খুঁজুন
                               
, ,
           

‘জীবিতদের কবরস্থান’ ইসরাইলি কারাগার, বললেন মুক্ত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
‘জীবিতদের কবরস্থান’ ইসরাইলি কারাগার, বললেন মুক্ত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক

ইসরাইলের কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জীবন ভয়াবহ নির্যাতন, অনাহার, চিকিৎসাবঞ্চনা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে কাটছে বলে অভিযোগ করেছেন সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি সাংবাদিক রামেজ আওয়াদ। তাঁর ভাষায়, এসব কারাগার অনেকটা ‘জীবিতদের কবরস্থান’-এর মতো।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুই বছরের বন্দিজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আওয়াদ। তিনি জানান, এই সময়ে তিনি অফার ও নেগেভ কারাগারে বন্দি ছিলেন। দীর্ঘ বন্দিজীবনের পর মুক্তির অনুভূতিকে তাঁর কাছে ‘নতুন করে জন্ম নেওয়ার’ মতো মনে হয়েছে।

আওয়াদের বর্ণনা অনুযায়ী, কারাগারে প্রতিটি দিনই ছিল ভয় ও অনিশ্চয়তায় ভরা। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত খাবারের অভাবে বন্দিদের প্রায়ই ক্ষুধার্ত থাকতে হতো। কারাগারের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশেরও ছিল চরম সংকট। অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও অবহেলা করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে বন্দিদের শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ত।

মুক্তির পরও বন্দিজীবনের সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দিচ্ছে না বলে জানান আওয়াদ। তিনি বলেন, মুক্তির পরদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার সময় তাঁর সামনে খাবার দেওয়া হলে হঠাৎ চোখে পানি চলে আসে। একপর্যায়ে তিনি খাওয়া বন্ধ করে দেন।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে আওয়াদ বলেন, খাবারের সামনে বসেই তাঁর মনে পড়ে যায় কারাগারে থাকা সহবন্দিদের কথা। তিনি পরিবারের নিরাপদ পরিবেশে বসে খাবার খাচ্ছেন, অথচ পরিচিত অনেক বন্দি তখনও কারাগারের ভেতরে ক্ষুধা, ভয় ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন-এই চিন্তা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

আওয়াদের অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন B’Tselem-এর জানুয়ারি ২০২৬ সালের ‘Living Hell’ প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অমানবিক পরিবেশ, ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার কম দেওয়া এবং চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ইসরাইলি কারাগার ও আটককেন্দ্রে অন্তত ৮৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দি মারা গেছেন।

বেতসেলেমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ৮৪ জনের মধ্যে ৫০ জন গাজা উপত্যকার, ৩১ জন পশ্চিম তীরের এবং ৩ জন ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক ছিলেন। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তাদের কাছে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে এই সংখ্যা পাওয়া গেছে এবং প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত বেতসেলেমের ‘Welcome to Hell’ প্রতিবেদনে মুক্তিপ্রাপ্ত ৫৫ জন ফিলিস্তিনির সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে মারধর, অপমান, যৌন নির্যাতন, অনাহার, ঘুম থেকে বঞ্চিত করা, অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে।

বন্দিদের সংখ্যা নিয়েও পরিস্থিতির ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়। বেতসেলেমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইসরাইলের কারা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে ‘নিরাপত্তা’ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ৯ হাজার ১২৮ জন ফিলিস্তিনি আটক বা বন্দি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৭৫ জন প্রশাসনিক আটক অবস্থায় ছিলেন।

প্রশাসনিক আটক হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যার অধীনে প্রচলিত ফৌজদারি বিচার বা অভিযোগের নিষ্পত্তি ছাড়াই কাউকে আটক রাখা যায়। বেতসেলেমের পৃথক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষে ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশাসনিক আটক অবস্থায় থাকা ফিলিস্তিনির সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩২৯।

ইসরাইলি হেফাজতে ফিলিস্তিনিদের নির্যাতন, অমানবিক ও অবমাননাকর পরিবেশ এবং হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের ২০২৬ সালের এক নথিতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন, নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ, অবমাননাকর আটক পরিস্থিতি এবং নির্যাতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হেফাজতে মৃত্যুর ‘গভীর উদ্বেগজনক’ অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হতে পারে বলে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

অন্য এক জাতিসংঘের নথিতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসরাইলি হেফাজতে ৯৪ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যুর বিষয়ে তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে এবং এসব মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে স্বচ্ছতার ঘাটতির কথাও জাতিসংঘের নথিতে বলা হয়েছে।

ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের পরিস্থিতি নিয়ে বেতসেলেম ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগের বিপরীতে ইসরাইলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ও হেফাজতে মৃত্যুর কারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, বেতসেলেম, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (OHCHR)

কালের আলো/এসএ

তৃতীয় সন্তানের মা হয়েছেন পরীমনি?

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
তৃতীয় সন্তানের মা হয়েছেন পরীমনি?

সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা ছবিতে তার কোলে দেখা যায় এক সদ্যজাত শিশুকে। ছবিটির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে পরীমনি লিখেছেন, ‘তিন নাম্বার জন ডান। আলহামদুলিল্লাহ।’

এরপর থেকেই ছবিটি ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে কি তৃতীয় সন্তানের মা হয়েছেন পরীমনি? নাকি আবারও কোনো শিশুকে দত্তক নিয়েছেন তিনি—এমন প্রশ্নই ঘুরছে সামাজিক মাধ্যমে।

শিশুদের প্রতি পরীমনির ভালোবাসার কথা ভক্তদের অনেকেরই জানা। নিজের সন্তানদের পাশাপাশি অন্য শিশুদের প্রতিও তার রয়েছে আলাদা টান। বিভিন্ন সময় একাধিক সন্তানের মা হওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। এমনকি একসময় মজা করে ১০০ সন্তানের মা হওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেছিলেন তিনি।

চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে পরীমনির ঘরে আসে ছেলে শাহীম মোহাম্মদ পূণ্য। বিচ্ছেদের পর ছেলেকে নিজের কাছেই বড় করছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে একটি কন্যাশিশুকে দত্তক নেন পরীমনি। তার নাম রাখা হয় সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম।

বর্তমানে এই দুই সন্তানকে নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটছে অভিনেত্রীর। অভিনয়ের পাশাপাশি সন্তানদের সময় দিতেও দেখা যায় তাকে। সামাজিক মাধ্যমেও প্রায়ই সন্তানদের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সোমবারের ছবিতে কোলে থাকা নবজাতকটিকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য। ছবিতে গাড়ির ভেতর রোদচশমা পরা অবস্থায় দেখা যায় পরীমনিকে। শিশুটির পরিচয় না জানিয়ে শুধু ‘তিন নাম্বার জন ডান’ ক্যাপশন দেওয়ায় ভক্তদের কৌতূহল আরও বেড়েছে।

পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে অনেকেই পরীমনিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি শিশুটির পরিচয় জানতে নানা প্রশ্নও করেছেন। কেউ ধারণা করছেন, অভিনেত্রী হয়তো নতুন করে কোনো শিশুকে দত্তক নিয়েছেন। আবার কারও মতে, শিশুটি হয়তো তার পরিচিত কারও সন্তান।

এ বিষয়ে পরীমনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত তার কাছ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ‘তিন নাম্বার জন’ আসলে কে—তা নিয়ে রহস্যই রয়ে গেছে।

পরীমনির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এখন ভক্তদের অপেক্ষা, কবে নিজেই এই রহস্যের জট খুলবেন অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ

বাংলাদেশি রোগী কমায় কলকাতার হাসপাতালগুলোর নতুন উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশি রোগী কমায় কলকাতার হাসপাতালগুলোর নতুন উদ্যোগ

ভিসা জটিলতা, আবাসন সংকটসহ নানা কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশি রোগীর যাতায়াত কমে গেছে। এতে শহরটির চিকিৎসা পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার বাংলাদেশি রোগীদের ফের আকৃষ্ট করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে কলকাতার একাধিক হাসপাতাল।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার কয়েকটি হাসপাতাল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এসব প্রতিনিধি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং কলকাতায় চিকিৎসার সময় নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন।

হাসপাতালগুলো রোগীদের বৈধ অনুমোদনপ্রাপ্ত ও নিরাপদ হোটেলে আগাম কক্ষ বুকিংয়ের বিষয়েও সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি হাসপাতালের আশপাশের হোটেল ও গেস্ট হাউসের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কলকাতায় বাংলাদেশি রোগীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছিল বাংলাদেশ উপ-হাই কমিশন। কলকাতা যাওয়ার আগে আইনসম্মত ও নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুকিং নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে গত ১৯ আগস্ট নিউ মার্কেটসংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ওই ঘটনায় সাত বাংলাদেশিসহ মোট নয়জন নিহত হন।

অগ্নিকাণ্ডের পর নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় অনিয়মের অভিযোগে বেশ কয়েকটি কম খরচের হোটেল ও আবাসন বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ফলে কলকাতায় চিকিৎসা বা ভ্রমণের জন্য যাওয়া বাংলাদেশিদের কম খরচে থাকার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে।

কলকাতার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বাংলাদেশ থেকে আসা অনেক রোগীর পক্ষে উপ-হাই কমিশনের নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা কঠিন। বিশেষ করে সড়কপথে আসা রোগী ও স্বজনদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার পাশাপাশি কম খরচে থাকার জায়গা খোঁজেন।

এ কারণে অনেকেই তুলনামূলক কম নিরাপদ হোটেল বা গেস্ট হাউসে অবস্থান করেন। নতুন পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলো রোগীদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়াকে চিকিৎসা সেবার অংশ হিসেবেই দেখছে।

দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুরের বিপি পোদ্দার হাসপাতাল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালটির কাছাকাছি বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নিজস্ব আবাসিক সুবিধা তৈরির কাজও চলছে।

হাসপাতালটির গ্রুপ উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা সফর সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রোগীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালের পাশেই নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসিক সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশি রোগী কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে কলকাতার উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালও বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। হাসপাতালটি আলিপুর এলাকার একাধিক গেস্ট হাউস ও হোটেলের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি করেছে।

হাসপাতালটির সিইও এবং অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি রূপক বড়ুয়া বলেন, নিরাপদ হোটেলে থাকার বিষয়ে বাংলাদেশি রোগীদের সচেতন করা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসার আগেই যাতে রোগীরা নিরাপদ আবাসন বুক করতে পারেন, সে জন্য হাসপাতাল থেকে গেস্ট হাউস ও হোটেলের তালিকাও পাঠানো হচ্ছে।

কলকাতার কসবা এলাকার রুবি জেনারেল হাসপাতালও বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আলাদা সহায়তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে। হাসপাতালটি আগেও বাংলাদেশি রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল।

এবার আগ্রহী রোগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং আবাসন সংক্রান্ত সহায়তা দিতে বিশেষ ডেস্ক চালু করছে হাসপাতালটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাছাকাছি নিরাপদ আবাসনগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের আগাম বুকিংয়ের বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

বাংলাদেশি রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি রোগী গোষ্ঠী। ভিসা ও আবাসন সংকটের কারণে সেই প্রবাহ কমে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোর এই নতুন উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ

কুয়েতের মরুভূমিতে বাংলাদেশিদের ‘গাড়ির কবরস্থান’ ব্যবসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
কুয়েতের মরুভূমিতে বাংলাদেশিদের ‘গাড়ির কবরস্থান’ ব্যবসা

মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েতের শহরাঞ্চল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে সালমি। সৌদি আরবের সীমান্তঘেঁষা এই রুক্ষ প্রান্তর প্রথম দেখায় কেবলই ধু-ধু মরুভূমি। কিন্তু এই নির্জন এলাকার বুকেই গড়ে উঠেছে কুয়েতের অন্যতম বড় অটোমোবাইল ভাঙারি ও ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের বাজার। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই অটোহাবকে অনেকে বলেন ‘গাড়ির কবরস্থান’।

তবে সালমির এই ‘কবরস্থান’ আসলে শেষ নয়; বরং এখান থেকেই শুরু হয় গাড়ির নতুন জীবন। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত, মেরামত করতে ব্যয়বহুল কিংবা বিভিন্ন কারণে রাস্তায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া গাড়ি এখানে এসে পরিণত হয় মূল্যবান যন্ত্রাংশের উৎসে। আর এই বিশাল পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশের বাজারের বড় অংশজুড়ে রয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

কুয়েতের মতো উচ্চ আয়ের দেশে প্রতিনিয়ত রাস্তায় নামছে নতুন ও দামি গাড়ি। কিন্তু দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা সামান্য কারিগরি ত্রুটির কারণে কোনো গাড়ি মেরামতের অনুপযোগী হয়ে পড়লে সেটির জায়গা হয় সালমির অটোহাবে।

শুধু পুরোনো গাড়িই নয়, তুলনামূলক নতুন গাড়িও কখনো কখনো এখানে চলে আসে। কুয়েতের কঠোর ট্রাফিক আইন ও যানবাহনের মানসংক্রান্ত নিয়মের কারণে কোনো গাড়ি বৈধতা হারালেও সেটি সালমির ভাঙারি বাজারে জায়গা পেতে পারে।

এখানে গাড়িগুলো থেকে খুলে নেওয়া হয় ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, দরজা, হেডলাইট, বডির বিভিন্ন অংশ, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশসহ নানা ধরনের পার্টস। এরপর সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুনরায় বিক্রি করা হয়।

সালমির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো দাম। শহরের বড় বড় শোরুম বা পার্টসের দোকানে যেসব যন্ত্রাংশ কিনতে অনেক বেশি অর্থ খরচ করতে হয়, সালমিতে একই মডেলের ব্যবহৃত অথচ আসল যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় তুলনামূলক অনেক কম দামে।

