৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা সিইও, এবার নিজের পদ হারিয়ে নেমেছেন আইনি লরাইয়ে
চার বছর আগে বড়দিনের আগে জুম কলে প্রায় ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন বেটার ডট কমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিশাল গর্গ। এবার সেই গর্গকেই সিইও পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে কোম্পানিটি। তবে পদ ছাড়তে নারাজ তিনি। নিজের হারানো পদ ফিরে পেতে পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন গর্গ।
গত ৩ আগস্ট বিশাল গর্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ২৭ জুলাই ড্যানিয়েল লুইস কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন। পরে তিনিই গর্গের স্থলাভিষিক্ত হন।
গর্গের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে ড্যানিয়েল লুইস তাঁকে ও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে বিভ্রান্ত করেছেন। তাঁর দাবি, কোম্পানির ব্যবসায়িক কৌশল ও ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার প্রশংসা করে লুইস প্রথমে পর্ষদে জায়গা করে নেন। কিন্তু সে সময় নিজের সিইও হওয়ার ইচ্ছার কথা তিনি জানাননি।
মহামারির সময়ে কম সুদের সুবিধায় বেটার ডট কমের ব্যবসা দ্রুত বেড়ে যায়। একপর্যায়ে কোম্পানিটির মূল্যায়ন ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে পরে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় রিফাইন্যান্সিং ব্যবসায় বড় ধস নামে।
কোম্পানিটির বার্ষিক বিক্রি ২০২১ সালের ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৩ সালে কমে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
তবে গর্গের দাবি, বর্তমানে কোম্পানিটি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তাঁর হিসাবে, চলতি বছর বেটার ডট কমের বিক্রি প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মর্টগেজ প্রক্রিয়াকরণের গতি বাড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে জুম কলে প্রায় ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন গর্গ। ওই ঘটনার পর তিনি কিছুদিন ছুটিতেও যান।
পরে একটি হুইসেলব্লোয়ার মামলাও বাদ পড়ে এবং তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালে এসপিএসি একীভূতকরণের পর বেটারের শেয়ারদরও প্রায় ৯৩ শতাংশ কমে যায়।
গর্গ নিজেও স্বীকার করেছেন, ওই গণছাঁটাই তাঁর ব্যক্তিগত এবং কোম্পানির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে তাঁর দাবি, কোম্পানির ওপর তিনি যথেষ্ট চাপ তৈরি করছেন না—ড্যানিয়েল লুইস তাঁকে এমন ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।
নিজের পদ ফিরে পেতে গর্গ ইতিমধ্যে আইনজীবী অ্যালেক্স স্পিরোকে নিয়োগ করেছেন। গত ১৩ আগস্ট পরিচালনা পর্ষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তাঁকে আবার সিইও পদে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
গর্গের দাবি, নিজের এবং কয়েকজন প্রাথমিক বিনিয়োগকারীর বিশেষ ভোটাধিকারসম্পন্ন ক্লাস বি শেয়ারের মাধ্যমে তিনি প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়েছেন।
এমনকি কোম্পানি লাভজনক না হওয়া পর্যন্ত বছরে মাত্র ১ ডলার বেতনেও কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানি আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হয়ে উঠলে তিনি সিইও পদ ছেড়ে দেওয়ার কথাও বিবেচনা করবেন।
চার বছর আগের গণছাঁটাইয়ের বিতর্ক পেরিয়ে আবারও বেটার ডট কমের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে বিশাল গর্গ। এবার তাঁর লড়াই শুধু সমালোচনা সামলানোর নয়, হারানো শীর্ষ পদটি ফিরে পাওয়ারও।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array