খুঁজুন
                               
, ,
           

‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর বিশ্বাস সবার চোখেমুখে ছিল’-তালহা জুবায়ের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর বিশ্বাস সবার চোখেমুখে ছিল’-তালহা জুবায়ের

বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই দলের বোলিং ইউনিটে পরিবর্তনের ছাপ দেখতে পেয়েছেন সাবেক পেসার তালহা জুবায়ের। অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের দারুণ পারফরম্যান্সের পেছনে শৃঙ্খলিত বোলিং, প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে ১০-১২ দিন আগেই সেখানে পৌঁছানো বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তালহা। তার মতে, এতে স্থানীয় উইকেট ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন বোলাররা।

তালহা বলেন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ভালো বোলিং করতে না পারা তার জন্য বড় শিক্ষার বিষয় ছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়া সফরে জয়-পরাজয়ের চেয়ে শৃঙ্খলিত বোলিংয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের পেসারদের মানসিক দৃঢ়তা তৈরিতেও কাজ করেছেন তিনি। বোলারদের আত্মবিশ্বাসী থাকা, ব্যাটসম্যানের চোখে চোখ রাখা এবং বাউন্ডারি হজম করার পর মাথা নিচু করে ফিরে না যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তালহা।

প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের শেষ ৮-১০ ইনিংস বিশ্লেষণ করে তাদের দুর্বলতা খুঁজে বের করা হয়। অনুশীলনের সময় বোলারদের ট্রাভিস হেড কিংবা স্টিভ স্মিথকে বোলিং করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে পরিকল্পনা করতে উৎসাহিত করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের মানসিকতায় বড় পরিবর্তনও দেখেছেন তালহা। তিনি বলেন, প্রথম টেস্টের আগেই দলের প্রত্যেকের চোখেমুখে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। সেই আত্মবিশ্বাস প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুমেও চাপ তৈরি করেছিল।

ম্যাকেতে প্রথম টেস্ট থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তার মতে, আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে শুধু বোলারকে আক্রমণ করতে না দিয়ে এক জায়গায় বল করানোর সুযোগ দিলে উইকেট হারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বাংলাদেশ সেখানে আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।

ডারউইন টেস্টে অবশ্য বাংলাদেশ সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। তুলনামূলক কম গতির উইকেটেও বাংলাদেশ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছে বলে মনে করেন তালহা।

বাংলাদেশে পেস বোলার হওয়াকে এখনও কঠিন মনে করেন সাবেক এই পেসার। তার মতে, দেশের ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান হওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও দ্রুতগতির বোলার তৈরি হওয়ার জন্য আলাদা মানসিকতা ও শারীরিক সক্ষমতা প্রয়োজন।

তালহার ভাষায়, ‘পেস বোলার তৈরি করা যায় না, তারা জন্মগত। আর দ্রুত বোলিং করতে হলে কিছুটা পাগলাটে হতে হয়।’

স্থানীয় কোচদের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। অ্যালান ডোনাল্ড, ওটিস গিবসন কিংবা শন টেইটের মতো বড় নামের কোচদের অভিজ্ঞতা থাকলেও স্থানীয় কোচরা দেশের খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও সংস্কৃতি ভালোভাবে বুঝতে পারেন বলে মনে করেন তালহা।

তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো অ্যালান ডোনাল্ড, ওটিস গিবসন বা শন টেইটের মতো বড় নাম নই, কিন্তু আমাদের মানুষকে আমাদের চেয়ে ভালো কেউ বোঝে না।’

পেসার শরিফুল ইসলামের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্কের কথোপকথনের কথাও উল্লেখ করেন তালহা। স্টার্ক শরিফুলকে নিজের শরীর সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝার পরামর্শ দিয়েছেন-কতটা বোলিং করলে প্রস্তুত হওয়া যায়, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নিজের শরীরের সংকেত বুঝেই নিতে হবে।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই আশাবাদী তালহা। তার মতে, আত্মবিশ্বাস, সঠিক প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারলে দেশের পেসাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও বড় সাফল্য এনে দিতে পারবেন।

কালের আলো/এসএ

চীনের টেক্সটাইল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত অন্তত আটজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ
চীনের টেক্সটাইল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়  নিহত অন্তত আটজন

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংডং প্রদেশের একটি টেক্সটাইল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার স্থানীয় সময় বেলা ৩টার দিকে গুয়াংডং প্রদেশের ফোশান শহরে অবস্থিত ওই কারখানায় আগুন লাগে। আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান দমকলকর্মী ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। শুরু হয় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও আটকে পড়াদের উদ্ধারের কাজ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। দুর্ঘটনার পরও ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছিল বলে জানানো হয়েছে।

তবে ঠিক কী কারণে কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আগুন কীভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

অগ্নিকাণ্ডে আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার পর কারখানাটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

চীনে শিল্পকারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং জরুরি নির্গমন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। ফোশানের এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ বা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও সিনহুয়া

কালের আলো/এসএ

ভারতে ২০২৭ সালে বাজারে আসতে পারে প্রথম ডেঙ্গু টিকা কিউডেঙ্গা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
ভারতে ২০২৭ সালে বাজারে আসতে পারে প্রথম ডেঙ্গু টিকা কিউডেঙ্গা

ডেঙ্গু মোকাবিলায় নতুন একটি প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে ভারতে। দেশটিতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গুর টিকা কিউডেঙ্গা (Qdenga) বাজারে আসতে পারে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে।

জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যাল-এর তৈরি এই টিকা ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। ভারতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর টিকাটি বেসরকারি বাজারে পাওয়া যেতে পারে। তাকেদার সঙ্গে এ জন্য চুক্তি করেছে ড. রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজ, যারা ভারতে কিউডেঙ্গার প্রচার ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করবে।

কিউডেঙ্গা কী?

