খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রী এখনো নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন: রুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী এখনো নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন: রুমন

এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অমানুষিক নির্যাতন করার কথা তুলে ধরে তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখনো সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন।’

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘৩ সেপ্টেম্বর আমাদের প্রিয় নেতা আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস। আমাদের প্রিয় নেতাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনো তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু আমাদের প্রিয় নেতা নিজেই বলেছেন, তিনি সেই দিনগুলো মনে রাখতে চান না। আমরা যদি সেই দিনগুলোর কথা মনে রাখি, প্রতিশোধ নিতে যাই তাহলে পাঁচ বছরেও শেষ হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচ বছরে যদি আমরা সেই প্রতিশোধগুলোই নিতে যাই তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আমাদের প্রিয় নেতাকে ভোটের মাধ্যমে তাদের যে আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রধানমন্ত্রী করেছেন সেই কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সফল হবে না। তাই আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান চান দুঃসহ স্মৃতিগুলো পেছনে ঠেলে দেশের উন্নয়ন করে সামনে এগিয়ে যেতে।’

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘বিগত সময় বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে ঠিক ওই সময় আমাদের প্রিয় নেতাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যেন আমাদের প্রিয় নেতার ভালো কাজগুলো ভূলুণ্ঠিত না হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেন সকলেই বিশেষ করে ছাত্রদল ও যুবদলসহ বিএনপি নেতাদের আমি বলব, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের ভালো কাজগুলো যেন আমরা হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সফল করতে পারি।’

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন এ দেশের জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এ দেশের জনগণ সেই প্রমাণ রেখেছে একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। স্বৈরাচার এরশাদ ও ওয়ান ইলেভেন সরকারকে হটিয়েছেন তারা। সর্বশেষ ছাত্র-জনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জুলাইয়ে যুদ্ধ করে শেখ হাসিনার মতো দানব স্বৈরাচারকে হটিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের প্রিয় নেতার ১৯তম কারামুক্তি দিবসে আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে দুঃসময়ের করুণ কথাগুলো। বিগত ১৯ বছরে এই দিবসটি যথাসময়ে আমরা পালন করেছি। আজও পালন করছি। কিন্তু আজকের চিত্র আর ওই দুঃসময়ের চিত্র এক ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কিভাবে সে সময়ে অনুষ্ঠান সফল করেছিলাম আপনারা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। সে সময় এই দিবস পালন করতে গিয়ে স্বৈরাচারের চোখ রাঙানি, কারাবরণসহ বিভিন্নভাবে আপনারা নির্যাতিত হয়েছেন। তবুও চুপ থাকেননি। আজকের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল দিবসটি পালনে যথাযথ সহায়তা করেছেন।’

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘আমাদের অনুষ্ঠান হবে, আমরা সাংবাদিকদের জানিয়েছি আর জানিয়েছি বিশ্বস্ত নেতাদের। আমরা অনেকটা গোপনে ডেকেছি, প্রশাসনকে জানতে দেইনি কোথায়, কখন অনুষ্ঠান হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের জানিয়েছি দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে। ওই সময় অনেক সাংবাদিকের কথা মনে পড়ে যারা আমাদের ভীষণভাবে সহযোগিতা করেছেন, যা অতুলনীয়। যাদের সহযোগিতায় আমরা প্রচার পেয়েছি, আমরা উদ্দীপনা পেয়েছি এবং আমরা অনুষ্ঠানগুলো সফল করতে পেরেছি।’

সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ উত্তরাঞ্চলের ছাত্র নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: সৌদিতে মার্কিনদের সতর্ক করল দূতাবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: সৌদিতে মার্কিনদের সতর্ক করল দূতাবাস

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং পাল্টাপাল্টি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় পরিস্থিতির অপ্রত্যাশিত অবনতি ঘটতে পারে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। পাশাপাশি সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে নিয়মিত তথ্য অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জেনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

শাহাজালালে ‘কুশ’ সাম্রাজ্যের নিখুঁত ছক নস্যাৎ করে দিলো গোয়েন্দা সংস্থা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
শাহাজালালে ‘কুশ’ সাম্রাজ্যের নিখুঁত ছক নস্যাৎ করে দিলো গোয়েন্দা সংস্থা

থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে উন্নতজাতের ‘কুশ’ বা হাইড্রোপনিক গাঁজা বাংলাদেশে ঢোকানোর জন্য একের পর এক চালান পাঠানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় পাচারকারীরা। মাদক বহনে কখনও ব্যবহার করা হচ্ছে চকোলেটের প্যাকেট, বালিশ, ট্রলি ব্যাগের গোপন চেম্বার কিংবা কাপড়ের নিচে ভ্যাকুয়াম-সিল করা পাউচ। কিন্ত গোয়েন্দা সংস্থার ধারাবাহিক তৎপরতায় এসব চালান গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ধরা পড়ছে। গোয়েন্দা সংস্থার ধারাবাহিক ও কৌশলী তৎপরতা নস্যাৎ করে দিচ্ছে ভারতীয় পাচারকারীদের পরিকল্পনা।

  • পাঁচ চালানে ২৯.৬৪ কেজি থাই গাঁজা উদ্ধার
  • ব্যাংকক–ঢাকা রুটে ভারতীয় পাচারকারীদের ধারাবাহিক অপতৎপরতা
  • পাসপোর্ট-লাগেজ ফেলে দুই দফায় পালিয়েছে পাচারকারীরা

গত কয়েক সপ্তাহে গোয়েন্দা নজরদারিতে পাঁচটি পৃথক ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ২৯.৬৪ কেজি কুশ গাঁজা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ কোটি ৫১ লাখ ৪ হাজার টাকা। পাচারকারীরা বারবার কৌশল পরিবর্তন করলেও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে তাদের সেই অপকৌশলও বারবার ভেস্তে যাচ্ছে।

‘কুশ’ সাম্রাজ্যের পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছে শাহজালালেই
পাচারকারীদের কৌশল ছিল সহজ—ব্যাংকক থেকে বিমানে ঢাকায় আসবে যাত্রী, তার লাগেজে থাকবে উচ্চমূল্যের কুশ গাঁজা, এরপর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কাস্টমস তল্লাশি পেরিয়ে চালান পৌঁছে যাবে নির্ধারিত গন্তব্যে। ব্যবহার করা হচ্ছিল থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইট। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজন লাগেজ শনাক্ত করার কারণে চালানগুলো গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই আটকে যাচ্ছে শাহজালালে।

গোয়েন্দা নজরদারিতে পাঁচটি পৃথক ঘটনায় ধরা একাধিক চালান
গত ২৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে আসা দুই ভারতীয় নাগরিকের লাগেজে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তল্লাশি চালানো হয়। এতে উদ্ধার হয় মোট ৫.১২ কেজি কুশ গাঁজা। একজনের লাগেজ থেকে ২.৫৪০ কেজি এবং অপরজনের লাগেজ থেকে ২.৫৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় দুই যাত্রীকে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছে। এর মাত্র তিন দিন আগে ২৪ আগস্ট ব্যাংকক থেকে আসা আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের লাগেজে পাওয়া যায় ৫.০৪ কেজি কুশ গাঁজা। একজনের লাগেজ থেকে ২.৫৪০ কেজি এবং অন্যজনের লাগেজ থেকে ২.৫ কেজি মাদক উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে তল্লাশির সময় পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দুই যাত্রী তাদের পাসপোর্ট ও লাগেজ ফেলে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায়। ২২ আগস্ট একই ফ্লাইটে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় আসা ভারতীয় নাগরিক হুসাইন আবদুল কাদর শেখের লাগেজ তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ৩.৫০ কেজি কুশ গাঁজা। গোয়েন্দা তৎপরতায় চালানটি শনাক্ত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা। গত ১৮ আগস্ট দুই ভারতীয় নাগরিকের লাগেজ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪.১৮ কেজি উন্নতজাতের গাঁজা। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ২ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তল্লাশির সময় ওই দুই যাত্রীও পাসপোর্ট ও লাগেজ রেখে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায়। গত ২৪ জুলাই ভারতীয় নাগরিক জুলফিকার মোল্লার লাগেজ থেকে ২১টি প্যাকেটে লুকানো ১১.৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘুরেফিরে আলোচনায় থাইল্যান্ডের ‘কুশ’
উন্নতজাতের কুশ বা হাইড্রোপনিক গাঁজা সাধারণ গাঁজার তুলনায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায় এর বাজারমূল্যও তুলনামূলক বেশি। থাইল্যান্ডে গাঁজা-সংক্রান্ত আইন ও নীতিতে পরিবর্তনের পর দেশটিতে গাঁজার উৎপাদন ও বাণিজ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এর সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উন্নতজাতের গাঁজা পাচারের আশঙ্কাও তৈরি হয়। আর এই সুযোগকে লুফে নেয় ভারতীয় পাচারকারীরা।

বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ হচ্ছে-বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক চালান প্রবেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তও রয়েছে বিস্তৃত। ফলে বিমানপথে ঢোকা মাদক পরবর্তী সময়ে দেশের অভ্যন্তরে কিংবা সীমান্তপথে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা থাকায় বিশেষ নজর গোয়েন্দা সংস্থার। গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি পাচারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিতে ধারাবাহিক চালান শনাক্ত ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনাই বলে দিচ্ছে শাহজালাল এখন আর পাচারকারীদের সহজ কোন গন্তব্য নয়।

সীমান্ত ও বিমানবন্দরে প্রয়োজন আরও কঠোর নজরদারি
শাহজালালে গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় একের পর এক কুশ গাঁজার চালান আটকের ঘটনা নিঃসন্দেহে সাফল্যের বার্তা দেয়। তবে একই সঙ্গে এসব ঘটনা একটি বড় সতর্ক সংকেতও দিচ্ছে—পাচারকারীরা থেমে নেই; বরং গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে প্রতিনিয়ত কৌশল বদলে নতুন পথে ও নতুন পদ্ধতিতে মাদক প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাই শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের স্থলপথ, অন্যান্য স্থলবন্দর ও দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি। কারণ উন্নতজাতের ‘কুশ’ গাঁজা সহজলভ্য হয়ে উঠলে এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি পড়তে পারে তরুণ প্রজন্মের ওপর। এই মাদক যদি দেশের অভ্যন্তরে একটি স্থায়ী বাজার তৈরি করতে পারে, তাহলে মাদকাসক্তির বিস্তারের পাশাপাশি কিশোর-তরুণদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা, মাদককেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অপরাধ এবং সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

হরমুজ খোলা রাখতে সব পক্ষের আলোচনার প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
হরমুজ খোলা রাখতে সব পক্ষের আলোচনার প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংঘাতের অবসান ও উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশির কল্যাণ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। চলমান সংঘাতের কারণে তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন।

হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশ সব সময়ই উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে চায়।

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা আগ্রাসনে বাংলাদেশের সমর্থন নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। একই সঙ্গে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সহযোগিতার সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু কোনো একটি পক্ষের ওপর নির্ভরশীল বিষয় নয়। সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্বার্থের জায়গা থেকে পথটি দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের যানবাহনসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আটকে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে জলপথটি খুলে গেলে এসব বিষয় দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।

ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি