‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর বিশ্বাস সবার চোখেমুখে ছিল’-তালহা জুবায়ের
বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই দলের বোলিং ইউনিটে পরিবর্তনের ছাপ দেখতে পেয়েছেন সাবেক পেসার তালহা জুবায়ের। অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের দারুণ পারফরম্যান্সের পেছনে শৃঙ্খলিত বোলিং, প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে ১০-১২ দিন আগেই সেখানে পৌঁছানো বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তালহা। তার মতে, এতে স্থানীয় উইকেট ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন বোলাররা।
তালহা বলেন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ভালো বোলিং করতে না পারা তার জন্য বড় শিক্ষার বিষয় ছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়া সফরে জয়-পরাজয়ের চেয়ে শৃঙ্খলিত বোলিংয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পেসারদের মানসিক দৃঢ়তা তৈরিতেও কাজ করেছেন তিনি। বোলারদের আত্মবিশ্বাসী থাকা, ব্যাটসম্যানের চোখে চোখ রাখা এবং বাউন্ডারি হজম করার পর মাথা নিচু করে ফিরে না যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তালহা।
প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের শেষ ৮-১০ ইনিংস বিশ্লেষণ করে তাদের দুর্বলতা খুঁজে বের করা হয়। অনুশীলনের সময় বোলারদের ট্রাভিস হেড কিংবা স্টিভ স্মিথকে বোলিং করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে পরিকল্পনা করতে উৎসাহিত করা হয়।
অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের মানসিকতায় বড় পরিবর্তনও দেখেছেন তালহা। তিনি বলেন, প্রথম টেস্টের আগেই দলের প্রত্যেকের চোখেমুখে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। সেই আত্মবিশ্বাস প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুমেও চাপ তৈরি করেছিল।
ম্যাকেতে প্রথম টেস্ট থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তার মতে, আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে শুধু বোলারকে আক্রমণ করতে না দিয়ে এক জায়গায় বল করানোর সুযোগ দিলে উইকেট হারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বাংলাদেশ সেখানে আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
ডারউইন টেস্টে অবশ্য বাংলাদেশ সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। তুলনামূলক কম গতির উইকেটেও বাংলাদেশ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছে বলে মনে করেন তালহা।
বাংলাদেশে পেস বোলার হওয়াকে এখনও কঠিন মনে করেন সাবেক এই পেসার। তার মতে, দেশের ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান হওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও দ্রুতগতির বোলার তৈরি হওয়ার জন্য আলাদা মানসিকতা ও শারীরিক সক্ষমতা প্রয়োজন।
তালহার ভাষায়, ‘পেস বোলার তৈরি করা যায় না, তারা জন্মগত। আর দ্রুত বোলিং করতে হলে কিছুটা পাগলাটে হতে হয়।’
স্থানীয় কোচদের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। অ্যালান ডোনাল্ড, ওটিস গিবসন কিংবা শন টেইটের মতো বড় নামের কোচদের অভিজ্ঞতা থাকলেও স্থানীয় কোচরা দেশের খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও সংস্কৃতি ভালোভাবে বুঝতে পারেন বলে মনে করেন তালহা।
তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো অ্যালান ডোনাল্ড, ওটিস গিবসন বা শন টেইটের মতো বড় নাম নই, কিন্তু আমাদের মানুষকে আমাদের চেয়ে ভালো কেউ বোঝে না।’
পেসার শরিফুল ইসলামের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্কের কথোপকথনের কথাও উল্লেখ করেন তালহা। স্টার্ক শরিফুলকে নিজের শরীর সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝার পরামর্শ দিয়েছেন-কতটা বোলিং করলে প্রস্তুত হওয়া যায়, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নিজের শরীরের সংকেত বুঝেই নিতে হবে।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই আশাবাদী তালহা। তার মতে, আত্মবিশ্বাস, সঠিক প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারলে দেশের পেসাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও বড় সাফল্য এনে দিতে পারবেন।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array