ফলে কুয়েতের স্থানীয় গাড়ির মালিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা নিয়মিত ছুটে আসেন এই বাজারে। কারও গাড়ির নির্দিষ্ট কোনো পার্টস প্রয়োজন হলে শহরের দোকানের বদলে অনেকেই প্রথমে সালমিতে খোঁজ করেন।

এক ক্রেতা মোহাম্মদ সেলিম হাওলাদার জানান, শহরের একটি দোকানে তাঁর গাড়ির একটি পার্টসের দাম চাওয়া হয়েছিল ৬০ কুয়েতি দিনার। পরে সালমি থেকে একই ধরনের আসল পার্টস মাত্র ১০ দিনারে কিনেছেন তিনি। তাঁর মতে, একই পণ্যের দামে প্রায় ছয় গুণের পার্থক্য।

সালমির স্ক্র্যাপ ও ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের ব্যবসায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। একসময় যারা সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েতে এসেছিলেন, তাঁদের অনেকেই ধীরে ধীরে এই ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। কেউ কর্মচারী হিসেবে শুরু করে পরে নিজস্ব ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন, আবার কেউ সরাসরি বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করেছেন।

ঢাকার ফারুক আহমদ দীর্ঘদিন ধরে সালমিতে স্ক্র্যাপ ও গাড়ির পার্টসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর অভিজ্ঞতায়, এই কাজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখানকার আবহাওয়া।

গ্রীষ্মকালে সালমির তাপমাত্রা অনেক সময় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। প্রচণ্ড রোদ, উত্তপ্ত বালু এবং ভারী লোহার যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমন পরিবেশে কাজ করা শারীরিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর।

তবু বাড়তি আয়ের আশায় এই কঠিন পরিবেশেই কাজ করে যাচ্ছেন শত শত বাংলাদেশি।

সিলেটের কামাল হোসেন গত তিন বছর ধরে সালমির স্ক্র্যাপ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর আগে শহরে চাকরি করতেন তিনি। তবে নির্দিষ্ট বেতনের চাকরিতে ভবিষ্যৎ গড়ার মতো আয় করা কঠিন ছিল বলে মনে করেন তিনি।

সালমিতে এসে ব্যবসার মাধ্যমে তুলনামূলক বেশি আয় করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান কামাল। তাঁর মতো আরও অনেক বাংলাদেশি তরুণ এখন এই ব্যবসায় ঝুঁকছেন।

প্রবাস জীবনে পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে মরুভূমির কঠিন পরিবেশকেও তাঁরা মেনে নিচ্ছেন।

ফেনীর কোম্পানীগঞ্জের রাশেদ ইরফান সালমিতে গাড়ির যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন। তাঁর দাবি, বিশ্বের প্রায় সব নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ির বিভিন্ন মডেলের যন্ত্রাংশ এখানে পাওয়া যায়।

বিশেষ করে যেসব পুরোনো মডেলের গাড়ির পার্টস শহরের সাধারণ দোকানে পাওয়া কঠিন, সেগুলোর জন্য সালমি গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। ক্রেতারা প্রয়োজনীয় পার্টসের সন্ধানে মরুভূমির এই বাজারে ছুটে আসেন।

তবে ব্যবসার সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কথাও জানিয়েছেন রাশেদ। তাঁর সবচেয়ে বড় অভিযোগ, সালমিতে রাতে থাকার মতো পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা নেই।

সারাদিন কাজ শেষে কর্মীদের অনেক দূরের লোকালয়ে ফিরে যেতে হয়। প্রতিদিনের দীর্ঘ যাতায়াত তাঁদের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।

সালমির অটোহাব শুধু পরিত্যক্ত গাড়ির স্তূপ নয়; এটি একটি বড় পুনর্ব্যবহারযোগ্য অর্থনীতির অংশ। একটি গাড়ি যখন নতুন হিসেবে রাস্তায় চলার উপযোগিতা হারায়, তখন তার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ অন্য গাড়ির জীবন বাড়াতে কাজে লাগে।

একদিকে এতে গাড়ির মালিকেরা কম দামে প্রয়োজনীয় আসল যন্ত্রাংশ পান, অন্যদিকে পরিত্যক্ত গাড়ির মূল্যবান অংশ পুনরায় অর্থনীতিতে ফিরে আসে। এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নিজেদের জন্য তৈরি করেছেন বড় একটি ব্যবসার ক্ষেত্র।

প্রচণ্ড গরম, দীর্ঘ যাতায়াত আর কঠিন কর্মপরিবেশের মধ্যেও তাঁদের শ্রমে সালমির মরুভূমিতে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী অর্থনৈতিক জগৎ—যেখানে ধাতব আবর্জনা হয়ে উঠছে সম্পদ, আর ‘গাড়ির কবরস্থান’ থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা।

কালের আলো/এসএ