খুঁজুন
                               
, ,
           

শাহাজালালে ‘কুশ’ সাম্রাজ্যের নিখুঁত ছক নস্যাৎ করে দিলো গোয়েন্দা সংস্থা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
শাহাজালালে ‘কুশ’ সাম্রাজ্যের নিখুঁত ছক নস্যাৎ করে দিলো গোয়েন্দা সংস্থা

থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে উন্নতজাতের ‘কুশ’ বা হাইড্রোপনিক গাঁজা বাংলাদেশে ঢোকানোর জন্য একের পর এক চালান পাঠানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় পাচারকারীরা। মাদক বহনে কখনও ব্যবহার করা হচ্ছে চকোলেটের প্যাকেট, বালিশ, ট্রলি ব্যাগের গোপন চেম্বার কিংবা কাপড়ের নিচে ভ্যাকুয়াম-সিল করা পাউচ। কিন্ত গোয়েন্দা সংস্থার ধারাবাহিক তৎপরতায় এসব চালান গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ধরা পড়ছে। গোয়েন্দা সংস্থার ধারাবাহিক ও কৌশলী তৎপরতা নস্যাৎ করে দিচ্ছে ভারতীয় পাচারকারীদের পরিকল্পনা।

  • পাঁচ চালানে ২৯.৬৪ কেজি থাই গাঁজা উদ্ধার
  • ব্যাংকক–ঢাকা রুটে ভারতীয় পাচারকারীদের ধারাবাহিক অপতৎপরতা
  • পাসপোর্ট-লাগেজ ফেলে দুই দফায় পালিয়েছে পাচারকারীরা

গত কয়েক সপ্তাহে গোয়েন্দা নজরদারিতে পাঁচটি পৃথক ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ২৯.৬৪ কেজি কুশ গাঁজা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ কোটি ৫১ লাখ ৪ হাজার টাকা। পাচারকারীরা বারবার কৌশল পরিবর্তন করলেও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে তাদের সেই অপকৌশলও বারবার ভেস্তে যাচ্ছে।

‘কুশ’ সাম্রাজ্যের পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছে শাহজালালেই
পাচারকারীদের কৌশল ছিল সহজ—ব্যাংকক থেকে বিমানে ঢাকায় আসবে যাত্রী, তার লাগেজে থাকবে উচ্চমূল্যের কুশ গাঁজা, এরপর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কাস্টমস তল্লাশি পেরিয়ে চালান পৌঁছে যাবে নির্ধারিত গন্তব্যে। ব্যবহার করা হচ্ছিল থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইট। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজন লাগেজ শনাক্ত করার কারণে চালানগুলো গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই আটকে যাচ্ছে শাহজালালে।

গোয়েন্দা নজরদারিতে পাঁচটি পৃথক ঘটনায় ধরা একাধিক চালান
গত ২৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে আসা দুই ভারতীয় নাগরিকের লাগেজে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তল্লাশি চালানো হয়। এতে উদ্ধার হয় মোট ৫.১২ কেজি কুশ গাঁজা। একজনের লাগেজ থেকে ২.৫৪০ কেজি এবং অপরজনের লাগেজ থেকে ২.৫৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় দুই যাত্রীকে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছে। এর মাত্র তিন দিন আগে ২৪ আগস্ট ব্যাংকক থেকে আসা আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের লাগেজে পাওয়া যায় ৫.০৪ কেজি কুশ গাঁজা। একজনের লাগেজ থেকে ২.৫৪০ কেজি এবং অন্যজনের লাগেজ থেকে ২.৫ কেজি মাদক উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে তল্লাশির সময় পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দুই যাত্রী তাদের পাসপোর্ট ও লাগেজ ফেলে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায়। ২২ আগস্ট একই ফ্লাইটে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় আসা ভারতীয় নাগরিক হুসাইন আবদুল কাদর শেখের লাগেজ তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ৩.৫০ কেজি কুশ গাঁজা। গোয়েন্দা তৎপরতায় চালানটি শনাক্ত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা। গত ১৮ আগস্ট দুই ভারতীয় নাগরিকের লাগেজ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪.১৮ কেজি উন্নতজাতের গাঁজা। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ২ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তল্লাশির সময় ওই দুই যাত্রীও পাসপোর্ট ও লাগেজ রেখে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায়। গত ২৪ জুলাই ভারতীয় নাগরিক জুলফিকার মোল্লার লাগেজ থেকে ২১টি প্যাকেটে লুকানো ১১.৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘুরেফিরে আলোচনায় থাইল্যান্ডের ‘কুশ’
উন্নতজাতের কুশ বা হাইড্রোপনিক গাঁজা সাধারণ গাঁজার তুলনায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায় এর বাজারমূল্যও তুলনামূলক বেশি। থাইল্যান্ডে গাঁজা-সংক্রান্ত আইন ও নীতিতে পরিবর্তনের পর দেশটিতে গাঁজার উৎপাদন ও বাণিজ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এর সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উন্নতজাতের গাঁজা পাচারের আশঙ্কাও তৈরি হয়। আর এই সুযোগকে লুফে নেয় ভারতীয় পাচারকারীরা।

বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ হচ্ছে-বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক চালান প্রবেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তও রয়েছে বিস্তৃত। ফলে বিমানপথে ঢোকা মাদক পরবর্তী সময়ে দেশের অভ্যন্তরে কিংবা সীমান্তপথে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা থাকায় বিশেষ নজর গোয়েন্দা সংস্থার। গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি পাচারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিতে ধারাবাহিক চালান শনাক্ত ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনাই বলে দিচ্ছে শাহজালাল এখন আর পাচারকারীদের সহজ কোন গন্তব্য নয়।

