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং বিতরণে। এ খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

সুবিধার পাশাপাশি বড় প্রশ্নও আছে
এক-আইডির সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য সুবিধা হলো নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে তথ্যের পুনরাবৃত্তি কমানো। একটি নির্ভরযোগ্য ও আন্তসংযুক্ত পরিচয়ভান্ডার থাকলে একজন নাগরিকের তথ্য একবার যাচাই করেই বিভিন্ন সরকারি সেবায় ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। এতে সময়, প্রশাসনিক ব্যয় ও নাগরিকের ভোগান্তি কমার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকল্পটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—বর্তমানে বিদ্যমান জন্মনিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কর-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারগুলোকে কীভাবে এক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। তথ্যের অসামঞ্জস্য, ভুল পরিচয়, একাধিক নিবন্ধন এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরেকটি প্রশ্ন অর্থনৈতিক। দেশের রাজস্ব আদায়ে চাপ এবং সরকারের আর্থিক সংকটের সময়ে প্রায় ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন কতটা যৌক্তিক—এ নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, প্রকল্পটি পাঁচ বছর ধরে বাস্তবায়িত হবে; ফলে ব্যয়ও ধাপে ধাপে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন মনে করেন, নতুন করে বিশাল প্রকল্প নেওয়ার আগে বিদ্যমান জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থাকেই আরও কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ১৮ বছরের কম বয়সীদের এনআইডি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেও একই লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, ‘এক-আইডি’ শুধু নতুন একটি কার্ড তৈরির প্রকল্প নয়; এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের নাগরিক পরিচয় ব্যবস্থার কাঠামোই বদলে যেতে পারে। কিন্তু এর সাফল্য নির্ভর করবে কার্ড তৈরির চেয়ে বেশি—তথ্যভান্ডারগুলোর সমন্বয়, তথ্যের নির্ভুলতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর।

কালের আলো/এম/এএইচ

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরে সফরসঙ্গী হচ্ছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জাপানে অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাওয়ার বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। ভালোবাসা সবাইকে।’

পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা একটি ছবিও শেয়ার করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের এ সফরে জাপানের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক, জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাত সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে।

চার দিনের সফর শেষে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিনিয়োগ টানতে টোকিও মিশন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের ব্যস্ত সূচি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগ টানতে টোকিও মিশন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের ব্যস্ত সূচি

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি এবং শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তিনি ঢাকা ছাড়েন। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের পাশাপাশি জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সফরসংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

  • জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক থেকে ইউনিক্লো ও টয়োটার সঙ্গে যোগাযোগ
  • বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব

আজ টোকিও পৌঁছানোর কথা
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সোমবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজটি টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। সফরকালে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম দিনে রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক
সফরের প্রথম দিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারেক রহমান। বিকেলে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্ব পাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার প্রদানের পর দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্প খাতে সহযোগিতা এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে এ বৈঠক। বিশেষ করে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশের বাজার ও উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

একই দিন চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব ঘুরে দেখার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। জ্বালানি অবকাঠামো ও আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি এসব খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা অন্বেষণের সুযোগ তৈরি হবে এ পরিদর্শনে।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় থাকবে শিল্পায়নের সম্ভাবনা
সফরের তৃতীয় দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের শুরুতে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এরপর জাপানের পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করবেন তিনি।

এ ছাড়া জাপানের আরও ১৪টি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকের আয়োজন রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে নতুন কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই ধারাবাহিক যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে আলোচনার প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব কতটা বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেয়, তার ওপর।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে টোকিওতে জেট্রোর কার্যালয়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এ ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ফোরামটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

শেষ দিনে টয়োটার উৎপাদনব্যবস্থা দেখবেন প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সফরের শেষ দিনে শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের অন্যতম পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সরেজমিনে দেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া, দক্ষতা উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। নাগোয়া থেকে বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে