খুঁজুন
                               
, ,
           

নেপালে বন্যা-ভূমিকম্পের ভয়াবহতা, শুটিং শেষ করে দেশে ফিরলেন অপু বিশ্বাস

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
নেপালে বন্যা-ভূমিকম্পের ভয়াবহতা, শুটিং শেষ করে দেশে ফিরলেন অপু বিশ্বাস

নেপালে আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, ভূমিধস ও ভূমিকম্পের কারণে দুর্যোগময় পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো শুটিং টিম। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত শুটিং শেষ করে নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী।

কামরুজ্জামান রোমানের পরিচালনায় নির্মিত ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে বাংলাদেশ ও কলকাতার একাধিক শিল্পীর সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন অপু বিশ্বাস। পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশে সিনেমাটির কাজ চলছিল। এর মধ্যেই হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে কঠিন করে তোলে।

নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। কোথাও সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, আবার কোথাও ভূমিধসের কারণে বন্ধ হয়ে যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর মধ্যে ভূমিকম্পের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।

দুর্যোগ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দ্রুত শুটিং শেষ করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় সিনেমাটির টিম। সব বাধা পেরিয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশে পৌঁছান অপু বিশ্বাসসহ দলের সদস্যরা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অপু বিশ্বাস জানান, নেপালে থাকা অবস্থায় তারা বড় ধরনের কোনো সমস্যায় পড়েননি। তবে পুরো টিমকে একসঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল।

অপু বিশ্বাস বলেন, “নেপালে থাকা অবস্থায় আমরা বড় ধরনের কোনো সমস্যায় পড়িনি। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দেশে ফিরতে পারায় শান্তি লাগছে।”

তবে নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগ ও হতাহত মানুষের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, “এ দুর্যোগটা আসলে খুবই দুঃখের এবং খুবই কষ্টের, যেটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কারণ হতাহতরা হয়তোবা আমার আপনজন নয়, কিন্তু তারা আমার আপন এবং আপনাদেরও আপন।”

নেপালে অবস্থানকালে স্থানীয় মানুষের কষ্ট কাছ থেকে দেখেছেন বলেও জানান অপু। তার ভাষায়, যারা এই দুর্যোগে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তারাই সেই কষ্টের গভীরতা সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন।

অপু বলেন, “যাদের খুব বড় ক্ষতি হয়েছে, এটা তারাই বলতে পারে। যেহেতু আমরা স্বচক্ষে নেপালিদের কথা শুনেছি, আজাহারি দেখেছি, এটা ভাষায় কীভাবে বলব, এটা আমার জানা নেই।”

প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্যোগের কারণে শুটিংয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির কাজ শেষ করতে পেরেছে টিম। এখন দেশে ফিরে পরবর্তী কাজ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অপু বিশ্বাস ও ‘শিকার’ সিনেমার সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসএ

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ! ‘নজিরবিহীন’ চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ! ‘নজিরবিহীন’ চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলভান্ডার ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এই পরিকল্পনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেসরকারি তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হবে। ট্রাম্পের দাবি, ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এতে মার্কিন করদাতাদের সরাসরি অর্থ ব্যয় না করেই ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের বড় একটি অংশ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ও বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এই চুক্তি নিশ্চিত করেছেন।

তবে ট্রাম্পের ঘোষণায় চুক্তির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অস্পষ্ট। কোন কোন তেলক্ষেত্র এর আওতায় আসবে, কোন কোম্পানিগুলো অংশ নেবে কিংবা ঠিক কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এমন সময়ে চুক্তির ঘোষণা এসেছে, যখন ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে নতুন তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্ভাব্য অংশীদারদের মধ্যে কয়েকটি মার্কিন কোম্পানিও রয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রগুলো বেসরকারি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার একটি ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। এমনকি কিছু তেলক্ষেত্র মার্কিন তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে নিলামে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে এই উদ্যোগ দেশটিতে আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কারণ ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ তেলশিল্পের ওপর ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেল মজুত ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি—যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলসম্পদের অধিকারী করেছে। কিন্তু বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও দেশটির উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেলশিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ানো। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর জন্য অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করাও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তি দুই দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক কম দামে ও স্থিতিশীলভাবে তেল পাওয়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে দেশটিতে পেট্রলের দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

রুবিও আরও জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে বেসরকারি খাত থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে। এর ফলে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি এবং দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর সুফল দ্রুত পাওয়া নাও যেতে পারে। ভেনেজুয়েলার পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি ভারী অপরিশোধিত তেল পরিবহন ও পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়াতেও সময় লাগবে।

ফলে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দামে তার প্রভাব পড়তে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

চুক্তির ঘোষণা হলেও এর আইনি ও আর্থিক কাঠামো এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ভেনেজুয়েলার আইন ও সংবিধানের অধীনে বিদেশি কোম্পানিকে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা ইজারা দেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে শুধু ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতই নয়, দেশটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির দামও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ 

ডলার ছাড়ার পথে ইরান! উৎপাদন বাড়িয়ে ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’র ডাক মোজতবা খামেনির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ডলার ছাড়ার পথে ইরান! উৎপাদন বাড়িয়ে ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’র ডাক মোজতবা খামেনির

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

তিনি বলেছেন, বিদেশি চাপ মোকাবিলা করে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ইরানকে আরও বেশি স্বনির্ভর হতে হবে। এ জন্য দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খামেনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়া শুধু সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং বিদেশি আর্থিক চাপ মোকাবিলা ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য এটি জাতীয় প্রয়োজন।

তার মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি দেশের উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লেনদেন থেকে ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে।

ইরানের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন খামেনি। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে কোনো পণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।

তবে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে ঘাটতি থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানির সুযোগ রাখার কথাও বলেছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ‘সঠিকভাবে ও বিচক্ষণতার সঙ্গে’ আমদানি করার ওপর জোর দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

অর্থনীতির উন্নয়নে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, পণ্য ও সেবার দাম এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন খামেনি। তবে তার মতে, শুধু বিনিয়োগ বাড়ালেই হবে না; সেই অর্থ উৎপাদনশীল ও প্রয়োজনীয় খাতে যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

ইরানের অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের ভূমিকা কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন খামেনি। গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লেনদেনে ধীরে ধীরে ডলারের ব্যবহার কমিয়ে দেশের অর্থনীতিকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চান তিনি, যাতে বিদেশি চাপের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসে।

তার ভাষায়, উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় খাতে বিনিয়োগ এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ইরান আরও স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। খামেনির দাবি, ইরানের শত্রুরা দেশটির জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে তাদের দাবি মেনে নিলেই অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ খুলে যাবে। তবে ইসলামী বিপ্লবের আগে ও পরে ইরান ও দেশটির সম্পদের সঙ্গে ওই দেশগুলোর আচরণ পর্যালোচনা করলেই ভিন্ন বাস্তবতা দেখা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খামেনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছে। এর লক্ষ্য ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক যোগাযোগ দুর্বল করা এবং দেশটির সরকারের অর্থের উৎস বন্ধ করা।

খামেনির বক্তব্য প্রকাশের কিছুক্ষণ আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, অভিযানটি পূর্ণমাত্রায় চালু রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংক মেল্লির দুবাই শাখার ব্যবস্থাপক রেজা মোহাম্মদ তাইয়েদি এবং হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ইরানের নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশে সহায়তা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ব্যাংক মেল্লি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। এর সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্স এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর রসদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতার কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের হয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরান সরকারকে সহায়তা করা অর্থের উৎস বন্ধ করে দেওয়া।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো, বিনিয়োগকে উৎপাদনশীল খাতে নেওয়া এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলকে ইরানের অর্থনৈতিক প্রতিরোধের নতুন দিক হিসেবে সামনে আনলেন মোজতবা খামেনি।

কালের আলো/এসএ

বাংলার আকাশে জে-১০সি-ই: ঢাকার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ায় কেন অস্বস্তি দিল্লিতে?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
বাংলার আকাশে জে-১০সি-ই: ঢাকার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ায় কেন অস্বস্তি দিল্লিতে?

বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। চীন থেকে ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান জে-১০সি-ই কেনার বিষয়ে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সম্ভব না হলে ২০২৭ সালের মধ্যে এসব যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যুক্ত হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি জে-১০সি-ই কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা, মূল্য, অস্ত্র প্যাকেজ ও সরবরাহের সময়সূচি চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ শুধু নতুন যুদ্ধবিমান কেনার কারণে নয়; বরং দীর্ঘ বিরতির পর বিমানবাহিনীতে আধুনিক মাল্টিরোল কমব্যাট প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কারণেও। সর্বশেষ ২০০০ সালে রাশিয়া থেকে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ।

কেন জে-১০সি-ই?
একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে শুধু বিমানটির দাম নয়—রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা, সেন্সর, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অস্ত্র প্যাকেজ মিলিয়ে প্রকৃত ব্যয় নির্ধারিত হয়। এই জায়গায় জে-১০সি-ই বাংলাদেশের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তুলনামূলক কম ব্যয়ে একটি আধুনিক মাল্টিরোল প্ল্যাটফর্ম, সক্রিয় ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে বা এইএসএ রাডার এবং দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা—সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের বিদ্যমান যুদ্ধবিমান বহরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে পারে। অন্যদিকে, ইউরোফাইটার টাইফুন বা রাফালের মতো পশ্চিমা প্ল্যাটফর্মের ক্রয় ও পরিচালন ব্যয় সাধারণত বেশি। ফলে বাংলাদেশের মতো সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশের জন্য শুধু ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ বিমান নয়, বরং দাম, সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয়ের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই জে-১০সি-ইকে সম্ভাব্য একটি ‘কস্ট-ইফেকটিভ’ বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২৬ বছর পর নতুন মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে বর্তমানে মিগ-২৯ ও ইয়াক-১৩০-এর পাশাপাশি বিভিন্ন পুরোনো এফ-৭ সিরিজের যুদ্ধবিমান রয়েছে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু যুদ্ধবিমানের সংখ্যা যথেষ্ট নয়। একটি কার্যকর বিমানবাহিনীর জন্য প্রয়োজন আধুনিক রাডার, ডেটা-লিংক, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমন্বিত কমান্ড ও কন্ট্রোল আল্লাহ কাঠামো। জে-১০সি-ই সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে এই সক্ষমতার একটি নতুন স্তর তৈরি হতে পারে। এটি তাই শুধু নতুন একটি ফাইটার স্কোয়াড্রন সংযোজন নয়; বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো আধুনিকায়নের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তাহলে ভারতের উদ্বেগ কোথায়?
ঢাকা যদি নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত করার জন্য যুদ্ধবিমান কেনে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—এতে ভারতের উদ্বেগের কারণ কী?এর উত্তর খুঁজতে গেলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি ভূরাজনীতির দিকে তাকাতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, দুই দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক পরিকল্পনা অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত, বঙ্গোপসাগর এবং ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলকে ঘিরে যেকোনো সামরিক সক্ষমতার পরিবর্তন ভারতীয় কৌশলবিদদের নজরে আসা স্বাভাবিক।

জে-১০সি-ই যদি দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধের জন্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রসহ বাংলাদেশে যুক্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশকারী যেকোনো বিমানকে মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের আকাশসীমাকে ঘিরে সামরিক হিসাবও কিছুটা পরিবর্তিত হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান নিচ্ছে। সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আক্রমণাত্মক নীতি—দুটি এক বিষয় নয়।

পিএল-১৫ : উদ্বেগের অন্যতম কারণ?
জে-১০সি-ই নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসে চীনের পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের নাম। দূরপাল্লার এই এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলকে আধুনিক আকাশযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর উপস্থিতি একটি যুদ্ধবিমানের ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ’ বা বিভিআর যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে পারে। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের বিমানকে চোখে দেখার আগেই শনাক্ত, ট্র্যাক এবং আক্রমণের সক্ষমতা আধুনিক আকাশযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশের হাতে এমন সক্ষমতা এলে দেশের আকাশসীমা রক্ষার ক্ষেত্রে তা নিঃসন্দেহে একটি বড় পরিবর্তন হবে। একই সঙ্গে আশপাশের দেশগুলোর সামরিক পরিকল্পনাতেও নতুন হিসাব যুক্ত হতে পারে।

ভারতের তেজাস কি বিকল্প হতে পারত?
ভারতের জন্য আরেকটি প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ যদি আধুনিক যুদ্ধবিমান কিনতেই চায়, তাহলে ভারতীয় তেজাস কেন নয়? তাত্ত্বিকভাবে এটি একটি সম্ভাব্য বিকল্প। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধবিমান বিক্রি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহের সময়সূচি, অস্ত্র ও সেন্সর প্যাকেজ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্রেতার আস্থাও বড় বিষয়। ভারত নিজেই তেজাসের উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে দ্রুত বড় সংখ্যায় যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা কতটা বাস্তবসম্মত—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এর বিপরীতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। ফলে নতুন চীনা যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বিদ্যমান কাঠামো কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে।