সীমান্ত ও বিমানবন্দরে প্রয়োজন আরও কঠোর নজরদারি
শাহজালালে গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় একের পর এক কুশ গাঁজার চালান আটকের ঘটনা নিঃসন্দেহে সাফল্যের বার্তা দেয়। তবে একই সঙ্গে এসব ঘটনা একটি বড় সতর্ক সংকেতও দিচ্ছে—পাচারকারীরা থেমে নেই; বরং গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে প্রতিনিয়ত কৌশল বদলে নতুন পথে ও নতুন পদ্ধতিতে মাদক প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাই শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের স্থলপথ, অন্যান্য স্থলবন্দর ও দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি। কারণ উন্নতজাতের ‘কুশ’ গাঁজা সহজলভ্য হয়ে উঠলে এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি পড়তে পারে তরুণ প্রজন্মের ওপর। এই মাদক যদি দেশের অভ্যন্তরে একটি স্থায়ী বাজার তৈরি করতে পারে, তাহলে মাদকাসক্তির বিস্তারের পাশাপাশি কিশোর-তরুণদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা, মাদককেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অপরাধ এবং সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘে সমন্বিত উদ্যোগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘে সমন্বিত উদ্যোগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদার করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ আয়োজিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের ফাঁকে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এ বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর ওপর নেমে আসা বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি কেবল একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবন, জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বহুমাত্রিক ও অস্তিত্বগত হুমকি।

বাংলাদেশসহ উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনই কার্যকর ভূমিকা না নিলে এই মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির দায় সমগ্র বিশ্বকে বহন করতে হবে।

সংকট মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের সামনে কয়েকটি মৌলিক দাবির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগ, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় (লস অ্যান্ড ড্যামেজ) তহবিলসহ সহজ শর্তে ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, বিশ্বনেতা এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংকট উত্তরণের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের, হাসপাতালে ১৭৮২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের, হাসপাতালে ১৭৮২

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৩৪৫ জন, ঢাকা বিভাগে (মহানগরের বাইরে) ৩৭১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬৪ জন, খুলনা বিভাগে ২৭৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩০ জন, সিলেট বিভাগে ১৭ জন, রংপুর বিভাগে ৭৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৮ জন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫ হাজার ৬৬ জন।

২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৬৯ হাজার ১৪৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৩০৩ জন, যা এ বছরের এক মাসে সর্বোচ্চ।

এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। আর মৃতদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২০৯ জন।

এর আগে ২০২৫ সালে দেশে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আকাশসীমার পর কমান্ডের ময়দান, বিমান বাহিনীতে প্রস্তুত ৫৮ কর্মকর্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
আকাশসীমার পর কমান্ডের ময়দান, বিমান বাহিনীতে প্রস্তুত ৫৮ কর্মকর্তা

শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, ভবিষ্যৎ কমান্ড কাঠামোর জন্য দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৩২তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্স (জেসিএসসি) সম্পন্ন করেছেন দেশ-বিদেশের ৫৮ কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে আয়োজিত সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় কোর্সটির আনুষ্ঠানিক পর্ব।

  • কক্সবাজারে শেষ হলো বিমান বাহিনীর ১৩২তম জেসিএসসি
  • নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতা অর্জনে বিশেষ প্রশিক্ষণ
  • সেরা নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হাসিন তানভীরের

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী কর্মকর্তাদের হাতে সনদপত্র ও ট্রফি তুলে দেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, কোর্সে সেরা নৈপুণ্যের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হাসিন তানভীর, জিডি (পি) অর্জন করেন ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’। সনদ বিতরণের পাশাপাশি উত্তীর্ণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বিমান বাহিনী প্রধান।

এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়; প্রশিক্ষণের কাঙ্ক্ষিত ফল—পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনে উৎকর্ষ—কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তারও একটি প্রতিফলন।

শ্রেণিকক্ষ থেকে কমান্ড কাঠামোয়
জেসিএসসি এমন একটি প্রশিক্ষণ কাঠামো, যেখানে কর্মকর্তাদের অর্জিত জ্ঞান ও কর্মঅভিজ্ঞতাকে পরবর্তী পর্যায়ের দায়িত্বের সঙ্গে সমন্বয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোর্সের মূল উদ্দেশ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে কমান্ড, স্টাফ ও নির্দেশনামূলক দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করা।

আধুনিক সামরিক ব্যবস্থাপনায় শুধু নির্দেশ দেওয়ার সক্ষমতা যথেষ্ট নয়; পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বয় এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ পর্যায়ের প্রশিক্ষণকে ভবিষ্যৎ দায়িত্বের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হয়।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণে বিস্তৃত পরিসর
এবারের কোর্সে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাশাপাশি বিদেশি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারাও অংশ নেন। ৫৮ কর্মকর্তার এই অংশগ্রহণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি বহুপাক্ষিক পরিসর দিয়েছে। ভিন্ন পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সামরিক পরিবেশ থেকে আসা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগও তৈরি করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক, বিমান সদর ও ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (সিএসটিআই) প্রশিক্ষক এবং কক্সবাজারের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে