খুঁজুন
                               
, ,
           

শাহাজালালে ‘কুশ’ সাম্রাজ্যের নিখুঁত ছক নস্যাৎ করে দিলো গোয়েন্দা সংস্থা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
শাহাজালালে ‘কুশ’ সাম্রাজ্যের নিখুঁত ছক নস্যাৎ করে দিলো গোয়েন্দা সংস্থা

থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে উন্নতজাতের ‘কুশ’ বা হাইড্রোপনিক গাঁজা বাংলাদেশে ঢোকানোর জন্য একের পর এক চালান পাঠানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় পাচারকারীরা। মাদক বহনে কখনও ব্যবহার করা হচ্ছে চকোলেটের প্যাকেট, বালিশ, ট্রলি ব্যাগের গোপন চেম্বার কিংবা কাপড়ের নিচে ভ্যাকুয়াম-সিল করা পাউচ। কিন্ত গোয়েন্দা সংস্থার ধারাবাহিক তৎপরতায় এসব চালান গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ধরা পড়ছে। গোয়েন্দা সংস্থার ধারাবাহিক ও কৌশলী তৎপরতা নস্যাৎ করে দিচ্ছে ভারতীয় পাচারকারীদের পরিকল্পনা।

  • পাঁচ চালানে ২৯.৬৪ কেজি থাই গাঁজা উদ্ধার
  • ব্যাংকক–ঢাকা রুটে ভারতীয় পাচারকারীদের ধারাবাহিক অপতৎপরতা
  • পাসপোর্ট-লাগেজ ফেলে দুই দফায় পালিয়েছে পাচারকারীরা

গত কয়েক সপ্তাহে গোয়েন্দা নজরদারিতে পাঁচটি পৃথক ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ২৯.৬৪ কেজি কুশ গাঁজা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ কোটি ৫১ লাখ ৪ হাজার টাকা। পাচারকারীরা বারবার কৌশল পরিবর্তন করলেও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে তাদের সেই অপকৌশলও বারবার ভেস্তে যাচ্ছে।

‘কুশ’ সাম্রাজ্যের পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছে শাহজালালেই
পাচারকারীদের কৌশল ছিল সহজ—ব্যাংকক থেকে বিমানে ঢাকায় আসবে যাত্রী, তার লাগেজে থাকবে উচ্চমূল্যের কুশ গাঁজা, এরপর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কাস্টমস তল্লাশি পেরিয়ে চালান পৌঁছে যাবে নির্ধারিত গন্তব্যে। ব্যবহার করা হচ্ছিল থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইট। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজন লাগেজ শনাক্ত করার কারণে চালানগুলো গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই আটকে যাচ্ছে শাহজালালে।

গোয়েন্দা নজরদারিতে পাঁচটি পৃথক ঘটনায় ধরা একাধিক চালান
গত ২৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে আসা দুই ভারতীয় নাগরিকের লাগেজে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তল্লাশি চালানো হয়। এতে উদ্ধার হয় মোট ৫.১২ কেজি কুশ গাঁজা। একজনের লাগেজ থেকে ২.৫৪০ কেজি এবং অপরজনের লাগেজ থেকে ২.৫৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় দুই যাত্রীকে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছে। এর মাত্র তিন দিন আগে ২৪ আগস্ট ব্যাংকক থেকে আসা আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের লাগেজে পাওয়া যায় ৫.০৪ কেজি কুশ গাঁজা। একজনের লাগেজ থেকে ২.৫৪০ কেজি এবং অন্যজনের লাগেজ থেকে ২.৫ কেজি মাদক উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে তল্লাশির সময় পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দুই যাত্রী তাদের পাসপোর্ট ও লাগেজ ফেলে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায়। ২২ আগস্ট একই ফ্লাইটে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় আসা ভারতীয় নাগরিক হুসাইন আবদুল কাদর শেখের লাগেজ তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ৩.৫০ কেজি কুশ গাঁজা। গোয়েন্দা তৎপরতায় চালানটি শনাক্ত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা। গত ১৮ আগস্ট দুই ভারতীয় নাগরিকের লাগেজ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪.১৮ কেজি উন্নতজাতের গাঁজা। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ২ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তল্লাশির সময় ওই দুই যাত্রীও পাসপোর্ট ও লাগেজ রেখে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায়। গত ২৪ জুলাই ভারতীয় নাগরিক জুলফিকার মোল্লার লাগেজ থেকে ২১টি প্যাকেটে লুকানো ১১.৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘুরেফিরে আলোচনায় থাইল্যান্ডের ‘কুশ’
উন্নতজাতের কুশ বা হাইড্রোপনিক গাঁজা সাধারণ গাঁজার তুলনায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায় এর বাজারমূল্যও তুলনামূলক বেশি। থাইল্যান্ডে গাঁজা-সংক্রান্ত আইন ও নীতিতে পরিবর্তনের পর দেশটিতে গাঁজার উৎপাদন ও বাণিজ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এর সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উন্নতজাতের গাঁজা পাচারের আশঙ্কাও তৈরি হয়। আর এই সুযোগকে লুফে নেয় ভারতীয় পাচারকারীরা।

বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ হচ্ছে-বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক চালান প্রবেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তও রয়েছে বিস্তৃত। ফলে বিমানপথে ঢোকা মাদক পরবর্তী সময়ে দেশের অভ্যন্তরে কিংবা সীমান্তপথে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা থাকায় বিশেষ নজর গোয়েন্দা সংস্থার। গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি পাচারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিতে ধারাবাহিক চালান শনাক্ত ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনাই বলে দিচ্ছে শাহজালাল এখন আর পাচারকারীদের সহজ কোন গন্তব্য নয়।

সীমান্ত ও বিমানবন্দরে প্রয়োজন আরও কঠোর নজরদারি
শাহজালালে গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় একের পর এক কুশ গাঁজার চালান আটকের ঘটনা নিঃসন্দেহে সাফল্যের বার্তা দেয়। তবে একই সঙ্গে এসব ঘটনা একটি বড় সতর্ক সংকেতও দিচ্ছে—পাচারকারীরা থেমে নেই; বরং গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে প্রতিনিয়ত কৌশল বদলে নতুন পথে ও নতুন পদ্ধতিতে মাদক প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাই শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের স্থলপথ, অন্যান্য স্থলবন্দর ও দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি। কারণ উন্নতজাতের ‘কুশ’ গাঁজা সহজলভ্য হয়ে উঠলে এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি পড়তে পারে তরুণ প্রজন্মের ওপর। এই মাদক যদি দেশের অভ্যন্তরে একটি স্থায়ী বাজার তৈরি করতে পারে, তাহলে মাদকাসক্তির বিস্তারের পাশাপাশি কিশোর-তরুণদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা, মাদককেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অপরাধ এবং সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখার ফলেই দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট ও আমদানিনির্ভরতা তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সংকট কাটিয়ে দেশকে জ্বালানিতে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার বহুমাত্রিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার রূপরেখা তুলে ধরেন।

দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত অনুসন্ধান এবং আমদানিনির্ভরতার ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটকে স্থায়ীভাবে নিরসন করে দেশকে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপের খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) নতুন গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও ৭টি কূপের খনন কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং এগুলোর কাজ শেষ হলে গ্রিডে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে।

অবশিষ্ট কূপগুলো পর্যায়ক্রমে খননের জন্য নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া নতুন গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে তুলতে নতুন দুটি আধুনিক রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অফশোর ও অনশোর মডেল পিএসসি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্যাক্ট)-এর আওতায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে এবং অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বহুগুণ বাড়বে। পাশাপাশি সামুদ্রিক এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যা থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হবে। এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি ক্ষমতা আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে।

এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কিংবা পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে তা সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জনমনে আগ্রহ তৈরি ও এ খাতের দ্রুত প্রসারে ২০২৬ সালের ৮ জুন তারিখে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ সব প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর থেকে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং অতিরিক্ত অগ্রীম আয়করসহ সব ধরনের শুল্ক সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় আর্থিক মডেল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে যারা বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার স্থাপন করবেন, তাদের উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০.১৫ টাকা দরে কিনে নেবে। বর্তমান গড়ে প্রতি ইউনিট ৬ থেকে ৭ টাকা উৎপাদন খরচের বিপরীতে এই বাল্ক রেট ও সরকারি প্রণোদনার ফলে উদ্যোক্তারা ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (৪০ শতাংশ মুনাফা ও ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম) নিট মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবেন, যা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের অংশ হিসেবে সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে সোলার প্যানেল বসাতে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোলারের পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বিত পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বৃষ্টিভেজা মাঠে পুঠিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে দুর্গাপুর

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
বৃষ্টিভেজা মাঠে পুঠিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে দুর্গাপুর

রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মোহনপুর উপজেলা ফুটবল দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে দুর্গাপুর উপজেলা ফুটবল দল। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) একই মাঠে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দুর্গাপুর উপজেলা ফুটবল দল টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে পুঠিয়া উপজেলা ফুটবল দলকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।

আগের রাতের ভারী বৃষ্টি এবং ম্যাচ চলাকালীন বৃষ্টির কারণে মাঠ ভারী ও কর্দমাক্ত হয়ে যায়। এতে দুই দলের খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক খেলায় বেশ বেগ পেতে হয়। তারপরও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক দর্শক স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ দলকে সমর্থন দেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে। প্রথমার্ধে দুর্গাপুরের পলাশ জোড়া গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ফলে বিরতিতে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল দুর্গাপুর।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটের ব্যবধানে পুঠিয়ার জামিল ও রাব্বানি গোল করে সমতা ফেরান। এরপর দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে দুর্গাপুর উপজেলা ফুটবল দল ৩-১ গোলে পুঠিয়াকে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে। পুঠিয়া দলে কোনো বিদেশি খেলোয়াড় না থাকলেও দুর্গাপুর দল শক্তি বাড়াতে মিশরের ফুটবলার মোস্তফাকে দলভুক্ত করেছে।

সেমিফাইনালের ম্যাচটি উপভোগ করতে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এছাড়া জেলা প্রশাসন, ক্রীড়া সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ফাইনালে মোহনপুর ও দুর্গাপুরের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের চ্যাম্পিয়ন দল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: সৌদিতে মার্কিনদের সতর্ক করল দূতাবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: সৌদিতে মার্কিনদের সতর্ক করল দূতাবাস

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং পাল্টাপাল্টি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় পরিস্থিতির অপ্রত্যাশিত অবনতি ঘটতে পারে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। পাশাপাশি সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে নিয়মিত তথ্য অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জেনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি