খুঁজুন
                               
, ,
           

নেপালে বন্যা-ভূমিকম্পের ভয়াবহতা, শুটিং শেষ করে দেশে ফিরলেন অপু বিশ্বাস

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
নেপালে বন্যা-ভূমিকম্পের ভয়াবহতা, শুটিং শেষ করে দেশে ফিরলেন অপু বিশ্বাস

নেপালে আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, ভূমিধস ও ভূমিকম্পের কারণে দুর্যোগময় পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো শুটিং টিম। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত শুটিং শেষ করে নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী।

কামরুজ্জামান রোমানের পরিচালনায় নির্মিত ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে বাংলাদেশ ও কলকাতার একাধিক শিল্পীর সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন অপু বিশ্বাস। পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশে সিনেমাটির কাজ চলছিল। এর মধ্যেই হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে কঠিন করে তোলে।

নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। কোথাও সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, আবার কোথাও ভূমিধসের কারণে বন্ধ হয়ে যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর মধ্যে ভূমিকম্পের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।

দুর্যোগ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দ্রুত শুটিং শেষ করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় সিনেমাটির টিম। সব বাধা পেরিয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশে পৌঁছান অপু বিশ্বাসসহ দলের সদস্যরা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অপু বিশ্বাস জানান, নেপালে থাকা অবস্থায় তারা বড় ধরনের কোনো সমস্যায় পড়েননি। তবে পুরো টিমকে একসঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল।

অপু বিশ্বাস বলেন, “নেপালে থাকা অবস্থায় আমরা বড় ধরনের কোনো সমস্যায় পড়িনি। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দেশে ফিরতে পারায় শান্তি লাগছে।”

তবে নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগ ও হতাহত মানুষের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, “এ দুর্যোগটা আসলে খুবই দুঃখের এবং খুবই কষ্টের, যেটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কারণ হতাহতরা হয়তোবা আমার আপনজন নয়, কিন্তু তারা আমার আপন এবং আপনাদেরও আপন।”

নেপালে অবস্থানকালে স্থানীয় মানুষের কষ্ট কাছ থেকে দেখেছেন বলেও জানান অপু। তার ভাষায়, যারা এই দুর্যোগে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তারাই সেই কষ্টের গভীরতা সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন।

অপু বলেন, “যাদের খুব বড় ক্ষতি হয়েছে, এটা তারাই বলতে পারে। যেহেতু আমরা স্বচক্ষে নেপালিদের কথা শুনেছি, আজাহারি দেখেছি, এটা ভাষায় কীভাবে বলব, এটা আমার জানা নেই।”

প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্যোগের কারণে শুটিংয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির কাজ শেষ করতে পেরেছে টিম। এখন দেশে ফিরে পরবর্তী কাজ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অপু বিশ্বাস ও ‘শিকার’ সিনেমার সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসএ

এলজিআরডি মন্ত্রীর ভাবনায়—শান্তির শক্তি, সংস্কৃতির সেতুবন্ধন

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
এলজিআরডি মন্ত্রীর ভাবনায়—শান্তির শক্তি, সংস্কৃতির সেতুবন্ধন

পারমাণবিক বোমা ধ্বংস করতে পারে একটি শহর, যুদ্ধ বদলে দিতে পারে একটি ভূখণ্ডের মানচিত্র। কিন্তু মানুষের ভেতরের ভয়, অবিশ্বাস ও বিভাজন মুছে দিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা অস্ত্রের নেই। সেই জায়গা থেকেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বার্তা—‘পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হচ্ছে শান্তি।’ তাঁর মতে, শান্তিতে বিনিয়োগ এবং শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশের মধ্য দিয়েই সংঘাত থেকে বেরিয়ে টেকসই উন্নয়ন ও সুন্দর সমাজের পথে এগোনো সম্ভব।

শুক্রবার (০২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে লাল সবুজ সাংস্কৃতিক একাডেমি আয়োজিত বিশ্ব শান্তি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ‘গ্ল্যামার এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

  • শিল্প-সংস্কৃতির কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই
  • শান্তিতে বিনিয়োগ এবং শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে জোর
  • বাংলাদেশে সম্প্রীতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব

ধ্বংস নয়, শান্তিই প্রকৃত শক্তি

নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের ছাত্র হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বোমাকে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু তিনি মনে করেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো শান্তি।’ বক্তব্যটির তাৎপর্য কেবল যুদ্ধবিরোধী আহ্বানে সীমাবদ্ধ নয়। মন্ত্রীর বক্তব্যে শান্তিকে উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও উঠে আসে। তাঁর মতে, সংঘাতের পেছনে সম্পদ ব্যয়ের পরিবর্তে শান্তিতে বিনিয়োগ করা গেলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অস্থিরতা ও যুদ্ধ থেকে উত্তরণের পথ তৈরি হতে পারে।

সংস্কৃতি যেখানে সীমান্ত মানে না

শান্তির এই বিনিয়োগে শিল্প-সংস্কৃতিকে অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিল্প-সংস্কৃতির কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই।’ ভাষা না বুঝেও মানুষ সংগীত, চিত্রকলা, নৃত্যসহ শিল্পের নানা মাধ্যমে অন্য মানুষের অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এই সর্বজনীনতাই সংস্কৃতিকে সম্প্রীতির শক্তিতে পরিণত করে। ভিন্ন ভাষা, পরিচয় ও ভূগোলের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের সেতু তৈরি করে শিল্প। ফলে সংস্কৃতিচর্চা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; সামাজিক দূরত্ব কমানো, পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান তৈরিরও কার্যকর মাধ্যম।

বাংলার সংস্কৃতিতেই সম্প্রীতির শক্তি

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী প্রয়াত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণে গ্রামবাংলার ভাটিয়ালি, বাউলসহ বিভিন্ন লোকসংগীতের শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁদের গান শুনতেন জিয়াউর রহমান। ড. আবদুল মঈন খান জানান, পরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহযোগিতায় শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়াম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে আট কোটি টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এ সময় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রী।

এক দিনের নয়, প্রতিদিনের শান্তি

জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব শান্তি দিবস পালনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শান্তির পক্ষে কাজ শুধু একটি দিবসের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বছরের প্রতিটি দিন শান্তির পক্ষে কাজ করতে হবে। এখানেই তাঁর বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—শান্তিকে আনুষ্ঠানিকতার বাইরে নিয়ে সামাজিক ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ করা। কারণ সংঘাত ও অস্থিরতার পরিবেশে উন্নয়নের সুফল টেকসই হয় না। বিপরীতে শান্তিপূর্ণ সমাজ মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক সংহতি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি শক্ত করে।

শান্তির অবকাঠামো গড়তে সংস্কৃতির প্রসার

বাংলাদেশে শান্তি ও সম্প্রীতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বে একটি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গড়ার উদাহরণ তৈরি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন ড. আবদুল মঈন খান। এ জন্য শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আরফাতুর রহমান আপেল। শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

বিমানবন্দরে ৬ যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি, মিলল বিপুল বিদেশি পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ণ
বিমানবন্দরে ৬ যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি, মিলল বিপুল বিদেশি পণ্য

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম ও বিদেশি মদ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন জানান, শুক্রবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে অবস্থান নেন। পরে ইউএল১৮৯ (কলম্বো-ঢাকা) ফ্লাইটে আসা পাঁচ যাত্রীর ব্যাগেজ পৃথকভাবে স্ক্যান ও তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট ও নিষিদ্ধ ক্রিম জব্দ করা হয়।

অভিযানে মোহাম্মদ রবেলের ব্যাগেজ থেকে ১৬১ কার্টন সিগারেট ও ৬ দশমিক ৪ কেজি নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ আল মোবারকের কাছে পাওয়া যায় ১৪৯ কার্টন সিগারেট ও ৫ দশমিক ৮ কেজি গৌরী ক্রিম।

এ ছাড়া খোরশেদ আলমের ব্যাগেজ থেকে ১৮৮ কার্টন সিগারেট, মোসা. রাবেয়া বেগমের কাছ থেকে ৮৮ কার্টন সিগারেট ও ১২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম এবং মো. গোলাপের ব্যাগেজ থেকে ৯ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে, এয়ার ইন্ডিয়ার এআই২১৮৩ (মুম্বাই-ঢাকা) ফ্লাইটে আসা মোবারক হোসেনের ব্যাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করে ১০ লিটার ব্ল্যাক লেবেল ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।

সব মিলিয়ে অভিযানে ৫৯৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ২৪ দশমিক ২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম ও ১০ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে এনবিআর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

জনচাহিদায় গুরুত্ব, জবাবদিহিতে অঙ্গীকার—জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বার্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
জনচাহিদায় গুরুত্ব, জবাবদিহিতে অঙ্গীকার—জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বার্তা

