খুঁজুন
                               
, ,
           

‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর বিশ্বাস সবার চোখেমুখে ছিল’-তালহা জুবায়ের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর বিশ্বাস সবার চোখেমুখে ছিল’-তালহা জুবায়ের

বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই দলের বোলিং ইউনিটে পরিবর্তনের ছাপ দেখতে পেয়েছেন সাবেক পেসার তালহা জুবায়ের। অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের দারুণ পারফরম্যান্সের পেছনে শৃঙ্খলিত বোলিং, প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে ১০-১২ দিন আগেই সেখানে পৌঁছানো বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তালহা। তার মতে, এতে স্থানীয় উইকেট ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন বোলাররা।

তালহা বলেন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ভালো বোলিং করতে না পারা তার জন্য বড় শিক্ষার বিষয় ছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়া সফরে জয়-পরাজয়ের চেয়ে শৃঙ্খলিত বোলিংয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের পেসারদের মানসিক দৃঢ়তা তৈরিতেও কাজ করেছেন তিনি। বোলারদের আত্মবিশ্বাসী থাকা, ব্যাটসম্যানের চোখে চোখ রাখা এবং বাউন্ডারি হজম করার পর মাথা নিচু করে ফিরে না যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তালহা।

প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের শেষ ৮-১০ ইনিংস বিশ্লেষণ করে তাদের দুর্বলতা খুঁজে বের করা হয়। অনুশীলনের সময় বোলারদের ট্রাভিস হেড কিংবা স্টিভ স্মিথকে বোলিং করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে পরিকল্পনা করতে উৎসাহিত করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের মানসিকতায় বড় পরিবর্তনও দেখেছেন তালহা। তিনি বলেন, প্রথম টেস্টের আগেই দলের প্রত্যেকের চোখেমুখে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। সেই আত্মবিশ্বাস প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুমেও চাপ তৈরি করেছিল।

ম্যাকেতে প্রথম টেস্ট থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তার মতে, আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে শুধু বোলারকে আক্রমণ করতে না দিয়ে এক জায়গায় বল করানোর সুযোগ দিলে উইকেট হারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বাংলাদেশ সেখানে আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।

ডারউইন টেস্টে অবশ্য বাংলাদেশ সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। তুলনামূলক কম গতির উইকেটেও বাংলাদেশ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছে বলে মনে করেন তালহা।

বাংলাদেশে পেস বোলার হওয়াকে এখনও কঠিন মনে করেন সাবেক এই পেসার। তার মতে, দেশের ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান হওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও দ্রুতগতির বোলার তৈরি হওয়ার জন্য আলাদা মানসিকতা ও শারীরিক সক্ষমতা প্রয়োজন।

তালহার ভাষায়, ‘পেস বোলার তৈরি করা যায় না, তারা জন্মগত। আর দ্রুত বোলিং করতে হলে কিছুটা পাগলাটে হতে হয়।’

স্থানীয় কোচদের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। অ্যালান ডোনাল্ড, ওটিস গিবসন কিংবা শন টেইটের মতো বড় নামের কোচদের অভিজ্ঞতা থাকলেও স্থানীয় কোচরা দেশের খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও সংস্কৃতি ভালোভাবে বুঝতে পারেন বলে মনে করেন তালহা।

তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো অ্যালান ডোনাল্ড, ওটিস গিবসন বা শন টেইটের মতো বড় নাম নই, কিন্তু আমাদের মানুষকে আমাদের চেয়ে ভালো কেউ বোঝে না।’

পেসার শরিফুল ইসলামের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্কের কথোপকথনের কথাও উল্লেখ করেন তালহা। স্টার্ক শরিফুলকে নিজের শরীর সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝার পরামর্শ দিয়েছেন-কতটা বোলিং করলে প্রস্তুত হওয়া যায়, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নিজের শরীরের সংকেত বুঝেই নিতে হবে।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই আশাবাদী তালহা। তার মতে, আত্মবিশ্বাস, সঠিক প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারলে দেশের পেসাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও বড় সাফল্য এনে দিতে পারবেন।

কালের আলো/এসএ

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর ইতিহাসের সাক্ষী হতে ভেনিসে বিধান রিবেইরো

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর ইতিহাসের সাক্ষী হতে ভেনিসে বিধান রিবেইরো

বাংলাদেশি চলচ্চিত্র সমালোচক ও লেখক বিধান রিবেইরো ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্র সমালোচক ও ঢাকায় প্রকাশিত ইংরেজি ভাষার মাসিক চলচ্চিত্র সাময়িকী ‘কাট টু সিনেমা’র সম্পাদক হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।

