খুঁজুন
                               
, ,
           

ডলার ছাড়ার পথে ইরান! উৎপাদন বাড়িয়ে ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’র ডাক মোজতবা খামেনির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ডলার ছাড়ার পথে ইরান! উৎপাদন বাড়িয়ে ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’র ডাক মোজতবা খামেনির

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

তিনি বলেছেন, বিদেশি চাপ মোকাবিলা করে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ইরানকে আরও বেশি স্বনির্ভর হতে হবে। এ জন্য দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খামেনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়া শুধু সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং বিদেশি আর্থিক চাপ মোকাবিলা ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য এটি জাতীয় প্রয়োজন।

তার মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি দেশের উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লেনদেন থেকে ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে।

ইরানের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন খামেনি। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে কোনো পণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।

তবে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে ঘাটতি থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানির সুযোগ রাখার কথাও বলেছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ‘সঠিকভাবে ও বিচক্ষণতার সঙ্গে’ আমদানি করার ওপর জোর দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

অর্থনীতির উন্নয়নে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, পণ্য ও সেবার দাম এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন খামেনি। তবে তার মতে, শুধু বিনিয়োগ বাড়ালেই হবে না; সেই অর্থ উৎপাদনশীল ও প্রয়োজনীয় খাতে যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

ইরানের অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের ভূমিকা কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন খামেনি। গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লেনদেনে ধীরে ধীরে ডলারের ব্যবহার কমিয়ে দেশের অর্থনীতিকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চান তিনি, যাতে বিদেশি চাপের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসে।

তার ভাষায়, উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় খাতে বিনিয়োগ এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ইরান আরও স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। খামেনির দাবি, ইরানের শত্রুরা দেশটির জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে তাদের দাবি মেনে নিলেই অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ খুলে যাবে। তবে ইসলামী বিপ্লবের আগে ও পরে ইরান ও দেশটির সম্পদের সঙ্গে ওই দেশগুলোর আচরণ পর্যালোচনা করলেই ভিন্ন বাস্তবতা দেখা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খামেনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছে। এর লক্ষ্য ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক যোগাযোগ দুর্বল করা এবং দেশটির সরকারের অর্থের উৎস বন্ধ করা।

খামেনির বক্তব্য প্রকাশের কিছুক্ষণ আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, অভিযানটি পূর্ণমাত্রায় চালু রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংক মেল্লির দুবাই শাখার ব্যবস্থাপক রেজা মোহাম্মদ তাইয়েদি এবং হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ইরানের নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশে সহায়তা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ব্যাংক মেল্লি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। এর সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্স এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর রসদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতার কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের হয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরান সরকারকে সহায়তা করা অর্থের উৎস বন্ধ করে দেওয়া।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো, বিনিয়োগকে উৎপাদনশীল খাতে নেওয়া এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলকে ইরানের অর্থনৈতিক প্রতিরোধের নতুন দিক হিসেবে সামনে আনলেন মোজতবা খামেনি।

কালের আলো/এসএ

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৬২৩ চলছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৬২৩ চলছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান

নেপাল ও চীনের হিমালয় সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত নদীর ভাটি অঞ্চল থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৬১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চিতওয়ানে ২৩৩টি এবং পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৫৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, তিব্বতের শিগাৎসে প্রদেশের গিরং এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে চীনে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আরও ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের গোর্খা, ধাদিং ও নুয়াকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অনেক মরদেহ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারকাজে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রায় ৪ হাজার ৮১১ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। দায়িত্ব পালনকালে ২৭ জন পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।

এদিকে, নেপালের একটি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে বন্যার কারণে কয়েক শ মানুষ আটকা পড়েন। একটি সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। কাদায় পুরো এলাকা ঢেকে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভেতরে আটকে থাকা আরও প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

নেপালের উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩০১ জনকে উদ্ধার অথবা আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩ হাজার ২৫৩ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালকে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নেপাল সরকার জানিয়েছে, আপাতত তারা বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সরাসরি সহায়তা নিচ্ছে না। প্রয়োজন হলে বিশেষায়িত সহায়তা গ্রহণ করা হবে।

উদ্ধারকাজের মধ্যেই নতুন করে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ জমে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে পানি জমে যাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে কিছু এলাকায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে হিমবাহ ও পাথরের বিশাল স্তর ধসে পড়ার পর এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি

সংখ্যার হিসাব করতে সমস্যায় তারা সুতারিয়া, ভুগছেন ডিসক্যালকুলিয়ায়

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
সংখ্যার হিসাব করতে সমস্যায় তারা সুতারিয়া, ভুগছেন ডিসক্যালকুলিয়ায়

বলিউড অভিনেত্রী তারা সুতারিয়া জানিয়েছেন, সংখ্যা বোঝা ও গাণিতিক হিসাব-নিকাশ করতে তার বেশ সমস্যা হয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই সমস্যার কথা প্রকাশ করে তিনি জানান, তিনি ‘ডিসক্যালকুলিয়া’ নামের একটি বিশেষ শিক্ষণজনিত সমস্যায় ভুগছেন। সাধারণভাবে অনেকেই এই সমস্যাকে ‘গণিতের ডিসলেক্সিয়া’ বলে থাকেন।

ডিসক্যালকুলিয়ার কারণে সংখ্যা বুঝতে, হিসাব করতে এবং গাণিতিক তথ্য প্রক্রিয়াকরণে সমস্যায় পড়তে হয়। তারাও জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত ও আর্থিক জীবনে এর প্রভাব তিনি নিয়মিত অনুভব করেন।

নিজের আর্থিক বিষয় ও বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, জমি-বাড়ি কিংবা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করতে তার আগ্রহ রয়েছে। তবে বিনিয়োগের আর্থিক হিসাব-নিকাশ সামলানোর ক্ষেত্রে তাকে প্রায়ই বাবার সাহায্য নিতে হয়।

তারা বলেন, একজন নারী হিসেবে ব্যাংকিং ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়গুলো নিজে বোঝা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সংখ্যাগত ভুলের আশঙ্কার কারণে সবকিছু একা সামলানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি আরও জানান, বন্ধুদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি নিজেও নতুন নতুন বিষয় শেখার চেষ্টা করছেন। তার মতে, আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের জ্ঞান ও বোঝাপড়া বাড়ানো জরুরি।

এদিকে অভিনয়ের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা সুতারিয়া। গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর দ্য গ্রোন-আপস’ ছবিতে তাকে দেখা গেছে। ছবিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ইয়াশ, নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি ও রুক্মিণী বসন্ত।

কালের আলো/এসএ

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ! ‘নজিরবিহীন’ চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ! ‘নজিরবিহীন’ চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলভান্ডার ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এই পরিকল্পনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেসরকারি তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হবে। ট্রাম্পের দাবি, ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এতে মার্কিন করদাতাদের সরাসরি অর্থ ব্যয় না করেই ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের বড় একটি অংশ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ও বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এই চুক্তি নিশ্চিত করেছেন।

তবে ট্রাম্পের ঘোষণায় চুক্তির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অস্পষ্ট। কোন কোন তেলক্ষেত্র এর আওতায় আসবে, কোন কোম্পানিগুলো অংশ নেবে কিংবা ঠিক কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এমন সময়ে চুক্তির ঘোষণা এসেছে, যখন ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে নতুন তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্ভাব্য অংশীদারদের মধ্যে কয়েকটি মার্কিন কোম্পানিও রয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রগুলো বেসরকারি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার একটি ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। এমনকি কিছু তেলক্ষেত্র মার্কিন তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে নিলামে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে এই উদ্যোগ দেশটিতে আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কারণ ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ তেলশিল্পের ওপর ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেল মজুত ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি—যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলসম্পদের অধিকারী করেছে। কিন্তু বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও দেশটির উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেলশিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ানো। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর জন্য অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করাও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তি দুই দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক কম দামে ও স্থিতিশীলভাবে তেল পাওয়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে দেশটিতে পেট্রলের দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

রুবিও আরও জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে বেসরকারি খাত থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে। এর ফলে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি এবং দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর সুফল দ্রুত পাওয়া নাও যেতে পারে। ভেনেজুয়েলার পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি ভারী অপরিশোধিত তেল পরিবহন ও পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়াতেও সময় লাগবে।

ফলে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দামে তার প্রভাব পড়তে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

চুক্তির ঘোষণা হলেও এর আইনি ও আর্থিক কাঠামো এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ভেনেজুয়েলার আইন ও সংবিধানের অধীনে বিদেশি কোম্পানিকে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা ইজারা দেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে শুধু ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতই নয়, দেশটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির দামও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