নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৬২৩ চলছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান
নেপাল ও চীনের হিমালয় সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত নদীর ভাটি অঞ্চল থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৬১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চিতওয়ানে ২৩৩টি এবং পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৫৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তিব্বতের শিগাৎসে প্রদেশের গিরং এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে চীনে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আরও ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালের গোর্খা, ধাদিং ও নুয়াকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অনেক মরদেহ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারকাজে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রায় ৪ হাজার ৮১১ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। দায়িত্ব পালনকালে ২৭ জন পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
এদিকে, নেপালের একটি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে বন্যার কারণে কয়েক শ মানুষ আটকা পড়েন। একটি সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। কাদায় পুরো এলাকা ঢেকে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভেতরে আটকে থাকা আরও প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
নেপালের উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩০১ জনকে উদ্ধার অথবা আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩ হাজার ২৫৩ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালকে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নেপাল সরকার জানিয়েছে, আপাতত তারা বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সরাসরি সহায়তা নিচ্ছে না। প্রয়োজন হলে বিশেষায়িত সহায়তা গ্রহণ করা হবে।
উদ্ধারকাজের মধ্যেই নতুন করে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ জমে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে পানি জমে যাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে কিছু এলাকায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে হিমবাহ ও পাথরের বিশাল স্তর ধসে পড়ার পর এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।
কালের আলো/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array