খুঁজুন
                               
, ,
           

কওমি ঘরানার দল নিয়ে ‘নতুন জোট’

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
কওমি ঘরানার দল নিয়ে ‘নতুন জোট’

হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় সাতটি কওমি ঘরানার দল নিয়ে ‘নতুন জোট’ গঠনের তোড়জোড় চলছে। গত মাসে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ‘ইচ্ছায়’ কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামী দলের নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানে কওমিপন্থীরা একটি নতুন জোটের ইঙ্গিত দেন।

সাতটি ইসলামী দলের তিনজন করে প্রতিনিধি ওই বৈঠকে অংশ নেন। দলগুলো হলো–জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৈঠকে দলগুলো ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছায়। তবে এখনো এটিকে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জোট বলছে না দলগুলো। এ নিয়ে দলগুলোর মধ্যেই দ্বিমত রয়েছে।

সভা শেষে হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, ‘সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। অল্পদিনের মধ্যেই সেই ঐক্যের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।’ বৈঠক শেষে হেফাজতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও একই ধরনের তথ্য জানানো হয়েছে।

সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোটে কওমি ধারার চারটি দল ছিল। ওই জোট ‘১১ দলীয় ঐক্য’ নামে পরিচিত, যারা সংসদে বিরোধী জোটের ভূমিকায়। এই জোটে রয়েছে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদের খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। চারটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বই হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন শীর্ষ পদে রয়েছেন।

জামায়াতের ওই চার ‘রাজনৈতিক মিত্র’ ছাড়াও হেফাজতে ইসলামে কওমি ধারার আরেক রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপির সঙ্গে জোট করে সংসদ নির্বাচন করে। গত নির্বাচনের সময়ও জামায়াতকে ভোট না দিতে হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী কয়েকবার বক্তব্য দিয়েছেন। গত বছর আগস্টে চট্টগ্রামে এক জনসভায় বাবুনগরী জামায়াতে ইসলামীকে ‘ভণ্ড ইসলামি দল’ আখ্যা দেন।

অন্যদিকে শুরুতে জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকলেও নির্বাচনের আগে বেরিয়ে গিয়ে এককভাবে নির্বাচন করে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াত ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কাছাকাছি এলেও নির্বাচনের আগেই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। অবশ্য এর আগে জামায়াতের ‘আকিদা’ নিয়ে খোলামেলা দলটির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতারাও। জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে আসায় গত জানুয়ারি মাসে ইসলামী আন্দোলনকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

কালের আলো/এম/এএইচ

রাজশাহী থেকে চুরি হওয়া বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্ধার

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহী থেকে চুরি হওয়া বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্ধার

রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানা এলাকা থেকে চুরি হওয়া ইউনিক রোড রয়েলসের (এনকে ট্রাভেলস) একটি যাত্রীবাহী বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) শাহমখদুম থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা সোয়া ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানাধীন আমনুরা রেলজংশনের প্রায় আধা কিলোমিটার উত্তরে ঝিলিম বাজার এলাকা থেকে বাসটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১১-০০৮৭। বাসটির মালিক নরেন সরকার (৫২)। তিনি রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার সাগরপাড়া এলাকার শ্রীপদ সরকারের ছেলে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে বাসটি শাহমখদুম থানাধীন নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল থেকে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিকেল ৫টার দিকে বাসটি নওগাঁ থেকে নওদাপাড়া বাস টার্মিনালে ফিরে আসে।

পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাসটি পরিষ্কার করে খানকার মোড় এলাকায় নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল থেকে ভদ্রাগামী সড়কের পাশে মালিকের নিজস্ব গ্যারেজের সামনে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

পরদিন ১১ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে বাসটির বদলি সুপারভাইজার মো. জালাল উদ্দিন গ্যারেজের সামনে গিয়ে বাসটি দেখতে না পেয়ে মালিককে জানান। পরে মালিক ও গ্যারেজের কর্মচারীরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও বাসটির সন্ধান পাননি।

ধারণা করা হচ্ছে, ১০ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১১ আগস্ট সকাল ৭টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা বাসটি চুরি করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বাসের মালিক নরেন সরকার শাহমখদুম থানায় এজাহার দায়ের করেন। পরে ১২ আগস্ট শাহমখদুম থানায় মামলা নম্বর-০৯ এবং দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মামলা করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে চুরি হওয়া বাসটির অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে বৃহস্পতিবার ঝিলিম বাজার এলাকা থেকে বাসটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা বাসটি শাহমখদুম থানা হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। বাসটি কীভাবে চুরি করা হয়েছিল এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

গ্যাস সংকট কাঠামোগত, টেকসই নীতির তাগিদ সিপিডির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
গ্যাস সংকট কাঠামোগত, টেকসই নীতির তাগিদ সিপিডির

দেশের জ্বালানি খাতের টেকসই ভবিষ্যৎ অনেকটাই সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বাংলাদেশকে বারবার জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: জরুরি অগ্রাধিকারসমূহ এবং একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুদ দ্রুত কমে আসছে। পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে জ্বালানি খাতে দেশের আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে।

সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর মূল প্রবন্ধে জানান, গত ১১ আগস্টের হিসাবে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৫৭ শতাংশ ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ২৯ শতাংশ।

এ ছাড়া জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানাগুলোতে চাহিদার মাত্র ৩৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

সিপিডি বলছে, গ্যাস সংকটের কারণে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাস এবং পরিবহন খাতে গ্যাসের সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

সংকট মোকাবিলায় অফিস ও ব্যাংকিং সময় কমানো, আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে স্থানান্তর এবং স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ও জ্বালানি আমদানির মতো সরকারের তাৎক্ষণিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সিপিডি।

তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য এলএনজি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, এলএনজি টার্মিনাল ও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

একই সঙ্গে জাতীয় জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিপিডি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে মেধাবী তরুণ নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে মেধাবী তরুণ নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়া মেধাবী তরুণ মো. নাজমুল হাসানের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নাজমুল হাসানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তার হাতে অনুদান তুলে দেন।

এই সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়, এটি একজন তরুণের স্বপ্ন ও মেধার প্রতি আস্থারও প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, নাজমুল হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স (থিসিস) পর্যায়ের শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক।

সম্প্রতি তিনি সুইডেনের University of Skövde থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করেন। তবে বিদেশযাত্রা, প্রাথমিক আবাসনসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা তাঁর পরিবারের জন্য কঠিন ছিল। এ সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা তার স্বপ্নযাত্রায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান নাজমুল এখন আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার দ্বারপ্রান্তে। তার এই পথচলা হাজারো স্বপ্নবান তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এসএকে