লা বিয়েনালে দি ভেনেজিয়ার আয়োজনে আগামী ২ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ভেনিস লিডোতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের উৎসব। এতে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ভেনেজিয়া ৮৩-তে ২১টি সিনেমাসহ থাকছে অরিজন্তি, ভেনিস স্পটলাইট, ভেনিস ওপেন, ভেনিস ক্লাসিকস ও ভেনিস ইমার্সিভসহ বিভিন্ন বিভাগ।

এবার ভেনিস উৎসবের অরিজন্তি বিভাগে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। ৮৮ মিনিটের সিনেমাটি বাংলাদেশ, ফ্রান্স, পর্তুগাল, নরওয়ে ও জার্মানির যৌথ প্রযোজনা। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া এটিই বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে ২০১০ সালে ইশতিয়াক জিকোর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘৭২০ ডিগ্রিজ’ অরিজন্তি বিভাগে নির্বাচিত হয়েছিল।

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর নির্বাচনের কারণে এবারের উৎসব নিয়ে বিশেষভাবে উচ্ছ্বসিত বিধান। পাশাপাশি ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইতালি সফরের ১০০ বছর পূর্তির বিষয়টিও এবারের উৎসবকে তার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

ভেনিসের এবারের আয়োজনে থাকছে বিশ্বখ্যাত নির্মাতা ভার্নার হারজগ, ভিম ভেন্ডার্স ও ল্যাভ দিয়াজের সিনেমাও। হারজগের ‘বাকিং ফাস্টার্ড’ প্রতিযোগিতা বিভাগে রয়েছে। অন্যদিকে ভেন্ডার্সের ‘ফ্রম ইনসাইড আউট: দ্য আর্কিটেকচার অব পিটার জুমথর’ এবং দিয়াজের ‘মাকিকিরান পো’ ভেনিস ওপেন বিভাগে প্রদর্শিত হবে।

ভেনিস উৎসব শেষে বিধান রিবেইরো যাবেন বুদাপেস্টে। সেখানে ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে নবম বুদাপেস্ট ক্লাসিকস ফিল্ম ম্যারাথন। হাঙ্গেরির ন্যাশনাল ফিল্ম ইনস্টিটিউট আয়োজিত এই উৎসবের মূল আকর্ষণ পুনরুদ্ধার করা চলচ্চিত্র ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ঐতিহ্য।

চলচ্চিত্র সমালোচক হিসেবে উৎসবটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিধান। বুদাপেস্টে অবস্থানকালে তিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক ফেডারেশন (ফিপ্রেসি)-এর সাধারণ সভাতেও অংশ নেবেন।

ভেনিসের সমকালীন বিশ্ব চলচ্চিত্রের আয়োজন থেকে বুদাপেস্টের চলচ্চিত্র ঐতিহ্য ও সংরক্ষণকেন্দ্রিক উৎসব—দুই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনে বিধান রিবেইরোর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সমালোচনা ও চলচ্চিত্রচর্চার আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও একটি উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি তৈরি করছে।

কালের আলো/এসএ

লোডশেডিং সামলাতে বিকল্প খুঁজছে সরকার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
লোডশেডিং সামলাতে বিকল্প খুঁজছে সরকার

দেশের বিদ্যুৎ খাত যেন একসঙ্গে কয়েকটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা যেখানে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট, সেখানে চাহিদার তুলনায় কয়েক হাজার মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। ফলে রাজধানী থেকে গ্রাম—সবখানেই বাড়ছে লোডশেডিং। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, এত বিপুল সক্ষমতা থাকার পরও কেন বিদ্যুতের এই হাহাকার? এর উত্তর মিলছে উৎপাদন সক্ষমতা ও বাস্তব উৎপাদনের ব্যবধানেই। দেশের ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সম্প্রতি ৬২টির উৎপাদন কোনো না কোনোভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ। ফলে কাগজে থাকা সক্ষমতার বড় একটি অংশ বাস্তবে কাজে লাগছে না। এক দিন দিনের বেলায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে। এর আগে আগস্টে তা উঠেছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে।

বড় ধাক্কা কয়লায়
বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক বড় কারণগুলোর একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পটুয়াখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ। এতে এক ধাক্কায় প্রায় ৬৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুধু পায়রা নয়, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ। বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিটেও দেখা দিয়েছে কারিগরি সমস্যা। ফলে দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থার যে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য ‘বেসলোড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলোই এখন একসঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশের কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু সম্প্রতি এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ সংকটটি শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভাব নয়; বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখার সক্ষমতারও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আদানিতেও ভরসা মিলছে না
কয়লার এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের ঘাটতি। বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎস ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটি মূলত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্মিত। কিন্তু কয়লা সরবরাহে সমস্যার কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে সেখানকার উৎপাদন কমেছে। দিনে বাংলাদেশ পাচ্ছে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ সক্ষমতার তুলনায় কয়েকশ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ আসছে। পায়রার একটি ইউনিট বন্ধ এবং আদানির সরবরাহ কমে যাওয়া একই সময়ে ঘটায় জাতীয় গ্রিডে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলামও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

সবচেয়ে বড় দুর্বলতা গ্যাসে
তবে বর্তমান সংকটের গভীরে রয়েছে গ্যাসের ঘাটতি। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু গ্যাসের অভাবে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এখানেই বিদ্যুৎ খাতের সংকটের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যটি সামনে আসে—বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, উৎপাদনের সক্ষমতাও আছে; নেই পর্যাপ্ত জ্বালানি। পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশীয় গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঘাটতি আরও বেড়েছে। মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর সরবরাহে যে ধাক্কা লাগে, তার প্রভাবও পুরোপুরি কাটেনি। ফলে গ্যাসের সংকট এখন শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নেই। শিল্প, সার কারখানা, পরিবহন ও আবাসিক গ্রাহকরাও এর প্রভাব অনুভব করছেন।

শেষ ভরসা তেল হলেও সেটিও অনিশ্চিত
কয়লা ও গ্যাস—দুই উৎসেই যখন উৎপাদন কমছে, তখন সরকারের সামনে সবচেয়ে দ্রুত কার্যকর করা যায় এমন বিকল্প হয়ে উঠেছে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। উচ্চপর্যায় থেকে এসব কেন্দ্রে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট এবং দিনে দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই সমাধানেরও বড় মূল্য আছে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কয়লা বা গ্যাসের তুলনায় ব্যয়বহুল। তার ওপর অন্তত ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতির তথ্য রয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী সব কেন্দ্র চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাৎ সরকার এখন অনেকটা ‘আগুন নেভানোর’ নীতিতে চলছে—যেখানে যে উৎসটি সাময়িকভাবে চালু করা সম্ভব, সেটি দিয়েই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা হচ্ছে। এতে হয়তো তাৎক্ষণিক লোডশেডিং কিছুটা কমানো যাবে, কিন্তু বাড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ।

লোডশেডিংয়ের বড় বোঝা গ্রামাঞ্চলে
সংকটের সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রভাব পড়ছে গ্রামাঞ্চলে। ঢাকায় লোডশেডিং শুরু হওয়ার আগে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বাইরের এলাকাগুলোয় সরবরাহ কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংকট তীব্র হওয়ায় গত ১২ আগস্ট থেকে ঢাকাতেও পরিকল্পিত লোডশেডিং শুরু করতে হয়েছে। বাস্তবে অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। একপর্যায়ে সারা দেশে ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের মধ্যে ২ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াটই ছিল পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায়। অর্থাৎ বিদ্যুৎ ঘাটতি সামলানোর বড় দায়িত্ব কার্যত গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের ওপরই চাপছে।

বিকল্প আছে, কিন্তু নেই সহজ সমাধান
সরকার এখন চারটি পথে এগোতে চাইছে—তেলচালিত কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানো, দ্রুত এলএনজি আমদানি ও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, ত্রুটিতে বন্ধ কয়লাভিত্তিক ইউনিট দ্রুত মেরামত এবং ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানো। কিন্তু চারটি পথের প্রতিটিতেই রয়েছে আলাদা ঝুঁকি। বেশি তেল মানে বেশি খরচ, বেশি এলএনজি মানে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, কয়লা মানে সরবরাহ ও কারিগরি ঝুঁকি, আর আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানে জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন প্রশ্ন। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে সংকট তৈরি করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, দ্রুত ৯ থেকে ১০টি বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর চেষ্টা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বর্তমান সংকটের চরিত্র আরও গভীর। এটি কোনো একটি কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার ফল নয়; বরং গ্যাস, কয়লা, তেল, আমদানি করা বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে তৈরি হওয়া দুর্বলতার ফল।

কালের আলো/এম/এএইচ

‘একজন কমলালেবু’ অবলম্বনে জীবনানন্দ, ফের জুটি গৌতম ঘোষ-হাবিবুর রহমান

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
‘একজন কমলালেবু’ অবলম্বনে জীবনানন্দ, ফের জুটি গৌতম ঘোষ-হাবিবুর রহমান

কবি জীবনানন্দ দাশের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে নতুন সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন ভারতের নির্মাতা গৌতম ঘোষ ও বাংলাদেশের প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘মনের মানুষ’ ও ‘শঙ্খচিল’-এর পর এটি হতে যাচ্ছে এই দুই নির্মাতার নতুন যৌথ উদ্যোগ।

নাম চূড়ান্ত না হওয়া সিনেমাটি বিশিষ্ট লেখক ও ঔপন্যাসিক শাহাদুজ্জামানের ‘একজন কমলালেবু’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হবে। জীবনানন্দের জীবন, সাহিত্য, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন ও অন্তর্দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই এগোবে গল্প।

সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল রেডিও গাগাকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে হাবিবুর রহমান খান জানান, সিনেমাটি নিয়ে গৌতম ঘোষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। গৌতম ইতোমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জীবনানন্দকে নিয়ে গবেষণা করছেন এবং লন্ডনে শাহাদুজ্জামানের সঙ্গেও এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন।

হাবিবুর বলেন, ‘গৌতম ও আমি দুজনই সিনেমাটি নিয়ে ভীষণভাবে আচ্ছন্ন। আমরা প্রায়ই ফোনে এ নিয়ে আলোচনা করি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন।’

সিনেমায় জীবনানন্দের চরিত্রে কে অভিনয় করবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে একটি বিষয়ে শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট—জীবনানন্দের চরিত্রে অভিনয় করবেন একজন বাংলাদেশি অভিনেতা।

হাবিবুর জানান, এ বিষয়ে গৌতম ঘোষের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং নির্মাতাও এতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে সম্ভাব্য অভিনেতার নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

জীবনানন্দের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, কবি ও গবেষক ভূমেন্দ্র গুহর চরিত্রে অভিনেতা আফজাল হোসেনকে নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন হাবিবুর।

জীবনানন্দের মৃত্যুর পর তার বহু অপ্রকাশিত কবিতা, গল্প ও উপন্যাস সংরক্ষণ ও সম্পাদনার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ভূমেন্দ্র গুহ। কবির মৃত্যুর পর ট্রাঙ্কে পড়ে থাকা বহু অপ্রকাশিত রচনাও তিনি সংরক্ষণে সহায়তা করেন।

‘একজন কমলালেবু’ উপন্যাসে জীবনানন্দের জীবন ও সাহিত্যিক পথচলার নানা বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে উপন্যাসটি মঞ্চেও রূপান্তরিত হয়েছে। সেখানে কবির সাহিত্যিক সংগ্রাম, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং জীবদ্দশায় পাওয়া অবহেলা ও প্রত্যাখ্যানের বিষয়গুলো উঠে আসে।

নতুন সিনেমাটির মধ্য দিয়ে গৌতম ঘোষ ও হাবিবুর রহমান খানের দীর্ঘ সৃজনশীল সম্পর্কও আরও এক ধাপ এগোবে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, লালন শাহকে নিয়ে ‘মনের মানুষ’ এবং দেশভাগের প্রেক্ষাপটে ‘শঙ্খচিল’—তাদের আগের উল্লেখযোগ্য যৌথ কাজ।

স্বাধীন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিক থেকেই প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হাবিবুর রহমান খান। ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (১৯৭৩)-এর অন্যতম প্রযোজক ছিলেন তিনি। পরে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রও প্রযোজনা করেছেন।

জীবনানন্দকে নিয়ে সিনেমাটিকে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন হাবিবুর। তিনি বলেন, ‘আমি এই সিনেমাটি বানানোর স্বপ্ন দেখি। এটি শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকব কি না জানি না। তবে সিনেমাটি শেষ করে যদি মারা যাই, তবুও আমার কোনো আফসোস থাকবে না।’

জীবনানন্দ দাশ জীবদ্দশায় যে অবহেলা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন, সিনেমাটির মাধ্যমে সেই ইতিহাসের মুখোমুখি হতে চান হাবিবুর। তার বিশ্বাস, কবির প্রতি জাতির যে অবিচার, এই চলচ্চিত্র হয়তো তার জন্য সামান্য হলেও ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

কালের আলো/এসএ