খুঁজুন
                               
, ,
           

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৬২৩ চলছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৬২৩ চলছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান

নেপাল ও চীনের হিমালয় সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত নদীর ভাটি অঞ্চল থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৬১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চিতওয়ানে ২৩৩টি এবং পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৫৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, তিব্বতের শিগাৎসে প্রদেশের গিরং এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে চীনে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আরও ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের গোর্খা, ধাদিং ও নুয়াকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অনেক মরদেহ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারকাজে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রায় ৪ হাজার ৮১১ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। দায়িত্ব পালনকালে ২৭ জন পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।

এদিকে, নেপালের একটি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে বন্যার কারণে কয়েক শ মানুষ আটকা পড়েন। একটি সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। কাদায় পুরো এলাকা ঢেকে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভেতরে আটকে থাকা আরও প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

নেপালের উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩০১ জনকে উদ্ধার অথবা আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩ হাজার ২৫৩ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালকে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নেপাল সরকার জানিয়েছে, আপাতত তারা বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সরাসরি সহায়তা নিচ্ছে না। প্রয়োজন হলে বিশেষায়িত সহায়তা গ্রহণ করা হবে।

উদ্ধারকাজের মধ্যেই নতুন করে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ জমে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে পানি জমে যাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে কিছু এলাকায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে হিমবাহ ও পাথরের বিশাল স্তর ধসে পড়ার পর এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি

নরওয়ের রাজা হারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যু, নতুন রাজা ছেলে হাকন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
নরওয়ের রাজা হারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যু, নতুন রাজা ছেলে হাকন

নরওয়ের জনপ্রিয় রাজা হারাল্ড পঞ্চম মারা গেছেন। ৩৫ বছর সিংহাসনে থাকার পর শুক্রবার ভোরে ৮৯ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর ছেলে হাকন অষ্টম নরওয়ের নতুন রাজা হয়েছেন।

রাজা হারাল্ডের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানী অসলোর রাজপ্রাসাদের সামনে মানুষের ভিড় জমে। প্রিয় রাজাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অনেকে ফুল ও জাতীয় পতাকা নিয়ে সেখানে হাজির হন। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর ৬টা ৩৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। বিরল ধরনের রক্তের সমস্যার চিকিৎসার জন্য তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

পরে হাসপাতালের প্রার্থনাকক্ষ থেকে রাজা হারাল্ডের কফিন শোভাযাত্রা করে রাজপ্রাসাদে নেওয়া হয়। নরওয়ের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শেষবারের মতো রাজাকে শ্রদ্ধা জানাতে অসলোর রাস্তায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিলেন।

হারাল্ড পঞ্চমকে একজন অন্তর্ভুক্তিমূলক, খোলামেলা ও সহানুভূতিশীল রাজা হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। নরওয়ের রাজপরিবারকে আধুনিক করে তোলার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রাজনৈতিক নেতা থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই তার দীর্ঘদিনের সেবা এবং দেশের জন্য তৈরি করা স্থিতিশীলতার কথা স্মরণ করছেন।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে রাজপ্রাসাদের বাইরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে তিনি বলেন, হারাল্ডের মৃত্যুতে নরওয়ের মানুষ ‘শোক ও কৃতজ্ঞতায় একত্রিত’ হয়েছে। তার উত্তরাধিকার বেঁচে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউরোপের বিভিন্ন রাজপরিবারের সদস্যরাও হারাল্ডের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসও রয়েছেন। হারাল্ডের প্রতি সাধারণ মানুষের আবেগও ছিল গভীর। অসলোর এক বাসিন্দা জানান, বিশেষ করে অভিবাসীদের জন্য হারাল্ড নরওয়েকে আপন করে নেওয়ার অনুভূতি তৈরি করেছিলেন।

নরওয়ের তারকা ফুটবলার এরলিং হলান্ডও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রয়াত রাজাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি জানান, গ্রীষ্মের শুরুতে বিশ্বকাপের পর রাজপ্রাসাদে হারাল্ডের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল তার।

হারাল্ডের মৃত্যুর পর তার ছোট ছেলে ৫৩ বছর বয়সী হাকন অষ্টম নরওয়ের রাজা হয়েছেন। শুক্রবার তিনি সরকার ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বিশেষ রাষ্ট্রীয় পরিষদের বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে রাজপরিবারের মূলমন্ত্র ‘নরওয়ের জন্য সবকিছু’ ধারণ করে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান তিনি।

আগামী মঙ্গলবার নরওয়ের পার্লামেন্টে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে নতুন রাজার। এরপর একটি বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। তবে নরওয়েতে এখন আনুষ্ঠানিক রাজ্যাভিষেকের প্রথা নেই।

হাকনের ২২ বছর বয়সী মেয়ে ইঙ্গ্রিদ আলেক্সান্দ্রা এখন সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী। ১৯৯০ সালে নরওয়েতে উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তনের পর পরিবারের প্রথম সন্তান মেয়ে হলেও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে কঠিন এক সময়ে সিংহাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন হাকন। চলতি বছর নরওয়ের রাজপরিবার একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও বিতর্কের মুখে পড়েছে। তার স্ত্রী রানি মেতে-মারিত দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের জটিল রোগে ভুগছেন। একই সঙ্গে তার আগের পক্ষের ছেলে মারিউস বর্গ হইবিকে ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হইবি অবশ্য রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

এদিকে নরওয়ের রাজতন্ত্র নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের সমর্থন কমেছে। চলতি বছরের শুরুতে দেশটির সংবাদপত্র আফতেনপোস্তেন-এর এক জরিপে রাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন ৫৪ শতাংশে নেমে আসে, যেখানে ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৭২ শতাংশ।

তবে রাজপরিবার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, নানা পারিবারিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও হাকন নরওয়েতে সম্মানিত একজন ব্যক্তি। পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল হিসেবে পরিচিত নতুন রাজা এই কঠিন সময় সামলে রাজতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে পারবেন বলেই মনে করছেন তারা।

কালের আলো/এসএ

জ্বালানি সংকটে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ ঝুঁকিতে ৬ লাখ কর্মসংস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকটে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ ঝুঁকিতে ৬ লাখ কর্মসংস্থান

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব ক্রমেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্পষ্ট হচ্ছে। জ্বালানি ও গ্যাস সংকট, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং পণ্যের দাম বাড়ার কারণে দেশের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুত করা মূল্যায়নে এসব ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ বেড়েছে। চলতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারেন—এমন পূর্বাভাস দেওয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা হারাতে পারেন।

সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। ফলে অঞ্চলটির সংঘাত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এলএনজি সরবরাহেও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির মধ্যে পাঁচটিতে সরবরাহকারী পক্ষ ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

জ্বালানির বাড়তি দাম ভোক্তাদের ওপর চাপানো হলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। এর ফলে পরিবহন, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়বে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে শিল্প ও কৃষিতেও। গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে দেশের কয়েকটি ইউরিয়া সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতেও বাড়ছে ব্যয়ের চাপ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। আমদানিনির্ভর চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধের কাঁচামালের পরিবহন ব্যয় বাড়ায় স্বাস্থ্যসেবার খরচও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের এই সতর্কতার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এরই মধ্যে কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তার মতে, শিল্পকারখানায় নতুন গ্যাস-সংযোগ না পাওয়া, উৎপাদন বা কাজের সময় কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটে কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিকদের চাকরি হারানোর ঘটনাগুলো পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন এসব ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

এ অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসআইকে/এমএসআইপি 

নাইজারের রাজধানীতে গোলাগুলি-বিস্ফোরণ, বিমানবন্দরে হামলার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
নাইজারের রাজধানীতে গোলাগুলি-বিস্ফোরণ, বিমানবন্দরে হামলার দাবি

নাইজারের রাজধানী নিয়ামের বিভিন্ন এলাকায় শনিবার ভোরে টানা গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। রয়টার্সের দুই প্রত্যক্ষদর্শী এ তথ্য জানিয়েছেন।

একটি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ‘সন্ত্রাসীরা’ নিয়ামের দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের চারপাশের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢোকারও চেষ্টা করা হয়েছে।

নাইজারের পরামর্শক পরিষদের সদস্য ও সাহেল রাষ্ট্র জোটের সংসদের ডেপুটি বানা ওয়াগানা ইব্রাহিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, হামলাকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা বেস ১০১-কে লক্ষ্য করেছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

ইব্রাহিম বলেন, ‘বেস ১০১-এর ওপর আরেকটি হামলা হয়েছে। আবারও আমাদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।’

তবে নিরাপত্তা সূত্র ও ইব্রাহিমের দেওয়া তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

আরেকটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হামলার পর রাজধানীতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। কয়েকজন হামলাকারীকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে এবং অন্যরা পালিয়ে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

রয়টার্সের দ্বিতীয় প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রেসিডেন্টের বাসভবনের আশপাশে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। প্রথম প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৩ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে আবারও গোলাগুলি শুরু হয়।

হামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য নাইজারের সামরিক সরকারের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পশ্চিম আফ্রিকার খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ নাইজারে ইউরেনিয়াম, তেল ও সোনার উল্লেখযোগ্য মজুদ রয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটি সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে।

জেনারেল আবদুরাহমান তিয়ানির নেতৃত্বাধীন সামরিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি মালি ও বুর্কিনা ফাসোর সঙ্গে মিলে সাহেল রাষ্ট্র জোট গঠন করেছে নাইজার। তিন দেশই পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস থেকে বেরিয়ে গেছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিলেও নাইজার, মালি ও বুর্কিনা ফাসোতে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই এখনো চলছে।

নাইজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিল এমন সময়ে, যখন সামরিক সরকার দেশটির ইউরেনিয়াম খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে।

ফ্রান্সের ওরানো কোম্পানির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পর দেশটির সরকার ইউরেনিয়াম শিল্পে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। সম্প্রতি জারি করা এক ডিক্রি অনুযায়ী, ওরানো ও গোভিএক্সের সাবেক ইউরেনিয়াম পারমিট রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পুনরায় বরাদ্দ করা হয়েছে।

২০২৪ সালে ওরানোর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আগে নাইজার ইউরোপের পারমাণবিক জ্বালানির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ছিল। পূর্ণ সক্ষমতায় নাইজার থেকে পাওয়া ইউরেনিয়াম ওরানোর মোট সরবরাহের প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছিল।

এদিকে চলতি বছরের মার্চে নাইজারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং জানুয়ারিতে নিয়ামের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে পৃথক হামলায় অন্তত ৪৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

রাজধানীতে সর্বশেষ গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