‘সরকারি কাজে কোনো ভুল হলে তা তুলে ধরুন, সরকার সংশোধনের উদ্যোগ নেবে’—জবাবদিহির এই বার্তার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান স্পষ্ট করলেন রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর মূল পরিচয় জনগণের সেবক। একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উন্নয়নের প্রচলিত প্রকল্পকেন্দ্রিক ধারণা থেকে বেরিয়ে মাঠের মানুষের প্রয়োজনকে পরিকল্পনার কেন্দ্রে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন।

  • ভুল হলে সংশোধন, গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ
  • অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে পৃথক তহবিল
  • বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও বিকল্প পানির উৎস তৈরিতে জোর

এই দুই বার্তায় শুধু সরকারি কাজের জবাবদিহি নয়, স্থানীয় সরকার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারও পরিষ্কার হয়েছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ, বর্জ্যকে সম্পদে রূপ দেওয়া এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বিকল্প পানির উৎস তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অডিটোরিয়ামে অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

‘ভুল হলে সংশোধনের উদ্যোগ নেবে সরকার’ 

সরকারি কর্মকাণ্ডের সমালোচনার ক্ষেত্রে গঠনমূলক অবস্থানের কথা তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘সরকার গঠনমূলক সমালোচনা শুনতে প্রস্তুত। সরকারি কাজে কোনো ভুল হলে তা তুলে ধরলে সরকার সংশোধনের উদ্যোগ নেবে।’ তবে মিথ্যা তথ্য বা প্রচারণার মাধ্যমে সমালোচনা না করার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্যে সরকারের কাছে জবাবদিহি এবং দায়িত্বশীল সমালোচনার—দুই দিকই গুরুত্ব পেয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান তিনি।

‘জনগণের সেবক’ কর্মকর্তারা

মন্ত্রী বলেন, সরকারের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের সেবক। সীমিত সম্পদের মধ্যেও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করাই তাদের দায়িত্ব। এই বক্তব্যের তাৎপর্য হলো—সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমকে শুধু বরাদ্দ ব্যয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নের হিসাবের মধ্যে না রেখে নাগরিক সেবার ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করা। মানুষের কল্যাণ এবং দেশের উন্নয়নকে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে দেখার বার্তাই এতে উঠে এসেছে।

‘প্রকল্পনির্ভর’ উন্নয়ন থেকে বের হওয়ার নির্দেশ

সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুধু উন্নয়ন প্রকল্পনির্ভর হলে চলবে না; মাঠপর্যায়ের মানুষের প্রয়োজনের ভিত্তিতে তা পরিচালনা করতে হবে। এই অবস্থান উন্নয়ন পরিকল্পনায় একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। নতুন প্রকল্প নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো সচল রাখা, সেবার মান ধরে রাখা এবং কোন এলাকায় কী ধরনের প্রয়োজন—এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণে পৃথক তহবিল

নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পর সেটির রক্ষণাবেক্ষণ দুর্বল হলে সরকারি বিনিয়োগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বিষয়টি বিবেচনায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক তহবিল ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। অর্থাৎ উন্নয়ন ব্যয়ের পাশাপাশি অবকাঠামোর জীবনচক্র, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাকেও পরিকল্পনার অংশ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

বর্জ্য হবে সম্পদ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও প্রচলিত ধারণার বাইরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন মীর শাহে আলম। বড় শহরগুলোতে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আর ছোট পৌরসভা ও উপজেলায় কম খরচে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন। এতে বর্জ্য অপসারণের চাপ কমানোর পাশাপাশি বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে

নিরাপদ পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর নির্দেশনাও এসেছে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে। নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধন করে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। এখানে লক্ষ্য শুধু বিকল্প পানির উৎস তৈরি নয়; দীর্ঘমেয়াদে পানির ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বাড়তে থাকা চাপ কমানো। তাই পানি সরবরাহের বর্তমান চাহিদার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনকেও পরিকল্পনায় যুক্ত করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

উন্নয়নের নতুন হিসাব

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য মিলিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে তা হলো—উন্নয়নকে শুধু নতুন প্রকল্প, অবকাঠামো বা বরাদ্দের সংখ্যায় মাপলে হবে না। এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে জবাবদিহি, রক্ষণাবেক্ষণ, নাগরিকের বাস্তব চাহিদা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়ন কার্যক্রমে এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা তাই কেবল প্রশাসনিক নির্দেশ নয়; বরং সীমিত সম্পদে সর্বোচ্চ জনসেবা নিশ্চিত করার একটি নীতিগত বার্তাও। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে