একদিকে চাকরির অপেক্ষায় হাজারো তরুণ, অন্যদিকে দক্ষ জনবল খুঁজছে বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান। এই দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরির লক্ষ্যে দিনাজপুরের বিরামপুরে এক মঞ্চে মিলিত হতে যাচ্ছে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় ৮০টি প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের উদ্যোগে আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিরামপুর সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার দিনাজপুর ২০২৬’।
- দিনাজপুরে চাকরির সুযোগের নতুন দুয়ার, মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেনের উদ্যোগে জব ফেয়ার
- তরুণদের কর্মসংস্থানে নতুন উদ্যোগ, বিরামপুরে জব ফেয়ার ২৭ অক্টোবর
- নিবন্ধন করেছেন ১৬ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী, প্রত্যাশা ২০ হাজারের
- দেশি-বিদেশি প্রায় ৮০ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, স্পট ইন্টারভিউ, তাৎক্ষণিক নিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব
আয়োজকদের তথ্য বলছে, ইতোমধ্যে ১৬ হাজার ৩ জন চাকরিপ্রত্যাশী নিবন্ধন করেছেন। মেলায় প্রায় ২০ হাজার তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন, সেবা, ব্যাংকিং, আর্থিক প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি ও উন্নয়ন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য থাকবে সরাসরি সাক্ষাৎকার বা স্পট ইন্টারভিউ, তাৎক্ষণিক নিয়োগের সুযোগ এবং ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শ। মেলাটির বিশেষত্ব শুধু চাকরির সুযোগ সৃষ্টি নয়; বরং স্থানীয় তরুণদের যোগ্যতা ও সম্ভাবনাকে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে তুলে ধরার একটি কার্যকর ক্ষেত্র তৈরি করা। এর মাধ্যমে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের চাকরিপ্রত্যাশীরা নিজ এলাকায় থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।
এক মঞ্চে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
জব ফেয়ার দিনাজপুর ২০২৬-এ আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আর্থিক প্রযুক্তি, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ ও আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য মোতাবেক, আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন খাত থেকে অংশ নেবে ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি, কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল, সেভ দ্য চিলড্রেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, ব্র্যাক, উদ্দীপন ও আরডিআরএস। শিল্প, ভোগ্যপণ্য ও বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে প্রাণ, আরএফএল, বসুন্ধরা গ্রুপ, স্কয়ার, বেক্সিমকো গ্রুপ, ওয়ালটন, এসিআই, মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ, লিরা গ্রুপ, কাজী ফার্মস ও নাবিল গ্রুপ। ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রযুক্তি খাত থেকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বিকাশ, নগদ, পূবালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ইউসিবির। ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে থাকবে ইনসেপ্টা, একমি ল্যাবরেটরিজ, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইউনিমেড ইউনিহেলথ, নুভিস্তা ফার্মাসিউটিক্যালস এবং নর্দার্ন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হসপিটাল।
এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন, আবাসন ও অন্যান্য সেবা খাত থেকে রবি আজিয়াটা, পাঠাও, ব্রেইন স্টেশন ২৩, নূর টেলিকম, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, এইচএল রিয়েল এস্টেট, অঞ্জনা, শিক্ষা ২.০ ও কমুরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কর্মক্ষেত্রের পরিসর বিস্তৃত করবে। তাঁরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন এবং চাকরির বাজারের চাহিদা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবেন।
চাকরির পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব
বর্তমান চাকরির বাজারে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান, যোগাযোগের দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও পেশাগত প্রস্তুতির গুরুত্ব বাড়ছে। এ বাস্তবতায় জব ফেয়ারে ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শের ব্যবস্থা তরুণদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
মেলায় অভিজ্ঞ পরামর্শকদের কাছ থেকে কর্মসংস্থান উপযোগী ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং সমকালীন চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নের দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। এতে কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন তরুণদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খুঁজছেন, এমন প্রার্থীরাও উপকৃত হতে পারেন। একই সঙ্গে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও সরাসরি প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের সুযোগ পাবে। ফলে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতার মধ্যে প্রচলিত দূরত্ব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে মেলাটি ভূমিকা রাখতে পারে।
উত্তরাঞ্চলের তরুণদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
রাজধানী ও বড় শিল্পকেন্দ্রের বাইরে চাকরির তথ্য পাওয়া, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ অনেক চাকরিপ্রার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এ অবস্থায় বিরামপুরে এমন একটি আয়োজন স্থানীয় তরুণদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরছে। দিনাজপুর-৬ আসনসহ আশপাশের এলাকার চাকরিপ্রার্থীরা নিজ অঞ্চলে থেকেই বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এতে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে ধারণা বাড়বে এবং নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা মিলতে পারে।
স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তির সঙ্গে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বাড়লে আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মসংস্থান বাড়লে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার হতে পারে।
কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগে মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেনের ভূমিকা
তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা সরকারের ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলোর অন্যতম। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের উদ্যোগে আয়োজিত এই জব ফেয়ার স্থানীয় পর্যায়ে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি কর্মসংস্থানমুখী প্রচেষ্টা হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার পরামর্শের ব্যবস্থা তরুণদের কর্মজীবনের প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি করছে। এ ধরনের উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী করতে মেলা-পরবর্তী সময়ে নিয়োগপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি, চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আয়োজনটির সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে।
প্রত্যাশা বাস্তব কর্মসংস্থানের
ইতোমধ্যে ১৬ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থীর নিবন্ধন এবং প্রায় ২০ হাজার তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণের প্রত্যাশা মেলাটিকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রায় ৮০টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরা, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এমন আয়োজনের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তব নিয়োগের সুযোগ পাবেন এবং অন্যরা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য কার্যকর দিকনির্দেশনা অর্জন করবেন বলে প্রত্যাশা অনেকের।
মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের উদ্যোগে বিরামপুরে এ আয়োজন দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে এই সংযোগ কার্যকর হলে সেটি তরুণদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে তাঁদের অবদান বাড়ানোর পথকে আরও সুগম করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কালের আলো/এমএসএএকে/এমএএএমকে
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]