খুঁজুন
                               
, ,
           

কুয়েতের মরুভূমিতে বাংলাদেশিদের ‘গাড়ির কবরস্থান’ ব্যবসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
কুয়েতের মরুভূমিতে বাংলাদেশিদের ‘গাড়ির কবরস্থান’ ব্যবসা

মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েতের শহরাঞ্চল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে সালমি। সৌদি আরবের সীমান্তঘেঁষা এই রুক্ষ প্রান্তর প্রথম দেখায় কেবলই ধু-ধু মরুভূমি। কিন্তু এই নির্জন এলাকার বুকেই গড়ে উঠেছে কুয়েতের অন্যতম বড় অটোমোবাইল ভাঙারি ও ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের বাজার। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই অটোহাবকে অনেকে বলেন ‘গাড়ির কবরস্থান’।

তবে সালমির এই ‘কবরস্থান’ আসলে শেষ নয়; বরং এখান থেকেই শুরু হয় গাড়ির নতুন জীবন। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত, মেরামত করতে ব্যয়বহুল কিংবা বিভিন্ন কারণে রাস্তায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া গাড়ি এখানে এসে পরিণত হয় মূল্যবান যন্ত্রাংশের উৎসে। আর এই বিশাল পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশের বাজারের বড় অংশজুড়ে রয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

কুয়েতের মতো উচ্চ আয়ের দেশে প্রতিনিয়ত রাস্তায় নামছে নতুন ও দামি গাড়ি। কিন্তু দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা সামান্য কারিগরি ত্রুটির কারণে কোনো গাড়ি মেরামতের অনুপযোগী হয়ে পড়লে সেটির জায়গা হয় সালমির অটোহাবে।

শুধু পুরোনো গাড়িই নয়, তুলনামূলক নতুন গাড়িও কখনো কখনো এখানে চলে আসে। কুয়েতের কঠোর ট্রাফিক আইন ও যানবাহনের মানসংক্রান্ত নিয়মের কারণে কোনো গাড়ি বৈধতা হারালেও সেটি সালমির ভাঙারি বাজারে জায়গা পেতে পারে।

এখানে গাড়িগুলো থেকে খুলে নেওয়া হয় ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, দরজা, হেডলাইট, বডির বিভিন্ন অংশ, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশসহ নানা ধরনের পার্টস। এরপর সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুনরায় বিক্রি করা হয়।

সালমির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো দাম। শহরের বড় বড় শোরুম বা পার্টসের দোকানে যেসব যন্ত্রাংশ কিনতে অনেক বেশি অর্থ খরচ করতে হয়, সালমিতে একই মডেলের ব্যবহৃত অথচ আসল যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় তুলনামূলক অনেক কম দামে।

ফলে কুয়েতের স্থানীয় গাড়ির মালিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা নিয়মিত ছুটে আসেন এই বাজারে। কারও গাড়ির নির্দিষ্ট কোনো পার্টস প্রয়োজন হলে শহরের দোকানের বদলে অনেকেই প্রথমে সালমিতে খোঁজ করেন।

এক ক্রেতা মোহাম্মদ সেলিম হাওলাদার জানান, শহরের একটি দোকানে তাঁর গাড়ির একটি পার্টসের দাম চাওয়া হয়েছিল ৬০ কুয়েতি দিনার। পরে সালমি থেকে একই ধরনের আসল পার্টস মাত্র ১০ দিনারে কিনেছেন তিনি। তাঁর মতে, একই পণ্যের দামে প্রায় ছয় গুণের পার্থক্য।

সালমির স্ক্র্যাপ ও ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের ব্যবসায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। একসময় যারা সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েতে এসেছিলেন, তাঁদের অনেকেই ধীরে ধীরে এই ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। কেউ কর্মচারী হিসেবে শুরু করে পরে নিজস্ব ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন, আবার কেউ সরাসরি বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করেছেন।

ঢাকার ফারুক আহমদ দীর্ঘদিন ধরে সালমিতে স্ক্র্যাপ ও গাড়ির পার্টসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর অভিজ্ঞতায়, এই কাজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখানকার আবহাওয়া।

গ্রীষ্মকালে সালমির তাপমাত্রা অনেক সময় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। প্রচণ্ড রোদ, উত্তপ্ত বালু এবং ভারী লোহার যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমন পরিবেশে কাজ করা শারীরিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর।

তবু বাড়তি আয়ের আশায় এই কঠিন পরিবেশেই কাজ করে যাচ্ছেন শত শত বাংলাদেশি।

সিলেটের কামাল হোসেন গত তিন বছর ধরে সালমির স্ক্র্যাপ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর আগে শহরে চাকরি করতেন তিনি। তবে নির্দিষ্ট বেতনের চাকরিতে ভবিষ্যৎ গড়ার মতো আয় করা কঠিন ছিল বলে মনে করেন তিনি।

সালমিতে এসে ব্যবসার মাধ্যমে তুলনামূলক বেশি আয় করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান কামাল। তাঁর মতো আরও অনেক বাংলাদেশি তরুণ এখন এই ব্যবসায় ঝুঁকছেন।

প্রবাস জীবনে পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে মরুভূমির কঠিন পরিবেশকেও তাঁরা মেনে নিচ্ছেন।

ফেনীর কোম্পানীগঞ্জের রাশেদ ইরফান সালমিতে গাড়ির যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন। তাঁর দাবি, বিশ্বের প্রায় সব নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ির বিভিন্ন মডেলের যন্ত্রাংশ এখানে পাওয়া যায়।

বিশেষ করে যেসব পুরোনো মডেলের গাড়ির পার্টস শহরের সাধারণ দোকানে পাওয়া কঠিন, সেগুলোর জন্য সালমি গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। ক্রেতারা প্রয়োজনীয় পার্টসের সন্ধানে মরুভূমির এই বাজারে ছুটে আসেন।

তবে ব্যবসার সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কথাও জানিয়েছেন রাশেদ। তাঁর সবচেয়ে বড় অভিযোগ, সালমিতে রাতে থাকার মতো পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা নেই।

সারাদিন কাজ শেষে কর্মীদের অনেক দূরের লোকালয়ে ফিরে যেতে হয়। প্রতিদিনের দীর্ঘ যাতায়াত তাঁদের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।

সালমির অটোহাব শুধু পরিত্যক্ত গাড়ির স্তূপ নয়; এটি একটি বড় পুনর্ব্যবহারযোগ্য অর্থনীতির অংশ। একটি গাড়ি যখন নতুন হিসেবে রাস্তায় চলার উপযোগিতা হারায়, তখন তার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ অন্য গাড়ির জীবন বাড়াতে কাজে লাগে।

একদিকে এতে গাড়ির মালিকেরা কম দামে প্রয়োজনীয় আসল যন্ত্রাংশ পান, অন্যদিকে পরিত্যক্ত গাড়ির মূল্যবান অংশ পুনরায় অর্থনীতিতে ফিরে আসে। এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নিজেদের জন্য তৈরি করেছেন বড় একটি ব্যবসার ক্ষেত্র।

প্রচণ্ড গরম, দীর্ঘ যাতায়াত আর কঠিন কর্মপরিবেশের মধ্যেও তাঁদের শ্রমে সালমির মরুভূমিতে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী অর্থনৈতিক জগৎ—যেখানে ধাতব আবর্জনা হয়ে উঠছে সম্পদ, আর ‘গাড়ির কবরস্থান’ থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা।

কালের আলো/এসএ

বাংলাদেশি রোগী কমায় কলকাতার হাসপাতালগুলোর নতুন উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশি রোগী কমায় কলকাতার হাসপাতালগুলোর নতুন উদ্যোগ

ভিসা জটিলতা, আবাসন সংকটসহ নানা কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশি রোগীর যাতায়াত কমে গেছে। এতে শহরটির চিকিৎসা পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার বাংলাদেশি রোগীদের ফের আকৃষ্ট করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে কলকাতার একাধিক হাসপাতাল।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার কয়েকটি হাসপাতাল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এসব প্রতিনিধি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং কলকাতায় চিকিৎসার সময় নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন।

হাসপাতালগুলো রোগীদের বৈধ অনুমোদনপ্রাপ্ত ও নিরাপদ হোটেলে আগাম কক্ষ বুকিংয়ের বিষয়েও সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি হাসপাতালের আশপাশের হোটেল ও গেস্ট হাউসের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কলকাতায় বাংলাদেশি রোগীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছিল বাংলাদেশ উপ-হাই কমিশন। কলকাতা যাওয়ার আগে আইনসম্মত ও নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুকিং নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে গত ১৯ আগস্ট নিউ মার্কেটসংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ওই ঘটনায় সাত বাংলাদেশিসহ মোট নয়জন নিহত হন।

অগ্নিকাণ্ডের পর নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় অনিয়মের অভিযোগে বেশ কয়েকটি কম খরচের হোটেল ও আবাসন বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ফলে কলকাতায় চিকিৎসা বা ভ্রমণের জন্য যাওয়া বাংলাদেশিদের কম খরচে থাকার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে।

কলকাতার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বাংলাদেশ থেকে আসা অনেক রোগীর পক্ষে উপ-হাই কমিশনের নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা কঠিন। বিশেষ করে সড়কপথে আসা রোগী ও স্বজনদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার পাশাপাশি কম খরচে থাকার জায়গা খোঁজেন।

