খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকারি দলের আচরণে সংসদে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে: তাহের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
সরকারি দলের আচরণে সংসদে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে: তাহের

সরকারি দলের আচরণে সংসদে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তাহের বলেন, সরকারি দলের আচরণে বিরোধী দলের সংসদে থাকার ব্যাপারে আগ্রহ কমে যাচ্ছে। বিষয়টিকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন।

সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদে সদস্যসংখ্যার অনুপাতে বিরোধী দলকে ২৬ শতাংশ দেওয়ার বিষয়ে সরকারি দলের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তার দাবি, আলোচনার ভিত্তিতে একপর্যায়ে বিরোধী দলকে ১০টি কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী তালিকাও দেওয়া হয়।

তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারি দল নিজেদের সিদ্ধান্তই প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেন তাহের। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সবকিছু নিজেদের মতো করে পরিচালনা করা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়।

সংসদ পরিচালনায় মন্ত্রীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। মন্ত্রীরা বক্তব্যের জবাব দিতে বারবার দাঁড়ানোয় সংসদে আলোচনার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

কমিটিতে বিরোধী দলকে সদস্যপদ দেওয়ার বিনিময়ে সভাপতির পদ দেওয়ার প্রস্তাবের সমালোচনা করে তাহের বলেন, বিরোধী দলকে এভাবে ‘ললিপপ’ দেখিয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। তিনি সভাপতির পদকে বিরোধী দলের অধিকার বলেও দাবি করেন।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সব কমিটির সভাপতির পদ সরকারি দলের দখলে রাখার সমালোচনা করে তাহের বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অর্থ এই নয় যে সব সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হবে।

সরকারি দলকে সংসদ ও সংসদের বাইরে বৈষম্য সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা আরেকটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চান না।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

চার খুনের রহস্য উদঘাটনে ‘দ্বারপ্রান্তে’ পুলিশ, জিজ্ঞাসাবাদ দুই আসামিকে

রংপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
চার খুনের রহস্য উদঘাটনে ‘দ্বারপ্রান্তে’ পুলিশ, জিজ্ঞাসাবাদ দুই আসামিকে

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় ও শেষ দফায় তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বেলা ১১টা ১০ মিনিটে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জিন্নাত আলী দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বেলা ২টার দিকে তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তদন্ত কর্মকর্তা।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত প্রথম দফায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত সোমবার রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। পুলিশ তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

প্রথম দফার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছিলেন, আলোচিত চার খুনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং তদন্তকারীরা রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় একই এলাকার প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার, সরকারের হস্তক্ষেপ না করার স্পষ্ট বার্তা তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার, সরকারের হস্তক্ষেপ না করার স্পষ্ট বার্তা তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয় বরং তার নিজস্ব শক্তি ও স্বাধীনতার ওপর আস্থা রাখার বার্তা দিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি’র বক্তব্যে উঠে এসেছে-সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়াই সরকারের নীতি। কোন সংবাদ প্রকাশ হবে, কোনটি থাকবে কিংবা কোনো প্রতিবেদন প্রত্যাহার করা হবে কি না-এ সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানই নেবে।

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে এবং সরকার গণমাধ্যমের কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে না, আমরা কোনো হস্তক্ষেপও করি না।’

তাঁর এই বক্তব্য কেবলমাত্র সরকারের অবস্থানকে পরিস্কার করেনি। এটি গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের পূর্ণ আস্থা ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি মতপ্রকাশের অধিকারের প্রতি ইতিবাচক রাজনৈতিক মনোভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যে সম্পূরক প্রশ্ন ছিল হান্নান মাসুদ’র
এর আগে সংসদে এনসিপি’র সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদ এক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পরবর্তীতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশের পর তা প্রত্যাহার এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমকে নিয়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদনের ওয়েব সংস্করণ সাইবার হামলার কারণে দীর্ঘ সময় অপ্রকাশিত থাকার বিষয়ও তিনি উল্লেখ করেন। এ ধরনের ঘটনা—বিশেষ করে সরকার বা সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনামূলক প্রতিবেদন সাইবার হামলার শিকার হওয়া কিংবা সরিয়ে ফেলার ঘটনায়—বাকস্বাধীনতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে কি না, তা জানতে চান তিনি।

রাষ্ট্রীয় চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করার নিশ্চয়তা
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যম অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করছে। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীন। কোন সংবাদ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, কোনটি সরিয়ে নেওয়া হবে, কী প্রকাশ করা হবে বা হবে না—এ সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিজেরাই নেবে। ‘বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করে না,’ বলেন তিনি।

সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে গণমাধ্যমের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা, নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করার নিশ্চয়তা। তিনি একই সঙ্গে গণমাধ্যমের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকেও স্বীকৃতি দিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে চায়; এজন্য নিয়ন্ত্রণ আরোপের বদলে পেশাগত স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর এই বিষয়টিও উঠে এসেছে।

সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রসঙ্গ
সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রসঙ্গেও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী অনেক সাংবাদিক প্রেস ক্লাবের সদস্য রয়েছেন। এটি স্বাভাবিক বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক মত বা আদর্শ থাকতে পারে।’ তবে সাংবাদিকতায় তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম 
চলমান ডিজিটাল বাস্তবতায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য। এমন বাস্তবতায় ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ঢাকায় ফিরলেন মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ঢাকায় ফিরলেন মির্জা আব্বাস

চিকিৎসা শেষে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও সঙ্গে ছিলেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১১ মার্চ ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে পরবর্তীতে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নেন তিনি।

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতার।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি