খুঁজুন
                               
, ,
           

বস্তি থেকে দুর্গম পাহাড়ে পৌঁছাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
বস্তি থেকে দুর্গম পাহাড়ে পৌঁছাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

একটি কার্ড। মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা। আর সেই অর্থ যাবে সরাসরি পরিবারের হাতে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী নয়, থাকবে ডিজিটাল পরিচয় ও গভর্নমেন্ট টু পারসন বা জি-টু-পি পদ্ধতি। দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রচলিত কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে এবার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬’-এর আওতায় দেশের প্রায় ২ কোটি অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে নিয়মিত নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়। এই কর্মসূচির বিশেষ দিক হলো—সহায়তা দেওয়া হবে ব্যক্তি ধরে নয়, পরিবারকে একটি ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করে। আর পরিবারে নারী সদস্যের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি সাধারণত পরিবারের মা, বয়োজ্যেষ্ঠ বা দায়িত্বশীল নারীর নামে ইস্যু করা হবে।

সমতল থেকে দুর্গম পাহাড়—বাদ যাবে না কেউ
ফ্যামিলি কার্ড শুধু শহর বা সমতলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকছে না। নীতিমালায় দেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম পাড়া পর্যন্ত সব জনগোষ্ঠীকে কর্মসূচির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি কাজ করবে। অর্থাৎ ভৌগোলিক অবস্থান বা দুর্গমতার কারণে যাতে দরিদ্র পরিবার বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যেই তৈরি করা হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ের বাছাই কাঠামো। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পাইলট কর্মসূচির আওতায় রাজধানীর কড়াইল, অলিমিয়ারটেক ও বাগানবাড়ী বস্তিসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নির্বাচিত এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ছিল রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ। পাইলট পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই এবার বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাঠামো তৈরি হলো।

মাসে ২,৫০০ টাকা, তবে পরিবারের আকারেও আছে হিসাব
নীতিমালা অনুযায়ী, লক্ষ্যভুক্ত পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। তবে পাঁচ সদস্যের বেশি পরিবারকে সর্বোচ্চ দুটি কার্ড এবং পরিবারের সদস্যসংখ্যা ১০ জনের বেশি হলে ক্ষেত্রবিশেষে তিনটি কার্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে বৃহৎ ও অতি দরিদ্র পরিবারগুলো তুলনামূলক বেশি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবে। তবে কারা এই সুবিধা পাবেন, তার পাশাপাশি কারা পাবেন না—নীতিমালায় সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে।

আট কারণে মিলবে না ফ্যামিলি কার্ড
নীতিমালায় একটি ‘নেগেটিভ লিস্ট’ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক, পেশাগত ও সম্পদগত সক্ষমতা থাকলে পরিবারটি এই সুবিধার বাইরে থাকবে। সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পাওয়া নারীপ্রধান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কিংবা নিয়মিত সরকারি পেনশনভোগী পরিবার এই সুবিধা পাবে না। একইভাবে পরিবারের কোনো সদস্যের নামে ৫ লাখ টাকার বেশি জাতীয় সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত বা ফিক্সড ডিপোজিট থাকলেও বাদ পড়তে হবে। তিন বা চার চাকার মোটরযান, বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা থাকলেও মিলবে না কার্ড। পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে কিংবা করযোগ্য আয় থাকলেও পরিবারটি অযোগ্য বিবেচিত হবে। এ ছাড়া বসতভিটাসহ মোট আবাদি জমি শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে এবং কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি বা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি কর্মসূচির বাইরে থাকবে।

বড় চ্যালেঞ্জ বাছাইয়ে স্বচ্ছতা
ফ্যামিলি কার্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে এর ডিজিটাল কাঠামো। অনন্য একক পরিচিতি এবং জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীর কাছে অর্থ পৌঁছানোর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমানোর সুযোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রকৃত দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করা। স্থানীয় পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাব, তথ্যের ভুল এবং প্রকৃত সুবিধাভোগী বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই শুধু ডিজিটাল কার্ড করলেই হবে না; তথ্য যাচাই ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে।

ব্যক্তি নয়, পরিবার—দর্শনে বড় পরিবর্তন
সরকারের নীতিমালায় এই কর্মসূচির মূল দর্শন—‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। এর মাধ্যমে শুধু নগদ অর্থ দেওয়া নয়, পরিবারকে একটি স্বনির্ভর ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে নারীর নামে কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সামাজিক নিরাপত্তাকে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক নারীদের পরিবারের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ২ কোটি পরিবারকে নিয়মিত অর্থ দেওয়া যেমন বিশাল কর্মযজ্ঞ, তেমনি এর সঠিক বাস্তবায়নও বড় পরীক্ষা। ফ্যামিলি কার্ড শেষ পর্যন্ত দরিদ্র মানুষের হাতে নিয়মিত সহায়তার নিশ্চয়তা হয়ে উঠবে, নাকি বাছাই ও বাস্তবায়নের দুর্বলতায় হারিয়ে যাবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, ১০ দিনে এলো প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, ১০ দিনে এলো প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

দেশের প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১০ দিনে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে ৯৮ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ১৮১ কোটি টাকা।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১০ পয়সা হিসাবে রেমিট্যান্সের এ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে দেশে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৯৫৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৫৩ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসী আয়ের এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় প্রবাসী আয় নিয়ে ইতিবাচক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য, তুললেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য, তুললেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলনের একাংশকে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্রের অংশ এই বিক্ষোভ।

তবে আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত এবং এ বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষও এখন তথাকথিত দেশবিরোধী শক্তিগুলোকে চিনতে শুরু করেছেন। তার ভাষ্য, মানুষ বুঝতে পারছেন কারা দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে।

কঙ্গনা বলেন, ‘দেখুন, কীভাবে মানুষ এখন এই দেশবিরোধী শক্তিগুলিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছেন। পুলিশকে বাদ দিলেও সাধারণ মানুষ এবার তাদের ধরে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবেন। কারণ, কারা দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে, তা মানুষ বুঝতে পারছেন।’

বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযান, আটক নিয়ে বিতর্ক

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কঙ্গনার এই মন্তব্য সামনে আসে। আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনায় বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতাও পুলিশের পদক্ষেপের মুখে পড়েন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে যায়। তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ও পুলিশের অভিযানের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিক্ষোভকে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করলেও নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন কঙ্গনা। দিল্লিগামী ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং যন্তর মন্তরের আশপাশে যান চলাচলে বাধার মতো পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আগেও আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

সিজেপির আন্দোলন ঘিরে এবারই প্রথম বিতর্কিত মন্তব্য করলেন না কঙ্গনা। এর আগে জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীদের ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি।

সে সময় আন্দোলনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও, ভাষা, পোশাক ও আচরণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও এ নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।

সৌরভ দাসের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ

সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের সঙ্গেও প্রকাশ্য বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন কঙ্গনা। সৌরভের দাবি ছিল, বিজেপিসহ কোনো রাজনৈতিক দলই কঙ্গনাকে গুরুত্ব দেয় না। তার মতে, গণতন্ত্রকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা কঙ্গনার সংসদ সদস্য হিসেবে কাজের চেয়ে বেশি।

এর জবাবে সৌরভকে ‘অকর্মণ্য’ বলে আক্রমণ করেন কঙ্গনা। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবে তাকে কী করতে হবে, সে বিষয়ে সৌরভের উপদেশ দেওয়ার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে কঙ্গনার মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। একদিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছেন বিজেপি সাংসদ, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করছেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।

কালের আলো/জেএন

পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে জেতানোর সুযোগ, চালু ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে জেতানোর সুযোগ, চালু ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’

মাঠে খেলা শুরুর আগেই শুরু হয়েছে সমর্থকদের লড়াই। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে রাখতে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিয়ে চালু হয়েছে ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’। প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ঘিরে দর্শক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এই উদ্যোগ নিয়েছে আয়োজকেরা।

রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে আলোচনায় আসা এই ভোটিং কার্যক্রমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে ভোট দিতে পারবেন সমর্থকেরা। ভোটগ্রহণ চলবে আগামী ১৩ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ভোট দিতে ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। একটি ই-মেইল ঠিকানা থেকে দেওয়া যাবে মাত্র একটি ভোট। এ ক্ষেত্রে ই-মেইল যাচাই কিংবা পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

ভোটের সর্বশেষ অবস্থান জানতে ওয়েবসাইটের ‘ফ্যান কাপ লিডারবোর্ড’ দেখার সুযোগও থাকছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক মোট ভোট, শতকরা হার এবং প্রতিদিনের ভোটের হিসাব দেখা যাবে।

২৫ অক্টোবর শুরু মাঠের লড়াই

আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’। আগামী ২৫ অক্টোবর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এবিজি বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে শুরু হবে ক্রিকেট ও ফুটবলের এই প্রতিযোগিতা। ফ্লাডলাইটের আলোয় রাতে অনুষ্ঠিত হবে দুই খেলার ম্যাচগুলো।

টুর্নামেন্টে অংশ নেবে দেশের ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো—আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), ফেয়ারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

চ্যাম্পিয়নদের জন্য ১০ লাখ টাকা

ক্রিকেট ও ফুটবলে পৃথক প্রতিযোগিতায় শিরোপার জন্য লড়বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দল। প্রতিটি খেলায় চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং রানার্সআপ দলের জন্য ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন আয়োজকেরা।

পুরস্কারের পাশাপাশি পেশাদার পরিবেশে নিজেদের প্রতিভা ও দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আয়োজকদের লক্ষ্য, তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

অধিনায়কদের নিয়ে ‘ক্যাপ্টেনস মিট অ্যান্ড গ্রিট’

টুর্নামেন্ট সামনে রেখে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্যাপ্টেনস মিট অ্যান্ড গ্রিট’।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান, উপদেষ্টা বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক, টি স্পোর্টসের নির্বাহী পরিচালক তাসভির উল ইসলাম, অপারেশন্স ম্যানেজার সালমান হাসান এবং ইকরাম হোসেন রাফি। এ ছাড়া ক্রিকেট ও ফুটবলে অংশ নিতে যাওয়া ২০টি দলের অধিনায়ক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অংশগ্রহণকারী অধিনায়কেরা জানান, পেশাদার পরিবেশে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের এমন সুযোগ তাঁদের জন্য গর্বের। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।

দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির ধারাবাহিকতায় এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যেও তৈরি করবে বাড়তি উন্মাদনা।

কালের আলো/জেএন