চীন-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বড় একটি অংশ বহু বছর ধরে চীন থেকে এসেছে। যুদ্ধবিমান, নৌযান, সাবমেরিন ও স্থলবাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জামের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। এই বাস্তবতায় জে-১০সি-ই যুক্ত হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চীনা প্রযুক্তির উপস্থিতি আরও গভীর হবে। এখানেই ভারতের কৌশলগত উদ্বেগের জায়গাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের দৃষ্টিতে বিষয়টি শুধু ২০টি যুদ্ধবিমানের হিসাব নয়। প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশের সামরিক আধুনিকায়নের সঙ্গে চীনের প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কতটা গভীর হচ্ছে। কারণ, ভারত ও চীনের নিজেদের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা রয়েছে। ফলে ভারতের প্রতিবেশী কোনো দেশে চীনা সামরিক প্রযুক্তির বড় ধরনের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নয়াদিল্লির কৌশলগত পর্যবেক্ষণের বিষয় হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরের সমীকরণেও কি পরিবর্তন আসবে?
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে। ফলে বাংলাদেশের বিমান ও নৌ সক্ষমতা বাড়লে এর প্রভাব শুধু স্থলভিত্তিক আকাশসীমায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে ২০টি জে-১০সি-ই দিয়ে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে ভারতের সামরিক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অতিরঞ্জিত হবে। বরং বলা যায়, এটি বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিরোধক্ষমতা বা ডিটারেন্স বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। একটি ছোট বা মাঝারি শক্তির রাষ্ট্রের জন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্যই হলো সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া—আকাশসীমা লঙ্ঘন বা সামরিক চাপ প্রয়োগের মূল্য দিতে হবে।

ইউরোফাইটার থেকে জেএফ-১৭—বিকল্প ছিল একাধিক
বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনায় শুধু জে-১০সি-ই নয়, বিভিন্ন সময়ে ইউরোফাইটার টাইফুন ও পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডারের কথাও এসেছে। ইউরোফাইটার টাইফুন প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত সক্ষম একটি প্ল্যাটফর্ম হলেও এর ক্রয়, অস্ত্র প্যাকেজ, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাংলাদেশের জন্য বড় বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। অন্যদিকে, জেএফ-১৭ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও সক্ষমতার দিক থেকে জে-১০সি-ইয়ের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করলে বিষয়টি আরও জটিল। ফলে ঢাকার সামনে প্রশ্নটি শুধু ‘কোন বিমান ভালো?’ নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো—কোন বিমান বাংলাদেশের বাজেটের মধ্যে থেকে সবচেয়ে বেশি যুদ্ধক্ষমতা, নির্ভরযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন সুবিধা দিতে পারবে? এই হিসাবেই জে-১০সি-ই এগিয়ে থাকলে সেটি বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তববাদী পছন্দ হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ যুদ্ধবিমান কেনা নয়
তবে আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার পরই একটি দেশের বিমানবাহিনী আধুনিক হয়ে যায় না। জে-১০সি-ইয়ের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে আধুনিক বিভিআর মিসাইল, প্রশিক্ষিত পাইলট, গ্রাউন্ড ক্রু, সিমুলেটর, রাডার, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, ডেটা-লিংক, হ্যাঙ্গার ও রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে আধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে লাইফ-সাইকেল কস্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিমান কেনার প্রাথমিক মূল্য কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে খুচরা যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন, রক্ষণাবেক্ষণ, আপগ্রেড ও প্রশিক্ষণের খরচ বড় অঙ্কে দাঁড়াতে পারে। তাই ২০টি বিমান কেনা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে সেগুলোকে আগামী দুই-তিন দশক কার্যকর রাখার সক্ষমতা তৈরি করা।

ভারতের উদ্বেগ—স্বাভাবিক, কিন্তু বাংলাদেশের সিদ্ধান্তও সার্বভৌম
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের স্বার্থ জড়িত। তাই বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন এলে ভারতের কৌশলগত মহলে আলোচনা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই উদ্বেগকে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতির মৌলিক যুক্তি হওয়া উচিত—কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন নয়, বরং নিজস্ব আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা তৈরি করা। ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’—এই নীতির সঙ্গে আধুনিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার মধ্যে মৌলিক কোনো বিরোধ নেই।

জে-১০সি-ই কতটা বদলে দেবে বাংলাদেশের আকাশ?
বাংলাদেশ সত্যিই যদি ২০টি জে-১০সি-ই সংগ্রহ করে, তাহলে এটি দেশের সামরিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে। তবে এর গুরুত্ব শুধু যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। এই ক্রয়ের আসল তাৎপর্য হবে বাংলাদেশের বিমানবাহিনীকে একটি আধুনিক নেটওয়ার্ক সেন্ট্রিক এয়ার কমবেট কাঠামোর দিকে কতটা এগিয়ে নেওয়া যায়, তার ওপর। অন্যদিকে, ভারতের জন্য এটি হয়তো নতুন কৌশলগত বাস্তবতা। বিশেষ করে বাংলাদেশ-চীন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হলে দিল্লিকে তার পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নতুন কিছু হিসাব যোগ করতে হতে পারে। তবে বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি ভিন্ন—নিজের আকাশসীমা রক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নয়; এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা প্রয়োজন। জে-১০সি-ই তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি নতুন যুদ্ধবিমান নয়। এটি হতে পারে দীর্ঘ ২৬ বছরের বিরতির পর দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

কালের আলো/এম/এএইচ