কিউডেঙ্গা হলো চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি একটি লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড বা জীবিত কিন্তু দুর্বল করা ভাইরাসভিত্তিক টিকা। টিকাটি দুই ডোজে দিতে হয়—প্রথম ডোজের তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়।

এর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, টিকা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ পূর্বে ডেঙ্গু সংক্রমণের ইতিহাস না থাকলেও টিকাটি দেওয়া যেতে পারে।

কার্যকারিতা কতটা?

কিউডেঙ্গার কার্যকারিতা নিয়ে বড় পরিসরের ক্লিনিক্যাল গবেষণা হয়েছে। তাকেদার প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদি তথ্য অনুযায়ী, দুই ডোজ নেওয়ার পর ৪.৫ বছর পর্যন্ত ভাইরাস-নিশ্চিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতা ছিল ৬১.২ শতাংশ এবং ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে কার্যকারিতা ছিল ৮৪.১ শতাংশ। গবেষণায় চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দেখা গেছে।

তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পাওয়া কার্যকারিতা বাস্তব জীবনের পরিস্থিতিতে একই থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। টিকার প্রভাব বয়স, সংক্রমণের ধরন, ভাইরাসের সেরোটাইপ এবং স্থানীয় মহামারির পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে।

ভারতে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতে ডেঙ্গু একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে এডিস মশার বিস্তারের সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হওয়ায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এখনো ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান উপায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে ২ লাখ ৩২ হাজার ৪২৫টি ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। একই বছর বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪৪ লাখের বেশি এবং মৃত্যু হয় ১১ হাজারের বেশি মানুষের।

২০২৫ সালের ভারতের ক্ষেত্রে WHO-এর পরবর্তী নজরদারি প্রতিবেদনে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার ৭২৯টি ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে টিকা চালু হলে মশা নিয়ন্ত্রণ, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষার মতো প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি ডেঙ্গু মোকাবিলায় এটি একটি অতিরিক্ত হাতিয়ার হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে কিউডেঙ্গা

কিউডেঙ্গা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে অনুমোদন পেয়েছে। তাকেদার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টিকাটির ১ কোটি ৮৬ লাখ ডোজ ১১টি ডেঙ্গু-প্রবণ দেশে বিতরণ করা হয়েছিল এবং ৪১টি দেশে এটি অনুমোদিত ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও কিউডেঙ্গাকে প্রিকোয়ালিফাই করেছে।

ভারতে শুরুতে টিকাটি বেসরকারি বাজারের মাধ্যমে পাওয়া যাওয়ার কথা। দেশটির সরকারি টিকাদান কর্মসূচিতে এটি অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে।

টিকার উৎপাদন বাড়াতেও তাকেদা কাজ করছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি ভারতের বায়োলজিক্যাল ই. লিমিটেড-এর সঙ্গে কিউডেঙ্গার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য একটি অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয়। লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতে বছরে ১০ কোটি ডোজ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করা।

টিকা এলেও মশা নিয়ন্ত্রণ জরুরি

কিউডেঙ্গা বাজারে এলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রচলিত ব্যবস্থাগুলোর গুরুত্ব কমবে না। জমে থাকা পানি অপসারণ, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, মশারি বা রিপেলেন্ট ব্যবহার এবং মশার কামড় এড়িয়ে চলা—এসব পদক্ষেপ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডেঙ্গু মূলত Aedes aegyptiAedes albopictus মশার মাধ্যমে ছড়ায়। নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন, বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ডেঙ্গুর বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

কালের আলো/এসএ

দুই গাড়ির সংঘর্ষে সৌদিতে একই পরিবারের ৭ জনসহ নিহত ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
দুই গাড়ির সংঘর্ষে সৌদিতে একই পরিবারের ৭ জনসহ নিহত ৯

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল-আহসা গভর্নরেটে দুটি গাড়ির সংঘর্ষে একই পরিবারের সাত সদস্যসহ মোট নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন।

সৌদি সংবাদমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় আল-উকাইর-আল-উয়ুন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই পরিবারের সাত সদস্য একটি গাড়িতে ছিলেন। অন্য গাড়িতে থাকা দুই তরুণও দুর্ঘটনায় নিহত হন।

পূর্বাঞ্চলীয় ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করায় দুটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়িই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা আটকে পড়েন।

খবর পেয়ে সিভিল ডিফেন্স, ট্রাফিক বিভাগ ও সৌদি রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তবে শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনাকবলিত দুই গাড়িতে থাকা নয়জনেরই মৃত্যু হয়।

আল-উকাইর-আল-উয়ুন সড়কটি আল-আহসা গভর্নরেটের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে উপকূলীয় এলাকার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ৬০ শতাংশের বেশি কমেছে।

তবে সর্বশেষ এ দুর্ঘটনা দেশটির সড়কে বিদ্যমান ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। প্রাথমিকভাবে একটি গাড়ির হঠাৎ দিক পরিবর্তনকে দুর্ঘটনার কারণ বলা হলেও কেন গাড়িটি এমনভাবে দিক পরিবর্তন করেছিল, তা বিস্তারিত জানা যায়নি। নিহতদের পরিচয়ও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।

সূত্র: জিও নিউজ ও গালফ নিউজ

কালের আলো/এমএসআইপি