এ কারণে অনেকেই তুলনামূলক কম নিরাপদ হোটেল বা গেস্ট হাউসে অবস্থান করেন। নতুন পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলো রোগীদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়াকে চিকিৎসা সেবার অংশ হিসেবেই দেখছে।

দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুরের বিপি পোদ্দার হাসপাতাল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালটির কাছাকাছি বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নিজস্ব আবাসিক সুবিধা তৈরির কাজও চলছে।

হাসপাতালটির গ্রুপ উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা সফর সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রোগীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালের পাশেই নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসিক সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশি রোগী কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে কলকাতার উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালও বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। হাসপাতালটি আলিপুর এলাকার একাধিক গেস্ট হাউস ও হোটেলের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি করেছে।

হাসপাতালটির সিইও এবং অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি রূপক বড়ুয়া বলেন, নিরাপদ হোটেলে থাকার বিষয়ে বাংলাদেশি রোগীদের সচেতন করা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসার আগেই যাতে রোগীরা নিরাপদ আবাসন বুক করতে পারেন, সে জন্য হাসপাতাল থেকে গেস্ট হাউস ও হোটেলের তালিকাও পাঠানো হচ্ছে।

কলকাতার কসবা এলাকার রুবি জেনারেল হাসপাতালও বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আলাদা সহায়তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে। হাসপাতালটি আগেও বাংলাদেশি রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল।

এবার আগ্রহী রোগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং আবাসন সংক্রান্ত সহায়তা দিতে বিশেষ ডেস্ক চালু করছে হাসপাতালটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাছাকাছি নিরাপদ আবাসনগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের আগাম বুকিংয়ের বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

বাংলাদেশি রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি রোগী গোষ্ঠী। ভিসা ও আবাসন সংকটের কারণে সেই প্রবাহ কমে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোর এই নতুন উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ

মেয়ের জন্মদিনে লুইপার বিশেষ উপহার ‘প্রজাপতি’

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
মেয়ের জন্মদিনে লুইপার বিশেষ উপহার ‘প্রজাপতি’

গীতিকার রবিউল ইসলাম জীবনের লেখা বেশ কিছু গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সংগীতশিল্পী লুইপা। তাঁদের সৃষ্টিশীল জুটিও শ্রোতাদের কাছে পেয়েছে প্রশংসা। এবার সেই ধারাবাহিকতায় নতুন গান নিয়ে হাজির হয়েছেন দুজন। গানটির নাম ‘প্রজাপতি’।

রবিউল ইসলাম জীবনের কথায় গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন লুইপা। এর সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সাম্যব্রত দৃপ্ত। গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন চন্দন রায় চৌধুরী। বিশেষ এই গানটি লুইপা উৎসর্গ করেছেন তাঁর মেয়ে পায়রার জন্মদিনে।

চার বছর আগে ‘পরাণ’ সিনেমার ‘ধীরে ধীরে’ গানে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন লুইপা ও রবিউল ইসলাম জীবন। গানটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছিলেন জীবন। এরপর তাঁদের একাধিক গান শ্রোতাদের সামনে এসেছে।

‘প্রজাপতি’ গানটির পেছনে রয়েছে বাবা-মেয়ের মিষ্টি এক গল্প। ঘটনাটি এবারের রোজার ঈদের সময়ের। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন জীবন। এক বিকেলে মেয়েকে নিয়ে হাঁটতে বের হন তিনি। রাস্তার পাশে ছোট ছোট গাছ ও গুল্মে তখন উড়ে বেড়াচ্ছিল অসংখ্য প্রজাপতি।

ছোট্ট মাইজাহর চোখে তখন বিস্ময়। প্রজাপতি ছুঁতে তাদের পেছনে ছুটছিল সে। মেয়ের সেই মুগ্ধতার মুহূর্ত মুঠোফোনে ধারণ করে রেখেছিলেন জীবন।

পরে ঢাকায় ফিরে সেই ভিডিও দেখতে গিয়ে তাঁর মাথায় আসে গানের ভাবনা। সেখান থেকেই লেখা হয় ‘প্রজাপতি’।

জীবন বলেন, ঢাকায় ফিরে মেয়ের সেই ভিডিও দেখতে গিয়ে হঠাৎই গানের ভাবনা মাথায় আসে। সন্তানকে ঘিরে ভাবনাটি তৈরি হলেও গানটি এমনভাবে লেখা হয়েছে, যাতে শ্রোতারা নিজেদের বন্ধু, প্রিয় মানুষ কিংবা যেকোনো সুখের অনুভূতির সঙ্গে এর গল্প মিলিয়ে নিতে পারেন।

গানটির প্রাথমিক সুর ও সংগীতায়োজনের পর লুইপাকে শোনানো হয় ‘প্রজাপতি’। প্রথমবার শুনেই গানটি পছন্দ করেন তিনি। গানটির পাশাপাশি এর পেছনের গল্পও তাঁকে আবেগাপ্লুত করে।

তখনই সিদ্ধান্ত নেন, গানটি হবে তাঁর মেয়ে পায়রার জন্মদিনের বিশেষ উপহার। গত ৫ সেপ্টেম্বর পায়রার জন্মদিন উপলক্ষে গানটি প্রকাশ করেন লুইপা।

গানটির ভিডিওতেও রয়েছে মা-মেয়ের উপস্থিতি। চন্দন রায় চৌধুরীর নির্মাণে ভিডিওটিতে নিজের মেয়ে পায়রাকে নিয়ে অভিনয় করেছেন লুইপা।

‘প্রজাপতি’ নিয়ে লুইপা বলেন, তাঁর মৌলিক গানগুলোর মধ্যে এটি বিশেষ হয়ে থাকবে। তাঁর বিশ্বাস, গানটি শোনার সময় শ্রোতাদের চোখের সামনে নিজেদের প্রিয় ‘প্রজাপতি’র ছবিও ভেসে উঠবে।

একই গান যেন দুই পরিবারের দুই ‘প্রজাপতি’র গল্পকে এক সুতোয় বেঁধেছে। বাবা-মেয়ের মুগ্ধতা থেকে জন্ম নেওয়া সেই গল্প এবার শব্দ, সুর ও কণ্ঠের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে শ্রোতাদের মনেও।

কালের আলো/এসএ

মায়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
মায়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি কার্গো উড়োজাহাজ রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সংকটজনক।

স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার কিছু আগে প্রাইম এয়ারের ফ্লাইট ৭৫৯৮ বিমানবন্দরের একটি রানওয়ে থেকে বেরিয়ে পাশের সড়কে চলে যায়। এরপর এটি কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় বিমানটির পাইলট ও কো-পাইলট ককপিটে আটকা পড়েছিলেন। কয়েকটি গাড়ির আরোহীকেও উদ্ধার করতে হয়েছে।

মায়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউয়ের প্রধান রে জাদাল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার পর ৬০টির বেশি উদ্ধারকারী ইউনিট এবং প্রায় ২০০ জন কর্মী ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেন। উড়োজাহাজটি থেকে জ্বালানি চুইয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কাজ করতে হয় জরুরি বিভাগের কর্মীদের।

দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। উড়োজাহাজে থাকা পাইলট ও কো-পাইলটের অবস্থা সম্পর্কেও প্রাথমিক পর্যায়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি ছিল ৩২ বছর পুরোনো বোয়িং ৭৬৭-৩০০ ফ্রেইটার। এটি পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে মায়ামিতে যাচ্ছিল। ১৯৯৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উড়োজাহাজটি বিভিন্ন এয়ারলাইনসে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরে এটিকে কার্গো বিমানে রূপান্তর করা হয়।

অ্যামাজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্গো এয়ারলাইন ২১ এয়ার উড়োজাহাজটি অ্যামাজনের হয়ে পরিচালনা করছিল। ২১ এয়ার দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং তদন্তে সহযোগিতার কথা বলেছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরেডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রানওয়ে ছাড়ার সময় বিমানটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২৯ মাইল বা ১১২ নট। দুর্ঘটনার পর পাওয়া ছবিতে উড়োজাহাজটির সামনের অংশ মাটিতে পড়ে থাকতে এবং পেছনের অংশ উঁচু হয়ে থাকতে দেখা যায়। বিমানটির ডান পাশে পোড়া দাগও দেখা গেছে।

দুর্ঘটনার পর মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে চারটি রানওয়ের মধ্যে দুটি আবার চালু করা হয়। দুর্ঘটনার প্রভাবে ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং প্রায় ৩২৫টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয় বলে এপি জানিয়েছে।

দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে উড়োজাহাজটির অবতরণের ধরন, আবহাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। দুর্ঘটনার সময় এলাকায় বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় প্রায় ৩০ মাইল পর্যন্ত দমকা বাতাস ছিল বলেও এপি জানিয়েছে।

এটি অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের হয়ে পরিচালিত উড়োজাহাজের প্রথম প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নয়। ২০১৯ সালে অ্যামাজনের হয়ে পরিচালিত অ্যাটলাস এয়ারের একটি বোয়িং ৭৬৭ টেক্সাসে বিধ্বস্ত হলে উড়োজাহাজটিতে থাকা তিনজনই নিহত হয়েছিলেন।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