খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলার আকাশে জে-১০সি-ই: ঢাকার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ায় কেন অস্বস্তি দিল্লিতে?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
বাংলার আকাশে জে-১০সি-ই: ঢাকার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ায় কেন অস্বস্তি দিল্লিতে?

বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। চীন থেকে ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান জে-১০সি-ই কেনার বিষয়ে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সম্ভব না হলে ২০২৭ সালের মধ্যে এসব যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যুক্ত হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি জে-১০সি-ই কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা, মূল্য, অস্ত্র প্যাকেজ ও সরবরাহের সময়সূচি চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ শুধু নতুন যুদ্ধবিমান কেনার কারণে নয়; বরং দীর্ঘ বিরতির পর বিমানবাহিনীতে আধুনিক মাল্টিরোল কমব্যাট প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কারণেও। সর্বশেষ ২০০০ সালে রাশিয়া থেকে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ।

কেন জে-১০সি-ই?
একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে শুধু বিমানটির দাম নয়—রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা, সেন্সর, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অস্ত্র প্যাকেজ মিলিয়ে প্রকৃত ব্যয় নির্ধারিত হয়। এই জায়গায় জে-১০সি-ই বাংলাদেশের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তুলনামূলক কম ব্যয়ে একটি আধুনিক মাল্টিরোল প্ল্যাটফর্ম, সক্রিয় ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে বা এইএসএ রাডার এবং দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা—সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের বিদ্যমান যুদ্ধবিমান বহরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে পারে। অন্যদিকে, ইউরোফাইটার টাইফুন বা রাফালের মতো পশ্চিমা প্ল্যাটফর্মের ক্রয় ও পরিচালন ব্যয় সাধারণত বেশি। ফলে বাংলাদেশের মতো সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশের জন্য শুধু ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ বিমান নয়, বরং দাম, সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয়ের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই জে-১০সি-ইকে সম্ভাব্য একটি ‘কস্ট-ইফেকটিভ’ বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২৬ বছর পর নতুন মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে বর্তমানে মিগ-২৯ ও ইয়াক-১৩০-এর পাশাপাশি বিভিন্ন পুরোনো এফ-৭ সিরিজের যুদ্ধবিমান রয়েছে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু যুদ্ধবিমানের সংখ্যা যথেষ্ট নয়। একটি কার্যকর বিমানবাহিনীর জন্য প্রয়োজন আধুনিক রাডার, ডেটা-লিংক, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমন্বিত কমান্ড ও কন্ট্রোল আল্লাহ কাঠামো। জে-১০সি-ই সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে এই সক্ষমতার একটি নতুন স্তর তৈরি হতে পারে। এটি তাই শুধু নতুন একটি ফাইটার স্কোয়াড্রন সংযোজন নয়; বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো আধুনিকায়নের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তাহলে ভারতের উদ্বেগ কোথায়?
ঢাকা যদি নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত করার জন্য যুদ্ধবিমান কেনে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—এতে ভারতের উদ্বেগের কারণ কী?এর উত্তর খুঁজতে গেলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি ভূরাজনীতির দিকে তাকাতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, দুই দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক পরিকল্পনা অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত, বঙ্গোপসাগর এবং ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলকে ঘিরে যেকোনো সামরিক সক্ষমতার পরিবর্তন ভারতীয় কৌশলবিদদের নজরে আসা স্বাভাবিক।

জে-১০সি-ই যদি দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধের জন্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রসহ বাংলাদেশে যুক্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশকারী যেকোনো বিমানকে মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের আকাশসীমাকে ঘিরে সামরিক হিসাবও কিছুটা পরিবর্তিত হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান নিচ্ছে। সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আক্রমণাত্মক নীতি—দুটি এক বিষয় নয়।

পিএল-১৫ : উদ্বেগের অন্যতম কারণ?
জে-১০সি-ই নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসে চীনের পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের নাম। দূরপাল্লার এই এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলকে আধুনিক আকাশযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর উপস্থিতি একটি যুদ্ধবিমানের ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ’ বা বিভিআর যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে পারে। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের বিমানকে চোখে দেখার আগেই শনাক্ত, ট্র্যাক এবং আক্রমণের সক্ষমতা আধুনিক আকাশযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশের হাতে এমন সক্ষমতা এলে দেশের আকাশসীমা রক্ষার ক্ষেত্রে তা নিঃসন্দেহে একটি বড় পরিবর্তন হবে। একই সঙ্গে আশপাশের দেশগুলোর সামরিক পরিকল্পনাতেও নতুন হিসাব যুক্ত হতে পারে।

ভারতের তেজাস কি বিকল্প হতে পারত?
ভারতের জন্য আরেকটি প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ যদি আধুনিক যুদ্ধবিমান কিনতেই চায়, তাহলে ভারতীয় তেজাস কেন নয়? তাত্ত্বিকভাবে এটি একটি সম্ভাব্য বিকল্প। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধবিমান বিক্রি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহের সময়সূচি, অস্ত্র ও সেন্সর প্যাকেজ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্রেতার আস্থাও বড় বিষয়। ভারত নিজেই তেজাসের উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে দ্রুত বড় সংখ্যায় যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা কতটা বাস্তবসম্মত—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এর বিপরীতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। ফলে নতুন চীনা যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বিদ্যমান কাঠামো কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে।

চীন-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বড় একটি অংশ বহু বছর ধরে চীন থেকে এসেছে। যুদ্ধবিমান, নৌযান, সাবমেরিন ও স্থলবাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জামের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। এই বাস্তবতায় জে-১০সি-ই যুক্ত হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চীনা প্রযুক্তির উপস্থিতি আরও গভীর হবে। এখানেই ভারতের কৌশলগত উদ্বেগের জায়গাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের দৃষ্টিতে বিষয়টি শুধু ২০টি যুদ্ধবিমানের হিসাব নয়। প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশের সামরিক আধুনিকায়নের সঙ্গে চীনের প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কতটা গভীর হচ্ছে। কারণ, ভারত ও চীনের নিজেদের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা রয়েছে। ফলে ভারতের প্রতিবেশী কোনো দেশে চীনা সামরিক প্রযুক্তির বড় ধরনের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নয়াদিল্লির কৌশলগত পর্যবেক্ষণের বিষয় হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরের সমীকরণেও কি পরিবর্তন আসবে?
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে। ফলে বাংলাদেশের বিমান ও নৌ সক্ষমতা বাড়লে এর প্রভাব শুধু স্থলভিত্তিক আকাশসীমায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে ২০টি জে-১০সি-ই দিয়ে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে ভারতের সামরিক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অতিরঞ্জিত হবে। বরং বলা যায়, এটি বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিরোধক্ষমতা বা ডিটারেন্স বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। একটি ছোট বা মাঝারি শক্তির রাষ্ট্রের জন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্যই হলো সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া—আকাশসীমা লঙ্ঘন বা সামরিক চাপ প্রয়োগের মূল্য দিতে হবে।

ইউরোফাইটার থেকে জেএফ-১৭—বিকল্প ছিল একাধিক
বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনায় শুধু জে-১০সি-ই নয়, বিভিন্ন সময়ে ইউরোফাইটার টাইফুন ও পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডারের কথাও এসেছে। ইউরোফাইটার টাইফুন প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত সক্ষম একটি প্ল্যাটফর্ম হলেও এর ক্রয়, অস্ত্র প্যাকেজ, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাংলাদেশের জন্য বড় বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। অন্যদিকে, জেএফ-১৭ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও সক্ষমতার দিক থেকে জে-১০সি-ইয়ের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করলে বিষয়টি আরও জটিল। ফলে ঢাকার সামনে প্রশ্নটি শুধু ‘কোন বিমান ভালো?’ নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো—কোন বিমান বাংলাদেশের বাজেটের মধ্যে থেকে সবচেয়ে বেশি যুদ্ধক্ষমতা, নির্ভরযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন সুবিধা দিতে পারবে? এই হিসাবেই জে-১০সি-ই এগিয়ে থাকলে সেটি বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তববাদী পছন্দ হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ যুদ্ধবিমান কেনা নয়
তবে আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার পরই একটি দেশের বিমানবাহিনী আধুনিক হয়ে যায় না। জে-১০সি-ইয়ের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে আধুনিক বিভিআর মিসাইল, প্রশিক্ষিত পাইলট, গ্রাউন্ড ক্রু, সিমুলেটর, রাডার, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, ডেটা-লিংক, হ্যাঙ্গার ও রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে আধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে লাইফ-সাইকেল কস্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিমান কেনার প্রাথমিক মূল্য কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে খুচরা যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন, রক্ষণাবেক্ষণ, আপগ্রেড ও প্রশিক্ষণের খরচ বড় অঙ্কে দাঁড়াতে পারে। তাই ২০টি বিমান কেনা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে সেগুলোকে আগামী দুই-তিন দশক কার্যকর রাখার সক্ষমতা তৈরি করা।

ভারতের উদ্বেগ—স্বাভাবিক, কিন্তু বাংলাদেশের সিদ্ধান্তও সার্বভৌম
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের স্বার্থ জড়িত। তাই বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন এলে ভারতের কৌশলগত মহলে আলোচনা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই উদ্বেগকে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতির মৌলিক যুক্তি হওয়া উচিত—কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন নয়, বরং নিজস্ব আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা তৈরি করা। ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’—এই নীতির সঙ্গে আধুনিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার মধ্যে মৌলিক কোনো বিরোধ নেই।

জে-১০সি-ই কতটা বদলে দেবে বাংলাদেশের আকাশ?
বাংলাদেশ সত্যিই যদি ২০টি জে-১০সি-ই সংগ্রহ করে, তাহলে এটি দেশের সামরিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে। তবে এর গুরুত্ব শুধু যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। এই ক্রয়ের আসল তাৎপর্য হবে বাংলাদেশের বিমানবাহিনীকে একটি আধুনিক নেটওয়ার্ক সেন্ট্রিক এয়ার কমবেট কাঠামোর দিকে কতটা এগিয়ে নেওয়া যায়, তার ওপর। অন্যদিকে, ভারতের জন্য এটি হয়তো নতুন কৌশলগত বাস্তবতা। বিশেষ করে বাংলাদেশ-চীন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হলে দিল্লিকে তার পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নতুন কিছু হিসাব যোগ করতে হতে পারে। তবে বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি ভিন্ন—নিজের আকাশসীমা রক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নয়; এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা প্রয়োজন। জে-১০সি-ই তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি নতুন যুদ্ধবিমান নয়। এটি হতে পারে দীর্ঘ ২৬ বছরের বিরতির পর দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

কালের আলো/এম/এএইচ

মুসলিম ঐক্যের আহ্বান ইরানের প্রেসিডেন্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
মুসলিম ঐক্যের আহ্বান ইরানের প্রেসিডেন্টের

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর নেতা ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।

এ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় মহানবী (সা.)-কে মানবিক পূর্ণতার সর্বোচ্চ আদর্শ এবং সমগ্র মানবতার পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, মহানবী (সা.) সমগ্র মানবতার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার বার্তা নিয়ে এসেছিলেন। তার ধর্ম শান্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তিনি সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, মহানবী (সা.)-এর মহৎ চরিত্র নৈতিকতা ও সৎ গুণাবলির সর্বোত্তম প্রতিফলন। ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার জীবন ও আদর্শ মানবতার জন্য পথনির্দেশনা দিতে পারে।

তিনি মুসলিমদের প্রতি মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ইসলামী উম্মাহর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর প্রচারিত মূল্যবোধ অনুসরণ করে বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার আহ্বান জানান পেজেশকিয়ান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, বিশ্বের মুসলমানদের অভিন্ন বিশ্বাস, দৃঢ়তা ও সংকল্প মুসলিম উম্মাহর সদস্যদের মধ্যে আরও বেশি ঐক্য ও সংহতি গড়ে তুলবে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ইসলামের অগ্রগতি ও বিকাশেও তা ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

কালের আলো/এসএ

‘ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয় মনে করলে সে আর হিন্দু নয়’: মোহন ভাগবত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
‘ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয় মনে করলে সে আর হিন্দু নয়’: মোহন ভাগবত

মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই এবং সব ধর্মীয় পথ একই লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়—এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি বলেছেন, কোনো হিন্দু যদি মনে করেন ভারতে কোনো মুসলমানের থাকা উচিত নয়, তাহলে তিনি আর হিন্দু থাকবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘এক বিশ্ব এক মানবতা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রোববার (৩০ আগস্ট) তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত বলেন, বিভিন্ন সময়ে মুসলিম প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় তারা আরএসএসের লক্ষ্য এবং ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে ভারত থেকে মুসলিমদের বের করে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নও তাকে করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ভাগবতের ভাষায়, হিন্দু রাষ্ট্রের অর্থ মুসলিমদের ভারত থেকে বের করে দেওয়া নয়। এটি হিন্দুত্বের সংজ্ঞার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, কোনো হিন্দু যদি মনে করেন ভারতে মুসলিমদের কোনো জায়গা নেই, তাহলে সেই ব্যক্তি আর হিন্দু থাকেন না।

ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত আরএসএস। সংগঠনটির বিরুদ্ধে দেশটিতে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ও মুসলিমবিরোধী কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা ও নিপীড়নের ঘটনাতেও সংগঠনটির নাম উঠে এসেছে।

এদিকে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফরের বিরোধিতা করে একাধিক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তবে প্রতিবাদের মধ্যেই পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন আরএসএস প্রধান।

ভাগবতের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সংগঠনটির ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ধারণা এবং ভারতে ধর্মীয় সহাবস্থান নিয়ে তার অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

ইইউ নিয়ে গণভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, প্রাথমিক ফলে এগিয়ে ‘না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ইইউ নিয়ে গণভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, প্রাথমিক ফলে এগিয়ে ‘না’

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা হবে কি না—এ নিয়ে আইসল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রাথমিক ফলে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ‘না’ ভোট।

দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভি রোববার (৩০ আগস্ট) ভোরে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে গণনা করা ১ লাখ ৫২ হাজার ভোটের মধ্যে ৫০ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার ইইউর সঙ্গে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিপক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, ৪৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার আলোচনার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

আইসল্যান্ডে মোট ভোটার প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। দুর্গম এলাকাগুলো থেকে ব্যালট বাক্স সংগ্রহের জটিলতার কারণে রোববার দুপুরের আগে চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।

২০০৯ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের সময় আইসল্যান্ড প্রথমবারের মতো ইইউ সদস্যপদের জন্য আবেদন করে। তবে ২০১৩ সালে তৎকালীন সরকার সেই প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে আইসল্যান্ডের ইইউ সদস্যপদের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। দেশটিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে আইসল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার ৮ শতাংশ, যেখানে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হার ২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থকদের দাবি, ইইউতে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু হলে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।

অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের সমর্থকদের আশঙ্কা, ইইউর সদস্য হলে আইসল্যান্ড তার সার্বভৌমত্ব এবং দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক খাত মৎস্যসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডটিয়ার ভোটের দিনটিকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে ইইউতে যোগদানের আগে দেশটিতে আরও একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এসএ