কওমি ঘরানার দল নিয়ে ‘নতুন জোট’
হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় সাতটি কওমি ঘরানার দল নিয়ে ‘নতুন জোট’ গঠনের তোড়জোড় চলছে। গত মাসে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ‘ইচ্ছায়’ কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামী দলের নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানে কওমিপন্থীরা একটি নতুন জোটের ইঙ্গিত দেন।
সাতটি ইসলামী দলের তিনজন করে প্রতিনিধি ওই বৈঠকে অংশ নেন। দলগুলো হলো–জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৈঠকে দলগুলো ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছায়। তবে এখনো এটিকে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জোট বলছে না দলগুলো। এ নিয়ে দলগুলোর মধ্যেই দ্বিমত রয়েছে।
সভা শেষে হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, ‘সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। অল্পদিনের মধ্যেই সেই ঐক্যের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।’ বৈঠক শেষে হেফাজতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও একই ধরনের তথ্য জানানো হয়েছে।
সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোটে কওমি ধারার চারটি দল ছিল। ওই জোট ‘১১ দলীয় ঐক্য’ নামে পরিচিত, যারা সংসদে বিরোধী জোটের ভূমিকায়। এই জোটে রয়েছে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদের খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। চারটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বই হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন শীর্ষ পদে রয়েছেন।
জামায়াতের ওই চার ‘রাজনৈতিক মিত্র’ ছাড়াও হেফাজতে ইসলামে কওমি ধারার আরেক রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপির সঙ্গে জোট করে সংসদ নির্বাচন করে। গত নির্বাচনের সময়ও জামায়াতকে ভোট না দিতে হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী কয়েকবার বক্তব্য দিয়েছেন। গত বছর আগস্টে চট্টগ্রামে এক জনসভায় বাবুনগরী জামায়াতে ইসলামীকে ‘ভণ্ড ইসলামি দল’ আখ্যা দেন।
অন্যদিকে শুরুতে জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকলেও নির্বাচনের আগে বেরিয়ে গিয়ে এককভাবে নির্বাচন করে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াত ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কাছাকাছি এলেও নির্বাচনের আগেই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। অবশ্য এর আগে জামায়াতের ‘আকিদা’ নিয়ে খোলামেলা দলটির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতারাও। জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে আসায় গত জানুয়ারি মাসে ইসলামী আন্দোলনকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
কালের আলো/এম/এএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array